নেপাল-চীন সীমান্তে হিমবাহ ধস, ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৩৮ জনে। নেপালের দুর্যোগ কর্তৃপক্ষ শুক্রবার (২৮ আগস্ট) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ১ হাজার ৩০০ জন, যাদের মধ্যে শত শত বিদেশি পর্যটকও আছেন ।
নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের তথ্যমতে, নিখোঁজ বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক ভারতীয়- ১৭৮ জন। অন্যান্য দেশের নাগরিকদের মধ্যে রয়েছেন- যুক্তরাষ্ট্র ৬৫ জন, ইউক্রেন ৫৩ জন, মালয়েশিয়া ৫১ জন, অস্ট্রেলিয়া ৩৫ জন ও যুক্তরাজ্য ৩৩ জন।
বুধবার সকালে হিমালয়ের ৫,২০০ মিটার উচ্চতা থেকে হিমবাহের এক বিশাল অংশ ভেঙে পড়ে। এর ফলে সৃষ্ট ধ্বংসাবশেষের প্রবাহ প্রতি সেকেন্ডে ৫০ মিটার বেগে নেমে আসে। নেপালের ভোতে কোশি ও ত্রিশূলি নদী বরাবর ১০০ কিলোমিটার এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রাসুয়া ও নুয়াকোট জেলায় যোগাযোগব্যবস্থা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বাড়িঘর, সড়ক, সেতু, বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। কাঠমান্ডুর সঙ্গে তিব্বতের লাসাকে যুক্তকারী গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সম্পূর্ণ বন্ধ।
দুর্যোগের নতুন এক মাত্রা যোগ হয়েছে। ভূমিধসে সৃষ্ট একটি কৃত্রিম হ্রদ থেকে পানি উপচে পড়তে শুরু করেছে । চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হ্রদটিতে প্রায় ২৫ লাখ ঘনমিটার পানি জমে আছে এবং যে কোনো সময় বাঁধ ভেঙে বড় ধরনের বন্যা সৃষ্টি করতে পারে।
এ পরিস্থিতিতে নেপাল ও চীন উভয় দেশেই উদ্ধার তৎপরতা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক করে উঁচু স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে।
নেপালি সেনাবাহিনী ও পুলিশের পাঁচ হাজারের বেশি সদস্য উদ্ধারকাজে নিয়োজিত। এ পর্যন্ত প্রায় ৯০০ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। যাদের মধ্যে ১১৯ জন পর্যটক রয়েছেন ।
যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, চীন ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ দুর্যোগকে 'অভূতপূর্ব' উল্লেখ করে সব ধরনের সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা বলছে, এটি ভূমিকম্প নয়; বরং হিমবাহ ধস থেকেই এই দুর্যোগের সূত্রপাত। গত কয়েক দশকে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে হিমালয়ের হিমবাহ দ্রুত গলছে।
এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০১১-২০২০ সালের মধ্যে হিমালয়ের হিমবাহ আগের দশকের তুলনায় ৬৫ শতাংশ দ্রুত বরফ হারিয়েছে । যা ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্যোগ আরও বাড়াবে বলে আশঙ্কা বিজ্ঞানীদের।
এই প্রাণঘাতী দুর্যোগ আবারও স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহতা- যা এখন আর কোনো দূরবর্তী ভবিষ্যৎের গল্প নয়, বর্তমানের কঠিন বাস্তবতা।

শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ আগস্ট ২০২৬
নেপাল-চীন সীমান্তে হিমবাহ ধস, ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৩৮ জনে। নেপালের দুর্যোগ কর্তৃপক্ষ শুক্রবার (২৮ আগস্ট) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ১ হাজার ৩০০ জন, যাদের মধ্যে শত শত বিদেশি পর্যটকও আছেন ।
নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের তথ্যমতে, নিখোঁজ বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক ভারতীয়- ১৭৮ জন। অন্যান্য দেশের নাগরিকদের মধ্যে রয়েছেন- যুক্তরাষ্ট্র ৬৫ জন, ইউক্রেন ৫৩ জন, মালয়েশিয়া ৫১ জন, অস্ট্রেলিয়া ৩৫ জন ও যুক্তরাজ্য ৩৩ জন।
বুধবার সকালে হিমালয়ের ৫,২০০ মিটার উচ্চতা থেকে হিমবাহের এক বিশাল অংশ ভেঙে পড়ে। এর ফলে সৃষ্ট ধ্বংসাবশেষের প্রবাহ প্রতি সেকেন্ডে ৫০ মিটার বেগে নেমে আসে। নেপালের ভোতে কোশি ও ত্রিশূলি নদী বরাবর ১০০ কিলোমিটার এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রাসুয়া ও নুয়াকোট জেলায় যোগাযোগব্যবস্থা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বাড়িঘর, সড়ক, সেতু, বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। কাঠমান্ডুর সঙ্গে তিব্বতের লাসাকে যুক্তকারী গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সম্পূর্ণ বন্ধ।
দুর্যোগের নতুন এক মাত্রা যোগ হয়েছে। ভূমিধসে সৃষ্ট একটি কৃত্রিম হ্রদ থেকে পানি উপচে পড়তে শুরু করেছে । চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হ্রদটিতে প্রায় ২৫ লাখ ঘনমিটার পানি জমে আছে এবং যে কোনো সময় বাঁধ ভেঙে বড় ধরনের বন্যা সৃষ্টি করতে পারে।
এ পরিস্থিতিতে নেপাল ও চীন উভয় দেশেই উদ্ধার তৎপরতা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক করে উঁচু স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে।
নেপালি সেনাবাহিনী ও পুলিশের পাঁচ হাজারের বেশি সদস্য উদ্ধারকাজে নিয়োজিত। এ পর্যন্ত প্রায় ৯০০ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। যাদের মধ্যে ১১৯ জন পর্যটক রয়েছেন ।
যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, চীন ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ দুর্যোগকে 'অভূতপূর্ব' উল্লেখ করে সব ধরনের সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা বলছে, এটি ভূমিকম্প নয়; বরং হিমবাহ ধস থেকেই এই দুর্যোগের সূত্রপাত। গত কয়েক দশকে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে হিমালয়ের হিমবাহ দ্রুত গলছে।
এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০১১-২০২০ সালের মধ্যে হিমালয়ের হিমবাহ আগের দশকের তুলনায় ৬৫ শতাংশ দ্রুত বরফ হারিয়েছে । যা ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্যোগ আরও বাড়াবে বলে আশঙ্কা বিজ্ঞানীদের।
এই প্রাণঘাতী দুর্যোগ আবারও স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহতা- যা এখন আর কোনো দূরবর্তী ভবিষ্যৎের গল্প নয়, বর্তমানের কঠিন বাস্তবতা।

আপনার মতামত লিখুন