সংবাদ

কটিয়াদীতে জরাজীর্ণ ভবনেই ঝুঁকি নিয়ে চলছে ক্লাস


প্রতিনিধি, কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ)
প্রতিনিধি, কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ)
প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৪৩ পিএম

কটিয়াদীতে জরাজীর্ণ ভবনেই ঝুঁকি নিয়ে চলছে ক্লাস
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর ৩৭ বছর পেরোলেও নতুন ভবন পায়নি কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীর আদমপুর বেগম আম্বর আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ছবি : সংবাদ

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার মসূয়া ইউনিয়নের ৮২ নম্বর আদমপুর বেগম আম্বর আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চরম ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের মধ্যেই চলছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান। ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘ ৩৭ বছর পেরিয়ে গেলেও বিদ্যালয়টিতে আজও নির্মিত হয়নি কোনো নতুন ভবন। ফলে বাধ্য হয়েই জরাজীর্ণ এই ভবনে পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষকেরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফুটে উঠেছে জরাজীর্ণতার চরম চিত্র। অনেক জায়গায় ছাদ ও পিলারের প্লাস্টার খসে পড়ছে। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন শিক্ষক ও অভিভাবকেরা। শুধু ভবনের এমন অবস্থা নয়, একটু বৃষ্টি হলেই শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছে। টিনের চাল ও জানালা দিয়ে হুহু করে শ্রেণি কক্ষে পানি ঢোকে। এতে ব্যাহত হয় পাঠদান, আর শিক্ষার্থীদের নিয়ে চরম উদ্বেগে পড়েন শিক্ষকেরা।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছা. মাহমুদা খাতুন বলেন, 'বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিনের পুরোনো হওয়ায় বিভিন্ন অংশ নষ্ট হয়ে গেছে। বৃষ্টির পানি ক্লাসরুমে ঢোকায় পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সুরক্ষার কথা ভেবে দ্রুত একটি নতুন ভবন নির্মাণ প্রয়োজন।'

শুধু ভবন সমস্যাই নয়, বিদ্যালয়ের মাঠে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা আরেকটি বড় সংকট। বৃষ্টি হলেই মাঠে পানি জমে থাকায় শিক্ষার্থীদের প্রাত্যহিক সমাবেশ ও খেলাধুলা বন্ধ হয়ে যায়। লম্বা সময় পানি জমে থাকায় খেলার মাঠটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।

অভিভাবক শামীম মিয়া উদ্বেগের কথা জানিয়ে বলেন, 'শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে আমরা সব সময় দুশ্চিন্তায় থাকি। ভবনের অবস্থা যেমন নাজুক, তেমনি বৃষ্টি হলে শ্রেণিকক্ষেও পানি ঢোকে। এর ওপর বিদ্যালয়টির পাশেই রয়েছে একটি সীমানাপ্রাচীরহীন খাল। দ্রুত এসব সমস্যার সমাধান প্রয়োজন।'

স্থানীয় ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম ভূঁঞা সবুজও জানান, খালের কারণে শিশুদের নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে স্থানীয়রাও ভয়ে থাকেন। খালের পাশে সীমানাপ্রাচীর হলে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দেওয়া সহজ হতো।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম তালুকদার জানান, বিদ্যালয়ের ভবনের বর্তমান অবস্থা, মাঠের জলাবদ্ধতা এবং খালের পাশের নিরাপত্তার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। বিষয়গুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও শিক্ষার উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে নতুন ভবন নির্মাণ, জরাজীর্ণ ভবনের সংস্কার, মাঠের পানি নিষ্কাশন এবং খালের পাশে প্রাচীর নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


কটিয়াদীতে জরাজীর্ণ ভবনেই ঝুঁকি নিয়ে চলছে ক্লাস

প্রকাশের তারিখ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার মসূয়া ইউনিয়নের ৮২ নম্বর আদমপুর বেগম আম্বর আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চরম ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের মধ্যেই চলছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান। ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘ ৩৭ বছর পেরিয়ে গেলেও বিদ্যালয়টিতে আজও নির্মিত হয়নি কোনো নতুন ভবন। ফলে বাধ্য হয়েই জরাজীর্ণ এই ভবনে পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষকেরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফুটে উঠেছে জরাজীর্ণতার চরম চিত্র। অনেক জায়গায় ছাদ ও পিলারের প্লাস্টার খসে পড়ছে। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন শিক্ষক ও অভিভাবকেরা। শুধু ভবনের এমন অবস্থা নয়, একটু বৃষ্টি হলেই শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছে। টিনের চাল ও জানালা দিয়ে হুহু করে শ্রেণি কক্ষে পানি ঢোকে। এতে ব্যাহত হয় পাঠদান, আর শিক্ষার্থীদের নিয়ে চরম উদ্বেগে পড়েন শিক্ষকেরা।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছা. মাহমুদা খাতুন বলেন, 'বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিনের পুরোনো হওয়ায় বিভিন্ন অংশ নষ্ট হয়ে গেছে। বৃষ্টির পানি ক্লাসরুমে ঢোকায় পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সুরক্ষার কথা ভেবে দ্রুত একটি নতুন ভবন নির্মাণ প্রয়োজন।'

শুধু ভবন সমস্যাই নয়, বিদ্যালয়ের মাঠে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা আরেকটি বড় সংকট। বৃষ্টি হলেই মাঠে পানি জমে থাকায় শিক্ষার্থীদের প্রাত্যহিক সমাবেশ ও খেলাধুলা বন্ধ হয়ে যায়। লম্বা সময় পানি জমে থাকায় খেলার মাঠটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।

অভিভাবক শামীম মিয়া উদ্বেগের কথা জানিয়ে বলেন, 'শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে আমরা সব সময় দুশ্চিন্তায় থাকি। ভবনের অবস্থা যেমন নাজুক, তেমনি বৃষ্টি হলে শ্রেণিকক্ষেও পানি ঢোকে। এর ওপর বিদ্যালয়টির পাশেই রয়েছে একটি সীমানাপ্রাচীরহীন খাল। দ্রুত এসব সমস্যার সমাধান প্রয়োজন।'

স্থানীয় ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম ভূঁঞা সবুজও জানান, খালের কারণে শিশুদের নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে স্থানীয়রাও ভয়ে থাকেন। খালের পাশে সীমানাপ্রাচীর হলে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দেওয়া সহজ হতো।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম তালুকদার জানান, বিদ্যালয়ের ভবনের বর্তমান অবস্থা, মাঠের জলাবদ্ধতা এবং খালের পাশের নিরাপত্তার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। বিষয়গুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও শিক্ষার উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে নতুন ভবন নির্মাণ, জরাজীর্ণ ভবনের সংস্কার, মাঠের পানি নিষ্কাশন এবং খালের পাশে প্রাচীর নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত