ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রশাসনিক কর্মকর্তা বদলিকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক কর্মচারীকে মারধরের অভিযোগও উঠেছে। এ পরিস্থিতিতে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে হাসপাতালে লিখিত আবেদন করেছে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী সংগঠন।
লিখিত আবেদনে বলা হয়, গত ১০ আগস্ট প্রশাসনিক ব্লকে দায়িত্ব পালনকালে অফিস সহকারী মো. আবু হানিফ ভূঁইয়া কয়েকজন চিকিৎসকের হামলার শিকার হন।
৪র্থ শ্রেণি সরকারি কর্মচারী সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আজিজ জানান, প্রশাসনিক কর্মকর্তার বদলিকে কেন্দ্র করে কয়েকজন চিকিৎসক ও মেডিকেল কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী এক কর্মচারীর কক্ষে তালা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় দায়িত্ব পালনরত কর্মচারী মোহাম্মদ হানিফ বাধা দিলে তার ওপর হামলা চালানো হয়।
আজিজ বলেন, "কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনকালে একজন কর্মচারীর ওপর হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।"
অভিযোগে আউটডোর সার্জারির আবাসিক সার্জন ডা. অভি, অর্থোপেডিকস বিভাগের আরএস ডা. ফুয়াদ ও ডা. জাবেদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তিনি জানান, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমেই সত্যতা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
গত ২৮ জুলাই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক প্রজ্ঞাপনে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. রেজাউল ইসলামকে ঢাকা মেডিকেলে এবং ঢামেকের কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোজাম্মেল হককে ময়মনসিংহে বদলি করা হয়।
কর্মচারী নেতাদের অভিযোগ, নতুন কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদানের আগেই হাসপাতালে এসে কর্মচারীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন, যা নিয়ে তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী সমিতির সভাপতি আলী আহমেদের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডা হয়।
তবে এই উত্তেজনা প্রসঙ্গে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল বলেন, "ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত। দুই পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলেও আলোচনার মাধ্যমে তা মিটে গেছে।"
তিনি আরও জানান, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা স্বাভাবিক রয়েছে।
হাসপাতালে একটি নিরাপদ ও সুন্দর কর্মপরিবেশ বজায় রাখার আকুল আবেদন জানিয়েছেন কর্মচারীরা। মো. আজিজ বলেন, "আমরা কোনো ব্যক্তিগত বিরোধে যেতে চাই না। আমরা চাই ঢাকা মেডিকেল কলেজে শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ বজায় থাকুক। চিকিৎসক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থী সবাই যেন পারস্পরিক সম্মানের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারেন।"
পুরো বিষয়টি নিয়ে হাসপাতালের পরিচালক এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে লিখিত আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। এই বিষয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান জানান, বদলি একটি সরকারি চাকরির নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এবং ব্যক্তিস্বার্থে চাপ সৃষ্টি গ্রহণযোগ্য নয়।
টেন্ডার নিয়ে তদবির ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের হুমকির কিছু অভিযোগ নজরে আসার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিষয়গুলো ইতোমধ্যেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ আগস্ট ২০২৬
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রশাসনিক কর্মকর্তা বদলিকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক কর্মচারীকে মারধরের অভিযোগও উঠেছে। এ পরিস্থিতিতে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে হাসপাতালে লিখিত আবেদন করেছে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী সংগঠন।
লিখিত আবেদনে বলা হয়, গত ১০ আগস্ট প্রশাসনিক ব্লকে দায়িত্ব পালনকালে অফিস সহকারী মো. আবু হানিফ ভূঁইয়া কয়েকজন চিকিৎসকের হামলার শিকার হন।
৪র্থ শ্রেণি সরকারি কর্মচারী সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আজিজ জানান, প্রশাসনিক কর্মকর্তার বদলিকে কেন্দ্র করে কয়েকজন চিকিৎসক ও মেডিকেল কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী এক কর্মচারীর কক্ষে তালা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় দায়িত্ব পালনরত কর্মচারী মোহাম্মদ হানিফ বাধা দিলে তার ওপর হামলা চালানো হয়।
আজিজ বলেন, "কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনকালে একজন কর্মচারীর ওপর হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।"
অভিযোগে আউটডোর সার্জারির আবাসিক সার্জন ডা. অভি, অর্থোপেডিকস বিভাগের আরএস ডা. ফুয়াদ ও ডা. জাবেদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তিনি জানান, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমেই সত্যতা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
গত ২৮ জুলাই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক প্রজ্ঞাপনে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. রেজাউল ইসলামকে ঢাকা মেডিকেলে এবং ঢামেকের কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোজাম্মেল হককে ময়মনসিংহে বদলি করা হয়।
কর্মচারী নেতাদের অভিযোগ, নতুন কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদানের আগেই হাসপাতালে এসে কর্মচারীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন, যা নিয়ে তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী সমিতির সভাপতি আলী আহমেদের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডা হয়।
তবে এই উত্তেজনা প্রসঙ্গে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল বলেন, "ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত। দুই পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলেও আলোচনার মাধ্যমে তা মিটে গেছে।"
তিনি আরও জানান, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা স্বাভাবিক রয়েছে।
হাসপাতালে একটি নিরাপদ ও সুন্দর কর্মপরিবেশ বজায় রাখার আকুল আবেদন জানিয়েছেন কর্মচারীরা। মো. আজিজ বলেন, "আমরা কোনো ব্যক্তিগত বিরোধে যেতে চাই না। আমরা চাই ঢাকা মেডিকেল কলেজে শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ বজায় থাকুক। চিকিৎসক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থী সবাই যেন পারস্পরিক সম্মানের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারেন।"
পুরো বিষয়টি নিয়ে হাসপাতালের পরিচালক এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে লিখিত আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। এই বিষয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান জানান, বদলি একটি সরকারি চাকরির নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এবং ব্যক্তিস্বার্থে চাপ সৃষ্টি গ্রহণযোগ্য নয়।
টেন্ডার নিয়ে তদবির ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের হুমকির কিছু অভিযোগ নজরে আসার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিষয়গুলো ইতোমধ্যেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন