ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আউটসোর্সিংয়ের কাজ করা নয় কর্মচারীর চাকরি বহাল রাখতে প্রায় ১২ লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ উঠেছে। ঘুষ না দিলে চাকরি থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি গত ১৪ মাস ধরে বেতনও পাচ্ছেন না এই কর্মচারীরা। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা।
ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে বর্তমানে নিরাপত্তা প্রহরী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও টিকিট ক্লার্কসহ ৯ জন আউটসোর্সিং কর্মচারী কর্মরত আছেন। তাদের কেউ পাঁচ বছর, আবার কেউ আট বছর ধরে কাজ করছেন। সম্প্রতি ‘আল ওফফা’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এই জনবল সরবরাহের দায়িত্ব পায়। এরপর থেকেই প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধি মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঘুষ দাবির অভিযোগ ওঠে। কর্মচারীদের দাবি, চাকরি বহাল রাখতে পদভেদে ১ লাখ ২০ হাজার থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ চাওয়া হচ্ছে। নয়টি পদের বিপরীতে মোট দাবিকৃত টাকার পরিমাণ প্রায় ১২ লাখ।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছেন টিকিট ক্লার্ক শিমু খাতুন। তিনি জানান, দীর্ঘ আট বছর ধরে কাজ করলেও চাকরি বাঁচাতে ঠিকাদারকে ৪০ হাজার টাকা ঘুষ দিয়েছিলেন। কিন্তু দাবিকৃত টাকার পুরোটা দিতে না পারায় তাকে বাদ দিয়ে কুষ্টিয়ার অন্য একজনকে নিয়োগের তোড়জোড় শুরু হয়। পরে অভিযোগ জানাজানি হলে ঠিকাদার তার ৪০ হাজার টাকা ফেরত দেন।
আরেক কর্মচারী গণেশ চন্দ্র বলেন, 'নিয়োগপত্র চাইতে গেলেই ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে নতুন লোক নিয়োগের ভয় দেখানো হচ্ছে। আমরা বেতন পাই না ১৪ মাস, এর মধ্যে ঘুষের টাকা কোত্থেকে দেব?'
সম্প্রতি স্বাস্থ্যমন্ত্রী মহেশপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে এলে কর্মচারীরা সরাসরি তার কাছে এই অভিযোগ তুলে ধরেন। মন্ত্রী তাদের আশ্বস্ত করে বলেন, কোনো টাকা লেনদেন করার প্রয়োজন নেই। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।
এ বিষয়ে মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হেলেনা আক্তার নিপা এবং ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন ডা. কামরুজ্জামান জানান, তারা মৌখিকভাবে কর্মচারীদের সাফ জানিয়ে দিয়েছেন কেউ যেন এক টাকাও ঘুষ না দেয়। নিয়ম অনুযায়ীই তাদের নিয়োগ সম্পন্ন হবে।
তবে অভিযুক্ত ঠিকাদার প্রতিনিধি মনিরুল ইসলাম ঘুষের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, 'এসব অবান্তর প্রশ্ন কেন করছেন? ঘুষ নেব কেন? আমার অফিসে এসে দেখা করেন।'
চাকরি হারানোর ভয় আর দীর্ঘদিনের বকেয়া বেতনের অনিশ্চয়তা নিয়ে এসব কর্মচারী এখন দিশেহারা। অবিলম্বে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বেতন পরিশোধের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ আগস্ট ২০২৬
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আউটসোর্সিংয়ের কাজ করা নয় কর্মচারীর চাকরি বহাল রাখতে প্রায় ১২ লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ উঠেছে। ঘুষ না দিলে চাকরি থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি গত ১৪ মাস ধরে বেতনও পাচ্ছেন না এই কর্মচারীরা। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা।
ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে বর্তমানে নিরাপত্তা প্রহরী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও টিকিট ক্লার্কসহ ৯ জন আউটসোর্সিং কর্মচারী কর্মরত আছেন। তাদের কেউ পাঁচ বছর, আবার কেউ আট বছর ধরে কাজ করছেন। সম্প্রতি ‘আল ওফফা’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এই জনবল সরবরাহের দায়িত্ব পায়। এরপর থেকেই প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধি মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঘুষ দাবির অভিযোগ ওঠে। কর্মচারীদের দাবি, চাকরি বহাল রাখতে পদভেদে ১ লাখ ২০ হাজার থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ চাওয়া হচ্ছে। নয়টি পদের বিপরীতে মোট দাবিকৃত টাকার পরিমাণ প্রায় ১২ লাখ।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছেন টিকিট ক্লার্ক শিমু খাতুন। তিনি জানান, দীর্ঘ আট বছর ধরে কাজ করলেও চাকরি বাঁচাতে ঠিকাদারকে ৪০ হাজার টাকা ঘুষ দিয়েছিলেন। কিন্তু দাবিকৃত টাকার পুরোটা দিতে না পারায় তাকে বাদ দিয়ে কুষ্টিয়ার অন্য একজনকে নিয়োগের তোড়জোড় শুরু হয়। পরে অভিযোগ জানাজানি হলে ঠিকাদার তার ৪০ হাজার টাকা ফেরত দেন।
আরেক কর্মচারী গণেশ চন্দ্র বলেন, 'নিয়োগপত্র চাইতে গেলেই ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে নতুন লোক নিয়োগের ভয় দেখানো হচ্ছে। আমরা বেতন পাই না ১৪ মাস, এর মধ্যে ঘুষের টাকা কোত্থেকে দেব?'
সম্প্রতি স্বাস্থ্যমন্ত্রী মহেশপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে এলে কর্মচারীরা সরাসরি তার কাছে এই অভিযোগ তুলে ধরেন। মন্ত্রী তাদের আশ্বস্ত করে বলেন, কোনো টাকা লেনদেন করার প্রয়োজন নেই। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।
এ বিষয়ে মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হেলেনা আক্তার নিপা এবং ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন ডা. কামরুজ্জামান জানান, তারা মৌখিকভাবে কর্মচারীদের সাফ জানিয়ে দিয়েছেন কেউ যেন এক টাকাও ঘুষ না দেয়। নিয়ম অনুযায়ীই তাদের নিয়োগ সম্পন্ন হবে।
তবে অভিযুক্ত ঠিকাদার প্রতিনিধি মনিরুল ইসলাম ঘুষের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, 'এসব অবান্তর প্রশ্ন কেন করছেন? ঘুষ নেব কেন? আমার অফিসে এসে দেখা করেন।'
চাকরি হারানোর ভয় আর দীর্ঘদিনের বকেয়া বেতনের অনিশ্চয়তা নিয়ে এসব কর্মচারী এখন দিশেহারা। অবিলম্বে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বেতন পরিশোধের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

আপনার মতামত লিখুন