সংবাদ

নির্বাচিত

কামরুল হাসান-এর সেরা দশ কবিতা


প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৬, ০১:১১ এএম

কামরুল হাসান-এর সেরা দশ কবিতা


কামরুল হাসান-এর সেরা দশ কবিতা


ট্রে


দৃশ্যের বাইরে আভূম অন্তর্বর্তী এক টানেল আঁধার।

নিরন্তর রৌদ্রপাটে পুড়ে যায় চিল্কা হ্রদের পিঠ

হেসে খেলে উড়ে আসে বায়ুমুগ্ধ হাঁস,

মানবিক ঐ কিছু জানলা খোলা থাক

ফের নির্মাণ আর পুণ্যস্নান হবে পূর্ণিমায়

আমরা যে যার গন্তব্যে পৌঁছে যাব ঠিক।

নুব্জ্য সেতুর উপরে দেখ সে দাঁড়ায় টানটান,

পথ চিনে নিতে তার ধুলোকবলিত চোখ জ্বলে ওঠে

রশির উপরে সার্কাস রমণীর পা সফেদ

আর অটল বিশ্বাসের পদক্ষেপে পেরুয় উদ্বেগ।

ট্রেনের বাইরে এক তুলকালাম পৃথিবীর বিলাপশ্রস্ত আয়োজন

কথা বন্ধ থাক,

এই ট্রেন আমরা চড়েছি যাতে

এখন পেরুচ্ছে এক জলডোবা, নিস্ফলা প্রান্তর।


অভাগা কৃপণ কূলে


ফোকর সেঁধিয়ে আলো গলে গেল, জাল ফেলেছিল সহিষ্ণু দুপুরে

সূতার বর্গা হতে লালবুটি কাঁকড়ার আত্মঘাতী লাশ ঝুলে থাকে

তাচ্ছিল্যের তরল ত্বরায় সহস্য খোলা ছিদ্রে লাফ দেয় জল

সন্ধ্যার বন্ধ্যা শাপ, মাছেরা কাল পূর্ণাঙ্গ পূর্ণিমা খুঁটেছে

সনির্বন্ধ ডেকে নিল অপয়া সমুদ্র তার নুনের বুননে?

ফুরোয় পিদিমের তেল, ও অভাগা, এখনো দাঁড়িয়ে তুই কৃপণ কিনারে?

যারে ফিরে, মাছ আর পাবি নে অবুঝ!

সাঁঝের সফেদ সন্ত্রাস মেখে দাওয়ায় দণ্ডবৎ বসে জেলেবৌ

চেয়ে আছে নদীমুখো প্রান্তরে পাতাহীন মাছেরই চোখে,

জ্যোৎস্না ঢেলে ফাৎনার চমক ঝিলিক চাঁদ গড়ে এলানো চুলে

অস্পষ্ট জলের দাগ শরীরে, ঘুমের ঝাপ্টা দুই কাঁটার মাস্তুলে।

মাছের ঠিকানা ছেড়ে অস্থানে জাল ফেলে চলেছে পাগল,

রাত বাড়ে, জল ছাপে, না মাছের ধীবর দেখা, ধীবরের মাছ।



তোমার অকূল জলে ঈশ্বর


তোমার অকূল জলে ঈশ্বর কি সাহসে ভাসে হাঁস

পাইনা ভেবে তার তল

বালিকার চেলে দেয়া ঘুঁটির মত

প্রান্তরে দিয়েছ ঢেলে কিছু মেষ, যুথচারী ষাঁড়

তারা কি প্রতিজ্ঞায় উঠে দাঁড়ায়, মুখ রাখে ঘাসে।

উত্তর আকাশ থেকে ভয়ার্ত মেঘের দল হামাগুড়ি দিয়ে ফেরে

দক্ষিণ আকাশে

কি স্পর্ধায় হঠাৎ সে জলরাশি বৃষ্টির বর্শা তুলে

ধেয়ে আসে নিরস্ত্র ডাঙায়, নিম্নভূমির বাহু বিঁধে জলে।

কি সাহসে বনঘুঘু রাখে তার পলকা পালক ঠাসা ডানা

অসীম শূন্যতায়—

রাখে আর উড়ে যায় ছন্দোময় সুদূরের নীলে।

কি নিয়মে বালিকা কিশোরী হয়, স্পর্ধিত বেড়ে হয় নারী।

তোমার অভিশপ্ত এই দেশ পড়ে পড়ে মার খায়, জ্বরতপ্ত ধুঁকে

কি সাহসে হঠাৎ গর্জে ওঠে, ছিঁড়ে ফুঁড়ে ফেলে শৃঙ্খল

উল্টায় সনাতন সাজ, মসনদে বইয়ে দেয় নদী...

বুঝি না ঈশ্বর!



নগর দ্রৌপদী


ঝোপের আড়ালে দ্রুত সেরে নেয় প্রসাধন

বিদায়ী আলোর ভোজে কী আহার্য এগুনো আঁধারে

পায়ে পায়ে বেঁধে আনে তন্দ্রারহিত রাত

অভুক্ত দিনের গ্লানি পাঁজরে পঙক্তিময়,

বিশীর্ণ শরীরে বিকীর্ণ স্তনফুল ঝুলে পড়ে

আসে ক্লান্ত তন্দ্রাজড়িত ভোর, ঘাসে ছড়ানো ডিভানে।

পাখা ঝটপট দ্রুত নত হয় মোরগের সঙ্গমে

ঝোপে বা পৃথিবীর পতিত প্রান্তরে, আহত মাটির মত

বিস্বাদিত, বিলম্বে তার ঘৃণা

সে এনেছে ভণিতা-বিহীন দেহ পৃথিবীর পণ্যের রীতি জেনে

অধিক বিপন্ন আর মানবিক তার ক্ষুধা।

কাঁদাজলে পদচ্ছাপ বাঘের অন্ধকারে লুকানো অবয়বে

সরীসৃপ হেঁটে যায় উচ্ছিষ্ট মিনারে

কিংবা এক গিরগিটি গেল খুঁড়ে

সবুজের অধিক সবুজ ঋতুর ভেতরে লালজবা

স্বেদে ও সম্ভবে বৃষ্টি আর কুয়াশার নীচে

নিয়নের সতিনী সখ্য।

যখন ঘুমায় পাপ, মরুসাপ নগরের প্রখ্যাত নারীরা

পরাগ বিছানো অলৌকিক বেহেস্তের ঘরে

জেগে থাকে ধ্রুপদসম্ভব জনপদের দ্রৌপদী!



কিশোরীর ঘুম


ঘুমের ভেতরে ভুল হুলস্থূল স্টিমার ছেড়ে যায় ঘাট

অতীন্দ্রিয় নগরের কানে ভেঁপু বাজে, গল্পের সমান সাহসে

মুঠোময় তুলে আনে কার ও পরাগ?

সার বেধে, যেন সিঁড়ি বেযে, স্বপ্নেরা সিঁথি বেয়ে বেয়ে

আঙ্গুরের ভেতরে আঙ্গুল

ঘুমের ভেতর সাজ

নম্র ভাঁজ, সলাজ উদ্ভাসন

খোঁসার ভেতরে খুব সন্তর্পণে এসে যায় ধান।

কেউ কিছু পায়নিতো টের, বালিকাও ছিল তার ঘুমে

খুব কাছে নদী ছিল অন্যমনস্ক স্রোত নিয়ে

ছিল হাঁসের সাতারে ত্রস্ত চমকানো মাছ।

আরেক জীবনে তার জেগে ওঠা, জঘনের বরফে ও তাপে

দর্পণে দর্প কার? সতীনের মুখ দেখে জলে।




আলো ও ঈশ্বরের দৌড়


অন্তহীন মহাজাগতিক ব্যাস ঈশ্বরের ছায়া বিস্তারের হাত ধরে যাচ্ছে মানে আলোর দৌড়, পরিব্যপ্ত চতুর্বিস্তার। চতুর্বিস্তার বলা মিতভাষণ, ৩৬০ ডিগ্রির প্রতিটি উলম্ফ বেয়েই একগুচ্ছ তীর মহাজাগতিক পরিধির দিকে সন্তরণমান, বস্তুত পরিধিবিহীন, ওরাই আলোহাঁস তীক্ষ্ণ শিঙঅলা মায়াবী হরিণ, ক্ষীপ্র ঝাঁপে নির্মাণ করেছে পরিধি; আর জলও নেই যে সাঁতার সম্ভব, বিস্তৃতির মধ্যে আপন সাঁতারের জল তৈরি হচ্ছে, দৌড়াবার সবুজ পাতাময় মাঠ; মানে শয়তান ও ঈশ্বরের পারস্পরিক ঈর্ষার জায়গা। ক্রমঃশুদ্ধশীল ফেরেশতাদের আলখাল্লা শুদ্ধতার অপার অহঙ্কারে স্ফীতমান আর বেহেশতের হুরদের লীলাস্রস্ত পোশাক-আশাক মহাজাগতিক জলে ভাসছে। বিস্ময়কর সে দৌড় এখনো থামেনি, কখন থামবে বলা অসম্ভব, কারণ থামলেই ঘড়ি অচল। বালুকণারও তুচ্ছ এই পৃথিবীর ভেতরে আমরা যে প্রতিশ্রুতিপূর্ণ অথচ অসভ্য সভ্যতা গড়ে তুলেছি তাও অচল। তবে আমাদের আত্মহননের উন্মাদনাও চাপা পড়ে যাবে। তখন কে খাবে ঐ আণবিক নৈশখাদ্য?




তোমাদের শহর দেখতে যাব


সন্ধ্যেবেলার ট্রেনে চড়ে আমি তোমাদের শহর দেখতে যাব

এতটা দূর হতে চড়ব যাতে ভোর ফুট উঠতে না উঠতেই শিয়ালদহ,

বাসিমুখ চড়ুইয়ের কোমলতা নিয়ে জেগে উঠে কলকাতা।

আমার ভেতর আরেকটি কলকাতা আছে

স্বপ্নের সঙ্গে কল্পনা জুড়ে একটা শহর তৈরি,

শৈশব থেকে তোমাদের সব পথ-ঘাটের নাম আমার মুখস্থ।

আমি হয়ত ভুলভাবে রেখেছি সবকিছু, হয়তো সরোবরের জায়গায় পার্ক,

পার্কের জায়গায় ট্রামডিপো,

হয়ত মানিকতলার খুব কাছাকাছি রেখেছি ধর্মতলাকে।

কিন্তু এ শহরের সব লেন, সরু রাস্তা, পুরনো বাড়ি আমার খুব চেনা।

আমার ভেতরে একটি শহর আছে, কৈশোরের আঁঠা দিয়ে সাঁটা

স্বল্পালোকে খুব গাঢ় করে পড়া উপন্যাস থেকে বেরিয়ে আসা।

আমি সেই শহর খুঁজতে যাব।



সংযোজনা ও ভাঙচুর


এ ফুলটি নিচ্ছি এখন অন্য ওটি থাক,

এ দুটি বীজ বুনবো শুধু

যত্ন-রৌদ্র, আত্তি-বৃষ্টি সবই পাবে এ দুটো বীজ

আরগুলো সব খরায় শুকোক বা বৃষ্টিতে উঠুক ঢাউস ফুলে।

এ তিনটি জমি নিচ্ছি, সতর্কতার নিখুঁত বেড়ায় ঘিরবো শুধু তিনটি জমি

পলির প্রতি প্রগাঢ়পাত, এখন আমি ঢেউ বিমুখ, জল ছোঁব না

সবুজ ভাল, এখন আমি সবুজ নিচ্ছি, নীল ছোঁব না

সমুদ্র এক নীলচোখা দানো, নীল আকাশের নীল ছেনালী ভাল্লাগে না।

থাকব কখন কোন বিজনে এ কোলাহল থেকে অনেক দূরে

ঘর-গেরস্থে মন টানে না, এখন আমি বাড়ি-কুঠুরি বিমুখ

পাহাড় ভাল, পাহাড় নিচ্ছি, বিশেষ কেবল এ পাহাড়টা

আরগুলো সব আকাশ ফুঁডুক কিংবা মিশুক নদীর বুকে

আমি নিচ্ছি এ পাহাড়টা, বিশেষ কেবল এ পাহাড়টা...



বিভ্রান্ত বালকও ঘুরেছে

দু’জন বৌদ্ধনারী ভোরবেলা মিহিতন্তু রোদের বাকলে

সুঠাম জড়িয়ে নিয়ে আরো তন্তু হাওয়ার শরীরে

চিকন প্রখরাবতী কার্ভ নিয়ে সোমত্ব ঘুরেছে

অনিদ্র পোষাকের ভ্রমে লালচক্ষু কোমলাভ জ্বেলে—

ভেতরে প্লুটোর আলো, অবশিষ্ট ঝুড়িতে রেখেছে

ব্যগ্র বাড়িয়ে দেয়া শিষ্ট গোলকে, র‌্যাডিয়াল

ঘড়ির দোলন, এরা কি প্রবর্তনা জুড়ে দেয়

বহুদরী কস্তুরীর মত সুগন্ধে ভরপুর।

প্যারাবোলা, ঐসব মৃতগন্ধী মগজ সারস

একবার উড়ে গেলে সহসা ফেরেনা, বরঞ্চ দূরত্ব

আত্মায় বেধে পরাগের অতিথি পাখিরা

ঠোঁটে ঠোঁটে, এদের বাঁকানো ভঙ্গির নিচে পরাহত।

উৎসুক বালকও বিভোর, বুদ্ধের ধ্যানমৌন

প্রস্তরের কাছে ওদের প্রার্থনার ভাষা অস্ফুট শুনেছে

সেই থেকে পিছু, মুগ্ধতন্তু সেই থেকে ছোটে

অবাক নদীর দেহ নারীদের জ্যামিতিক ছকে।

মনে হবে প্রলোভিত, মনে হবে ওদের বাহন

আর যে অবাক তেজ তার দীপ্তি জেনে

প্যাগোডার খিলানের নীচে পিঠেপিঠি দুই বোন,

সহসা ঘুরে বলে, ‘কেন এত পিছু পিছু ঘোরো’?




টিয়ানা

আমার এই শিশু বহুপথ ঘুরে আমার কাছে এসেছে। মায়ের কোলের কাছে একটা ছোট্ট ফুল হ’তে সে জাগল। সেটা স্বর্গোদ্যান বা কাছাকাছি কোথাও, অপ্সরীরা নিকটেই নাচছিল, তাদের ঘুঙুরের শব্দে মেয়ে আমার ফের ঘুমিয়ে পড়েছিল। ঈশ্বর হাসছিলেন অমায়িক, সমস্ত যাত্রার ভেতর তাঁর হাস্যময় ইশারাইতো আলোর এক নৌকা বানাল, যাতে চড়ে আমার মেয়ে মেঘের পালকে ভেসে এসে আঁড়াল হতে তার মাকে একবার উঁকি দিতেই ছুটে গিয়ে মা অস্থির বাহুপাশের ভেতর একটি স্বর্ণচাঁপাকে জড়িয়ে ধরল, তার স্বপ্নকেই আমূল বাহুবন্ধনে, মুখ তুলে দেখল স্বর্গপুষ্প ও দর্পণ।

আমার এই শিশু বহুপথ ঘুরে আমার কাছে এসেছে কিংবা বহুপথ ঘুরে আমিই তার কাছে। মিরিকের পথে পাহাড় চূড়োয় সূর্য তার তেজ ছড়াচ্ছিল, স্বর্ণাভ সেই বিস্তারের ভেতর আমি এক ধরা-পাড়া শাবকের মত রূপদর্শনের প্রভায় কাঁপতে লাগলাম, আমার আদিপুরুষ অন্তর হতে বলল, ঐ তো ঈশ্বর, সূর্যপূজারীর মত আমি এক টুকরো রোদ চাইলাম দেবতার পায়ে, আমার ভেতরে তাপ সৃষ্টির জন্য একখণ্ড স্বর্গ।


জঙ্গলের ভেতর দেখেছিলাম এক ভীত-চকিত হরিণ। চঞ্চল পায়ে অযুত দৌড়ের চিহ্ন, তার ধাঁধানো চক্কর অরণ্যের ভেতর জ্বালিয়ে দিচ্ছিল অসম্ভব আগুন, ঈশ্বরীর নীল অগ্নির চেয়েও দ্যুতিময়, আর তার চোখের ভেতর নুয়ে ছিল মায়া নদী, বাঁকানো ভীরুতার স্বপ্নলব্ধ ঠোঁট। বুঝি আমার মেয়ে ঐ রৌদ্রকণা, ঐ চকিত হরিণ। বহুপথ ঘুরে পিতৃ-প্রান্তরের কাছে, মাতা-বৃক্ষের নিচে। 


কবি পরিচিতি

জন্ম :  ২২ ডিসেম্বর, ১৯৬১, শরিয়তপুর।  শিক্ষা : আইআইটি খড়গপুর  থেকে প্রকৌশলবিদ্যায় স্নাতক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ থেকে এমবিএ। ব্রিটেনের ব্রাডফোর্ড ও এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ে থেকে স্নাতকোত্তর প্রশিক্ষণ। 
পেশা: বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা। সহকারি অধ্যাপক, ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ। ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি।
পুরস্কার : অরণি সাহিত্য পুরস্কার (২০২৩), কাশবন সাহিত্য পুরস্কার (২০২৪), সার্ক সাহিত্য পুরস্কার (২০২৫)
সম্মাননা : হংসধ্বজ ধাড়া স্মৃতি সম্মাননা (২০২২), কবি পবিত্র মৃখোপাধ্যায় স্মৃতি সম্মান (২০২৩)
প্রকাশিত গ্রন্থ:
কবিতা
সহস্র কোকিলের গ্রীবা  (১৯৯১), প্রান্তসীমা অনন্তদূর  (১৯৯২), ছুঁলে বিদ্যুল্লতা, না ছুঁলে পাথর (১৯৯৩), পাখি নই আশ্চর্য মানুষ  (১৯৯৪), দশদিকে উৎসব (১৯৯৭), বৃক্ষদের শোভা দেখে যাব (২০০০), রূপচৈত্রের অরণ্যটিলায় (২০০৪), পৃথিবীর প্রতিচ্ছবি আমার গ্রামে (২০০৭), ঈশ্বরের নিজ গ্রহ (২০০৯), ঘুমপ্রহরের মোমকুহক (২০১০), নির্বাচিত কবিতা (২০১২), খিলানের নিচে আলো (২০১৪), সহস্র চরণের ধ্বনি (২০১৬), বাছাই ১০০ কবিতা (২০১৮), ঘুমাতে যাবার আগের কবিতা (২০২৩), তোমার অকূল জলে ঈশ্বর (২০২৪) 
ছোটগল্প
মধ্যবিত্ত বারান্দা ও অন্যান্য গল্প (২০০৫)
প্রবন্ধ
প্রহরের প্রস্তাবনা (২০১৫), কবিতার মায়াহরিণ কবির মঙ্গলযাত্রা (২০২২)
মুক্তগদ্য
এই নগরীর যত সাহিত্যবাসর (২০২৪), ব্রেকফাস্ট আড্ডা (ে২০২৪)
ভ্রমণ
বিলেতের দিনলিপি (২০১৭), আমির তিমুরের দেশে (২০১৮), মহাদেশের মতো এক দেশে (২০১৯), সিমলা মানালির পথে (২০২০), হায়দ্রাবাদের যাত্রী (২০২১), দেখা হইল চক্ষু মেলিয়া (২০২৫) 
ছড়া
নাতির জন্য ছড়া (২০২৪)
অনুবাদ
Poems of Mujib Erom (2014), The Blind God by Tithi Afroz (2020), Selected Poems of Parveen Shahnaz (2022), Selected Poems- Kamrul Hassan (2022)
সম্পাদনা
Postmodern Bangla Poetry 2003 (with Tushar Gayen and Samir Roychoudhury)

 

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬


কামরুল হাসান-এর সেরা দশ কবিতা

প্রকাশের তারিখ : ১৮ আগস্ট ২০২৬

featured Image


কামরুল হাসান-এর সেরা দশ কবিতা


ট্রে


দৃশ্যের বাইরে আভূম অন্তর্বর্তী এক টানেল আঁধার।

নিরন্তর রৌদ্রপাটে পুড়ে যায় চিল্কা হ্রদের পিঠ

হেসে খেলে উড়ে আসে বায়ুমুগ্ধ হাঁস,

মানবিক ঐ কিছু জানলা খোলা থাক

ফের নির্মাণ আর পুণ্যস্নান হবে পূর্ণিমায়

আমরা যে যার গন্তব্যে পৌঁছে যাব ঠিক।


নুব্জ্য সেতুর উপরে দেখ সে দাঁড়ায় টানটান,

পথ চিনে নিতে তার ধুলোকবলিত চোখ জ্বলে ওঠে

রশির উপরে সার্কাস রমণীর পা সফেদ

আর অটল বিশ্বাসের পদক্ষেপে পেরুয় উদ্বেগ।


ট্রেনের বাইরে এক তুলকালাম পৃথিবীর বিলাপশ্রস্ত আয়োজন

কথা বন্ধ থাক,

এই ট্রেন আমরা চড়েছি যাতে

এখন পেরুচ্ছে এক জলডোবা, নিস্ফলা প্রান্তর।


অভাগা কৃপণ কূলে


ফোকর সেঁধিয়ে আলো গলে গেল, জাল ফেলেছিল সহিষ্ণু দুপুরে

সূতার বর্গা হতে লালবুটি কাঁকড়ার আত্মঘাতী লাশ ঝুলে থাকে

তাচ্ছিল্যের তরল ত্বরায় সহস্য খোলা ছিদ্রে লাফ দেয় জল

সন্ধ্যার বন্ধ্যা শাপ, মাছেরা কাল পূর্ণাঙ্গ পূর্ণিমা খুঁটেছে

সনির্বন্ধ ডেকে নিল অপয়া সমুদ্র তার নুনের বুননে?


ফুরোয় পিদিমের তেল, ও অভাগা, এখনো দাঁড়িয়ে তুই কৃপণ কিনারে?

যারে ফিরে, মাছ আর পাবি নে অবুঝ!

সাঁঝের সফেদ সন্ত্রাস মেখে দাওয়ায় দণ্ডবৎ বসে জেলেবৌ

চেয়ে আছে নদীমুখো প্রান্তরে পাতাহীন মাছেরই চোখে,

জ্যোৎস্না ঢেলে ফাৎনার চমক ঝিলিক চাঁদ গড়ে এলানো চুলে

অস্পষ্ট জলের দাগ শরীরে, ঘুমের ঝাপ্টা দুই কাঁটার মাস্তুলে।


মাছের ঠিকানা ছেড়ে অস্থানে জাল ফেলে চলেছে পাগল,

রাত বাড়ে, জল ছাপে, না মাছের ধীবর দেখা, ধীবরের মাছ।



তোমার অকূল জলে ঈশ্বর


তোমার অকূল জলে ঈশ্বর কি সাহসে ভাসে হাঁস

পাইনা ভেবে তার তল

বালিকার চেলে দেয়া ঘুঁটির মত

প্রান্তরে দিয়েছ ঢেলে কিছু মেষ, যুথচারী ষাঁড়

তারা কি প্রতিজ্ঞায় উঠে দাঁড়ায়, মুখ রাখে ঘাসে।


উত্তর আকাশ থেকে ভয়ার্ত মেঘের দল হামাগুড়ি দিয়ে ফেরে

দক্ষিণ আকাশে

কি স্পর্ধায় হঠাৎ সে জলরাশি বৃষ্টির বর্শা তুলে

ধেয়ে আসে নিরস্ত্র ডাঙায়, নিম্নভূমির বাহু বিঁধে জলে।


কি সাহসে বনঘুঘু রাখে তার পলকা পালক ঠাসা ডানা

অসীম শূন্যতায়—

রাখে আর উড়ে যায় ছন্দোময় সুদূরের নীলে।

কি নিয়মে বালিকা কিশোরী হয়, স্পর্ধিত বেড়ে হয় নারী।


তোমার অভিশপ্ত এই দেশ পড়ে পড়ে মার খায়, জ্বরতপ্ত ধুঁকে

কি সাহসে হঠাৎ গর্জে ওঠে, ছিঁড়ে ফুঁড়ে ফেলে শৃঙ্খল

উল্টায় সনাতন সাজ, মসনদে বইয়ে দেয় নদী...

বুঝি না ঈশ্বর!



নগর দ্রৌপদী


ঝোপের আড়ালে দ্রুত সেরে নেয় প্রসাধন

বিদায়ী আলোর ভোজে কী আহার্য এগুনো আঁধারে

পায়ে পায়ে বেঁধে আনে তন্দ্রারহিত রাত

অভুক্ত দিনের গ্লানি পাঁজরে পঙক্তিময়,

বিশীর্ণ শরীরে বিকীর্ণ স্তনফুল ঝুলে পড়ে

আসে ক্লান্ত তন্দ্রাজড়িত ভোর, ঘাসে ছড়ানো ডিভানে।


পাখা ঝটপট দ্রুত নত হয় মোরগের সঙ্গমে

ঝোপে বা পৃথিবীর পতিত প্রান্তরে, আহত মাটির মত

বিস্বাদিত, বিলম্বে তার ঘৃণা

সে এনেছে ভণিতা-বিহীন দেহ পৃথিবীর পণ্যের রীতি জেনে

অধিক বিপন্ন আর মানবিক তার ক্ষুধা।


কাঁদাজলে পদচ্ছাপ বাঘের অন্ধকারে লুকানো অবয়বে

সরীসৃপ হেঁটে যায় উচ্ছিষ্ট মিনারে

কিংবা এক গিরগিটি গেল খুঁড়ে

সবুজের অধিক সবুজ ঋতুর ভেতরে লালজবা

স্বেদে ও সম্ভবে বৃষ্টি আর কুয়াশার নীচে

নিয়নের সতিনী সখ্য।


যখন ঘুমায় পাপ, মরুসাপ নগরের প্রখ্যাত নারীরা

পরাগ বিছানো অলৌকিক বেহেস্তের ঘরে

জেগে থাকে ধ্রুপদসম্ভব জনপদের দ্রৌপদী!



কিশোরীর ঘুম


ঘুমের ভেতরে ভুল হুলস্থূল স্টিমার ছেড়ে যায় ঘাট

অতীন্দ্রিয় নগরের কানে ভেঁপু বাজে, গল্পের সমান সাহসে

মুঠোময় তুলে আনে কার ও পরাগ?

সার বেধে, যেন সিঁড়ি বেযে, স্বপ্নেরা সিঁথি বেয়ে বেয়ে

আঙ্গুরের ভেতরে আঙ্গুল

ঘুমের ভেতর সাজ

নম্র ভাঁজ, সলাজ উদ্ভাসন

খোঁসার ভেতরে খুব সন্তর্পণে এসে যায় ধান।


কেউ কিছু পায়নিতো টের, বালিকাও ছিল তার ঘুমে

খুব কাছে নদী ছিল অন্যমনস্ক স্রোত নিয়ে

ছিল হাঁসের সাতারে ত্রস্ত চমকানো মাছ।


আরেক জীবনে তার জেগে ওঠা, জঘনের বরফে ও তাপে

দর্পণে দর্প কার? সতীনের মুখ দেখে জলে।




আলো ও ঈশ্বরের দৌড়


অন্তহীন মহাজাগতিক ব্যাস ঈশ্বরের ছায়া বিস্তারের হাত ধরে যাচ্ছে মানে আলোর দৌড়, পরিব্যপ্ত চতুর্বিস্তার। চতুর্বিস্তার বলা মিতভাষণ, ৩৬০ ডিগ্রির প্রতিটি উলম্ফ বেয়েই একগুচ্ছ তীর মহাজাগতিক পরিধির দিকে সন্তরণমান, বস্তুত পরিধিবিহীন, ওরাই আলোহাঁস তীক্ষ্ণ শিঙঅলা মায়াবী হরিণ, ক্ষীপ্র ঝাঁপে নির্মাণ করেছে পরিধি; আর জলও নেই যে সাঁতার সম্ভব, বিস্তৃতির মধ্যে আপন সাঁতারের জল তৈরি হচ্ছে, দৌড়াবার সবুজ পাতাময় মাঠ; মানে শয়তান ও ঈশ্বরের পারস্পরিক ঈর্ষার জায়গা। ক্রমঃশুদ্ধশীল ফেরেশতাদের আলখাল্লা শুদ্ধতার অপার অহঙ্কারে স্ফীতমান আর বেহেশতের হুরদের লীলাস্রস্ত পোশাক-আশাক মহাজাগতিক জলে ভাসছে। বিস্ময়কর সে দৌড় এখনো থামেনি, কখন থামবে বলা অসম্ভব, কারণ থামলেই ঘড়ি অচল। বালুকণারও তুচ্ছ এই পৃথিবীর ভেতরে আমরা যে প্রতিশ্রুতিপূর্ণ অথচ অসভ্য সভ্যতা গড়ে তুলেছি তাও অচল। তবে আমাদের আত্মহননের উন্মাদনাও চাপা পড়ে যাবে। তখন কে খাবে ঐ আণবিক নৈশখাদ্য?




তোমাদের শহর দেখতে যাব


সন্ধ্যেবেলার ট্রেনে চড়ে আমি তোমাদের শহর দেখতে যাব

এতটা দূর হতে চড়ব যাতে ভোর ফুট উঠতে না উঠতেই শিয়ালদহ,

বাসিমুখ চড়ুইয়ের কোমলতা নিয়ে জেগে উঠে কলকাতা।


আমার ভেতর আরেকটি কলকাতা আছে

স্বপ্নের সঙ্গে কল্পনা জুড়ে একটা শহর তৈরি,

শৈশব থেকে তোমাদের সব পথ-ঘাটের নাম আমার মুখস্থ।

আমি হয়ত ভুলভাবে রেখেছি সবকিছু, হয়তো সরোবরের জায়গায় পার্ক,

পার্কের জায়গায় ট্রামডিপো,

হয়ত মানিকতলার খুব কাছাকাছি রেখেছি ধর্মতলাকে।


কিন্তু এ শহরের সব লেন, সরু রাস্তা, পুরনো বাড়ি আমার খুব চেনা।

আমার ভেতরে একটি শহর আছে, কৈশোরের আঁঠা দিয়ে সাঁটা

স্বল্পালোকে খুব গাঢ় করে পড়া উপন্যাস থেকে বেরিয়ে আসা।


আমি সেই শহর খুঁজতে যাব।



সংযোজনা ও ভাঙচুর


এ ফুলটি নিচ্ছি এখন অন্য ওটি থাক,

এ দুটি বীজ বুনবো শুধু

যত্ন-রৌদ্র, আত্তি-বৃষ্টি সবই পাবে এ দুটো বীজ

আরগুলো সব খরায় শুকোক বা বৃষ্টিতে উঠুক ঢাউস ফুলে।

এ তিনটি জমি নিচ্ছি, সতর্কতার নিখুঁত বেড়ায় ঘিরবো শুধু তিনটি জমি

পলির প্রতি প্রগাঢ়পাত, এখন আমি ঢেউ বিমুখ, জল ছোঁব না

সবুজ ভাল, এখন আমি সবুজ নিচ্ছি, নীল ছোঁব না

সমুদ্র এক নীলচোখা দানো, নীল আকাশের নীল ছেনালী ভাল্লাগে না।


থাকব কখন কোন বিজনে এ কোলাহল থেকে অনেক দূরে

ঘর-গেরস্থে মন টানে না, এখন আমি বাড়ি-কুঠুরি বিমুখ

পাহাড় ভাল, পাহাড় নিচ্ছি, বিশেষ কেবল এ পাহাড়টা

আরগুলো সব আকাশ ফুঁডুক কিংবা মিশুক নদীর বুকে

আমি নিচ্ছি এ পাহাড়টা, বিশেষ কেবল এ পাহাড়টা...



বিভ্রান্ত বালকও ঘুরেছে


দু’জন বৌদ্ধনারী ভোরবেলা মিহিতন্তু রোদের বাকলে

সুঠাম জড়িয়ে নিয়ে আরো তন্তু হাওয়ার শরীরে

চিকন প্রখরাবতী কার্ভ নিয়ে সোমত্ব ঘুরেছে

অনিদ্র পোষাকের ভ্রমে লালচক্ষু কোমলাভ জ্বেলে—


ভেতরে প্লুটোর আলো, অবশিষ্ট ঝুড়িতে রেখেছে

ব্যগ্র বাড়িয়ে দেয়া শিষ্ট গোলকে, র‌্যাডিয়াল

ঘড়ির দোলন, এরা কি প্রবর্তনা জুড়ে দেয়

বহুদরী কস্তুরীর মত সুগন্ধে ভরপুর।


প্যারাবোলা, ঐসব মৃতগন্ধী মগজ সারস

একবার উড়ে গেলে সহসা ফেরেনা, বরঞ্চ দূরত্ব

আত্মায় বেধে পরাগের অতিথি পাখিরা

ঠোঁটে ঠোঁটে, এদের বাঁকানো ভঙ্গির নিচে পরাহত।


উৎসুক বালকও বিভোর, বুদ্ধের ধ্যানমৌন

প্রস্তরের কাছে ওদের প্রার্থনার ভাষা অস্ফুট শুনেছে

সেই থেকে পিছু, মুগ্ধতন্তু সেই থেকে ছোটে

অবাক নদীর দেহ নারীদের জ্যামিতিক ছকে।


মনে হবে প্রলোভিত, মনে হবে ওদের বাহন

আর যে অবাক তেজ তার দীপ্তি জেনে

প্যাগোডার খিলানের নীচে পিঠেপিঠি দুই বোন,

সহসা ঘুরে বলে, ‘কেন এত পিছু পিছু ঘোরো’?




টিয়ানা

আমার এই শিশু বহুপথ ঘুরে আমার কাছে এসেছে। মায়ের কোলের কাছে একটা ছোট্ট ফুল হ’তে সে জাগল। সেটা স্বর্গোদ্যান বা কাছাকাছি কোথাও, অপ্সরীরা নিকটেই নাচছিল, তাদের ঘুঙুরের শব্দে মেয়ে আমার ফের ঘুমিয়ে পড়েছিল। ঈশ্বর হাসছিলেন অমায়িক, সমস্ত যাত্রার ভেতর তাঁর হাস্যময় ইশারাইতো আলোর এক নৌকা বানাল, যাতে চড়ে আমার মেয়ে মেঘের পালকে ভেসে এসে আঁড়াল হতে তার মাকে একবার উঁকি দিতেই ছুটে গিয়ে মা অস্থির বাহুপাশের ভেতর একটি স্বর্ণচাঁপাকে জড়িয়ে ধরল, তার স্বপ্নকেই আমূল বাহুবন্ধনে, মুখ তুলে দেখল স্বর্গপুষ্প ও দর্পণ।

আমার এই শিশু বহুপথ ঘুরে আমার কাছে এসেছে কিংবা বহুপথ ঘুরে আমিই তার কাছে। মিরিকের পথে পাহাড় চূড়োয় সূর্য তার তেজ ছড়াচ্ছিল, স্বর্ণাভ সেই বিস্তারের ভেতর আমি এক ধরা-পাড়া শাবকের মত রূপদর্শনের প্রভায় কাঁপতে লাগলাম, আমার আদিপুরুষ অন্তর হতে বলল, ঐ তো ঈশ্বর, সূর্যপূজারীর মত আমি এক টুকরো রোদ চাইলাম দেবতার পায়ে, আমার ভেতরে তাপ সৃষ্টির জন্য একখণ্ড স্বর্গ।


জঙ্গলের ভেতর দেখেছিলাম এক ভীত-চকিত হরিণ। চঞ্চল পায়ে অযুত দৌড়ের চিহ্ন, তার ধাঁধানো চক্কর অরণ্যের ভেতর জ্বালিয়ে দিচ্ছিল অসম্ভব আগুন, ঈশ্বরীর নীল অগ্নির চেয়েও দ্যুতিময়, আর তার চোখের ভেতর নুয়ে ছিল মায়া নদী, বাঁকানো ভীরুতার স্বপ্নলব্ধ ঠোঁট। বুঝি আমার মেয়ে ঐ রৌদ্রকণা, ঐ চকিত হরিণ। বহুপথ ঘুরে পিতৃ-প্রান্তরের কাছে, মাতা-বৃক্ষের নিচে। 


কবি পরিচিতি

জন্ম :  ২২ ডিসেম্বর, ১৯৬১, শরিয়তপুর।  শিক্ষা : আইআইটি খড়গপুর  থেকে প্রকৌশলবিদ্যায় স্নাতক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ থেকে এমবিএ। ব্রিটেনের ব্রাডফোর্ড ও এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ে থেকে স্নাতকোত্তর প্রশিক্ষণ। 
পেশা: বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা। সহকারি অধ্যাপক, ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ। ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি।
পুরস্কার : অরণি সাহিত্য পুরস্কার (২০২৩), কাশবন সাহিত্য পুরস্কার (২০২৪), সার্ক সাহিত্য পুরস্কার (২০২৫)
সম্মাননা : হংসধ্বজ ধাড়া স্মৃতি সম্মাননা (২০২২), কবি পবিত্র মৃখোপাধ্যায় স্মৃতি সম্মান (২০২৩)
প্রকাশিত গ্রন্থ:
কবিতা
সহস্র কোকিলের গ্রীবা  (১৯৯১), প্রান্তসীমা অনন্তদূর  (১৯৯২), ছুঁলে বিদ্যুল্লতা, না ছুঁলে পাথর (১৯৯৩), পাখি নই আশ্চর্য মানুষ  (১৯৯৪), দশদিকে উৎসব (১৯৯৭), বৃক্ষদের শোভা দেখে যাব (২০০০), রূপচৈত্রের অরণ্যটিলায় (২০০৪), পৃথিবীর প্রতিচ্ছবি আমার গ্রামে (২০০৭), ঈশ্বরের নিজ গ্রহ (২০০৯), ঘুমপ্রহরের মোমকুহক (২০১০), নির্বাচিত কবিতা (২০১২), খিলানের নিচে আলো (২০১৪), সহস্র চরণের ধ্বনি (২০১৬), বাছাই ১০০ কবিতা (২০১৮), ঘুমাতে যাবার আগের কবিতা (২০২৩), তোমার অকূল জলে ঈশ্বর (২০২৪) 
ছোটগল্প
মধ্যবিত্ত বারান্দা ও অন্যান্য গল্প (২০০৫)
প্রবন্ধ
প্রহরের প্রস্তাবনা (২০১৫), কবিতার মায়াহরিণ কবির মঙ্গলযাত্রা (২০২২)
মুক্তগদ্য
এই নগরীর যত সাহিত্যবাসর (২০২৪), ব্রেকফাস্ট আড্ডা (ে২০২৪)
ভ্রমণ
বিলেতের দিনলিপি (২০১৭), আমির তিমুরের দেশে (২০১৮), মহাদেশের মতো এক দেশে (২০১৯), সিমলা মানালির পথে (২০২০), হায়দ্রাবাদের যাত্রী (২০২১), দেখা হইল চক্ষু মেলিয়া (২০২৫) 
ছড়া
নাতির জন্য ছড়া (২০২৪)
অনুবাদ
Poems of Mujib Erom (2014), The Blind God by Tithi Afroz (2020), Selected Poems of Parveen Shahnaz (2022), Selected Poems- Kamrul Hassan (2022)
সম্পাদনা
Postmodern Bangla Poetry 2003 (with Tushar Gayen and Samir Roychoudhury)








 



সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত