জামালপুর শহরের একটি ভাড়া বাসা থেকে ইসরাত জাহান রিমা (২৫) নামে এক কলেজছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে শহরের দক্ষিণ কাচাড়িপাড়া এলাকার ‘বকুল ভিলা’ নামের একটি ভবন থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত ইসরাত জাহান রিমা সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের ইংরেজি বিভাগের স্নাতক (সম্মান) চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি মাদারগঞ্জ উপজেলার বালিজুড়ি গ্রামের রশিদুজ্জামান মণ্ডলের মেয়ে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রিমা ওই ভবনে একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে একা থাকতেন। গত কয়েকদিন ধরে তার কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। শুক্রবার কক্ষ থেকে দুর্গন্ধ ছড়াতে থাকলে প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়। পরে তারা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন। সেখানে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে রিমার মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।
রিমার পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, এর আগে রিমার একবার বিয়ে হয়েছিল। সেই সংসারে তার একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। তবে বিচ্ছেদের পর সন্তানটি তার বাবার কাছেই থাকে। স্বজনদের দাবি, ২০২৪ সালে মাদারগঞ্জের চাঁদপুর এলাকার শুভর সঙ্গে রিমার দ্বিতীয়বার বিয়ে হয়। তবে শুভর পরিবার এই বিয়ে মেনে নেয়নি। একপর্যায়ে শুভকে অন্য জায়গায় বিয়ে দিয়ে কম্বোডিয়ায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তবে শুভ সম্প্রতি দেশে ফিরে আবারও রিমার সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন। গত সপ্তাহেও তারা একসঙ্গে ছিলেন বলে স্বজনেরা জানিয়েছেন।
পরিবারের অভিযোগ, শুভর পরিবারের পক্ষ থেকে সম্পর্ক বিচ্ছেদের জন্য রিমাকে মানসিক চাপ দেওয়া হচ্ছিল। এই চাপ সইতে না পেরেই রিমা আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়ে থাকতে পারেন। রিমার সহপাঠী সানজিদা আফরিন বলেন, ‘রিমার মৃত্যু আমাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টের। আমরা চাই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হোক।’
সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রধান মোহাম্মদ মনোয়ার হুসেন মুরাদ বলেন, ‘রিমা আমাদের মেধাবী শিক্ষার্থী ছিল। তার এমন মৃত্যু মেনে নেওয়া কঠিন। পুলিশ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন করবে বলে আশা করি।’
জামালপুর সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. নাজমুল জান্নাত শাহ বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এটি আত্মহত্যা নাকি অন্য কিছু, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে নিশ্চিত হওয়া যাবে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ আগস্ট ২০২৬
জামালপুর শহরের একটি ভাড়া বাসা থেকে ইসরাত জাহান রিমা (২৫) নামে এক কলেজছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে শহরের দক্ষিণ কাচাড়িপাড়া এলাকার ‘বকুল ভিলা’ নামের একটি ভবন থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত ইসরাত জাহান রিমা সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের ইংরেজি বিভাগের স্নাতক (সম্মান) চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি মাদারগঞ্জ উপজেলার বালিজুড়ি গ্রামের রশিদুজ্জামান মণ্ডলের মেয়ে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রিমা ওই ভবনে একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে একা থাকতেন। গত কয়েকদিন ধরে তার কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। শুক্রবার কক্ষ থেকে দুর্গন্ধ ছড়াতে থাকলে প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়। পরে তারা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন। সেখানে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে রিমার মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।
রিমার পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, এর আগে রিমার একবার বিয়ে হয়েছিল। সেই সংসারে তার একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। তবে বিচ্ছেদের পর সন্তানটি তার বাবার কাছেই থাকে। স্বজনদের দাবি, ২০২৪ সালে মাদারগঞ্জের চাঁদপুর এলাকার শুভর সঙ্গে রিমার দ্বিতীয়বার বিয়ে হয়। তবে শুভর পরিবার এই বিয়ে মেনে নেয়নি। একপর্যায়ে শুভকে অন্য জায়গায় বিয়ে দিয়ে কম্বোডিয়ায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তবে শুভ সম্প্রতি দেশে ফিরে আবারও রিমার সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন। গত সপ্তাহেও তারা একসঙ্গে ছিলেন বলে স্বজনেরা জানিয়েছেন।
পরিবারের অভিযোগ, শুভর পরিবারের পক্ষ থেকে সম্পর্ক বিচ্ছেদের জন্য রিমাকে মানসিক চাপ দেওয়া হচ্ছিল। এই চাপ সইতে না পেরেই রিমা আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়ে থাকতে পারেন। রিমার সহপাঠী সানজিদা আফরিন বলেন, ‘রিমার মৃত্যু আমাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টের। আমরা চাই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হোক।’
সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রধান মোহাম্মদ মনোয়ার হুসেন মুরাদ বলেন, ‘রিমা আমাদের মেধাবী শিক্ষার্থী ছিল। তার এমন মৃত্যু মেনে নেওয়া কঠিন। পুলিশ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন করবে বলে আশা করি।’
জামালপুর সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. নাজমুল জান্নাত শাহ বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এটি আত্মহত্যা নাকি অন্য কিছু, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে নিশ্চিত হওয়া যাবে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন