নওগাঁর সাপাহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগে মেরামতকাজ করতে গিয়ে টয়লেটের নিষ্কাশনব্যবস্থা ভেঙে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ দিন পার হলেও সেই সংস্কার সম্পন্ন না হওয়ায় টয়লেটের ট্যাংকির ভাঙা অংশ দিয়ে মল-মূত্র বের হয়ে আশপাশে ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে তীব্র দুর্গন্ধে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী, তাদের স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের বহির্বিভাগের টয়লেটের আউটলেট ট্যাংকির একাংশ ভাঙা অবস্থায় পড়ে আছে। সেখান থেকে বর্জ্য বের হয়ে ছড়িয়ে পড়ায় বহির্বিভাগের সার্বিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রতিদিন শত শত রোগী চিকিৎসা নিতে এসে এই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে বাধ্য হচ্ছেন।
হাসপাতালে আসা এক রোগীর স্বজন সাবিনা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ছোট বোনকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য এসেছিলাম। কিন্তু টিকিট কাটতে গিয়ে টয়লেটের দুর্গন্ধে নিজেই অসুস্থ হয়ে পড়ার মতো অবস্থা। দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করা দরকার।’
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বহির্বিভাগ সংস্কারের জন্য ঠিকাদার দেলোয়ার হোসেনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, তিনি কাজ শেষ না করেই হঠাৎ উধাও হয়ে যান। ফলে ভাঙা অবস্থাতেই পড়ে থাকে টয়লেটের নিষ্কাশনব্যবস্থা। একাধিকবার বলা সত্ত্বেও ঠিকাদার কাজ শেষ করেননি।
সাপাহার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আরিফুজ্জামান সমস্যাটির স্থায়ী সমাধানে রাজশাহী সদর হাসপাতাল ক্যাম্পাসের নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে একাধিক চিঠি দিয়েছেন। গত ১০ সেপ্টেম্বর পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, কাজ অসম্পূর্ণ রেখে ঠিকাদার চলে যাওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। এর আগে গত ১১ ও ১৮ আগস্টও একই বিষয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। চিঠিতে আরও সতর্ক করা হয়, শত শত মানুষের এই ভোগান্তির কারণে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হচ্ছে এবং যেকোনো সময় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। চিঠির অনুলিপি স্থানীয় সংসদ সদস্য, নওগাঁর সিভিল সার্জন এবং স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এইচইডি) কর্মকর্তাদের কাছেও পাঠানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. রাশিদ নাযীব সিজান বলেন, ‘শুধু ওষুধ লিখে দেওয়া চিকিৎসাসেবা নয়, মানসম্মত পরিবেশও সেবার অংশ। কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও এই অসম্পূর্ণ কাজ চিকিৎসাসেবায় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ঠিকাদার দেলোয়ার হোসেনের নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নওগাঁর সাপাহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগে মেরামতকাজ করতে গিয়ে টয়লেটের নিষ্কাশনব্যবস্থা ভেঙে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ দিন পার হলেও সেই সংস্কার সম্পন্ন না হওয়ায় টয়লেটের ট্যাংকির ভাঙা অংশ দিয়ে মল-মূত্র বের হয়ে আশপাশে ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে তীব্র দুর্গন্ধে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী, তাদের স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের বহির্বিভাগের টয়লেটের আউটলেট ট্যাংকির একাংশ ভাঙা অবস্থায় পড়ে আছে। সেখান থেকে বর্জ্য বের হয়ে ছড়িয়ে পড়ায় বহির্বিভাগের সার্বিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রতিদিন শত শত রোগী চিকিৎসা নিতে এসে এই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে বাধ্য হচ্ছেন।
হাসপাতালে আসা এক রোগীর স্বজন সাবিনা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ছোট বোনকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য এসেছিলাম। কিন্তু টিকিট কাটতে গিয়ে টয়লেটের দুর্গন্ধে নিজেই অসুস্থ হয়ে পড়ার মতো অবস্থা। দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করা দরকার।’
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বহির্বিভাগ সংস্কারের জন্য ঠিকাদার দেলোয়ার হোসেনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, তিনি কাজ শেষ না করেই হঠাৎ উধাও হয়ে যান। ফলে ভাঙা অবস্থাতেই পড়ে থাকে টয়লেটের নিষ্কাশনব্যবস্থা। একাধিকবার বলা সত্ত্বেও ঠিকাদার কাজ শেষ করেননি।
সাপাহার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আরিফুজ্জামান সমস্যাটির স্থায়ী সমাধানে রাজশাহী সদর হাসপাতাল ক্যাম্পাসের নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে একাধিক চিঠি দিয়েছেন। গত ১০ সেপ্টেম্বর পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, কাজ অসম্পূর্ণ রেখে ঠিকাদার চলে যাওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। এর আগে গত ১১ ও ১৮ আগস্টও একই বিষয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। চিঠিতে আরও সতর্ক করা হয়, শত শত মানুষের এই ভোগান্তির কারণে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হচ্ছে এবং যেকোনো সময় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। চিঠির অনুলিপি স্থানীয় সংসদ সদস্য, নওগাঁর সিভিল সার্জন এবং স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এইচইডি) কর্মকর্তাদের কাছেও পাঠানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. রাশিদ নাযীব সিজান বলেন, ‘শুধু ওষুধ লিখে দেওয়া চিকিৎসাসেবা নয়, মানসম্মত পরিবেশও সেবার অংশ। কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও এই অসম্পূর্ণ কাজ চিকিৎসাসেবায় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ঠিকাদার দেলোয়ার হোসেনের নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

আপনার মতামত লিখুন