নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার পথে পথে মুখে অক্সিজেন মাস্ক আর হাতে গাছের চারা নিয়ে ঘুরছেন এক তরুণ। পরিবেশ রক্ষার এক ব্যতিক্রমী বার্তা ছড়িয়ে দিতেই তার এই উদ্যোগ। স্থানীয়ভাবে তিনি এখন পরিচিতি পেয়েছেন ‘গ্রিন ম্যান’ বা ‘সবুজ মানব’ হিসেবে।
এই তরুণের নাম এনামুল হক। তিনি কেন্দুয়া উপজেলার বলাইশিমুল ইউনিয়নের নোয়াদিয়া গ্রামের আবুল কাসেম মিয়ার ছেলে। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে স্নাতক এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর শেষ করেছেন তিনি।
শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে কেন্দুয়া উপজেলার বিভিন্ন মোড়ে এনামুলকে দেখা যায় অক্সিজেন মাস্ক পরে হাতে চারা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে। তার পাশে থাকা একটি প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল-‘গাছ বাঁচান, প্রকৃতি বাঁচান। প্রকৃতি বাঁচলে আমরাও বাঁচব।’
কেন এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ? এনামুল বলেন, ‘মানুষ প্রতিদিন অক্সিজেন নিলেও এর উৎস নিয়ে ভাবে না। শুধু মুখে গাছ লাগানোর কথা বললে অনেকে গুরুত্ব দেন না। তাই অক্সিজেন মাস্ক পরে রাস্তায় দাঁড়িয়ে মানুষের বিবেককে নাড়া দিতে চাইছি। আমি বোঝাতে চাই, গাছ না থাকলে এভাবেই আমাদের অক্সিজেন মাস্কের ওপর নির্ভর করতে হবে।’
এনামুল জানান, নিজের টিউশনির জমানো টাকা দিয়ে এ পর্যন্ত প্রায় দুই হাজার গাছ লাগিয়েছেন তিনি। রাস্তার পাশে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন স্থানে এসব গাছ লাগানো হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন সময় হাটবাজার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় তিন হাজার চারা বিতরণ করেছেন তিনি।
তবে গাছ লাগানোকেই শেষ কাজ মনে করেন না এনামুল। তার মতে, ‘গাছ লাগিয়ে ছবি তোলা সহজ, কিন্তু বছরের পর বছর সেটি বাঁচিয়ে রাখাই আসল চ্যালেঞ্জ।’ অনেক সময় চারা উপড়ে ফেলা বা গবাদিপশু দিয়ে নষ্ট করার মতো ঘটনার মুখোমুখি হতে হয় তাকে। অর্থের সীমাবদ্ধতা থাকলেও পরিবেশের প্রতি টান তাকে থামিয়ে দেয়নি।
ভবিষ্যতে গ্রামের রাস্তা, স্কুল ও খেলার মাঠগুলো সবুজে ভরে তোলার স্বপ্ন দেখেন এই তরুণ। এনামুল বলেন, ‘গাছ মানে জীবন, আমাদের সন্তানের ভবিষ্যৎ শ্বাস। আমি চাই আমার মৃত্যুর পর সন্তান যেন বলতে পারে-এই গাছটা আমার বাবার লাগানো।’
কেন্দুয়া থানার ওসি ও স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিরা এনামুলের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।
আপনার মতামত লিখুন