সদ্য প্রকাশিত এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার ৪৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে সরকারি জিকেএমকে পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে কলারোয়া গার্লস পাইলট হাইস্কুল। তবে এবারের ফলে দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে উপজেলার ১৪টি বিদ্যালয়, যেখান থেকে কোনো শিক্ষার্থীই জিপিএ-৫ পায়নি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবার কলারোয়া উপজেলায় মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৪৩ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৪০টি জিপিএ-৫ পেয়েছে সরকারি জিকেএমকে পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়। এই বিদ্যালয় থেকে ১৩৪ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে ১২১ জন। পাসের হার ৯০ দশমিক ২৯ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা কলারোয়া গার্লস পাইলট হাইস্কুল থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩০ জন। এই বিদ্যালয়ে ৯৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৯০ জন; পাসের হার ৯৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ।
ফলাফলের দিক থেকে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে সোনাবাড়িয়া ও ভাদিয়ালি মাধ্যমিক বিদ্যালয়। এই দুটি প্রতিষ্ঠান থেকে ৯ জন করে শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। এ ছাড়া বিএইচএস সিংগা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ৮ জন, চন্দনপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও খোরদো সালেহা হক মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় থেকে ৪ জন করে শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।
তবে উপজেলার ১৪টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে কোনো পরীক্ষার্থী জিপিএ-৫ পায়নি। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো - হঠাৎগঞ্জ বালিকা, খোরদো বহুমুখী, পানিকাউরিয়া, দেয়াড়া, সরসকাটি ইউনাইটেড, জয়নগর বদরুন্নেছা বালিকা, হিজলদি, কুশোডাঙ্গা আদর্শ, সাতপোতা রহিমা বালিকা, যুগিখালি মমতাজ আহম্মদ মাধ্যমিক, চন্দনপুর বালিকা, শাকদাহ বালিকা বিদ্যালয়, ব্রজবাকসা ফাতেমা বেগম বালিকা ও কেঁড়াগাছি ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়।
সবচেয়ে খারাপ ফলাফল করেছে যুগিখালি মমতাজ আহমেদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়। এই প্রতিষ্ঠান থেকে ১৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ২ জন পাস করেছে, যারা মূলত অনিয়মিত (দ্বিতীয়বার পরীক্ষা দেওয়া) পরীক্ষার্থী। ১২ জন নিয়মিত পরীক্ষার্থীর সবাই ফেল করেছে। এ বিদ্যালয়ে পাসের হার মাত্র ১৪ দশমিক ২৯ শতাংশ। অন্যদিকে, পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণের দিক থেকে সর্বনিম্ন ছিল কেঁড়াগাছি ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, যেখান থেকে মাত্র ৬ জন পরীক্ষায় অংশ নেয়।
কলারোয়া সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার হারুন অর রশিদ বলেন, ফলাফলের সার্বিক তথ্য জেলা শিক্ষা অফিসে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “যেসব প্রতিষ্ঠান খারাপ ফলাফল করেছে, সেগুলোর ওপর বিশেষ তদারকি বাড়ানো প্রয়োজন। ফলাফল উন্নয়নে পরিচালনা কমিটি, অভিভাবক ও শিক্ষকদের আরও বেশি আন্তরিক হতে হবে।”
আপনার মতামত লিখুন