অপরিচিত রাস্তায় যাওয়ার আগে গুগল ম্যাপসে গন্তব্য ঠিক করলেই সামনে ভেসে ওঠে সম্ভাব্য যাত্রাপথ ও সময়। মানচিত্রে আবার রাস্তার অবস্থাও বোঝানো হয় বিভিন্ন রঙে। সবুজ রাস্তা তুলনামূলক স্বাভাবিক, হলুদে কিছুটা ধীরগতি আর লাল রঙে সাধারণত বেশি যানজট বা ধীরগতির ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
কিন্তু প্রশ্ন হলো, কোনো সড়কের
প্রতিটি গাড়ি না দেখেই এই তথ্য কীভাবে তৈরি করে গুগল? এর পেছনে রয়েছে স্মার্টফোনের
অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য, আগের ট্র্যাফিকের ধরন, ব্যবহারকারীদের দেওয়া বিভিন্ন রিপোর্ট
এবং এসব তথ্য বিশ্লেষণের জন্য ব্যবহৃত প্রযুক্তি।
মোবাইল থেকেই পাওয়া যায় ট্র্যাফিকের ইঙ্গিত
গুগল ম্যাপসের ট্র্যাফিক ব্যবস্থা
অনেকটাই নির্ভর করে বিভিন্ন ডিভাইসের চলাচলের তথ্যের ওপর। একই সড়কের একটি অংশে একাধিক
ডিভাইস স্বাভাবিকের তুলনায় ধীরগতিতে চলতে থাকলে সিস্টেম বুঝতে পারে, ওই এলাকায় যান
চলাচলে বাধা তৈরি হয়েছে।
ধরা যাক, কোনো সড়কে সাধারণ সময়ে
যানবাহন দ্রুত এগোয়। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ে ওই এলাকার অনেক ডিভাইসের অবস্থান খুব ধীরে
পরিবর্তিত হচ্ছে। তখন সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করে গুগল ওই অংশে যানবাহনের গতি কমে যাওয়ার
বিষয়টি শনাক্ত করতে পারে।
এ ক্ষেত্রে প্রতিটি গাড়িকে ক্যামেরায়
পর্যবেক্ষণ করার প্রয়োজন হয় না। বরং অনেক ডিভাইস থেকে পাওয়া সম্মিলিত গতির তথ্য ব্যবহার
করে একটি নির্দিষ্ট সড়কের সামগ্রিক পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা তৈরি করা হয়।
আগের দিনের তথ্যও গুরুত্বপূর্ণ
ট্র্যাফিক পরিস্থিতি বোঝার ক্ষেত্রে
শুধু বর্তমান মুহূর্তের তথ্য যথেষ্ট নয়। একটি রাস্তা সপ্তাহের কোন দিনে বা দিনের কোন
সময়ে সাধারণত কতটা ব্যস্ত থাকে, সেই অতীতের প্রবণতাও হিসাব করা হয়।
উদাহরণস্বরূপ, কর্মদিবসের সকালে
কোনো সড়কে নিয়মিত যানবাহনের চাপ বাড়তে পারে। একইভাবে অফিস ছুটির সময় অন্য কোনো পথে
যানজটের প্রবণতা দেখা দিতে পারে। অতীতের এসব তথ্য বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে মিলিয়ে
সম্ভাব্য যাত্রার সময় অনুমান করা হয়।
এই কারণেই কোনো রাস্তায় পৌঁছানোর
আগেই গুগল ম্যাপস অনেক সময় জানাতে পারে, নির্দিষ্ট সময়ে সেখানে যাতায়াতে কতটা সময় লাগতে
পারে।
হঠাৎ যানজটের খবর আসে ব্যবহারকারীদের কাছ থেকেও
সব যানজট আগে থেকে অনুমান করা
সম্ভব নয়। দুর্ঘটনা, রাস্তা বন্ধ, নির্মাণকাজ বা অন্য কোনো আকস্মিক ঘটনার কারণে মুহূর্তের
মধ্যে যান চলাচল ব্যাহত হতে পারে।
এ ধরনের ঘটনা শনাক্ত করতে ব্যবহারকারীদের
দেওয়া রিপোর্টও কাজে লাগে। পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ট্র্যাফিক তথ্য সিস্টেমের
বিশ্লেষণে যুক্ত হতে পারে। ফলে হঠাৎ পরিবর্তন হওয়া রাস্তার পরিস্থিতি সম্পর্কেও ব্যবহারকারীদের
সতর্ক করার সুযোগ তৈরি হয়।
তবে কোনো এলাকায় পর্যাপ্ত তথ্য
না থাকলে গুগল ম্যাপসের ট্র্যাফিক পূর্বাভাস তুলনামূলকভাবে কম নির্ভুল হতে পারে।
রাস্তা লাল হওয়ার অর্থ কী?
গুগল ম্যাপসে লাল রঙের রাস্তা
দেখালেই সেখানে শতভাগ নিশ্চিতভাবে যানজট রয়েছে—এমন নয়। রাস্তার রং মূলত বিভিন্ন তথ্য
বিশ্লেষণের মাধ্যমে তৈরি করা একটি ট্র্যাফিক নির্দেশক।
বাস্তব পরিস্থিতি দ্রুত বদলে
যেতে পারে। হঠাৎ কোনো দুর্ঘটনা, রাস্তা খোলা বা বন্ধ হওয়া কিংবা যানবাহনের চাপ পরিবর্তনের
কারণে ম্যাপে দেখানো পরিস্থিতির সঙ্গে বাস্তব অবস্থার কিছুটা পার্থক্য হতে পারে।
তাই মানচিত্রের রঙকে সরাসরি ক্যামেরায়
ধারণ করা লাইভ দৃশ্য হিসেবে দেখা ঠিক নয়। এটি বিভিন্ন ডাটার ভিত্তিতে তৈরি একটি অনুমানভিত্তিক
চিত্র।
গন্তব্য ঠিক করলেই এত দ্রুত হিসাব কীভাবে?
আপনি গন্তব্য নির্ধারণ করার পর
গুগল ম্যাপস সম্ভাব্য একাধিক পথ বিবেচনা করে। প্রতিটি পথে যান চলাচলের বর্তমান অবস্থা,
আগের ট্র্যাফিকের ধরণ এবং সম্ভাব্য যাত্রার সময়ের মতো বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়।
এরপর এসব হিসাবের ভিত্তিতে কোন
পথে গেলে তুলনামূলক কম সময় লাগতে পারে, তা দেখানো হয়। পথে পরিস্থিতি পরিবর্তিত হলে
পরবর্তী সময়ে সেই অনুযায়ী সময় বা রুটের পরামর্শও বদলে যেতে পারে।
অর্থাৎ গুগল ম্যাপসের সবুজ, হলুদ
কিংবা লাল রাস্তার পেছনে কোনো একক ক্যামেরার ছবি কাজ করে না। বরং অসংখ্য ডিভাইস থেকে
পাওয়া অবস্থানসংক্রান্ত সংকেত, অতীতের ট্র্যাফিকের তথ্য, ব্যবহারকারীদের রিপোর্ট এবং
ডাটা বিশ্লেষণের প্রযুক্তি একসঙ্গে কাজ করে।
এই সমন্বিত ব্যবস্থার কারণেই
গুগল ম্যাপস কয়েক মুহূর্তের মধ্যে একটি রাস্তার সম্ভাব্য ট্র্যাফিক পরিস্থিতি সম্পর্কে
ধারণা দিতে পারে এবং ব্যবহারকারীকে তুলনামূলক সুবিধাজনক পথ বেছে নিতে সাহায্য করে।

রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অপরিচিত রাস্তায় যাওয়ার আগে গুগল ম্যাপসে গন্তব্য ঠিক করলেই সামনে ভেসে ওঠে সম্ভাব্য যাত্রাপথ ও সময়। মানচিত্রে আবার রাস্তার অবস্থাও বোঝানো হয় বিভিন্ন রঙে। সবুজ রাস্তা তুলনামূলক স্বাভাবিক, হলুদে কিছুটা ধীরগতি আর লাল রঙে সাধারণত বেশি যানজট বা ধীরগতির ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
কিন্তু প্রশ্ন হলো, কোনো সড়কের
প্রতিটি গাড়ি না দেখেই এই তথ্য কীভাবে তৈরি করে গুগল? এর পেছনে রয়েছে স্মার্টফোনের
অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য, আগের ট্র্যাফিকের ধরন, ব্যবহারকারীদের দেওয়া বিভিন্ন রিপোর্ট
এবং এসব তথ্য বিশ্লেষণের জন্য ব্যবহৃত প্রযুক্তি।
মোবাইল থেকেই পাওয়া যায় ট্র্যাফিকের ইঙ্গিত
গুগল ম্যাপসের ট্র্যাফিক ব্যবস্থা
অনেকটাই নির্ভর করে বিভিন্ন ডিভাইসের চলাচলের তথ্যের ওপর। একই সড়কের একটি অংশে একাধিক
ডিভাইস স্বাভাবিকের তুলনায় ধীরগতিতে চলতে থাকলে সিস্টেম বুঝতে পারে, ওই এলাকায় যান
চলাচলে বাধা তৈরি হয়েছে।
ধরা যাক, কোনো সড়কে সাধারণ সময়ে
যানবাহন দ্রুত এগোয়। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ে ওই এলাকার অনেক ডিভাইসের অবস্থান খুব ধীরে
পরিবর্তিত হচ্ছে। তখন সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করে গুগল ওই অংশে যানবাহনের গতি কমে যাওয়ার
বিষয়টি শনাক্ত করতে পারে।
এ ক্ষেত্রে প্রতিটি গাড়িকে ক্যামেরায়
পর্যবেক্ষণ করার প্রয়োজন হয় না। বরং অনেক ডিভাইস থেকে পাওয়া সম্মিলিত গতির তথ্য ব্যবহার
করে একটি নির্দিষ্ট সড়কের সামগ্রিক পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা তৈরি করা হয়।
আগের দিনের তথ্যও গুরুত্বপূর্ণ
ট্র্যাফিক পরিস্থিতি বোঝার ক্ষেত্রে
শুধু বর্তমান মুহূর্তের তথ্য যথেষ্ট নয়। একটি রাস্তা সপ্তাহের কোন দিনে বা দিনের কোন
সময়ে সাধারণত কতটা ব্যস্ত থাকে, সেই অতীতের প্রবণতাও হিসাব করা হয়।
উদাহরণস্বরূপ, কর্মদিবসের সকালে
কোনো সড়কে নিয়মিত যানবাহনের চাপ বাড়তে পারে। একইভাবে অফিস ছুটির সময় অন্য কোনো পথে
যানজটের প্রবণতা দেখা দিতে পারে। অতীতের এসব তথ্য বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে মিলিয়ে
সম্ভাব্য যাত্রার সময় অনুমান করা হয়।
এই কারণেই কোনো রাস্তায় পৌঁছানোর
আগেই গুগল ম্যাপস অনেক সময় জানাতে পারে, নির্দিষ্ট সময়ে সেখানে যাতায়াতে কতটা সময় লাগতে
পারে।
হঠাৎ যানজটের খবর আসে ব্যবহারকারীদের কাছ থেকেও
সব যানজট আগে থেকে অনুমান করা
সম্ভব নয়। দুর্ঘটনা, রাস্তা বন্ধ, নির্মাণকাজ বা অন্য কোনো আকস্মিক ঘটনার কারণে মুহূর্তের
মধ্যে যান চলাচল ব্যাহত হতে পারে।
এ ধরনের ঘটনা শনাক্ত করতে ব্যবহারকারীদের
দেওয়া রিপোর্টও কাজে লাগে। পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ট্র্যাফিক তথ্য সিস্টেমের
বিশ্লেষণে যুক্ত হতে পারে। ফলে হঠাৎ পরিবর্তন হওয়া রাস্তার পরিস্থিতি সম্পর্কেও ব্যবহারকারীদের
সতর্ক করার সুযোগ তৈরি হয়।
তবে কোনো এলাকায় পর্যাপ্ত তথ্য
না থাকলে গুগল ম্যাপসের ট্র্যাফিক পূর্বাভাস তুলনামূলকভাবে কম নির্ভুল হতে পারে।
রাস্তা লাল হওয়ার অর্থ কী?
গুগল ম্যাপসে লাল রঙের রাস্তা
দেখালেই সেখানে শতভাগ নিশ্চিতভাবে যানজট রয়েছে—এমন নয়। রাস্তার রং মূলত বিভিন্ন তথ্য
বিশ্লেষণের মাধ্যমে তৈরি করা একটি ট্র্যাফিক নির্দেশক।
বাস্তব পরিস্থিতি দ্রুত বদলে
যেতে পারে। হঠাৎ কোনো দুর্ঘটনা, রাস্তা খোলা বা বন্ধ হওয়া কিংবা যানবাহনের চাপ পরিবর্তনের
কারণে ম্যাপে দেখানো পরিস্থিতির সঙ্গে বাস্তব অবস্থার কিছুটা পার্থক্য হতে পারে।
তাই মানচিত্রের রঙকে সরাসরি ক্যামেরায়
ধারণ করা লাইভ দৃশ্য হিসেবে দেখা ঠিক নয়। এটি বিভিন্ন ডাটার ভিত্তিতে তৈরি একটি অনুমানভিত্তিক
চিত্র।
গন্তব্য ঠিক করলেই এত দ্রুত হিসাব কীভাবে?
আপনি গন্তব্য নির্ধারণ করার পর
গুগল ম্যাপস সম্ভাব্য একাধিক পথ বিবেচনা করে। প্রতিটি পথে যান চলাচলের বর্তমান অবস্থা,
আগের ট্র্যাফিকের ধরণ এবং সম্ভাব্য যাত্রার সময়ের মতো বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়।
এরপর এসব হিসাবের ভিত্তিতে কোন
পথে গেলে তুলনামূলক কম সময় লাগতে পারে, তা দেখানো হয়। পথে পরিস্থিতি পরিবর্তিত হলে
পরবর্তী সময়ে সেই অনুযায়ী সময় বা রুটের পরামর্শও বদলে যেতে পারে।
অর্থাৎ গুগল ম্যাপসের সবুজ, হলুদ
কিংবা লাল রাস্তার পেছনে কোনো একক ক্যামেরার ছবি কাজ করে না। বরং অসংখ্য ডিভাইস থেকে
পাওয়া অবস্থানসংক্রান্ত সংকেত, অতীতের ট্র্যাফিকের তথ্য, ব্যবহারকারীদের রিপোর্ট এবং
ডাটা বিশ্লেষণের প্রযুক্তি একসঙ্গে কাজ করে।
এই সমন্বিত ব্যবস্থার কারণেই
গুগল ম্যাপস কয়েক মুহূর্তের মধ্যে একটি রাস্তার সম্ভাব্য ট্র্যাফিক পরিস্থিতি সম্পর্কে
ধারণা দিতে পারে এবং ব্যবহারকারীকে তুলনামূলক সুবিধাজনক পথ বেছে নিতে সাহায্য করে।

আপনার মতামত লিখুন