সংবাদ

তিন দশক পেরিয়ে পপি


বিনোদন প্রতিবেদক
বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬, ০৪:২৩ পিএম

তিন দশক পেরিয়ে পপি

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় ও গ্ল্যামারাস অভিনেত্রী সাদিকা পারভীন পপি। নব্বইয়ের দশকে চলচ্চিত্রে পা রেখে দীর্ঘ তিন দশকের ক্যারিয়ারে অসংখ্য দর্শকের ভালোবাসা পেয়েছেন তিনি। যদিও বিগত কয়েক বছর ধরে চলচ্চিত্রে নিয়মিত দেখা যাচ্ছে না তাকে, তবুও দেশ-বিদেশে এখনো রয়েছে তার বিপুলসংখ্যক ভক্ত-অনুরাগী।

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে গ্ল্যামারাস ও সুন্দরী নায়িকা হিসেবে যে কজন অভিনেত্রী দর্শকের মনে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছেন, তাদের অন্যতম পপি। ১৯৯৫ সালে ‘লাক্স আনন্দবিচিত্রা ফটো সুন্দরী’ প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মধ্য দিয়ে খুলনার মেয়ে পপির মিডিয়ায় পথচলা শুরু হয়।

এরপর প্রয়াত শহীদুল হক খানের পরিচালনায় প্যাকেজ নাটক ‘নায়ক’-এ চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের বিপরীতে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে অভিনয়জীবনের সূচনা করেন তিনি। পরে প্রয়াত বরেণ্য নির্মাতা সোহানুর রহমান সোহানের ‘আমার ঘর আমার বেহেস্ত’ সিনেমায় চিত্রনায়ক শাকিল খানের বিপরীতে কাজ শুরু করেন পপি।

তবে ‘আমার ঘর আমার বেহেস্ত’-এর আগেই মনতাজুর রহমান আকবর পরিচালিত ‘কুলি’ সিনেমাটি মুক্তি পায় ১৯৯৭ সালের ১৬ মে। ফলে পপির মুক্তিপ্রাপ্ত প্রথম সিনেমা হিসেবে ‘কুলি’র নামই ইতিহাসে জায়গা করে নেয়। একই বছর ২০ জুন শওকত জামিল পরিচালিত ‘দরদী সন্তান’ সিনেমায় ইলিয়াস কাঞ্চনের বিপরীতে অভিনয় করেন পপি। এরপর ৩ নভেম্বর মুক্তি পায় ‘আমার ঘর আমার বেহেস্ত’।

১৯৯৮ সালে মুক্তি পায় মোস্তাফিজুর রহমান বাবুর ‘এই মন তোমাকে দিলাম’, মোতালেব হোসেনের ‘ভালোবাসার ঘর’সহ আরও বেশ কয়েকটি সিনেমা। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি পপিকে। একের পর এক সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় নায়িকা হিসেবে।

পপি অভিনীত ব্যবসাসফল ও উল্লেখযোগ্য সিনেমার মধ্যে রয়েছে—‘চারিদিকে শত্রু’, ‘বিদ্রোহ চারিদিকে’, ‘কে আমার বাবা’, ‘লাল বাদশা’, ‘দুজন দুজনার’, ‘প্রাণের প্রিয়তমা’, ‘ক্ষ্যাপা বাসু’, ‘বিদ্রোহী পদ্মা’, ‘রানী কুঠির বাকী ইতিহাস’, ‘মেঘের কোলে রোদ’, ‘কী যাদু করিলা’, ‘কারাগার’, ‘গঙ্গাযাত্রা’ ও ‘বস্তির রানী সুরিয়া’সহ আরও বেশ কিছু চলচ্চিত্র। অভিনয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারেও একাধিকবার ভূষিত হয়েছেন পপি। কালাম কায়সার পরিচালিত ‘কারাগার’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য প্রথমবার শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন তিনি। পরবর্তীতে ‘মেঘের কোলে রোদ’ ও ‘গঙ্গাযাত্রা’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্যও একই পুরস্কারে ভূষিত হন। এছাড়া বাচসাস, বাবিসাস, ট্র্যাব অ্যাওয়ার্ডসহ বিভিন্ন সংগঠনের পুরস্কারও পেয়েছেন এই অভিনেত্রী। ব্যক্তিজীবনেও বর্তমানে অনেকটা আড়ালে রয়েছেন পপি। কয়েক বছর আগে দেশের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী আদনানকে বিয়ে করেছেন তিনি। তাদের একমাত্র সন্তান পুত্র আয়াত। আপাতত ঘর-সংসার নিয়েই সুখী জীবনযাপন করছেন এই অভিনেত্রী।

নিজের দীর্ঘ চলচ্চিত্রজীবন প্রসঙ্গে পপি বলেন, “দীর্ঘদিনের চলচ্চিত্র জীবনে আমি এই দেশের কোটি কোটি সিনেমাপ্রেমী দর্শকের ভালোবাসা পেয়েছি। চলচ্চিত্রে কাজ করতে গিয়ে সিনিয়র শিল্পীদের স্নেহ-ভালোবাসায় ধন্য হয়েছি। এছাড়াও পুরো চলচ্চিত্র পরিবারের ভালোবাসা তো ছিলই। আমি আজকের পপি, যা কিছু—তার সবটুকুই আসলে চলচ্চিত্র থেকে পাওয়া, দর্শকের ভালোবাসা থেকে পাওয়া। যে কারণে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের প্রতি আমার অগাধ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা সবসময়ই থাকবে।” চলচ্চিত্রে নিয়মিত না থাকলেও পপির অভিনয়, সৌন্দর্য ও জনপ্রিয়তার স্মৃতি এখনো দর্শকের মনে উজ্জ্বল। সময়ের সঙ্গে বদলেছে ঢাকাই চলচ্চিত্রের অনেক কিছু, বদলেছে তারকার প্রজন্মও; কিন্তু পপির নামটি এখনো বাংলা চলচ্চিত্রের নন্দিত নায়িকাদের তালিকায় স্বমহিমায় উচ্চারিত হয়।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬


তিন দশক পেরিয়ে পপি

প্রকাশের তারিখ : ১৪ আগস্ট ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় ও গ্ল্যামারাস অভিনেত্রী সাদিকা পারভীন পপি। নব্বইয়ের দশকে চলচ্চিত্রে পা রেখে দীর্ঘ তিন দশকের ক্যারিয়ারে অসংখ্য দর্শকের ভালোবাসা পেয়েছেন তিনি। যদিও বিগত কয়েক বছর ধরে চলচ্চিত্রে নিয়মিত দেখা যাচ্ছে না তাকে, তবুও দেশ-বিদেশে এখনো রয়েছে তার বিপুলসংখ্যক ভক্ত-অনুরাগী।

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে গ্ল্যামারাস ও সুন্দরী নায়িকা হিসেবে যে কজন অভিনেত্রী দর্শকের মনে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছেন, তাদের অন্যতম পপি। ১৯৯৫ সালে ‘লাক্স আনন্দবিচিত্রা ফটো সুন্দরী’ প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মধ্য দিয়ে খুলনার মেয়ে পপির মিডিয়ায় পথচলা শুরু হয়।

এরপর প্রয়াত শহীদুল হক খানের পরিচালনায় প্যাকেজ নাটক ‘নায়ক’-এ চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের বিপরীতে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে অভিনয়জীবনের সূচনা করেন তিনি। পরে প্রয়াত বরেণ্য নির্মাতা সোহানুর রহমান সোহানের ‘আমার ঘর আমার বেহেস্ত’ সিনেমায় চিত্রনায়ক শাকিল খানের বিপরীতে কাজ শুরু করেন পপি।

তবে ‘আমার ঘর আমার বেহেস্ত’-এর আগেই মনতাজুর রহমান আকবর পরিচালিত ‘কুলি’ সিনেমাটি মুক্তি পায় ১৯৯৭ সালের ১৬ মে। ফলে পপির মুক্তিপ্রাপ্ত প্রথম সিনেমা হিসেবে ‘কুলি’র নামই ইতিহাসে জায়গা করে নেয়। একই বছর ২০ জুন শওকত জামিল পরিচালিত ‘দরদী সন্তান’ সিনেমায় ইলিয়াস কাঞ্চনের বিপরীতে অভিনয় করেন পপি। এরপর ৩ নভেম্বর মুক্তি পায় ‘আমার ঘর আমার বেহেস্ত’।

১৯৯৮ সালে মুক্তি পায় মোস্তাফিজুর রহমান বাবুর ‘এই মন তোমাকে দিলাম’, মোতালেব হোসেনের ‘ভালোবাসার ঘর’সহ আরও বেশ কয়েকটি সিনেমা। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি পপিকে। একের পর এক সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় নায়িকা হিসেবে।

পপি অভিনীত ব্যবসাসফল ও উল্লেখযোগ্য সিনেমার মধ্যে রয়েছে—‘চারিদিকে শত্রু’, ‘বিদ্রোহ চারিদিকে’, ‘কে আমার বাবা’, ‘লাল বাদশা’, ‘দুজন দুজনার’, ‘প্রাণের প্রিয়তমা’, ‘ক্ষ্যাপা বাসু’, ‘বিদ্রোহী পদ্মা’, ‘রানী কুঠির বাকী ইতিহাস’, ‘মেঘের কোলে রোদ’, ‘কী যাদু করিলা’, ‘কারাগার’, ‘গঙ্গাযাত্রা’ ও ‘বস্তির রানী সুরিয়া’সহ আরও বেশ কিছু চলচ্চিত্র। অভিনয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারেও একাধিকবার ভূষিত হয়েছেন পপি। কালাম কায়সার পরিচালিত ‘কারাগার’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য প্রথমবার শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন তিনি। পরবর্তীতে ‘মেঘের কোলে রোদ’ ও ‘গঙ্গাযাত্রা’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্যও একই পুরস্কারে ভূষিত হন। এছাড়া বাচসাস, বাবিসাস, ট্র্যাব অ্যাওয়ার্ডসহ বিভিন্ন সংগঠনের পুরস্কারও পেয়েছেন এই অভিনেত্রী। ব্যক্তিজীবনেও বর্তমানে অনেকটা আড়ালে রয়েছেন পপি। কয়েক বছর আগে দেশের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী আদনানকে বিয়ে করেছেন তিনি। তাদের একমাত্র সন্তান পুত্র আয়াত। আপাতত ঘর-সংসার নিয়েই সুখী জীবনযাপন করছেন এই অভিনেত্রী।

নিজের দীর্ঘ চলচ্চিত্রজীবন প্রসঙ্গে পপি বলেন, “দীর্ঘদিনের চলচ্চিত্র জীবনে আমি এই দেশের কোটি কোটি সিনেমাপ্রেমী দর্শকের ভালোবাসা পেয়েছি। চলচ্চিত্রে কাজ করতে গিয়ে সিনিয়র শিল্পীদের স্নেহ-ভালোবাসায় ধন্য হয়েছি। এছাড়াও পুরো চলচ্চিত্র পরিবারের ভালোবাসা তো ছিলই। আমি আজকের পপি, যা কিছু—তার সবটুকুই আসলে চলচ্চিত্র থেকে পাওয়া, দর্শকের ভালোবাসা থেকে পাওয়া। যে কারণে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের প্রতি আমার অগাধ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা সবসময়ই থাকবে।” চলচ্চিত্রে নিয়মিত না থাকলেও পপির অভিনয়, সৌন্দর্য ও জনপ্রিয়তার স্মৃতি এখনো দর্শকের মনে উজ্জ্বল। সময়ের সঙ্গে বদলেছে ঢাকাই চলচ্চিত্রের অনেক কিছু, বদলেছে তারকার প্রজন্মও; কিন্তু পপির নামটি এখনো বাংলা চলচ্চিত্রের নন্দিত নায়িকাদের তালিকায় স্বমহিমায় উচ্চারিত হয়।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত