দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী কে হচ্ছেন, তা আগামী বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।
দলের সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই প্রার্থী চূড়ান্ত করবেন। তবে দলীয় একটি সূত্র জানিয়েছে, বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই পদের জন্য দলটির পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে চিফ হুইপ ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম মনি এসব তথ্য জানান। এর আগে জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে নূরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে দলের অভ্যন্তরে এবং স্থায়ী কমিটিতে আলোচনা চলছে। আমরা যোগ্য ও সর্বজন গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকেই এই পদের জন্য মনোনীত করব। দলীয়ভাবে রাষ্ট্রপতি প্রার্থীর নাম ঘোষণার দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া হয়েছে। তিনি বৃহস্পতিবার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় প্রার্থীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবেন।’
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ওই দিন বেলা ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সংসদ সদস্যরা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। ভোট গ্রহণের এক ঘণ্টার মধ্যেই ফলাফল ঘোষণা করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা ও ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের ভোট প্রদানের দৃশ্য সরাসরি টেলিভিশনে সম্প্রচার করা হবে বলে জানান চিফ হুইপ।
সংবিধানে ৭০ অনুচ্ছেদের কার্যকারিতা নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে নূরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ কার্যকর থাকবে। ফলে কোনো সংসদ সদস্য দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ভোট দিতে পারবেন না। দিলে তার সংসদ সদস্য পদ বাতিল হবে।’
তবে তিনি উল্লেখ করেন, সরকার ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা কার্যকর হলে ভবিষ্যতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের ভোট দেওয়ার স্বাধীনতা থাকবে।
এদিকে, দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। জাতীয় সংসদে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত প্রার্থীই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন এটি প্রায় নিশ্চিত।
বিএনপির পক্ষ থেকে এখনো কোনো নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা না হলেও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে সাবেক সেনা সদস্য অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমরা নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক করতে চাই এবং দেশবাসীকে আমাদের রাজনৈতিক অবস্থান জানাতে চাই। আমাদের দৃষ্টিতে অলি আহমদ এই মুহূর্তে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি।’
তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই সনদ’ অনুযায়ী ৭০ অনুচ্ছেদ সংস্কার করে এই নির্বাচন হওয়া উচিত ছিল, যাতে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতির গ্রহণযোগ্যতা আরও বৃদ্ধি পায়।
সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত প্রস্তুতি সভায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের যাবতীয় লজিস্টিক সাপোর্ট এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
সভায় চিফ হুইপ ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ছাড়াও হুইপ জি কে গউছ, রকিবুল ইসলাম বকুল, মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপুসহ সংসদ সচিবালয় ও নির্বাচন কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ আগস্ট ২০২৬
দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী কে হচ্ছেন, তা আগামী বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।
দলের সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই প্রার্থী চূড়ান্ত করবেন। তবে দলীয় একটি সূত্র জানিয়েছে, বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই পদের জন্য দলটির পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে চিফ হুইপ ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম মনি এসব তথ্য জানান। এর আগে জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে নূরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে দলের অভ্যন্তরে এবং স্থায়ী কমিটিতে আলোচনা চলছে। আমরা যোগ্য ও সর্বজন গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকেই এই পদের জন্য মনোনীত করব। দলীয়ভাবে রাষ্ট্রপতি প্রার্থীর নাম ঘোষণার দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া হয়েছে। তিনি বৃহস্পতিবার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় প্রার্থীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবেন।’
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ওই দিন বেলা ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সংসদ সদস্যরা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। ভোট গ্রহণের এক ঘণ্টার মধ্যেই ফলাফল ঘোষণা করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা ও ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের ভোট প্রদানের দৃশ্য সরাসরি টেলিভিশনে সম্প্রচার করা হবে বলে জানান চিফ হুইপ।
সংবিধানে ৭০ অনুচ্ছেদের কার্যকারিতা নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে নূরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ কার্যকর থাকবে। ফলে কোনো সংসদ সদস্য দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ভোট দিতে পারবেন না। দিলে তার সংসদ সদস্য পদ বাতিল হবে।’
তবে তিনি উল্লেখ করেন, সরকার ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা কার্যকর হলে ভবিষ্যতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের ভোট দেওয়ার স্বাধীনতা থাকবে।
এদিকে, দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। জাতীয় সংসদে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত প্রার্থীই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন এটি প্রায় নিশ্চিত।
বিএনপির পক্ষ থেকে এখনো কোনো নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা না হলেও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে সাবেক সেনা সদস্য অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমরা নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক করতে চাই এবং দেশবাসীকে আমাদের রাজনৈতিক অবস্থান জানাতে চাই। আমাদের দৃষ্টিতে অলি আহমদ এই মুহূর্তে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি।’
তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই সনদ’ অনুযায়ী ৭০ অনুচ্ছেদ সংস্কার করে এই নির্বাচন হওয়া উচিত ছিল, যাতে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতির গ্রহণযোগ্যতা আরও বৃদ্ধি পায়।
সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত প্রস্তুতি সভায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের যাবতীয় লজিস্টিক সাপোর্ট এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
সভায় চিফ হুইপ ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ছাড়াও হুইপ জি কে গউছ, রকিবুল ইসলাম বকুল, মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপুসহ সংসদ সচিবালয় ও নির্বাচন কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন