সংবাদ

দেশে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টে নতুন যুগ, বিএমইউ’র ৬ সাফল্য


বাকী বিল্লাহ
বাকী বিল্লাহ
প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৩৬ পিএম

দেশে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টে নতুন যুগ, বিএমইউ’র ৬ সাফল্য
সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে সাংবাদিকদের সঙ্গে উপাচার্য।

দেশেই জটিল চিকিৎসায় অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ)। সম্প্রতি বিএমইউ সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে ছয়টি লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট সার্জারি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। একই সঙ্গে আরও চারটি লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের জন্য রোগী নির্বাচন ও প্রস্তুতি চলছে। এই সাফল্য দেশে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট চিকিৎসায় এক নতুন যুগের সূচনা করেছে।

সরকারি বরাদ্দের আওতায় রোগীদের এসব ট্রান্সপ্ল্যান্ট বিনামূল্যে করা হয়েছে। সব লিভারগ্রহীতা রোগী ও লিভার দাতারা ভালো আছেন। বিএমইউর হেপাটোবিলিয়ারি, প্যানক্রিয়াটিক অ্যান্ড লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট সার্জারি, হেপাটোলজি এবং অ্যানেসথেসিয়া, অ্যানালজেসিয়া অ্যান্ড ইনটেনসিভ কেয়ার মেডিসিন বিভাগসহ মোট ১৯টি বিশেষায়িত বিভাগের সমন্বিত প্রচেষ্টায় এসব সার্জারি সম্পন্ন হয়।

এই ছয়টি ট্রান্সপ্ল্যান্ট সম্পন্ন হয়েছে গত ২০২৫ সালের ১ ও ২ সেপ্টেম্বর এবং ২০২৬ সালের ৩ ও ৪ জুলাই এবং ১১ ও ১২ সেপ্টেম্বর। এসব ট্রান্সপ্ল্যান্ট সম্পন্ন করতে হায়দ্রাবাদস্থ এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি (এআইজি) হসপিটালের বিশেষজ্ঞ ট্রান্সপ্ল্যান্ট টিম বিএমইউর চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের কারিগরি সহযোগিতা প্রদান করেন।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান বিএমইউর উপাচার্য ডা. এফ এম সিদ্দিকী। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য এটি একটি আনন্দের ও সাফল্যের দিন। দেশের রোগীদের ও মানুষকে সুসংবাদ দিতে চাই—দেশেই অত্যন্ত জটিল চিকিৎসা, যার সঙ্গে মাল্টিডিসিপ্লিনারি বিভাগসমূহ সম্পৃক্ত, যেমন লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট এখন দেশেই করা সম্ভব।’

ডা. এফ এম সিদ্দিকী জানান, ট্রান্সপ্ল্যান্ট সম্পন্ন করার আগে দাতা ও গ্রহীতার প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা, শারীরিক সক্ষমতা যাচাই এবং আইনগত ও নৈতিক বিষয় যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে। বর্তমানে বিএমইউ সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট ক্লিনিকের মাধ্যমে রোগীদের পরবর্তী চিকিৎসা ও ফলোআপ চলছে।

বিএমইউর লক্ষ্য মাসে দুটি এবং বছরে ২৪টি লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট সম্পন্ন করা। পরবর্তীতে এই কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করা হবে। লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট সার্জারি সেবায় আরও দক্ষ জনবল গড়ে তোলা এবং দেশব্যাপী তা ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যও রয়েছে তাদের।

উপাচার্য জানান, লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট সেবায় বিদেশে এমনকি পাশ্ববর্তী দেশে করলেও কোটি টাকা ব্যয় হয়। বাংলাদেশে বিএমইউতে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট কার্যক্রম সম্পন্ন করতে কমবেশি ৩০ লাখ টাকার মতো ব্যয় হবে। দেশে রোগীরা বিএমইউর ওপর আস্থা রেখেই এই সেবা নিতে পারেন এবং এজন্য দেশের বাইরে যাওয়ার দরকার নেই।

বিএমইউর একজন সাবেক উপাচার্য বলেন, দেশে লিভারে বিভিন্ন ধরনের রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রায় পাঁচ কোটি মানুষ। বাংলাদেশে বছরে কমপক্ষে এক হাজার রোগীর লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট করা প্রয়োজন। লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট করলে রোগী দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ থাকেন এবং তার শারীরিক কার্যক্ষমতা স্বাভাবিক থাকে।

উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট সার্জারি সেবা অব্যাহত ও গতিশীল রাখতে প্রয়োজনে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট হাব তৈরি করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বিএমইউর উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) ও ভারপ্রাপ্ত কোষাধ্যক্ষ ডা. আবুল কালাম আজাদ, উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার, রেজিস্ট্রার ডা. মো. মোস্তফা কামাল, বিএমইউ ডিন ও পরিচালক (সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল) ডা. সাইফউল্লাহ মুন্সী, ডেন্টাল অনুষদের ডিন ডা. সাখাওয়াত হোসেন সায়ন্ত, শিশু অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. মো. আতিয়ার রহমান, হেপাটোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান ডা. শাহিনুল আলম, হেপাটোবিলিয়ারি প্যানক্রিয়েটিভ ও লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট সার্জারি বিভাগের চেয়ারম্যান ডা. বিধান চন্দ্র দাস, ডা. মো. মোহছেন চৌধুরী, ডা. মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, নেফ্রোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান ডা. এ এইচ হামিদ আহম্মদ, ডা. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন। 

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


দেশে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টে নতুন যুগ, বিএমইউ’র ৬ সাফল্য

প্রকাশের তারিখ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

দেশেই জটিল চিকিৎসায় অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ)। সম্প্রতি বিএমইউ সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে ছয়টি লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট সার্জারি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। একই সঙ্গে আরও চারটি লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের জন্য রোগী নির্বাচন ও প্রস্তুতি চলছে। এই সাফল্য দেশে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট চিকিৎসায় এক নতুন যুগের সূচনা করেছে।

সরকারি বরাদ্দের আওতায় রোগীদের এসব ট্রান্সপ্ল্যান্ট বিনামূল্যে করা হয়েছে। সব লিভারগ্রহীতা রোগী ও লিভার দাতারা ভালো আছেন। বিএমইউর হেপাটোবিলিয়ারি, প্যানক্রিয়াটিক অ্যান্ড লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট সার্জারি, হেপাটোলজি এবং অ্যানেসথেসিয়া, অ্যানালজেসিয়া অ্যান্ড ইনটেনসিভ কেয়ার মেডিসিন বিভাগসহ মোট ১৯টি বিশেষায়িত বিভাগের সমন্বিত প্রচেষ্টায় এসব সার্জারি সম্পন্ন হয়।

এই ছয়টি ট্রান্সপ্ল্যান্ট সম্পন্ন হয়েছে গত ২০২৫ সালের ১ ও ২ সেপ্টেম্বর এবং ২০২৬ সালের ৩ ও ৪ জুলাই এবং ১১ ও ১২ সেপ্টেম্বর। এসব ট্রান্সপ্ল্যান্ট সম্পন্ন করতে হায়দ্রাবাদস্থ এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি (এআইজি) হসপিটালের বিশেষজ্ঞ ট্রান্সপ্ল্যান্ট টিম বিএমইউর চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের কারিগরি সহযোগিতা প্রদান করেন।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান বিএমইউর উপাচার্য ডা. এফ এম সিদ্দিকী। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য এটি একটি আনন্দের ও সাফল্যের দিন। দেশের রোগীদের ও মানুষকে সুসংবাদ দিতে চাই—দেশেই অত্যন্ত জটিল চিকিৎসা, যার সঙ্গে মাল্টিডিসিপ্লিনারি বিভাগসমূহ সম্পৃক্ত, যেমন লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট এখন দেশেই করা সম্ভব।’

ডা. এফ এম সিদ্দিকী জানান, ট্রান্সপ্ল্যান্ট সম্পন্ন করার আগে দাতা ও গ্রহীতার প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা, শারীরিক সক্ষমতা যাচাই এবং আইনগত ও নৈতিক বিষয় যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে। বর্তমানে বিএমইউ সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট ক্লিনিকের মাধ্যমে রোগীদের পরবর্তী চিকিৎসা ও ফলোআপ চলছে।

বিএমইউর লক্ষ্য মাসে দুটি এবং বছরে ২৪টি লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট সম্পন্ন করা। পরবর্তীতে এই কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করা হবে। লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট সার্জারি সেবায় আরও দক্ষ জনবল গড়ে তোলা এবং দেশব্যাপী তা ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যও রয়েছে তাদের।

উপাচার্য জানান, লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট সেবায় বিদেশে এমনকি পাশ্ববর্তী দেশে করলেও কোটি টাকা ব্যয় হয়। বাংলাদেশে বিএমইউতে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট কার্যক্রম সম্পন্ন করতে কমবেশি ৩০ লাখ টাকার মতো ব্যয় হবে। দেশে রোগীরা বিএমইউর ওপর আস্থা রেখেই এই সেবা নিতে পারেন এবং এজন্য দেশের বাইরে যাওয়ার দরকার নেই।

বিএমইউর একজন সাবেক উপাচার্য বলেন, দেশে লিভারে বিভিন্ন ধরনের রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রায় পাঁচ কোটি মানুষ। বাংলাদেশে বছরে কমপক্ষে এক হাজার রোগীর লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট করা প্রয়োজন। লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট করলে রোগী দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ থাকেন এবং তার শারীরিক কার্যক্ষমতা স্বাভাবিক থাকে।

উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট সার্জারি সেবা অব্যাহত ও গতিশীল রাখতে প্রয়োজনে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট হাব তৈরি করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বিএমইউর উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) ও ভারপ্রাপ্ত কোষাধ্যক্ষ ডা. আবুল কালাম আজাদ, উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার, রেজিস্ট্রার ডা. মো. মোস্তফা কামাল, বিএমইউ ডিন ও পরিচালক (সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল) ডা. সাইফউল্লাহ মুন্সী, ডেন্টাল অনুষদের ডিন ডা. সাখাওয়াত হোসেন সায়ন্ত, শিশু অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. মো. আতিয়ার রহমান, হেপাটোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান ডা. শাহিনুল আলম, হেপাটোবিলিয়ারি প্যানক্রিয়েটিভ ও লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট সার্জারি বিভাগের চেয়ারম্যান ডা. বিধান চন্দ্র দাস, ডা. মো. মোহছেন চৌধুরী, ডা. মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, নেফ্রোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান ডা. এ এইচ হামিদ আহম্মদ, ডা. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন। 


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত