সংবাদ

জ্বালানি সংকটে চট্টগ্রামে বিপর্যস্ত শিল্পখাত, রপ্তানিতে শঙ্কা


মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, চট্টগ্রাম
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, চট্টগ্রাম
প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৩৭ পিএম

জ্বালানি সংকটে চট্টগ্রামে বিপর্যস্ত শিল্পখাত, রপ্তানিতে শঙ্কা
ছবি : সংগৃহীত

চট্টগ্রামের শিল্পখাত তীব্র গ্যাস সংকটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।মহেশখালীর একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সংকট আরও গভীর হয়েছে। গ্যাসের অভাবে বন্ধ হয়ে গেছে ছোট-বড় অনেক কারখানা, আর বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো চলছে অর্ধেক সক্ষমতায়। এতে বাড়ছে আর্থিক ক্ষতি, পাশাপাশি রপ্তানি আদেশ হারানোর শঙ্কায় রয়েছেন উদ্যোক্তারা।

সূত্রমতে, গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় চট্টগ্রামের বায়েজিদ, অক্সিজেন ও কালুরঘাট ভারী শিল্প এলাকার অর্ধশতাধিক ছোট ও মাঝারি পোশাক, বস্ত্র, সুতা ও এক্সেসরিজ কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছে গ্যাসনির্ভর নিটিং, ডাইং, প্রিন্টিং ও কম্পোজিট টেক্সটাইল মিলগুলো।

বড় কারখানাগুলোও পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়ায় উৎপাদন প্রায় অর্ধেকে নামিয়ে এনেছে। দীর্ঘ সময় মেশিন বন্ধ থাকায় কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি এলোমেলো হয়ে পড়েছে রপ্তানি পণ্যের উৎপাদন ও সরবরাহের সময়সূচি। এতে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি বিদেশি ক্রেতাদের আস্থা হারানোর আশঙ্কাও বাড়ছে।

চলমান গ্যাস সংকট নিয়ে ক্লিফটন গ্রুপের ডাইং, প্রিন্টিং ও নিটিং বিভাগের প্রকৌশলী মো. জহির উদ্দিন চৌধুরী বলেন, তাদের ছয়টি পোশাক কারখানায় প্রতিদিন ২০ টন কাপড় সরবরাহের প্রয়োজন হলেও বর্তমানে ১২ থেকে ১৩ টনের বেশি উৎপাদন করা যাচ্ছে না। গ্যাস সংকট পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে দেশের পোশাকশিল্পের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করেন তিনি।

কারখানা চালু রাখা এবং রপ্তানি আদেশ ধরে রাখতে কেউ কেউ বিকল্প জ্বালানি হিসেবে এলপিজি ব্যবহার করছেন। তবে এতে উৎপাদন ব্যায় অনেক বেড়ে যাচ্ছে। জি কে শার্টস লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. কায়কোবাদ বলেন, তিনটি কারখানা চালু রাখতে প্রতিদিনই অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে।

শুধু পোশাক ও বস্ত্র খাত নয়, গ্যাস সংকটে পড়েছে রড, সিমেন্ট, খাদ্যসহ প্রায় সব গ্যাসনির্ভর শিল্প কারখানা। শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় এর প্রভাব আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমেও পড়তে শুরু করেছে।

জানতে চাইলে হিফস এগ্রোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ সোয়াইব হাছান বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে তাদের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।সময়মতো ক্রেতাদের কাছে পণ্য সরবরাহ করা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে এমসি শিপিংয়ের হেড অব অপারেশন অ্যান্ড লজিস্টিক আজমীর হোসেন চৌধুরী বলেন, আগের মাসের তুলনায় রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। কারখানাগুলো সঠিকভাবে জ্বালানি সরবরাহ না পাওয়াকেই এর অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন তিনি।

এদিকে, গ্যাস সংকটের কারণে প্রায় সাড়ে পাঁচ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল)। সর্বশেষ ৩ মার্চ উৎপাদনে ছিল প্রতিষ্ঠানটি। পরদিন থেকে গ্যাসের অভাবে সার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। 

সিইউএফএলের উপব্যবস্থাপক (প্রশাসন) সমীরন মারমা জানান, গ্যাস সংকটের কারণে ৪ মার্চ থেকে সার উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। তবে চলতি মাসের শেষের দিকে গ্যাস সরবরাহ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রসঙ্গত, চট্টগ্রামে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৭০ মিলিয়ন ঘনফুট। স্বাভাবিক সময়ে জাতীয় গ্রিড থেকে ২৫০ থেকে ২৬০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া গেলেও বর্তমানে সরবরাহ নেমে এসেছে মাত্র ১৯০ থেকে ২০০ মিলিয়ন ঘনফুটে।

মহেশখালীতে এলএনজি সরবরাহের জন্য থাকা দুটি ভাসমান টার্মিনালের একটি বুধবার বিকেল থেকে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও সংকটাপন্ন হয়ে উঠেছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬


জ্বালানি সংকটে চট্টগ্রামে বিপর্যস্ত শিল্পখাত, রপ্তানিতে শঙ্কা

প্রকাশের তারিখ : ২১ আগস্ট ২০২৬

featured Image

চট্টগ্রামের শিল্পখাত তীব্র গ্যাস সংকটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।মহেশখালীর একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সংকট আরও গভীর হয়েছে। গ্যাসের অভাবে বন্ধ হয়ে গেছে ছোট-বড় অনেক কারখানা, আর বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো চলছে অর্ধেক সক্ষমতায়। এতে বাড়ছে আর্থিক ক্ষতি, পাশাপাশি রপ্তানি আদেশ হারানোর শঙ্কায় রয়েছেন উদ্যোক্তারা।

সূত্রমতে, গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় চট্টগ্রামের বায়েজিদ, অক্সিজেন ও কালুরঘাট ভারী শিল্প এলাকার অর্ধশতাধিক ছোট ও মাঝারি পোশাক, বস্ত্র, সুতা ও এক্সেসরিজ কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছে গ্যাসনির্ভর নিটিং, ডাইং, প্রিন্টিং ও কম্পোজিট টেক্সটাইল মিলগুলো।

বড় কারখানাগুলোও পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়ায় উৎপাদন প্রায় অর্ধেকে নামিয়ে এনেছে। দীর্ঘ সময় মেশিন বন্ধ থাকায় কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি এলোমেলো হয়ে পড়েছে রপ্তানি পণ্যের উৎপাদন ও সরবরাহের সময়সূচি। এতে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি বিদেশি ক্রেতাদের আস্থা হারানোর আশঙ্কাও বাড়ছে।

চলমান গ্যাস সংকট নিয়ে ক্লিফটন গ্রুপের ডাইং, প্রিন্টিং ও নিটিং বিভাগের প্রকৌশলী মো. জহির উদ্দিন চৌধুরী বলেন, তাদের ছয়টি পোশাক কারখানায় প্রতিদিন ২০ টন কাপড় সরবরাহের প্রয়োজন হলেও বর্তমানে ১২ থেকে ১৩ টনের বেশি উৎপাদন করা যাচ্ছে না। গ্যাস সংকট পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে দেশের পোশাকশিল্পের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করেন তিনি।

কারখানা চালু রাখা এবং রপ্তানি আদেশ ধরে রাখতে কেউ কেউ বিকল্প জ্বালানি হিসেবে এলপিজি ব্যবহার করছেন। তবে এতে উৎপাদন ব্যায় অনেক বেড়ে যাচ্ছে। জি কে শার্টস লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. কায়কোবাদ বলেন, তিনটি কারখানা চালু রাখতে প্রতিদিনই অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে।

শুধু পোশাক ও বস্ত্র খাত নয়, গ্যাস সংকটে পড়েছে রড, সিমেন্ট, খাদ্যসহ প্রায় সব গ্যাসনির্ভর শিল্প কারখানা। শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় এর প্রভাব আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমেও পড়তে শুরু করেছে।

জানতে চাইলে হিফস এগ্রোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ সোয়াইব হাছান বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে তাদের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।সময়মতো ক্রেতাদের কাছে পণ্য সরবরাহ করা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে এমসি শিপিংয়ের হেড অব অপারেশন অ্যান্ড লজিস্টিক আজমীর হোসেন চৌধুরী বলেন, আগের মাসের তুলনায় রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। কারখানাগুলো সঠিকভাবে জ্বালানি সরবরাহ না পাওয়াকেই এর অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন তিনি।

এদিকে, গ্যাস সংকটের কারণে প্রায় সাড়ে পাঁচ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল)। সর্বশেষ ৩ মার্চ উৎপাদনে ছিল প্রতিষ্ঠানটি। পরদিন থেকে গ্যাসের অভাবে সার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। 

সিইউএফএলের উপব্যবস্থাপক (প্রশাসন) সমীরন মারমা জানান, গ্যাস সংকটের কারণে ৪ মার্চ থেকে সার উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। তবে চলতি মাসের শেষের দিকে গ্যাস সরবরাহ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রসঙ্গত, চট্টগ্রামে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৭০ মিলিয়ন ঘনফুট। স্বাভাবিক সময়ে জাতীয় গ্রিড থেকে ২৫০ থেকে ২৬০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া গেলেও বর্তমানে সরবরাহ নেমে এসেছে মাত্র ১৯০ থেকে ২০০ মিলিয়ন ঘনফুটে।

মহেশখালীতে এলএনজি সরবরাহের জন্য থাকা দুটি ভাসমান টার্মিনালের একটি বুধবার বিকেল থেকে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও সংকটাপন্ন হয়ে উঠেছে।



সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত