চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে ঘুরতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর স্কুলছাত্র সাইয়েদ মুফিদ আহমেদ শাওনের (১৪) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে শাওনের চার সহপাঠীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার মরদেহ উদ্ধারের পর মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
শাওন নগরের হালিশহর মডার্ন স্কুলের নবম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র ছিল। সে পরিবারের সঙ্গে নগরের চুনা ফ্যাক্টরি এলাকায় থাকত। তাদের গ্রামের বাড়ি সন্দ্বীপে।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (১৫ আগস্ট) পরীক্ষা শেষ করে সহপাঠীদের সঙ্গে পতেঙ্গা সৈকতে বেড়াতে যায় শাওন। এরপর থেকেই সে নিখোঁজ ছিল। পরিবারের অভিযোগ, শাওন পানিতে তলিয়ে গেলেও তার বন্ধুরা বিষয়টি গোপন রাখে। এমনকি আইনি ঝামেলা এড়াতে শাওনের স্কুলব্যাগটিও তারা সাগরে ফেলে দিয়ে বাসায় ফিরে আসে। নিখোঁজের পর সহপাঠীরা প্রথমে একেক সময় একেক তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে।
শাওনের বাবা মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘শনিবার বিকেল থেকে শাওনের ফোন বন্ধ ছিল। বন্ধুরা প্রথমে বলেছিল তারা শাওনকে ব্রিজের কাছে নামিয়ে দিয়েছে। পরে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করে যে শাওন ঢেউয়ের তোড়ে ভেসে গেছে। তারা যদি তখনই আমাদের জানাত, হয়তো আমার ছেলেকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হতো।’
গত সোমবার পতেঙ্গা থানা-পুলিশ অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে একটি মরদেহ উদ্ধার করে। পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে গিয়ে পরিবারের সদস্যরা সেটি শাওনের মরদেহ বলে শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় হালিশহর থানায় একটি মামলা করা হয়েছে।
হালিশহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মো. সুলতান আহসান উদ্দিন বলেন, ‘গ্রেপ্তার চার সহপাঠীকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এটি নিছক দুর্ঘটনা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য আছে, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও অধিকতর তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।’
মেধাবী এই শিক্ষার্থীর এমন মৃত্যুতে পরিবার ও সহপাঠীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
আপনার মতামত লিখুন