বাংলাদেশ বিমানের জন্য উড়োজাহাজ কেনার বিষয়টি বাণিজ্যিক যোগ্যতার ভিত্তিতে হওয়া উচিত এবং ইউরোপীয় কোম্পানি এয়ারবাসকে যেন ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ বা সমান সুযোগ দেওয়া হয়—এমন মন্তব্য করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতের নেতৃত্বে ইইউভুক্ত ২৭টি দেশের রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধিরা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে এক বৈঠকে অংশ নেন।
এরপর সংবাদ ব্রিফিংয়ে মাইকেল মিলার বলেন, ‘আমাদের দৃষ্টিতে এয়ারবাসের একটি অবিশ্বাস্য প্রতিযোগিতামূলক অফার রয়েছে। এটিকে খুব গুরুত্ব সহকারে নেওয়া উচিত।’
মিলার আরও বলেন, ‘আমরা সব ক্ষেত্রে একটি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির অনুরোধ করছি। আপনি যদি কোনো সরকারি ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নেন, তা যেন বাণিজ্যিক যোগ্যতার ভিত্তিতে নেওয়া হয় এবং আমাদের কোম্পানিগুলো যেন যে কোনো দেশের কোম্পানির সঙ্গে তাদের সাধ্যমতো সর্বোত্তম প্রতিযোগিতা করতে পারে।’
এর আগে গত ৩০ এপ্রিল মার্কিন কোম্পানি বোয়িংয়ের সঙ্গে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। এই চুক্তির মূল্য ৩.৭ বিলিয়ন ডলার বা ৪৫ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা (১ ডলার ১২২ টাকা ৭৩ পয়সা ধরে)। ২০৩১ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে বিমানকে এসব এয়ারক্রাফট সরবরাহ করবে বোয়িং।
এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ১০টি এয়ারবাস কেনার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে জুলাই অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতন এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কের চাপের মধ্যে শেষ পর্যন্ত বিমানের ক্রয়াদেশ যায় বোয়িংয়ের কাছে।
এ বিষয়ে সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত সার্জিও গোর এক্স পোস্টে বলেন, ‘চলতি সপ্তাহেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে আরেকটি অসাধারণ চুক্তি হয়েছে। এর আওতায় বাংলাদেশ বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয় করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।’
পরে ট্রাম্প নিজেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে চিঠি দিয়ে ধন্যবাদ জানান এবং অদূর ভবিষ্যতে সাক্ষাতের আশা প্রকাশ করেন।
বোয়িংয়ের এই জয়ের পর ইউরোপীয়দের কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে। রোববারের বৈঠকে ইইউ রাষ্ট্রদূত শুধু বিমান কেনার বিষয়ই নয়, বরং বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক, অশুল্ক বাধা দূরীকরণ এবং ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোর জন্য ব্যবসার পরিবেশ নিয়েও আলোচনা করেছেন।
এর আগে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বৈঠকে মাইকেল মিলার অশুল্ক বাধা দূর করার পাশাপাশি বাংলাদেশে রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণের ওপর জোর দিয়েছিলেন। ইইউ তখন ৬১টি অশুল্ক বাধার কথা বলেছিল, যার মধ্যে ৪৮টি দূর করেছে সরকার বলে দাবি করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
বৈঠকে অশুল্ক বাধা দূরের মধ্যে শতভাগ বিদেশি মালিকানাধীন লজিস্টিক কোম্পানির লাইসেন্স নবায়ন জটিলতা নিরসন, বাণিজ্যিক স্যাম্পল আমদানির বার্ষিক সীমা ২০ হাজার ডলারে উন্নীত করা এবং রপ্তানি পণ্যের ‘ট্রেসিবিলিটি’ নিশ্চিতে শুল্কায়ন জটিলতা দূরীকরণের বিষয়গুলো আলোচনা হয়।
বৈঠকে এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন নিয়েও আলোচনা হয়। বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন তিন বছর পেছানোর আবেদন জানিয়েছে বাংলাদেশ। ইতোমধ্যে জাতিসংঘের সিডিপি ও ইকোসক-এ এই প্রক্রিয়ার দুটি ধাপ অতিক্রম করেছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে এটি উত্থাপিত হলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্মতি পাওয়ার আশা করছে সরকার।
এ ছাড়া ইইউ রাষ্ট্রদূত জানান, এ সপ্তাহের শেষ দিকে ইইউর সঙ্গে বাংলাদেশের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। সূত্র: বিডিনিউজ।

সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বাংলাদেশ বিমানের জন্য উড়োজাহাজ কেনার বিষয়টি বাণিজ্যিক যোগ্যতার ভিত্তিতে হওয়া উচিত এবং ইউরোপীয় কোম্পানি এয়ারবাসকে যেন ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ বা সমান সুযোগ দেওয়া হয়—এমন মন্তব্য করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতের নেতৃত্বে ইইউভুক্ত ২৭টি দেশের রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধিরা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে এক বৈঠকে অংশ নেন।
এরপর সংবাদ ব্রিফিংয়ে মাইকেল মিলার বলেন, ‘আমাদের দৃষ্টিতে এয়ারবাসের একটি অবিশ্বাস্য প্রতিযোগিতামূলক অফার রয়েছে। এটিকে খুব গুরুত্ব সহকারে নেওয়া উচিত।’
মিলার আরও বলেন, ‘আমরা সব ক্ষেত্রে একটি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির অনুরোধ করছি। আপনি যদি কোনো সরকারি ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নেন, তা যেন বাণিজ্যিক যোগ্যতার ভিত্তিতে নেওয়া হয় এবং আমাদের কোম্পানিগুলো যেন যে কোনো দেশের কোম্পানির সঙ্গে তাদের সাধ্যমতো সর্বোত্তম প্রতিযোগিতা করতে পারে।’
এর আগে গত ৩০ এপ্রিল মার্কিন কোম্পানি বোয়িংয়ের সঙ্গে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। এই চুক্তির মূল্য ৩.৭ বিলিয়ন ডলার বা ৪৫ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা (১ ডলার ১২২ টাকা ৭৩ পয়সা ধরে)। ২০৩১ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে বিমানকে এসব এয়ারক্রাফট সরবরাহ করবে বোয়িং।
এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ১০টি এয়ারবাস কেনার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে জুলাই অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতন এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কের চাপের মধ্যে শেষ পর্যন্ত বিমানের ক্রয়াদেশ যায় বোয়িংয়ের কাছে।
এ বিষয়ে সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত সার্জিও গোর এক্স পোস্টে বলেন, ‘চলতি সপ্তাহেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে আরেকটি অসাধারণ চুক্তি হয়েছে। এর আওতায় বাংলাদেশ বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয় করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।’
পরে ট্রাম্প নিজেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে চিঠি দিয়ে ধন্যবাদ জানান এবং অদূর ভবিষ্যতে সাক্ষাতের আশা প্রকাশ করেন।
বোয়িংয়ের এই জয়ের পর ইউরোপীয়দের কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে। রোববারের বৈঠকে ইইউ রাষ্ট্রদূত শুধু বিমান কেনার বিষয়ই নয়, বরং বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক, অশুল্ক বাধা দূরীকরণ এবং ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোর জন্য ব্যবসার পরিবেশ নিয়েও আলোচনা করেছেন।
এর আগে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বৈঠকে মাইকেল মিলার অশুল্ক বাধা দূর করার পাশাপাশি বাংলাদেশে রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণের ওপর জোর দিয়েছিলেন। ইইউ তখন ৬১টি অশুল্ক বাধার কথা বলেছিল, যার মধ্যে ৪৮টি দূর করেছে সরকার বলে দাবি করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
বৈঠকে অশুল্ক বাধা দূরের মধ্যে শতভাগ বিদেশি মালিকানাধীন লজিস্টিক কোম্পানির লাইসেন্স নবায়ন জটিলতা নিরসন, বাণিজ্যিক স্যাম্পল আমদানির বার্ষিক সীমা ২০ হাজার ডলারে উন্নীত করা এবং রপ্তানি পণ্যের ‘ট্রেসিবিলিটি’ নিশ্চিতে শুল্কায়ন জটিলতা দূরীকরণের বিষয়গুলো আলোচনা হয়।
বৈঠকে এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন নিয়েও আলোচনা হয়। বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন তিন বছর পেছানোর আবেদন জানিয়েছে বাংলাদেশ। ইতোমধ্যে জাতিসংঘের সিডিপি ও ইকোসক-এ এই প্রক্রিয়ার দুটি ধাপ অতিক্রম করেছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে এটি উত্থাপিত হলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্মতি পাওয়ার আশা করছে সরকার।
এ ছাড়া ইইউ রাষ্ট্রদূত জানান, এ সপ্তাহের শেষ দিকে ইইউর সঙ্গে বাংলাদেশের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। সূত্র: বিডিনিউজ।

আপনার মতামত লিখুন