শরীয়তপুরের জাজিরায় পদ্মা নদীর তীব্র স্রোতে নতুন করে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে সাতটি দোকানঘর। ভাঙন আতঙ্কে ঘরবাড়ি সরিয়ে নিয়েছেন অর্ধশতাধিক মানুষ। বর্তমানে ঝুঁকিতে রয়েছে কাথুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ অন্তত পাঁচ শতাধিক পরিবার। নদী তীরের প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকাকে ভাঙনপ্রবণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
ভাঙন ঠেকাতে জরুরি ভিত্তিতে বালুভর্তি জিওব্যাগ ফেলা হলেও পদ্মার তীব্র স্রোতের সামনে তা টিকছে না। এদিকে নদীতীর রক্ষা প্রকল্পের কাজ ধীরগতিতে চলার অভিযোগ তুলে ক্ষোভ জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
বুধবার (১২ আগস্ট) সরেজমিনে দেখা যায়, বর্ষার পানিতে উত্তাল পদ্মা। তীব্র স্রোত আছড়ে পড়ছে নদীর ডান তীরে। পালেরচর ইউনিয়নের কাথুরিয়া, মোহন ফকিরের কান্দি ও মধু ব্যাপারীকান্দি এলাকায় একের পর এক ভেঙে পড়ছে পাড়। ঘরবাড়ি ও মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে ব্যস্ত বাসিন্দারা। পালেরচর থেকে মাঝিরঘাট পর্যন্ত ইটের সড়কের একটি বড় অংশ নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে। নদী তীরের বৈদ্যুতিক খুঁটি ও সংযোগ সরিয়ে নিতে কাজ করছে পল্লী বিদ্যুতের কর্মীরা।
ভাঙনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্তদের একজন ৮২ বছর বয়সী মালেক ঘরামী। তার ২৮ শতাংশ জমির মধ্যে ২৪ শতাংশই চলে গেছে পদ্মার পেটে। এখন শেষ সম্বল বসতঘরটিও সরিয়ে নিচ্ছেন তিনি। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘কোথায় যাব, তার কোনো ঠিকানা নেই। এখানে আর থাকা সম্ভব নয়, তাই ঘর খুলে অন্যত্র যাওয়ার চেষ্টা করছি।’ একই অবস্থা মধু ব্যাপারীকান্দির সোলেম শরীফের। সন্তানদের নিয়ে গড়ে তোলা শখের ঘরটি চোখের সামনেই ভেঙে ফেলতে হচ্ছে তাকে।
পাউবো সূত্রে জানা গেছে, জাজিরায় পদ্মার ডান তীর রক্ষায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০ দশমিক ৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি প্রকল্প চলমান রয়েছে। ৩৯টি প্যাকেজে পরিচালিত এই প্রকল্পের কাজ প্রায় ৫৩ শতাংশ শেষ হয়েছে। তবে বর্ষায় স্রোতের প্রধান প্রবাহ জাজিরা অংশে আঘাত হানায় নতুন করে তিন কিলোমিটার এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
পাউবোর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী এম এ শামীম বলেন, ‘পদ্মার তীব্র স্রোতের কারণেই এই ভাঙন। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলা হচ্ছে। প্রকল্পের কাজ শেষ হলে ভাঙন ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসবে।’
শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করা হচ্ছে। তাদের খাদ্যসামগ্রী, ঢেউটিন ও পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রকল্পের কাজের ধীরগতির বিষয়ে পাউবোর কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। পালেরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল হোসেন ফরাজীর অভিযোগ, সময়মতো কাজ শেষ না হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়েছে।
আপনার মতামত লিখুন