দিল্লির মসনদ কাঁপাতে এবং নরেন্দ্র মোদি সরকারের বিরুদ্ধে গণবিক্ষোভ জোরদার করতে সংসদ ভবন থেকে আন্দোলনের গতি এবার রাজপথে টেনে আনার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে কংগ্রেস। সংসদের ভেতরে একাট্টা বিরোধী ব্লকের টানা হট্টগোল ও সোচ্চার ভূমিকা সাধারণ মানুষের মনে কতটা প্রভাব ফেলতে পেরেছে, এবার সেই হিসেব কষতে বসছেন দলের শীর্ষ নীতিনির্ধারকরা।
সেই লক্ষ্যে আগামী ১৯ আগস্ট দলের সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ফোরাম কংগ্রেস কার্যকরী কমিটির (সিডব্লিউসি) মহাগুরুত্বপূর্ণ বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে। বিরোধী শিবিরের একাংশের মতে, কেবল সংসদ ভবনে হইচই করে সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ তৈরি করা সম্ভব হলেও, কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। জনমনে মোদিবিরোধী হাওয়া তুলতে হলে রাজপথের ধারাবাহিক বিকল্প কর্মসূচির কোনো বিকল্প নেই।
এই মহাজোটবদ্ধ লড়াইয়ে তরুণ ও ছাত্রসমাজকে মূল শক্তি হিসেবে ব্যবহার করতে বিশেষ মাস্টারপ্ল্যান সাজিয়েছেন রাহুল গান্ধী। ভারতের বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে ঝটিকা সফর করছেন তিনি। সেই ধারাবাহিকতায় আগামী ২২ আগস্ট মহারাষ্ট্রের পুনেতে বিশাল ছাত্র সমাবেশে যোগ দেবেন কংগ্রেসের তরুণ এই কাণ্ডারী।
এর আগেই উত্তরাখণ্ড, বিহার ও প্রয়াগরাজে তরুণদের বিরাট মিছিলে অংশ নিয়ে দলকে নতুন বার্তা দিয়েছেন তিনি। চাকরি সংকট, বিতর্কিত পরীক্ষা ব্যবস্থা ও সরকারি নিয়োগে দুর্নীতির মতো সংবেদনশীল ইস্যুগুলোকে সামনে এনে অসন্তোষ উসকে দেওয়ার কৌশল নিয়েছে বিরোধী জোট।
অন্যদিকে, হিন্দি বলয়ের রাজনীতিতে মোদি সরকারকে কোণঠাসা করতে রামমন্দিরের চুরির ইস্যুকে ঢাল বানাতে চাইছে হাত শিবির। অযোধ্যার রামমন্দিরে ভক্তদের দেওয়া প্রণামি বা দান বাক্সের কোটি কোটি রুপি হরিলুটের যে অভিযোগ উঠেছে, তা হাতছাড়া করতে নারাজ কংগ্রেস ও সমাজবাদী পার্টির সুপ্রিমো অখিলেশ যাদব। উত্তরপ্রদেশের আসন্ন হাইভোল্টেজ রাজনৈতিক লড়াইকে সামনে রেখে এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে যৌথ প্রতিবাদের ঝড় তোলার ছক কষা হচ্ছে। কেবল উত্তরপ্রদেশেই নয়, হরিয়ানা ও উত্তরাখণ্ডের প্রতিটি গলিতে এই প্রতিবাদ ছড়িয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আগামী ১৯ আগস্টের হাইভোল্টেজ বৈঠকেই রাজপথের এই চূড়ান্ত আন্দোলনের নীল নকশা উন্মোচিত হবে। রাজনৈতিক বোদ্ধাদের মতে, ক্যাপিটল হিল বা লোকসভার এসি রুমের আওয়াজকে সাধারণ মানুষের হেঁশেল ও রুটি-রুজির প্রশ্নের সাথে যুক্ত করাই এখন রাহুলের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সংসদের ধাওয়ার পর এবার রাজপথের লড়াইয়ে কংগ্রেস কতটা সফল হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ আগস্ট ২০২৬
দিল্লির মসনদ কাঁপাতে এবং নরেন্দ্র মোদি সরকারের বিরুদ্ধে গণবিক্ষোভ জোরদার করতে সংসদ ভবন থেকে আন্দোলনের গতি এবার রাজপথে টেনে আনার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে কংগ্রেস। সংসদের ভেতরে একাট্টা বিরোধী ব্লকের টানা হট্টগোল ও সোচ্চার ভূমিকা সাধারণ মানুষের মনে কতটা প্রভাব ফেলতে পেরেছে, এবার সেই হিসেব কষতে বসছেন দলের শীর্ষ নীতিনির্ধারকরা।
সেই লক্ষ্যে আগামী ১৯ আগস্ট দলের সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ফোরাম কংগ্রেস কার্যকরী কমিটির (সিডব্লিউসি) মহাগুরুত্বপূর্ণ বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে। বিরোধী শিবিরের একাংশের মতে, কেবল সংসদ ভবনে হইচই করে সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ তৈরি করা সম্ভব হলেও, কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। জনমনে মোদিবিরোধী হাওয়া তুলতে হলে রাজপথের ধারাবাহিক বিকল্প কর্মসূচির কোনো বিকল্প নেই।
এই মহাজোটবদ্ধ লড়াইয়ে তরুণ ও ছাত্রসমাজকে মূল শক্তি হিসেবে ব্যবহার করতে বিশেষ মাস্টারপ্ল্যান সাজিয়েছেন রাহুল গান্ধী। ভারতের বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে ঝটিকা সফর করছেন তিনি। সেই ধারাবাহিকতায় আগামী ২২ আগস্ট মহারাষ্ট্রের পুনেতে বিশাল ছাত্র সমাবেশে যোগ দেবেন কংগ্রেসের তরুণ এই কাণ্ডারী।
এর আগেই উত্তরাখণ্ড, বিহার ও প্রয়াগরাজে তরুণদের বিরাট মিছিলে অংশ নিয়ে দলকে নতুন বার্তা দিয়েছেন তিনি। চাকরি সংকট, বিতর্কিত পরীক্ষা ব্যবস্থা ও সরকারি নিয়োগে দুর্নীতির মতো সংবেদনশীল ইস্যুগুলোকে সামনে এনে অসন্তোষ উসকে দেওয়ার কৌশল নিয়েছে বিরোধী জোট।
অন্যদিকে, হিন্দি বলয়ের রাজনীতিতে মোদি সরকারকে কোণঠাসা করতে রামমন্দিরের চুরির ইস্যুকে ঢাল বানাতে চাইছে হাত শিবির। অযোধ্যার রামমন্দিরে ভক্তদের দেওয়া প্রণামি বা দান বাক্সের কোটি কোটি রুপি হরিলুটের যে অভিযোগ উঠেছে, তা হাতছাড়া করতে নারাজ কংগ্রেস ও সমাজবাদী পার্টির সুপ্রিমো অখিলেশ যাদব। উত্তরপ্রদেশের আসন্ন হাইভোল্টেজ রাজনৈতিক লড়াইকে সামনে রেখে এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে যৌথ প্রতিবাদের ঝড় তোলার ছক কষা হচ্ছে। কেবল উত্তরপ্রদেশেই নয়, হরিয়ানা ও উত্তরাখণ্ডের প্রতিটি গলিতে এই প্রতিবাদ ছড়িয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আগামী ১৯ আগস্টের হাইভোল্টেজ বৈঠকেই রাজপথের এই চূড়ান্ত আন্দোলনের নীল নকশা উন্মোচিত হবে। রাজনৈতিক বোদ্ধাদের মতে, ক্যাপিটল হিল বা লোকসভার এসি রুমের আওয়াজকে সাধারণ মানুষের হেঁশেল ও রুটি-রুজির প্রশ্নের সাথে যুক্ত করাই এখন রাহুলের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সংসদের ধাওয়ার পর এবার রাজপথের লড়াইয়ে কংগ্রেস কতটা সফল হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

আপনার মতামত লিখুন