সংবাদ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিয়ে যেসব অভিযোগ তুললেন হাসনাত আব্দুল্লাহ


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১১ পিএম

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিয়ে যেসব অভিযোগ তুললেন হাসনাত আব্দুল্লাহ
হাসনাত আবদুল্লাহ ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ

বিএনপি সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে নিয়ে বিস্তর অভিযোগ তুলেছেন কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক মো. আবুল হাসনাত (হাসনাত আব্দুল্লাহ)। শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে এক পোস্টে তিনি এসব অভিযোগ তুলেন।

একজন সাবেক সরকারি কর্মকর্তা থেকে মন্ত্রী হওয়ার দীর্ঘ যাত্রায় তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী ও বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নামে থাকা কোটি টাকার দুর্নীতি মামলা থেকে শুরু করে গুলশানের বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট এবং বিপুল পরিমাণ বেনামি সম্পদের উৎস নিয়ে নানা অভিযোগ তুলে ধরেছেন হাসনাত আবদুল্লাহ।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে বর্তমান প্রশাসনের দ্বিমুখী নীতি ও ভিন্নমতের ওপর ব্যাংক হিসাব তলবের সংস্কৃতির সমালোচনা করে হাসনাত আব্দুল্লাহ প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন—রাষ্ট্রের প্রকৃত স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হলে মন্ত্রী-এমপিদের পাশাপাশি তাদের নিকটাত্মীয়দের সম্পদের হিসাবও বছরওয়ারি প্রকাশ করা হোক। আর যার শুরুটা হতে পারে তার নিজের হিসাব তলব দিয়েই।

ফেসবুক পোস্টে হাসনাত আব্দুল্লাহ লেখেন, “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ প্রতিমন্ত্রী থাকাকালে ১ কোটি টাকা ঘুস নেওয়ার অভিযোগে ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় দুর্নীতি মামলায় ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছিলেন। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মীর আকতার হোসেন লিমিটেড’-এর মালিক মীর জহির হোসেনের কাছ থেকে ১ কোটি টাকা ঘুস নেওয়ার অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ২০০৭ সালের মে মাসে ধানমন্ডি থানায় এই মামলাটি দায়ের করেছিল।”

এনসিপি নেতা আরও লেখেন, “৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১ কোটি টাকা জরিমানাও করা হয়েছিল। জরিমানার টাকা অনাদায়ে আরও ১ বছরের কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে ঘুসের ১ কোটি টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে বাজেয়াপ্ত করার আদেশও দেওয়া হয়েছিল।”

২০০৮ সালে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আরেকটি দুর্নীতি মামলায় ১৩ বছরের সাজা হয়েছিল- উল্লেখ করে হাসনাত আব্দুল্লাহ লেখেন, “অবৈধভাবে ৪ কোটি টাকার সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে ১০ বছরের ও ৩ বছরের সাজা মিলিয়ে ১৩ বছর হয়েছিল। এ ছাড়া চকরিয়ায় মাছের ঘের দখলের দুটি মামলাও ছিল সালাহউদ্দিন আহমদের বিরুদ্ধে। এই দুই মামলা থেকেও তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের সময় খালাস পান।”

হাসনাত আব্দুল্লাহ বিএনপির দিকে আঙ্গুল তুলে আরও লেখেন, “এখন বিএনপির সময়ে দুদকসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অনেকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনা হচ্ছে। সেটির অংশ হিসেবে বিএফইউআইয়ের মাধ্যমে সালমান মুক্তাদিরের ব্যাংক হিসাব চাওয়া হয়েছে। রাষ্ট্র যে কারো ব্যাংক হিসাব চাইতেই পারে। কিন্তু বিষয়টি তখন উদ্বেগজনক হয়, যখন সরকারের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুললে ব্যাংক হিসাব তলব করা হচ্ছে। যদি রাষ্ট্রীয় কল্যাণের জন্যই ব্যাংক হিসাব তলব করা হয়, তাহলে প্রত্যেক এমপি-মন্ত্রীর ব্যাংক হিসাবও তলব করা হোক।”

প্রায় ২০ বছর আগে সালাহউদ্দিন আহমদ গুলশানের অন্যতম দামি ও বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্স ‘প্লাটিনাম রেসিডেন্স’-এ একটি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্টের মালিক হয়েছেন বলে উল্লেখ করে এনসিপি নেতা হাসনাত লেখেন, “গুলশানে তার একাধিক বাড়ি ও সম্পদ রয়েছে বলেও আলোচনা রয়েছে। সাজার কারণে সালাহউদ্দিন আহমদ ২০০৮ সালে নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি। তার স্ত্রী হাসিনা আহমদ অংশ নেন। নির্বাচনী হলফনামা অনুসারে, ২০০৮ সালে সালাহউদ্দিন-হাসিনা দম্পতির মোট সম্পদ ছিল ৬.৩ কোটি টাকা। ২০১৮ সালে তা ১২.৭ কোটি এবং ২০২৫ সালে ৩০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।”

হাসনাত আব্দুল্লাহ বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সম্পদের উৎস সম্পর্কে কৌতুহল প্রকাশ করে লেখেন, “এত সম্পদের উৎস কী? সালাহউদ্দিন আহমদ ‘৮৫ বিসিএস ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডারের একজন কর্মকর্তা ছিলেন। সরকারি চাকরিজীবী হওয়ায় ১৯৯৬ সালে রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার আগে ব্যবসা করার সুযোগ তার ছিল না। ১৯৯৬ সালে সিনিয়র সহকারী সচিব পদ থেকে যখন তিনি চাকরি থেকে ইস্তফা দেন, তখন মাসে বেতন-ভাতা মিলিয়ে বড়জোর ৬ হাজার টাকা পেতেন। মূল্যস্ফীতি হিসাবে যা বর্তমান বাজারের ৪০ হাজার টাকার চেয়েও কম সমান। আজ থেকে ২০ বছর আগেও গুলশানে ফ্ল্যাটের দাম ছিল কমপক্ষে সাড়ে ৩ হাজার টাকা বর্গফুট। ৩ হাজার বর্গফুট ফ্ল্যাটের দাম ছিল ওই সময়েই কোটি টাকা। ৬ হাজার টাকা বেতনের সরকারি কর্মকর্তা কি কোটি টাকার ফ্ল্যাট কিনতে পারেন?”

কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আরও লেখেন, “২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত প্রতিমন্ত্রী পদে থাকায় ব্যবসা করার অধিকার সালাহউদ্দিন আহমদের ছিল না। পরের দুই বছর কারাগারে ছিলেন। এরপর বিএনপি ছিল বিরোধী দলে। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত বিএনপি ছিল বিরোধী দলে। চাকরি থেকে রাজনীতিতে এসে সেই সময়ে সংসদ সদস্য হওয়া সালাহউদ্দিন, এই সময়ে কী ব্যবসা করলেন যে প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পরের কয়েক বছরে গুলশানে সম্পদের মালিক হয়ে গেলেন!”

বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিষয়ে এনসিপি নেতা আরও লেখেন, “শুধু দেশেই নয়, তার সন্তানদেরও পশ্চিমা উন্নত দেশগুলোতে পড়াশোনা করিয়েছেন বলে জানা যায়। দীর্ঘ সময় ধরে বিদেশে উচ্চশিক্ষার পেছনে যে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে, সেই অর্থের উৎস কী ছিল? এই সম্পদের কতটা আয়, কতটা উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া, কতটা বিনিয়োগ বা অন্য কোনো উৎস থেকে এসেছে—তার কি স্বচ্ছ ব্যাখ্যা রয়েছে? আর সন্তানদের বিদেশে পড়াশোনার জন্য এত বিপুল অর্থ কীভাবে বৈধভাবে বিদেশে পাঠানো হয়েছে?”

প্রশ্ন তুলে হাসনাত আব্দুল্লাহ আরও লেখেন, “একজন সরকারি কর্মকর্তা থেকে এমপি ও প্রতিমন্ত্রী হওয়ার দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তার ঘোষিত আয়, সম্পদ বৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ের মধ্যে কোনো অসামঞ্জস্য আছে কি না—সেটিও জনস্বার্থে খতিয়ে দেখা জরুরি।”

সবশেষে এনসিপি নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ লেখেন, “সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো এই বিপুল সম্পদের প্রকৃত উৎস কী এবং তার পক্ষে কি স্বচ্ছ ও যাচাইযোগ্য হিসাব রয়েছে? সুতরাং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত এমপি-মন্ত্রীদের নিকটাত্মীয় ও আত্মীয়স্বজনদের ব্যাংক হিসাবও প্রতি বছর রাষ্ট্রীয় স্বার্থে তলব করা হোক। আমাকে দিয়েই তা শুরু হোক। অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের দায়িত্ব গ্রহণের আগে ও পরের সম্পদের হিসাব তারা নিজেরাই প্রকাশ করে গেছেন। দেখি, সরকারি এসব প্রতিষ্ঠান সেই সৎ সাহস দেখাতে পারে কি না!”

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিয়ে যেসব অভিযোগ তুললেন হাসনাত আব্দুল্লাহ

প্রকাশের তারিখ : ০২ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

বিএনপি সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে নিয়ে বিস্তর অভিযোগ তুলেছেন কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক মো. আবুল হাসনাত (হাসনাত আব্দুল্লাহ)। শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে এক পোস্টে তিনি এসব অভিযোগ তুলেন।

একজন সাবেক সরকারি কর্মকর্তা থেকে মন্ত্রী হওয়ার দীর্ঘ যাত্রায় তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী ও বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নামে থাকা কোটি টাকার দুর্নীতি মামলা থেকে শুরু করে গুলশানের বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট এবং বিপুল পরিমাণ বেনামি সম্পদের উৎস নিয়ে নানা অভিযোগ তুলে ধরেছেন হাসনাত আবদুল্লাহ।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে বর্তমান প্রশাসনের দ্বিমুখী নীতি ও ভিন্নমতের ওপর ব্যাংক হিসাব তলবের সংস্কৃতির সমালোচনা করে হাসনাত আব্দুল্লাহ প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন—রাষ্ট্রের প্রকৃত স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হলে মন্ত্রী-এমপিদের পাশাপাশি তাদের নিকটাত্মীয়দের সম্পদের হিসাবও বছরওয়ারি প্রকাশ করা হোক। আর যার শুরুটা হতে পারে তার নিজের হিসাব তলব দিয়েই।

ফেসবুক পোস্টে হাসনাত আব্দুল্লাহ লেখেন, “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ প্রতিমন্ত্রী থাকাকালে ১ কোটি টাকা ঘুস নেওয়ার অভিযোগে ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় দুর্নীতি মামলায় ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছিলেন। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মীর আকতার হোসেন লিমিটেড’-এর মালিক মীর জহির হোসেনের কাছ থেকে ১ কোটি টাকা ঘুস নেওয়ার অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ২০০৭ সালের মে মাসে ধানমন্ডি থানায় এই মামলাটি দায়ের করেছিল।”

এনসিপি নেতা আরও লেখেন, “৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১ কোটি টাকা জরিমানাও করা হয়েছিল। জরিমানার টাকা অনাদায়ে আরও ১ বছরের কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে ঘুসের ১ কোটি টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে বাজেয়াপ্ত করার আদেশও দেওয়া হয়েছিল।”

২০০৮ সালে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আরেকটি দুর্নীতি মামলায় ১৩ বছরের সাজা হয়েছিল- উল্লেখ করে হাসনাত আব্দুল্লাহ লেখেন, “অবৈধভাবে ৪ কোটি টাকার সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে ১০ বছরের ও ৩ বছরের সাজা মিলিয়ে ১৩ বছর হয়েছিল। এ ছাড়া চকরিয়ায় মাছের ঘের দখলের দুটি মামলাও ছিল সালাহউদ্দিন আহমদের বিরুদ্ধে। এই দুই মামলা থেকেও তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের সময় খালাস পান।”

হাসনাত আব্দুল্লাহ বিএনপির দিকে আঙ্গুল তুলে আরও লেখেন, “এখন বিএনপির সময়ে দুদকসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অনেকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনা হচ্ছে। সেটির অংশ হিসেবে বিএফইউআইয়ের মাধ্যমে সালমান মুক্তাদিরের ব্যাংক হিসাব চাওয়া হয়েছে। রাষ্ট্র যে কারো ব্যাংক হিসাব চাইতেই পারে। কিন্তু বিষয়টি তখন উদ্বেগজনক হয়, যখন সরকারের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুললে ব্যাংক হিসাব তলব করা হচ্ছে। যদি রাষ্ট্রীয় কল্যাণের জন্যই ব্যাংক হিসাব তলব করা হয়, তাহলে প্রত্যেক এমপি-মন্ত্রীর ব্যাংক হিসাবও তলব করা হোক।”

প্রায় ২০ বছর আগে সালাহউদ্দিন আহমদ গুলশানের অন্যতম দামি ও বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্স ‘প্লাটিনাম রেসিডেন্স’-এ একটি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্টের মালিক হয়েছেন বলে উল্লেখ করে এনসিপি নেতা হাসনাত লেখেন, “গুলশানে তার একাধিক বাড়ি ও সম্পদ রয়েছে বলেও আলোচনা রয়েছে। সাজার কারণে সালাহউদ্দিন আহমদ ২০০৮ সালে নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি। তার স্ত্রী হাসিনা আহমদ অংশ নেন। নির্বাচনী হলফনামা অনুসারে, ২০০৮ সালে সালাহউদ্দিন-হাসিনা দম্পতির মোট সম্পদ ছিল ৬.৩ কোটি টাকা। ২০১৮ সালে তা ১২.৭ কোটি এবং ২০২৫ সালে ৩০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।”

হাসনাত আব্দুল্লাহ বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সম্পদের উৎস সম্পর্কে কৌতুহল প্রকাশ করে লেখেন, “এত সম্পদের উৎস কী? সালাহউদ্দিন আহমদ ‘৮৫ বিসিএস ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডারের একজন কর্মকর্তা ছিলেন। সরকারি চাকরিজীবী হওয়ায় ১৯৯৬ সালে রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার আগে ব্যবসা করার সুযোগ তার ছিল না। ১৯৯৬ সালে সিনিয়র সহকারী সচিব পদ থেকে যখন তিনি চাকরি থেকে ইস্তফা দেন, তখন মাসে বেতন-ভাতা মিলিয়ে বড়জোর ৬ হাজার টাকা পেতেন। মূল্যস্ফীতি হিসাবে যা বর্তমান বাজারের ৪০ হাজার টাকার চেয়েও কম সমান। আজ থেকে ২০ বছর আগেও গুলশানে ফ্ল্যাটের দাম ছিল কমপক্ষে সাড়ে ৩ হাজার টাকা বর্গফুট। ৩ হাজার বর্গফুট ফ্ল্যাটের দাম ছিল ওই সময়েই কোটি টাকা। ৬ হাজার টাকা বেতনের সরকারি কর্মকর্তা কি কোটি টাকার ফ্ল্যাট কিনতে পারেন?”

কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আরও লেখেন, “২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত প্রতিমন্ত্রী পদে থাকায় ব্যবসা করার অধিকার সালাহউদ্দিন আহমদের ছিল না। পরের দুই বছর কারাগারে ছিলেন। এরপর বিএনপি ছিল বিরোধী দলে। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত বিএনপি ছিল বিরোধী দলে। চাকরি থেকে রাজনীতিতে এসে সেই সময়ে সংসদ সদস্য হওয়া সালাহউদ্দিন, এই সময়ে কী ব্যবসা করলেন যে প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পরের কয়েক বছরে গুলশানে সম্পদের মালিক হয়ে গেলেন!”

বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিষয়ে এনসিপি নেতা আরও লেখেন, “শুধু দেশেই নয়, তার সন্তানদেরও পশ্চিমা উন্নত দেশগুলোতে পড়াশোনা করিয়েছেন বলে জানা যায়। দীর্ঘ সময় ধরে বিদেশে উচ্চশিক্ষার পেছনে যে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে, সেই অর্থের উৎস কী ছিল? এই সম্পদের কতটা আয়, কতটা উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া, কতটা বিনিয়োগ বা অন্য কোনো উৎস থেকে এসেছে—তার কি স্বচ্ছ ব্যাখ্যা রয়েছে? আর সন্তানদের বিদেশে পড়াশোনার জন্য এত বিপুল অর্থ কীভাবে বৈধভাবে বিদেশে পাঠানো হয়েছে?”

প্রশ্ন তুলে হাসনাত আব্দুল্লাহ আরও লেখেন, “একজন সরকারি কর্মকর্তা থেকে এমপি ও প্রতিমন্ত্রী হওয়ার দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তার ঘোষিত আয়, সম্পদ বৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ের মধ্যে কোনো অসামঞ্জস্য আছে কি না—সেটিও জনস্বার্থে খতিয়ে দেখা জরুরি।”

সবশেষে এনসিপি নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ লেখেন, “সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো এই বিপুল সম্পদের প্রকৃত উৎস কী এবং তার পক্ষে কি স্বচ্ছ ও যাচাইযোগ্য হিসাব রয়েছে? সুতরাং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত এমপি-মন্ত্রীদের নিকটাত্মীয় ও আত্মীয়স্বজনদের ব্যাংক হিসাবও প্রতি বছর রাষ্ট্রীয় স্বার্থে তলব করা হোক। আমাকে দিয়েই তা শুরু হোক। অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের দায়িত্ব গ্রহণের আগে ও পরের সম্পদের হিসাব তারা নিজেরাই প্রকাশ করে গেছেন। দেখি, সরকারি এসব প্রতিষ্ঠান সেই সৎ সাহস দেখাতে পারে কি না!”


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত