নদীর নাম যমুনা। তার শান্ত একটি শাখা নদী হঠাৎ করেই যেন রুদ্রমূর্তি ধারণ করেছে। মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার জিয়নপুর ইউনিয়নে সেই নদীর পাড়জুড়ে এখন কেবলই হাহাকার। কয়েক দিনের ব্যবধানে প্রলয়ংকরী ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে আড়াই শতাধিক ঘরবাড়ি আর ফসলি জমি। অস্তিত্ব সংকটে ঐতিহ্যবাহী আমতলী হাট ও শতবর্ষী দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
সরেজমিনে দেখা যায়, জিয়নপুর ইউনিয়নের বৈন্যা গ্রামের দৃশ্যপট পাল্টে গেছে। যেখানে মানুষের ঘরবাড়ি ছিল, সেখানে এখন কেবলই অথই জল। চোখের সামনেই ধসে পড়ছে বাপ-দাদার স্মৃতিবিজড়িত ভিটেমাটি। শেষ সম্বলটুকু হারিয়ে অনেক পরিবার এখন খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছে।
অশ্রুসজল চোখে জিয়নপুর ইউনিয়নের ছায়েদুর রহমান বলেন, ‘নদী আমাদের নিঃস্ব করে দিচ্ছে। চোখের সামনে সব শেষ হয়ে যাচ্ছে, অথচ কিছুই করতে পারছি না। পরিবার নিয়ে কোথায় যাব, সেই চিন্তায় রাতে ঘুম আসে না।’
হুমকির মুখে আছে দৌলতপুরের শ্রেষ্ঠ গরুর হাট হিসেবে পরিচিত ‘আমতলী হাট’। এ ছাড়া আমতলী ফেদু সেক উচ্চবিদ্যালয় ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে নদী এখন মাত্র ২০০ গজ দূরে।
স্থানীয় বিএনপি নেতা আব্দুস সালাম ও সাবেক ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান হবির দাবি, মাত্র ৫০০ ফুট এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলা হলে এই বিশাল স্থাপনা ও প্রায় ২০০ পরিবারকে রক্ষা করা সম্ভব হতো। ৭-১০ দিনের মধ্যে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে স্কুল ও হাটটি মানচিত্র থেকে চিরতরে হারিয়ে যাবে।
সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য সুফিয়া বেগমও জানালেন তার ঘর হারানোর ভয়ের কথা। তিনি বলেন, ‘আর মাত্র কয়েক দিন এভাবে ভাঙলে আমার থাকার জায়গাটুকুও থাকবে না।’
জিয়নপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আতোয়ার রহমান জানান, তিনি বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানিয়েছেন। স্থানীয়দের দাবি, মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবির যেন দ্রুত হস্তক্ষেপ করেন।
দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সিলভিয়া স্নিগ্ধা বলেন, ‘ভাঙনের বিষয়টি আমি অবগত। জেলা প্রশাসক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে। আশা করছি দ্রুতই ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তবে প্রশাসনের এই আশ্বাসে দুশ্চিন্তা কাটছে না নদীপাড়ের মানুষের। যমুনার করাল গ্রাস থেকে আমতলীকে বাঁচাতে এখন সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছে দুর্গত মানুষগুলো।
আপনার মতামত লিখুন