সংবাদ

বিমা খাতে বড় স্বস্তি

সম্পদ বিক্রি করে গ্রাহকদের বকেয়া পরিশোধ শুরু আগামী সপ্তাহে


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৬, ১০:০০ পিএম

সম্পদ বিক্রি করে গ্রাহকদের বকেয়া পরিশোধ শুরু আগামী সপ্তাহে

দেশের বিমা খাতের দীর্ঘদিনের গ্রাহক অসন্তোষ কমাতে এবং আস্থা ফিরিয়ে আনতে এক পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে বীমা উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)

সংকটে থাকা বিমা কোম্পানিগুলোর আটকে থাকা সম্পদ বিক্রি এবং বিভিন্ন আর্থিক সম্পদ নগদায়ন করে গ্রাহকদের বকেয়া দাবি পরিশোধের ঐতিহাসিক কার্যক্রম আগামী সপ্তাহ থেকেই শুরু হতে যাচ্ছে। প্রথম ধাপে অন্তত সাত থেকে আটটি সংকটাপন্ন কোম্পানির গ্রাহকদের পাওনা পরিশোধের এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার দুই দিনব্যাপী আয়োজিত এক আবাসিক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইডিআরএ চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিন এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন। ইন্স্যুরেন্স রিপোর্টার্স ফোরাম (আইআরএফ) এই কর্মশালার আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে বিমা খাতের সার্বিক সংস্কার এবং শৃঙ্খলা ফেরানোর ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়।

আইডিআরএ চেয়ারম্যান জানান, বিমা কোম্পানিগুলোর মালিকানাধীন বিভিন্ন স্থাবর সম্পত্তি, জমি বিক্রি এবং ট্রেজারি বন্ড এফডিআরের মতো আর্থিক সম্পদ নগদায়ন করে প্রাপ্ত অর্থ সরাসরি গ্রাহকদের দাবি মেটানোর কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে কয়েকটি কোম্পানির সম্পদ বিক্রির লব্ধ অর্থ আইডিআরের কঠোর তদারকিতে নির্দিষ্ট ব্যাংক হিসাবে জমা হয়েছে। আগামী সপ্তাহ থেকেই সেই অর্থ দিয়ে গ্রাহকদের পাওনা পরিশোধের কাজ শুরু হবে।

প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘তাদের যত জমি বিক্রি হয়ে লিকুইডেট হতে থাকবে, ব্যাংকে টাকা আসবে, আমরা গ্রাহকদের দিতে থাকবো।

গ্রাহকদের দাবি পরিশোধের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখতেফার্স্ট ইন, ফার্স্ট আউটবা এফআইএফও পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে বলে জানান চেয়ারম্যান। অর্থাৎ যে গ্রাহকের দাবি আগে জমা পড়েছে, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তাকেই প্রথমে অর্থ প্রদান করা হবে। এর অংশ হিসেবে কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে সংগৃহীত দাবির তালিকা স্বাধীন নিরীক্ষকদের মাধ্যমে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা হয়েছে।

প্রতিটি কোম্পানির জন্য আলাদা ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে এবং সেখানে নিরীক্ষক নিযুক্ত করা হয়েছে, ফলে কোম্পানিগুলোর সরাসরি অর্থ অপব্যবহারের কোনো সুযোগ থাকছে না। আইডিআরের সরাসরি তত্ত্বাবধানে নির্ধারিত তালিকা অনুযায়ীই গ্রাহকদের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হবে।

আলোচনায় বিশেষ করে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের উদাহরণ তুলে ধরেন মীর নাদিয়া নিভিন। বর্তমানে কোম্পানিটির প্রায় হাজার কোটি টাকার দাবি অপরিশোধিত রয়েছে। এই বিশাল অঙ্কের দেনা অনিয়মের কারণে প্রতিষ্ঠানটির প্রথম বর্ষের নতুন প্রিমিয়াম সংগ্রহ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে, তবে গ্রাহকরা চাইলে নবায়ন প্রিমিয়াম জমা দিতে পারছেন।

তিনি জানান, ফারইস্টের ফেনীর একটি জমি বিক্রি এবং কিছু বন্ড তরলীকরণ করে ইতিমধ্যে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ হাতে পাওয়া গেছে। এই অর্থ দিয়েই আগামী সপ্তাহে গ্রাহকদের পরিশোধ কার্যক্রমের শুভ সূচনা হবে। প্রাথমিকভাবে কয়েকশ কোটি টাকা দিয়ে শুরু হয়ে পরবর্তীতে কোম্পানিটির অন্যান্য জমি সম্পদ বিক্রির সাপেক্ষে পর্যায়ক্রমে এই প্রক্রিয়া চলতে থাকবে।

ফারইস্টের সব সম্পদ বন্ড সফলভাবে তরলীকরণ করা গেলে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা পাওয়া যেতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এই বিপুল পরিমাণ অর্থ দিয়ে একটি বড় অংশের দাবি পরিশোধের পর কোম্পানিটির সার্বিক ব্যবসা ভবিষ্যৎ সক্ষমতা মূল্যায়ন করা হবে।

বিমা খাতের মূল চ্যালেঞ্জ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আইডিআরএ চেয়ারম্যান বলেন, গ্রাহকদের হারানো আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং পলিসিহোল্ডারদের স্বার্থ সুরক্ষা করাই তাদের প্রধান দায়িত্ব। বিমা খাতকে একটি সুদৃঢ় নির্ভরযোগ্য আর্থিক কাঠামোতে দাঁড় করাতে তথ্যের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিকল্প নেই।

নিজের প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘আমি প্রথম দিন অফিসে এসেই প্রতিশ্রুতি করেছিলাম, আইডিআরের কোর ম্যান্ডেট অনুযায়ী পলিসিহোল্ডারদের সুবিধা নিশ্চিত করবো। দুই মাসের শেষে অন্তত সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করতে পেরেছি, এটা আমি খুবই আনন্দের সঙ্গে বলছি।

আইআরএফ সভাপতি গোলাম মাওলার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কাজিম উদ্দিন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আইআরএফ সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আইডিআরের এই সাহসী তদারকিমূলক পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে বিমা খাতের দীর্ঘমেয়াদি সংকট কেটে যাবে এবং গ্রাহকরা তাদের ন্যায্য পাওনা ফিরে পেয়ে বিমা শিল্পে পুনরায় আস্থাশীল হয়ে উঠবেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬


সম্পদ বিক্রি করে গ্রাহকদের বকেয়া পরিশোধ শুরু আগামী সপ্তাহে

প্রকাশের তারিখ : ২৮ আগস্ট ২০২৬

featured Image

দেশের বিমা খাতের দীর্ঘদিনের গ্রাহক অসন্তোষ কমাতে এবং আস্থা ফিরিয়ে আনতে এক পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে বীমা উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)

সংকটে থাকা বিমা কোম্পানিগুলোর আটকে থাকা সম্পদ বিক্রি এবং বিভিন্ন আর্থিক সম্পদ নগদায়ন করে গ্রাহকদের বকেয়া দাবি পরিশোধের ঐতিহাসিক কার্যক্রম আগামী সপ্তাহ থেকেই শুরু হতে যাচ্ছে। প্রথম ধাপে অন্তত সাত থেকে আটটি সংকটাপন্ন কোম্পানির গ্রাহকদের পাওনা পরিশোধের এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার দুই দিনব্যাপী আয়োজিত এক আবাসিক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইডিআরএ চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিন এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন। ইন্স্যুরেন্স রিপোর্টার্স ফোরাম (আইআরএফ) এই কর্মশালার আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে বিমা খাতের সার্বিক সংস্কার এবং শৃঙ্খলা ফেরানোর ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়।

আইডিআরএ চেয়ারম্যান জানান, বিমা কোম্পানিগুলোর মালিকানাধীন বিভিন্ন স্থাবর সম্পত্তি, জমি বিক্রি এবং ট্রেজারি বন্ড এফডিআরের মতো আর্থিক সম্পদ নগদায়ন করে প্রাপ্ত অর্থ সরাসরি গ্রাহকদের দাবি মেটানোর কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে কয়েকটি কোম্পানির সম্পদ বিক্রির লব্ধ অর্থ আইডিআরের কঠোর তদারকিতে নির্দিষ্ট ব্যাংক হিসাবে জমা হয়েছে। আগামী সপ্তাহ থেকেই সেই অর্থ দিয়ে গ্রাহকদের পাওনা পরিশোধের কাজ শুরু হবে।

প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘তাদের যত জমি বিক্রি হয়ে লিকুইডেট হতে থাকবে, ব্যাংকে টাকা আসবে, আমরা গ্রাহকদের দিতে থাকবো।

গ্রাহকদের দাবি পরিশোধের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখতেফার্স্ট ইন, ফার্স্ট আউটবা এফআইএফও পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে বলে জানান চেয়ারম্যান। অর্থাৎ যে গ্রাহকের দাবি আগে জমা পড়েছে, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তাকেই প্রথমে অর্থ প্রদান করা হবে। এর অংশ হিসেবে কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে সংগৃহীত দাবির তালিকা স্বাধীন নিরীক্ষকদের মাধ্যমে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা হয়েছে।

প্রতিটি কোম্পানির জন্য আলাদা ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে এবং সেখানে নিরীক্ষক নিযুক্ত করা হয়েছে, ফলে কোম্পানিগুলোর সরাসরি অর্থ অপব্যবহারের কোনো সুযোগ থাকছে না। আইডিআরের সরাসরি তত্ত্বাবধানে নির্ধারিত তালিকা অনুযায়ীই গ্রাহকদের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হবে।

আলোচনায় বিশেষ করে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের উদাহরণ তুলে ধরেন মীর নাদিয়া নিভিন। বর্তমানে কোম্পানিটির প্রায় হাজার কোটি টাকার দাবি অপরিশোধিত রয়েছে। এই বিশাল অঙ্কের দেনা অনিয়মের কারণে প্রতিষ্ঠানটির প্রথম বর্ষের নতুন প্রিমিয়াম সংগ্রহ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে, তবে গ্রাহকরা চাইলে নবায়ন প্রিমিয়াম জমা দিতে পারছেন।

তিনি জানান, ফারইস্টের ফেনীর একটি জমি বিক্রি এবং কিছু বন্ড তরলীকরণ করে ইতিমধ্যে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ হাতে পাওয়া গেছে। এই অর্থ দিয়েই আগামী সপ্তাহে গ্রাহকদের পরিশোধ কার্যক্রমের শুভ সূচনা হবে। প্রাথমিকভাবে কয়েকশ কোটি টাকা দিয়ে শুরু হয়ে পরবর্তীতে কোম্পানিটির অন্যান্য জমি সম্পদ বিক্রির সাপেক্ষে পর্যায়ক্রমে এই প্রক্রিয়া চলতে থাকবে।

ফারইস্টের সব সম্পদ বন্ড সফলভাবে তরলীকরণ করা গেলে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা পাওয়া যেতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এই বিপুল পরিমাণ অর্থ দিয়ে একটি বড় অংশের দাবি পরিশোধের পর কোম্পানিটির সার্বিক ব্যবসা ভবিষ্যৎ সক্ষমতা মূল্যায়ন করা হবে।

বিমা খাতের মূল চ্যালেঞ্জ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আইডিআরএ চেয়ারম্যান বলেন, গ্রাহকদের হারানো আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং পলিসিহোল্ডারদের স্বার্থ সুরক্ষা করাই তাদের প্রধান দায়িত্ব। বিমা খাতকে একটি সুদৃঢ় নির্ভরযোগ্য আর্থিক কাঠামোতে দাঁড় করাতে তথ্যের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিকল্প নেই।

নিজের প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘আমি প্রথম দিন অফিসে এসেই প্রতিশ্রুতি করেছিলাম, আইডিআরের কোর ম্যান্ডেট অনুযায়ী পলিসিহোল্ডারদের সুবিধা নিশ্চিত করবো। দুই মাসের শেষে অন্তত সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করতে পেরেছি, এটা আমি খুবই আনন্দের সঙ্গে বলছি।

আইআরএফ সভাপতি গোলাম মাওলার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কাজিম উদ্দিন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আইআরএফ সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আইডিআরের এই সাহসী তদারকিমূলক পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে বিমা খাতের দীর্ঘমেয়াদি সংকট কেটে যাবে এবং গ্রাহকরা তাদের ন্যায্য পাওনা ফিরে পেয়ে বিমা শিল্পে পুনরায় আস্থাশীল হয়ে উঠবেন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত