বন্ধুর সঙ্গে আড্ডায় নতুন একটি ফোন, জুতা কিংবা ঘড়ি নিয়ে আলোচনা করলেন। কিছুক্ষণ পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঢুকেই দেখা গেল, ঠিক সেই পণ্যটির বিজ্ঞাপন। এমন অভিজ্ঞতা অনেকেরই হয়েছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে-স্মার্টফোনের মাইক্রোফোন কি আমাদের ব্যক্তিগত কথাবার্তা শুনে বিজ্ঞাপন দেখাচ্ছে?
শুনতে অবাক লাগলেও এর উত্তর সরাসরি
‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ বলা যায় না। কারণ ব্যবহারকারীর কথা না শুনেও বিজ্ঞাপন প্রযুক্তি তার
পছন্দ ও আগ্রহ সম্পর্কে বেশ নির্ভুল ধারণা তৈরি করতে পারে। এর পেছনে কাজ করে মানুষের
দৈনন্দিন ডিজিটাল কর্মকাণ্ড থেকে পাওয়া অসংখ্য তথ্য।
ইন্টারনেটে কোনো কিছু খোঁজা থেকে
শুরু করে ভিডিও দেখা, নির্দিষ্ট পোস্টে বেশি সময় কাটানো, ওয়েবসাইটে প্রবেশ কিংবা কোনো
পণ্যের পেজে ক্লিক-প্রতিটি কাজই আপনার সম্ভাব্য আগ্রহের একটি সংকেত হতে পারে।
ধরা যাক, আপনি কয়েক দিন ধরে অনলাইনে
বিভিন্ন ব্র্যান্ডের জুতা দেখছেন। একটি ভিডিওতে অন্যগুলোর তুলনায় বেশি সময় কাটিয়েছেন
এবং কয়েকটি ওয়েবসাইটে জুতার দামও যাচাই করেছেন। এসব কর্মকাণ্ডের তথ্য বিজ্ঞাপন ব্যবস্থার
কাছে আপনার আগ্রহের ইঙ্গিত দিতে পারে।
এর সঙ্গে যুক্ত হতে পারে আপনার
ব্যবহৃত ডিভাইস, অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য, অনলাইন কার্যক্রম ও অন্যান্য আচরণগত সংকেত।
ফলে এরপর জুতার বিজ্ঞাপন সামনে এলে মনে হতে পারে, বন্ধুর সঙ্গে জুতা নিয়ে কথা বলার
কারণেই বিজ্ঞাপনটি এসেছে। বাস্তবে এর পেছনে আগে থেকেই জমা হওয়া ডিজিটাল সংকেত কাজ করতে
পারে।
মাইক্রোফোনের অনুমতি থাকলেই কি আড়ি পাতা হয়?
স্মার্টফোনের কোনো অ্যাপকে মাইক্রোফোন
ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া থাকলে অ্যাপটি সেই সুবিধা ব্যবহার করতে পারে। কিন্তু এ অনুমতি
থাকার অর্থ এই নয় যে অ্যাপটি সারাক্ষণ আপনার ব্যক্তিগত কথোপকথন রেকর্ড করছে এবং সেখান
থেকে বিজ্ঞাপন তৈরি করছে।
তবে মাইক্রোফোনের অনুমতি নিয়ে
সতর্ক থাকা জরুরি। বিশেষ করে যে অ্যাপের মূল কাজের সঙ্গে শব্দ ধারণের কোনো সম্পর্ক
নেই, সেই অ্যাপ কেন মাইক্রোফোন ব্যবহারের অনুমতি চাইছে, তা ভেবে দেখা উচিত।
অপ্রয়োজনীয় মাইক্রোফোন অ্যাক্সেস বন্ধ করুন
অ্যান্ড্রয়েড ফোনে Settings
থেকে Privacy বা Security & Privacy
অপশনে গিয়ে Permission
Manager নির্বাচন করলে সাধারণত মাইক্রোফোন ব্যবহারের অনুমতিপ্রাপ্ত
অ্যাপগুলোর তালিকা দেখা যায়। সেখান থেকে প্রয়োজন নেই এমন অ্যাপের অনুমতি বাতিল করা
সম্ভব।
আইফোন ব্যবহারকারীরা Settings > Privacy & Security > Microphone-এ
গিয়ে কোন অ্যাপ মাইক্রোফোন ব্যবহারের অনুমতি পেয়েছে তা দেখতে পারবেন। প্রয়োজন অনুযায়ী
সেখান থেকেই অনুমতি বন্ধ করা যায়।
তবে মাইক্রোফোন বন্ধ করলেই ব্যক্তিগতকৃত
বিজ্ঞাপন পুরোপুরি বন্ধ হবে না। কারণ বিজ্ঞাপন ব্যবস্থায় ব্যবহারকারীর আগ্রহ বোঝার
জন্য মাইক্রোফোন ছাড়াও নানা ধরনের তথ্য ও আচরণগত সংকেত ব্যবহৃত হতে পারে।
শুধু মাইক্রোফোন নয়, নজরে রাখুন অন্য অনুমতিও
ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষায় ফোনে
ইনস্টল করা অ্যাপগুলোর অনুমতিগুলো নিয়মিত পরীক্ষা করা ভালো। কোনো অ্যাপের প্রয়োজন না
থাকলে লোকেশন, কনট্যাক্ট, ক্যামেরা বা মাইক্রোফোনের মতো সংবেদনশীল তথ্য ব্যবহারের অনুমতি
না দেওয়াই নিরাপদ।
নতুন অ্যাপ ইনস্টলের সময়ও সতর্ক
থাকা দরকার। অ্যাপটির কাজের সঙ্গে সম্পর্ক নেই—এমন কোনো অনুমতি কেন চাওয়া হচ্ছে, তা
বুঝে তারপর অনুমতি দেওয়া উচিত।
এ ছাড়া ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামসহ
বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের বিজ্ঞাপন ও ব্যক্তিগতকরণ-সংক্রান্ত সেটিংস পর্যালোচনা করা যেতে
পারে। এতে কোন ধরনের বিজ্ঞাপন ও ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে
ব্যবহারকারী কিছুটা বেশি নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারেন।
তাহলে আসল ঘটনা কী?
কথা বলার পরপরই একই পণ্যের বিজ্ঞাপন
দেখা নিঃসন্দেহে অস্বস্তিকর মনে হতে পারে। কিন্তু শুধু এই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বলা যায়
না যে ফোন আপনার কথোপকথন শুনেছে।
আপনার সার্চ ইতিহাস, ওয়েবসাইট
ভিজিট, ভিডিও দেখার ধরন, বিভিন্ন পোস্টে আগ্রহ, পণ্যের পেজে ক্লিক এবং অন্যান্য ডিজিটাল
আচরণ বিশ্লেষণ করেই বিজ্ঞাপন ব্যবস্থা আপনার সম্ভাব্য পছন্দ অনুমান করতে পারে। কখনো
এর সঙ্গে কাকতালীয় ঘটনাও যুক্ত হয়।
তাই এমন বিজ্ঞাপন দেখলে আতঙ্কিত হওয়ার চেয়ে ফোনের অ্যাপ পারমিশন, বিজ্ঞাপন ব্যক্তিগতকরণ এবং গোপনীয়তা সেটিংস নিয়মিত পরীক্ষা করাই বেশি কার্যকর। ডিজিটাল দুনিয়ায় নিজের তথ্য কোথায় এবং কীভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে, সে বিষয়ে সচেতন থাকাই ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বন্ধুর সঙ্গে আড্ডায় নতুন একটি ফোন, জুতা কিংবা ঘড়ি নিয়ে আলোচনা করলেন। কিছুক্ষণ পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঢুকেই দেখা গেল, ঠিক সেই পণ্যটির বিজ্ঞাপন। এমন অভিজ্ঞতা অনেকেরই হয়েছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে-স্মার্টফোনের মাইক্রোফোন কি আমাদের ব্যক্তিগত কথাবার্তা শুনে বিজ্ঞাপন দেখাচ্ছে?
শুনতে অবাক লাগলেও এর উত্তর সরাসরি
‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ বলা যায় না। কারণ ব্যবহারকারীর কথা না শুনেও বিজ্ঞাপন প্রযুক্তি তার
পছন্দ ও আগ্রহ সম্পর্কে বেশ নির্ভুল ধারণা তৈরি করতে পারে। এর পেছনে কাজ করে মানুষের
দৈনন্দিন ডিজিটাল কর্মকাণ্ড থেকে পাওয়া অসংখ্য তথ্য।
ইন্টারনেটে কোনো কিছু খোঁজা থেকে
শুরু করে ভিডিও দেখা, নির্দিষ্ট পোস্টে বেশি সময় কাটানো, ওয়েবসাইটে প্রবেশ কিংবা কোনো
পণ্যের পেজে ক্লিক-প্রতিটি কাজই আপনার সম্ভাব্য আগ্রহের একটি সংকেত হতে পারে।
ধরা যাক, আপনি কয়েক দিন ধরে অনলাইনে
বিভিন্ন ব্র্যান্ডের জুতা দেখছেন। একটি ভিডিওতে অন্যগুলোর তুলনায় বেশি সময় কাটিয়েছেন
এবং কয়েকটি ওয়েবসাইটে জুতার দামও যাচাই করেছেন। এসব কর্মকাণ্ডের তথ্য বিজ্ঞাপন ব্যবস্থার
কাছে আপনার আগ্রহের ইঙ্গিত দিতে পারে।
এর সঙ্গে যুক্ত হতে পারে আপনার
ব্যবহৃত ডিভাইস, অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য, অনলাইন কার্যক্রম ও অন্যান্য আচরণগত সংকেত।
ফলে এরপর জুতার বিজ্ঞাপন সামনে এলে মনে হতে পারে, বন্ধুর সঙ্গে জুতা নিয়ে কথা বলার
কারণেই বিজ্ঞাপনটি এসেছে। বাস্তবে এর পেছনে আগে থেকেই জমা হওয়া ডিজিটাল সংকেত কাজ করতে
পারে।
মাইক্রোফোনের অনুমতি থাকলেই কি আড়ি পাতা হয়?
স্মার্টফোনের কোনো অ্যাপকে মাইক্রোফোন
ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া থাকলে অ্যাপটি সেই সুবিধা ব্যবহার করতে পারে। কিন্তু এ অনুমতি
থাকার অর্থ এই নয় যে অ্যাপটি সারাক্ষণ আপনার ব্যক্তিগত কথোপকথন রেকর্ড করছে এবং সেখান
থেকে বিজ্ঞাপন তৈরি করছে।
তবে মাইক্রোফোনের অনুমতি নিয়ে
সতর্ক থাকা জরুরি। বিশেষ করে যে অ্যাপের মূল কাজের সঙ্গে শব্দ ধারণের কোনো সম্পর্ক
নেই, সেই অ্যাপ কেন মাইক্রোফোন ব্যবহারের অনুমতি চাইছে, তা ভেবে দেখা উচিত।
অপ্রয়োজনীয় মাইক্রোফোন অ্যাক্সেস বন্ধ করুন
অ্যান্ড্রয়েড ফোনে Settings
থেকে Privacy বা Security & Privacy
অপশনে গিয়ে Permission
Manager নির্বাচন করলে সাধারণত মাইক্রোফোন ব্যবহারের অনুমতিপ্রাপ্ত
অ্যাপগুলোর তালিকা দেখা যায়। সেখান থেকে প্রয়োজন নেই এমন অ্যাপের অনুমতি বাতিল করা
সম্ভব।
আইফোন ব্যবহারকারীরা Settings > Privacy & Security > Microphone-এ
গিয়ে কোন অ্যাপ মাইক্রোফোন ব্যবহারের অনুমতি পেয়েছে তা দেখতে পারবেন। প্রয়োজন অনুযায়ী
সেখান থেকেই অনুমতি বন্ধ করা যায়।
তবে মাইক্রোফোন বন্ধ করলেই ব্যক্তিগতকৃত
বিজ্ঞাপন পুরোপুরি বন্ধ হবে না। কারণ বিজ্ঞাপন ব্যবস্থায় ব্যবহারকারীর আগ্রহ বোঝার
জন্য মাইক্রোফোন ছাড়াও নানা ধরনের তথ্য ও আচরণগত সংকেত ব্যবহৃত হতে পারে।
শুধু মাইক্রোফোন নয়, নজরে রাখুন অন্য অনুমতিও
ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষায় ফোনে
ইনস্টল করা অ্যাপগুলোর অনুমতিগুলো নিয়মিত পরীক্ষা করা ভালো। কোনো অ্যাপের প্রয়োজন না
থাকলে লোকেশন, কনট্যাক্ট, ক্যামেরা বা মাইক্রোফোনের মতো সংবেদনশীল তথ্য ব্যবহারের অনুমতি
না দেওয়াই নিরাপদ।
নতুন অ্যাপ ইনস্টলের সময়ও সতর্ক
থাকা দরকার। অ্যাপটির কাজের সঙ্গে সম্পর্ক নেই—এমন কোনো অনুমতি কেন চাওয়া হচ্ছে, তা
বুঝে তারপর অনুমতি দেওয়া উচিত।
এ ছাড়া ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামসহ
বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের বিজ্ঞাপন ও ব্যক্তিগতকরণ-সংক্রান্ত সেটিংস পর্যালোচনা করা যেতে
পারে। এতে কোন ধরনের বিজ্ঞাপন ও ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে
ব্যবহারকারী কিছুটা বেশি নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারেন।
তাহলে আসল ঘটনা কী?
কথা বলার পরপরই একই পণ্যের বিজ্ঞাপন
দেখা নিঃসন্দেহে অস্বস্তিকর মনে হতে পারে। কিন্তু শুধু এই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বলা যায়
না যে ফোন আপনার কথোপকথন শুনেছে।
আপনার সার্চ ইতিহাস, ওয়েবসাইট
ভিজিট, ভিডিও দেখার ধরন, বিভিন্ন পোস্টে আগ্রহ, পণ্যের পেজে ক্লিক এবং অন্যান্য ডিজিটাল
আচরণ বিশ্লেষণ করেই বিজ্ঞাপন ব্যবস্থা আপনার সম্ভাব্য পছন্দ অনুমান করতে পারে। কখনো
এর সঙ্গে কাকতালীয় ঘটনাও যুক্ত হয়।
তাই এমন বিজ্ঞাপন দেখলে আতঙ্কিত হওয়ার চেয়ে ফোনের অ্যাপ পারমিশন, বিজ্ঞাপন ব্যক্তিগতকরণ এবং গোপনীয়তা সেটিংস নিয়মিত পরীক্ষা করাই বেশি কার্যকর। ডিজিটাল দুনিয়ায় নিজের তথ্য কোথায় এবং কীভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে, সে বিষয়ে সচেতন থাকাই ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

আপনার মতামত লিখুন