কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলায় পদ্মা নদীর ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। গত এক বছরে উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের তিনটি গ্রামের প্রায় ৯৫০ বিঘা ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের মুখে পড়েছে শত শত পানবরজ, কলাবাগানসহ প্রাচীন একটি শ্মশানঘাট। ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না থাকায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার মাধবপুর, আড়কান্দি ও রায়টা অঞ্চলে প্রায় ৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তীব্র ভাঙন চলছে। গত কয়েক দিনে পদ্মায় পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙনের গতি আরও বেড়েছে। নদীপাড়ের মাটি খাড়াভাবে ধসে পড়ছে বড় বড় সব ফসলি জমি।
স্থানীয় কৃষকদের তথ্যমতে, এ পর্যন্ত প্রায় ৫০০ বিঘা জমির অন্তত ৫ হাজার পিলি (সারি) পানবরজ এবং ১০০ বিঘা কলাবাগান নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শত শত পানচাষি। এ অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী কুচিয়ামোড়া পানবাজারটি মূলত এই এলাকার পানের ওপর নির্ভরশীল। ফলে পানবরজ বিলীন হওয়ায় স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় ধস নামার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক গিরি দাস বলেন, ‘এ এলাকায় আমাদের দীর্ঘদিনের প্রাচীন একটি শ্মশানঘাট ছিল। গত বছর ভাঙন শুরু হলেও সেটি রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ড কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এবার পুরো শ্মশানটিই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।’
আরেক পানচাষি সুমন হোসেন আক্ষেপ করে বলেন, ‘দুই বছর আগে আগুনে আমাদের সব পুড়েছিল, আর এবার পদ্মা কেড়ে নিচ্ছে। কৃষিই আমাদের একমাত্র আয়ের পথ। প্রশাসনের উদাসীনতার কারণেই আমরা আজ নিঃস্ব।’
কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশিদুর রহমান বলেন, ভাঙন রোধে এরই মধ্যে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। বাজেট পাস হয়ে না আসা পর্যন্ত স্থায়ী কোনো কাজ শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আমিরুল আরাফাত বলেন, ‘ভাঙনকবলিত এলাকা আমি নিজে পরিদর্শনে যাব। পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে।’
আপনার মতামত লিখুন