সংবাদ

কুকি স্টাফিং কেলেঙ্কারি

আইনি ঝুঁকিতে ফিবি গেটসের স্টার্টআপ ‘ফিয়া’


সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬, ০৯:২৮ পিএম

আইনি ঝুঁকিতে ফিবি গেটসের স্টার্টআপ ‘ফিয়া’

এআই-চালিত শপিং স্টার্টআপ ‘ফিয়া’ (Phia)-কে ঘিরে ওঠা ‘কুকি স্টাফিং’ বা ডিজিটাল প্রতারণার অভিযোগ প্রমাণের মুখে পড়লেও প্রতিষ্ঠাতা ফিবি গেটসের কারাদণ্ড হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে বিল গেটসের ২৩ বছর বয়সী এই মেয়ের প্রতিষ্ঠানকে বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানা ও দেওয়ানি মামলার মুখোমুখি হতে হতে পারে বলে আইনি বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।

প্রতারণার উদ্দেশ্যে এই কার্যক্রমে যুক্ত থাকার বিষয়টি আগে প্রমাণ করতে হবে বলে মনে করেন আইন বিশেষজ্ঞরা। সাইবার ল’ ফার্মের প্রতিষ্ঠাতা স্টার ক্যাশম্যানের মতে, ওয়্যার জালিয়াতির অপরাধে সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, "এটি কোনো অসতর্ক বা অবহেলাজনিত ভুল হতে পারে না।"

ওয়্যার জালিয়াতির অভিযোগ প্রমাণ করতে হলে দেখাতে হবে যে, প্রতারণার ছক কষে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, "উদ্দেশ্যমূলকভাবে কিছু করা হলেও, মামলা বা বিচার প্রক্রিয়া কখনোই স্বয়ংক্রিয়ভাবে শুরু হয় না।" প্রথম অপরাধেই সর্বোচ্চ শাস্তি পাওয়া বিরল ঘটনা উল্লেখ করে ক্যাশম্যান যোগ করেন, "যদি এটি সত্য প্রমাণিত হয়, তবে এই কথিত প্রতারণার দায়ে তাকে এবং তার কোম্পানিকে আদালতে নেওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।"

অ্যাফিলিয়েট সিস্টেমে ক্রেতা কোনো লিংক বা কুপন ব্যবহার করলে ডিজিটাল ট্র্যাকিং কুকির মাধ্যমে বিক্রির কমিশন পান প্রকাশকরা। অভিযোগ উঠেছে, ফিয়ার ব্রাউজার এক্সটেনশন স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যবহারকারীদের ডিভাইসে গোপন ট্র্যাকিং কুকি বসিয়ে দিত। এতে ক্রেতারা কোনো সহায়তা না নিলেও বিক্রির পুরো কৃতিত্ব নিয়ে কমিশন হাতিয়ে নিত ফিয়া।

দীর্ঘদিনের বিজ্ঞাপন গবেষক বেন এডেলম্যান একে ‘জোরপূর্বক ক্লিক’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, "ব্যবহারকারী যখন কোনো লিংকের সঙ্গে যুক্তই হননি, তখন কুকি বসানোর কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকতে পারে না। এর একটাই উদ্দেশ্য— প্রচুর অর্থ উপার্জন করা।" অ্যাটর্নি রিচার্ড নিউম্যান জানান, অ্যাফিলিয়েট চুক্তিতে সাধারণত এটি নিষিদ্ধ থাকে এবং এর ফলে কমিশন পাওয়ার অধিকার বাতিল হয়ে যায়।

ফিবি গেটস এবং সোফিয়া কিয়ানির তৈরি ফিয়া-র গড় দৈনিক আয় আশি হাজার ডলার থেকে কমে দশ হাজার ডলারে নেমে এসেছে। অভ্যন্তরীণ বার্তা ফাঁস হওয়ায় ইঙ্গিত মেলে যে, প্রতিষ্ঠাতারা আগেই বিষয়টি জানতেন। বড় ধরনের আর্থিক জরিমানার মুখোমুখি হতে যাওয়া ফিয়া-র বিরুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলো চাইলে দেওয়ানি মামলা করতে পারবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬


আইনি ঝুঁকিতে ফিবি গেটসের স্টার্টআপ ‘ফিয়া’

প্রকাশের তারিখ : ১৪ আগস্ট ২০২৬

featured Image

এআই-চালিত শপিং স্টার্টআপ ‘ফিয়া’ (Phia)-কে ঘিরে ওঠা ‘কুকি স্টাফিং’ বা ডিজিটাল প্রতারণার অভিযোগ প্রমাণের মুখে পড়লেও প্রতিষ্ঠাতা ফিবি গেটসের কারাদণ্ড হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে বিল গেটসের ২৩ বছর বয়সী এই মেয়ের প্রতিষ্ঠানকে বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানা ও দেওয়ানি মামলার মুখোমুখি হতে হতে পারে বলে আইনি বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।

প্রতারণার উদ্দেশ্যে এই কার্যক্রমে যুক্ত থাকার বিষয়টি আগে প্রমাণ করতে হবে বলে মনে করেন আইন বিশেষজ্ঞরা। সাইবার ল’ ফার্মের প্রতিষ্ঠাতা স্টার ক্যাশম্যানের মতে, ওয়্যার জালিয়াতির অপরাধে সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, "এটি কোনো অসতর্ক বা অবহেলাজনিত ভুল হতে পারে না।"

ওয়্যার জালিয়াতির অভিযোগ প্রমাণ করতে হলে দেখাতে হবে যে, প্রতারণার ছক কষে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, "উদ্দেশ্যমূলকভাবে কিছু করা হলেও, মামলা বা বিচার প্রক্রিয়া কখনোই স্বয়ংক্রিয়ভাবে শুরু হয় না।" প্রথম অপরাধেই সর্বোচ্চ শাস্তি পাওয়া বিরল ঘটনা উল্লেখ করে ক্যাশম্যান যোগ করেন, "যদি এটি সত্য প্রমাণিত হয়, তবে এই কথিত প্রতারণার দায়ে তাকে এবং তার কোম্পানিকে আদালতে নেওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।"

অ্যাফিলিয়েট সিস্টেমে ক্রেতা কোনো লিংক বা কুপন ব্যবহার করলে ডিজিটাল ট্র্যাকিং কুকির মাধ্যমে বিক্রির কমিশন পান প্রকাশকরা। অভিযোগ উঠেছে, ফিয়ার ব্রাউজার এক্সটেনশন স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যবহারকারীদের ডিভাইসে গোপন ট্র্যাকিং কুকি বসিয়ে দিত। এতে ক্রেতারা কোনো সহায়তা না নিলেও বিক্রির পুরো কৃতিত্ব নিয়ে কমিশন হাতিয়ে নিত ফিয়া।

দীর্ঘদিনের বিজ্ঞাপন গবেষক বেন এডেলম্যান একে ‘জোরপূর্বক ক্লিক’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, "ব্যবহারকারী যখন কোনো লিংকের সঙ্গে যুক্তই হননি, তখন কুকি বসানোর কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকতে পারে না। এর একটাই উদ্দেশ্য— প্রচুর অর্থ উপার্জন করা।" অ্যাটর্নি রিচার্ড নিউম্যান জানান, অ্যাফিলিয়েট চুক্তিতে সাধারণত এটি নিষিদ্ধ থাকে এবং এর ফলে কমিশন পাওয়ার অধিকার বাতিল হয়ে যায়।

ফিবি গেটস এবং সোফিয়া কিয়ানির তৈরি ফিয়া-র গড় দৈনিক আয় আশি হাজার ডলার থেকে কমে দশ হাজার ডলারে নেমে এসেছে। অভ্যন্তরীণ বার্তা ফাঁস হওয়ায় ইঙ্গিত মেলে যে, প্রতিষ্ঠাতারা আগেই বিষয়টি জানতেন। বড় ধরনের আর্থিক জরিমানার মুখোমুখি হতে যাওয়া ফিয়া-র বিরুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলো চাইলে দেওয়ানি মামলা করতে পারবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত