বর্তমান সরকারের অন্যতম মেগা উদ্যোগ ‘কৃষক কার্ড’ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হতে যাচ্ছে আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর। ফেনীর ফুলগাজী উপজেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক শুভসূচনা করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, উদ্বোধনের দিন দেশের একসঙ্গে ৫০টি জেলায় একযোগে এই কর্মসূচি পালিত হবে এবং সারাদেশের এক লাখ কৃষকের মাঝে সরকারি প্রণোদনার অর্থ পৌঁছে দেওয়া হবে। এর আগে গত ১৪ এপ্রিল বাংলা নববর্ষের দিনে পরীক্ষামূলক বা প্রি-পাইলটিং পর্যায়ে এই কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছিল।
কৃষকদের ডিজিটাল পরিচয়পত্র এবং বহুমুখী কৃষিসেবা পাওয়ার একটি সমন্বিত মাধ্যম হিসেবে এই কার্ড তৈরি করা হয়েছে। প্রি-পাইলটিং পর্বে প্রাথমিকভাবে দেশের ১০ জেলার ১১টি ব্লকে কার্ড বিতরণ করা হয়েছিল। নতুন এই কার্যক্রমে শুধু ফসল উৎপাদনকারী কৃষক নন, বরং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদসহ কৃষি উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন শ্রেণির মানুষকে এর আওতায় আনা হচ্ছে।
এর সুফল ভোগ করবেন ফসল উৎপাদক, বর্গাচাষি, ইজারা চাষি, মৎস্যচাষি ও প্রাণিসম্পদ খামারিরা। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা সার, বীজ ও কীটনাশকসহ কৃষি উপকরণে সরকারি ভর্তুকি, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, সেচ সুবিধা, আধুনিক কৃষিযন্ত্র, কৃষিবিমা, বিশেষ প্রশিক্ষণ এবং আবহাওয়া ও বাজারসংক্রান্ত জরুরি তথ্য পাবেন।
কৃষক কার্ডের কার্যকারিতা আরও গতিশীল করতে যুক্ত করা হচ্ছে আধুনিক কিউআর কোড। কার্ডধারী কৃষকদের সহজেই শনাক্ত করা এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্তির প্রক্রিয়া আরও সহজ করতে এই কিউআর কোড যুক্ত করা হচ্ছে, যা স্ক্যান করলেই কৃষকের সব তথ্য চলে আসবে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ পর্যন্ত নিবন্ধনের আওতায় এসেছেন ১৬ লাখ ৩০ হাজার কৃষক।
এর মধ্যে এক লাখ কৃষকের ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে এবং উদ্বোধনের দিনই তাদের অ্যাকাউন্টে প্রণোদনার টাকা চলে যাবে। পাশাপাশি ব্যাংক হিসাব খোলার জন্য আরও পাঁচ লাখ কৃষকের তথ্য যাচাই-বাছাই করে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কার্ডের আওতায় ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকেরা আড়াই হাজার টাকা নগদ প্রণোদনাসহ নানা সহায়তা পেয়ে থাকেন।
বিশ্বব্যাংক, ইফাদ ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে পরিচালিত ‘পার্টনার’ প্রকল্পের আওতায় এই কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, নিবন্ধিত কৃষকদের বড় অংশই ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক পর্যায়ে রয়েছেন। চলতি অর্থবছরে মোট ৪৩ লাখ কৃষককে এই কার্ডের আওতায় নিয়ে আসার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। পর্যায়ক্রমে দেশের প্রায় দুই কোটি ২৭ লাখ কৃষকের সবাইকেই এই ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে।

সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বর্তমান সরকারের অন্যতম মেগা উদ্যোগ ‘কৃষক কার্ড’ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হতে যাচ্ছে আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর। ফেনীর ফুলগাজী উপজেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক শুভসূচনা করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, উদ্বোধনের দিন দেশের একসঙ্গে ৫০টি জেলায় একযোগে এই কর্মসূচি পালিত হবে এবং সারাদেশের এক লাখ কৃষকের মাঝে সরকারি প্রণোদনার অর্থ পৌঁছে দেওয়া হবে। এর আগে গত ১৪ এপ্রিল বাংলা নববর্ষের দিনে পরীক্ষামূলক বা প্রি-পাইলটিং পর্যায়ে এই কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছিল।
কৃষকদের ডিজিটাল পরিচয়পত্র এবং বহুমুখী কৃষিসেবা পাওয়ার একটি সমন্বিত মাধ্যম হিসেবে এই কার্ড তৈরি করা হয়েছে। প্রি-পাইলটিং পর্বে প্রাথমিকভাবে দেশের ১০ জেলার ১১টি ব্লকে কার্ড বিতরণ করা হয়েছিল। নতুন এই কার্যক্রমে শুধু ফসল উৎপাদনকারী কৃষক নন, বরং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদসহ কৃষি উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন শ্রেণির মানুষকে এর আওতায় আনা হচ্ছে।
এর সুফল ভোগ করবেন ফসল উৎপাদক, বর্গাচাষি, ইজারা চাষি, মৎস্যচাষি ও প্রাণিসম্পদ খামারিরা। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা সার, বীজ ও কীটনাশকসহ কৃষি উপকরণে সরকারি ভর্তুকি, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, সেচ সুবিধা, আধুনিক কৃষিযন্ত্র, কৃষিবিমা, বিশেষ প্রশিক্ষণ এবং আবহাওয়া ও বাজারসংক্রান্ত জরুরি তথ্য পাবেন।
কৃষক কার্ডের কার্যকারিতা আরও গতিশীল করতে যুক্ত করা হচ্ছে আধুনিক কিউআর কোড। কার্ডধারী কৃষকদের সহজেই শনাক্ত করা এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্তির প্রক্রিয়া আরও সহজ করতে এই কিউআর কোড যুক্ত করা হচ্ছে, যা স্ক্যান করলেই কৃষকের সব তথ্য চলে আসবে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ পর্যন্ত নিবন্ধনের আওতায় এসেছেন ১৬ লাখ ৩০ হাজার কৃষক।
এর মধ্যে এক লাখ কৃষকের ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে এবং উদ্বোধনের দিনই তাদের অ্যাকাউন্টে প্রণোদনার টাকা চলে যাবে। পাশাপাশি ব্যাংক হিসাব খোলার জন্য আরও পাঁচ লাখ কৃষকের তথ্য যাচাই-বাছাই করে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কার্ডের আওতায় ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকেরা আড়াই হাজার টাকা নগদ প্রণোদনাসহ নানা সহায়তা পেয়ে থাকেন।
বিশ্বব্যাংক, ইফাদ ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে পরিচালিত ‘পার্টনার’ প্রকল্পের আওতায় এই কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, নিবন্ধিত কৃষকদের বড় অংশই ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক পর্যায়ে রয়েছেন। চলতি অর্থবছরে মোট ৪৩ লাখ কৃষককে এই কার্ডের আওতায় নিয়ে আসার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। পর্যায়ক্রমে দেশের প্রায় দুই কোটি ২৭ লাখ কৃষকের সবাইকেই এই ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে।

আপনার মতামত লিখুন