ধূমপান ও বায়ুদূষণের কারণে মানুষের রক্তে মাইক্রোপ্লাস্টিকের মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যেতে পারে। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, ধূমপায়ী এবং দূষিত বাতাসের সংস্পর্শে থাকা ব্যক্তিদের শরীরে মাইক্রোপ্লাস্টিক ও ন্যানোপ্লাস্টিক প্রবেশের সম্ভাবনা অনেক বেশি। একই সঙ্গে রক্তে এসব সূক্ষ্ম প্লাস্টিক কণার উপস্থিতির সঙ্গে হার্ট অ্যাটাকের একটি জোরালো যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছেন গবেষকরা।
ইউরোপিয়ান হার্ট জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, প্লাস্টিক কণা সরাসরি হার্ট অ্যাটাক ঘটায়—এমন চূড়ান্ত প্রমাণ না মিললেও এর সঙ্গে হৃদ্রোগের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের হ্যাকেনস্যাক ইউনিভার্সিটি মেডিকেল সেন্টারের ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট ড. ক্রেইগ বাসম্যান জানান, হৃদ্রোগীদের রক্তে এই প্লাস্টিক কণার উপস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
ইতালির রোমের সাপিয়েঞ্জা ইউনিভার্সিটির গবেষক পাসকুয়ালে পাওলিসোর নেতৃত্বে এই গবেষণাটি পরিচালিত হয়। গবেষকেরা ৬১ জন রোগীর হৃদ্যন্ত্রে রক্ত সরবরাহকারী ধমনী থেকে নমুনা সংগ্রহ করেন। পরীক্ষায় দেখা যায়, হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত রোগীদের ৮৪ শতাংশের রক্তে মাইক্রোপ্লাস্টিক ও ন্যানোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। এর বিপরীতে, সুস্থ রক্তনালির ব্যক্তিদের মাত্র ৩২ শতাংশের রক্তে এই কণা মিলেছে।
গবেষণার সবচেয়ে আশঙ্কাজনক দিক হলো ধূমপানের সঙ্গে প্লাস্টিকের সম্পর্ক। গবেষকদের মতে, অধূমপায়ীদের তুলনায় ধূমপায়ীদের রক্তে উচ্চ মাত্রায় মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকার ঝুঁকি প্রায় ছয় গুণ বেশি। গবেষকেরা ধারণা করছেন, ধূমপান ও বায়ুদূষণের ফলে ফুসফুসের মাধ্যমে এই অতি ক্ষুদ্র কণাগুলো সহজে রক্তপ্রবাহে মিশে যায়।
গবেষণার জ্যেষ্ঠ লেখক এমানুয়েলে বারবাতো অবশ্য সতর্ক করে বলেছেন, রক্তে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি এবং হৃদ্রোগের মধ্যে শক্তিশালী সম্পর্কের ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও এটিই হার্ট অ্যাটাকের একমাত্র কারণ কি না, তা নিশ্চিত হতে আরও বড় পরিসরে গবেষণার প্রয়োজন। তবে পরিবেশের সর্বত্র ছড়িয়ে থাকা মাইক্রোপ্লাস্টিক থেকে মুক্ত থাকা বর্তমান সময়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রোববার, ০৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ আগস্ট ২০২৬
ধূমপান ও বায়ুদূষণের কারণে মানুষের রক্তে মাইক্রোপ্লাস্টিকের মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যেতে পারে। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, ধূমপায়ী এবং দূষিত বাতাসের সংস্পর্শে থাকা ব্যক্তিদের শরীরে মাইক্রোপ্লাস্টিক ও ন্যানোপ্লাস্টিক প্রবেশের সম্ভাবনা অনেক বেশি। একই সঙ্গে রক্তে এসব সূক্ষ্ম প্লাস্টিক কণার উপস্থিতির সঙ্গে হার্ট অ্যাটাকের একটি জোরালো যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছেন গবেষকরা।
ইউরোপিয়ান হার্ট জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, প্লাস্টিক কণা সরাসরি হার্ট অ্যাটাক ঘটায়—এমন চূড়ান্ত প্রমাণ না মিললেও এর সঙ্গে হৃদ্রোগের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের হ্যাকেনস্যাক ইউনিভার্সিটি মেডিকেল সেন্টারের ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট ড. ক্রেইগ বাসম্যান জানান, হৃদ্রোগীদের রক্তে এই প্লাস্টিক কণার উপস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
ইতালির রোমের সাপিয়েঞ্জা ইউনিভার্সিটির গবেষক পাসকুয়ালে পাওলিসোর নেতৃত্বে এই গবেষণাটি পরিচালিত হয়। গবেষকেরা ৬১ জন রোগীর হৃদ্যন্ত্রে রক্ত সরবরাহকারী ধমনী থেকে নমুনা সংগ্রহ করেন। পরীক্ষায় দেখা যায়, হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত রোগীদের ৮৪ শতাংশের রক্তে মাইক্রোপ্লাস্টিক ও ন্যানোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। এর বিপরীতে, সুস্থ রক্তনালির ব্যক্তিদের মাত্র ৩২ শতাংশের রক্তে এই কণা মিলেছে।
গবেষণার সবচেয়ে আশঙ্কাজনক দিক হলো ধূমপানের সঙ্গে প্লাস্টিকের সম্পর্ক। গবেষকদের মতে, অধূমপায়ীদের তুলনায় ধূমপায়ীদের রক্তে উচ্চ মাত্রায় মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকার ঝুঁকি প্রায় ছয় গুণ বেশি। গবেষকেরা ধারণা করছেন, ধূমপান ও বায়ুদূষণের ফলে ফুসফুসের মাধ্যমে এই অতি ক্ষুদ্র কণাগুলো সহজে রক্তপ্রবাহে মিশে যায়।
গবেষণার জ্যেষ্ঠ লেখক এমানুয়েলে বারবাতো অবশ্য সতর্ক করে বলেছেন, রক্তে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি এবং হৃদ্রোগের মধ্যে শক্তিশালী সম্পর্কের ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও এটিই হার্ট অ্যাটাকের একমাত্র কারণ কি না, তা নিশ্চিত হতে আরও বড় পরিসরে গবেষণার প্রয়োজন। তবে পরিবেশের সর্বত্র ছড়িয়ে থাকা মাইক্রোপ্লাস্টিক থেকে মুক্ত থাকা বর্তমান সময়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন