গাইবান্ধার সাঘাটায় জামায়াতে ইসলামীর কর্মী সালাহ উদ্দিন ও ছাত্রশিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারী হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেলে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সাঘাটা উপজেলা শাখার উদ্যোগে বোনারপাড়া এলাকায় এই কর্মসূচি পালন করা হয়। সমাবেশ থেকে খুনের ঘটনায় জড়িত প্রধান আসামি মুকুল ও পলাশসহ সকল অভিযুক্তের দ্রুত গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবি জানানো হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেলে ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি বোনারপাড়া এলাকার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বোনারপাড়া মোড়ে এক প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়। এতে জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন। মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের হাতে ‘খুনি মুকুলের ফাঁসি চাই’, ‘খুনি পলাশের ফাঁসি চাই’ এবং ‘সালাহ উদ্দিন ও সাইফুল্লাহর খুনিদের দ্রুত ফাঁসি চাই’ সম্বলিত বিভিন্ন ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, গত ২১ জুন বোনারপাড়া এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে সাইফুল্লাহ বারী ও সালাহ উদ্দিনের ওপর পরিকল্পিতভাবে সশস্ত্র হামলা চালানো হয়। হামলায় ঘটনাস্থলেই ছাত্রশিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারী নিহত হন এবং সালাহ উদ্দিন গুরুতর আহত হন। দীর্ঘ ৪৮ দিন হাসপাতালের বিছানায় মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে শনিবার সকালে সালাহ উদ্দিনও মারা যান। রাজনৈতিক শত্রুতার জেরে এই জোড়া হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে বক্তারা অভিযোগ করেন।
নেতাকর্মীরা দাবি করেন, মূল ঘাতক মুকুলসহ কয়েকজন ধরা পড়লেও অনেক আসামি এখনো পলাতক রয়েছে। অবিলম্বে এই হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত করে মুকুল ও পলাশসহ অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তি তথা ফাঁসি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় রাজপথে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা।
সাঘাটা উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা ইব্রাহিম হোসাইনের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাইবান্ধা জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ফয়সাল কবির রানা। এছাড়া উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও সাংগঠনিক সম্পাদকসহ জেলা ও উপজেলা ছাত্রশিবিরের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ সমাবেশে বক্তব্য দেন। সমাবেশ শেষে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া পরিচালনা করা হয়।
আপনার মতামত লিখুন