কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার রকেট গতির উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গেই বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি দুনিয়ায় এআই নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ চরমে পৌঁছেছে। সম্প্রতি গুগলের শীর্ষস্থানীয় এআই গবেষণা প্রতিষ্ঠান ডিপমাইন্ডের দুই গবেষকের নাটকীয় পদত্যাগ এই আশঙ্কাকে আরও তীব্র করে তুলেছে।
এজিআই সেফটি ও অ্যালাইনমেন্ট নিয়ে কাজ করা গবেষক বিলাল চুঘতাই পদত্যাগ করে প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছেন যে, এআইয়ের বর্তমান অগ্রগতির ধারা তাকে এতটাই আতঙ্কিত করেছে যে, তার মতে এই প্রযুক্তি মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
গুগল ডিপমাইন্ডের এই গবেষক ১৪ সেপ্টেম্বর নিজের বক্তব্যে স্পষ্ট জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে তিনি গভীর সংশয়ে আছেন। তার মতে, কয়েক বছরের মধ্যে এআই এমন অবিশ্বাস্য সক্ষমতা অর্জন করেছে যা আগে কল্পনাই করা যেত না।
অন্যদিকে, একই প্রতিষ্ঠানের আরেক গবেষক জোস অ্যাঞ্জেলসও ১৩ সেপ্টেম্বর নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতির কথা উল্লেখ করে ডিপমাইন্ড ছাড়ার ঘোষণা দেন। এমনকি অন্য প্রতিষ্ঠানের লোভনীয় প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে তিনি এআই সেফটি নিয়ে কাজ করা অন্য একটি প্রতিষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন। ভেতরের সারির গবেষকদের এমন ধারাবাহিক পদত্যাগ প্রমাণ করে যে, প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঝুঁকি এখন আর কেবল তাত্ত্বিক আলোচনায় সীমাবদ্ধ নেই।
এই ক্রমবর্ধমান আশঙ্কার মধ্যেই অ্যানথ্রোপিকের প্রধান নির্বাহী ডারিও আমোডি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উন্নয়নের গতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনার বা ভারসাম্য বজায় রাখার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন।
তার প্রস্তাব অনুযায়ী, এআই মডেলের সক্ষমতা বৃদ্ধির গতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে স্বাধীন নিরাপত্তা মূল্যায়ন এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড নিশ্চিত করতে হবে। অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণভাবে, তার এই দাবির সঙ্গে প্রকাশ্যে একমত পোষণ করেছেন ওপেনএআই-এর প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান এবং প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার তীব্র প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা এবং বাণিজ্যিক স্বার্থের যাঁতাকলে পিষ্ট এই সময়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রযুক্তির দ্রুত উন্নয়ন; উভয়ের মাঝে ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন মানবজাতির সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার রকেট গতির উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গেই বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি দুনিয়ায় এআই নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ চরমে পৌঁছেছে। সম্প্রতি গুগলের শীর্ষস্থানীয় এআই গবেষণা প্রতিষ্ঠান ডিপমাইন্ডের দুই গবেষকের নাটকীয় পদত্যাগ এই আশঙ্কাকে আরও তীব্র করে তুলেছে।
এজিআই সেফটি ও অ্যালাইনমেন্ট নিয়ে কাজ করা গবেষক বিলাল চুঘতাই পদত্যাগ করে প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছেন যে, এআইয়ের বর্তমান অগ্রগতির ধারা তাকে এতটাই আতঙ্কিত করেছে যে, তার মতে এই প্রযুক্তি মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
গুগল ডিপমাইন্ডের এই গবেষক ১৪ সেপ্টেম্বর নিজের বক্তব্যে স্পষ্ট জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে তিনি গভীর সংশয়ে আছেন। তার মতে, কয়েক বছরের মধ্যে এআই এমন অবিশ্বাস্য সক্ষমতা অর্জন করেছে যা আগে কল্পনাই করা যেত না।
অন্যদিকে, একই প্রতিষ্ঠানের আরেক গবেষক জোস অ্যাঞ্জেলসও ১৩ সেপ্টেম্বর নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতির কথা উল্লেখ করে ডিপমাইন্ড ছাড়ার ঘোষণা দেন। এমনকি অন্য প্রতিষ্ঠানের লোভনীয় প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে তিনি এআই সেফটি নিয়ে কাজ করা অন্য একটি প্রতিষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন। ভেতরের সারির গবেষকদের এমন ধারাবাহিক পদত্যাগ প্রমাণ করে যে, প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঝুঁকি এখন আর কেবল তাত্ত্বিক আলোচনায় সীমাবদ্ধ নেই।
এই ক্রমবর্ধমান আশঙ্কার মধ্যেই অ্যানথ্রোপিকের প্রধান নির্বাহী ডারিও আমোডি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উন্নয়নের গতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনার বা ভারসাম্য বজায় রাখার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন।
তার প্রস্তাব অনুযায়ী, এআই মডেলের সক্ষমতা বৃদ্ধির গতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে স্বাধীন নিরাপত্তা মূল্যায়ন এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড নিশ্চিত করতে হবে। অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণভাবে, তার এই দাবির সঙ্গে প্রকাশ্যে একমত পোষণ করেছেন ওপেনএআই-এর প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান এবং প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার তীব্র প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা এবং বাণিজ্যিক স্বার্থের যাঁতাকলে পিষ্ট এই সময়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রযুক্তির দ্রুত উন্নয়ন; উভয়ের মাঝে ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন মানবজাতির সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন