পল্লী বিদ্যুতের ৩৩ কেভি ইনকামিং সোর্স লাইনের একটি খুঁটিতে আগুন লেগে কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, উপজেলা পরিষদ, থানাসহ একাধিক স্কুল-কলেজ এবং ৪৩ হাজার গ্রাহক প্রায় ছয় ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন ছিলেন।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল পৌনে ১১টার দিকে কুষ্টিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির খোকসা ফিডারের ৩৩ কেভি ইনকামিং সোর্স লাইনের একটি কাঠের খুঁটিতে আগুন ধরে যায়। কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কের জিলপীতলা বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে খুঁটিটি পুড়ে ভেঙে পড়ে। পরে খোকসা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনায় কোনো প্রাণহানি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
খুঁটিতে অগ্নিকাণ্ডের পরপরই খোকসা সাব-জোনাল অফিসের আওতাধীন ৪৩ হাজার আবাসিক ও অনাবাসিক গ্রাহকের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। পরে ক্ষতিগ্রস্ত ইনকামিং লাইনের খুঁটি প্রতিস্থাপন শেষে বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় স্বাভাবিক হয়।
এমনিতেই দিন-রাতে অন্তত ১৩ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি রয়েছে, তার ওপর টানা ছয় ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রোগী, উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তর, থানা এবং শতাধিক স্কুল-কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এর ফলে সরকারি-বেসরকারি অফিসে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ সেবা না পেয়ে ফিরে গেছেন। একাধিক মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজে অঘোষিত ছুটি হয়ে যায়। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রভাব পড়ে পৌর এলাকার প্রধান বাজারগুলোতেও। দুপুরের দিকে অধিকাংশ দোকানপাট ক্রেতাশূন্য হয়ে পড়ে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির খোকসা সাব-স্টেশনের এক কর্মকর্তা জানান, দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে সারাদিনে মাত্র ৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছিল। বুধবার সকালে দুর্ঘটনার সময় একই বরাদ্দের বিদ্যুৎ বিভিন্ন ফিডারে ভাগ করে চালানো হচ্ছিল। তবে বিকেলে লাইন চালুর পর থেকে পূর্ণ বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে। রাতে উপজেলার সবকটি ফিডার একযোগে সচল ছিল।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নাতির চিকিৎসা করাতে এসেছিলেন বৃদ্ধা কোহিনুর খাতুন। তিনি বলেন, 'নাতিকে কয়েকটা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকায় পরীক্ষা করানো যায়নি, না দেখিয়েই ফিরে যেতে হচ্ছে। গাড়ি ভাড়া আর টিকিটের টাকাই শুধু অপচয় হলো।'
খোকসা জানিপুর সরকারি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম জানান, একদিকে ভ্যাপসা গরম, অন্যদিকে বিদ্যুৎ না থাকায় গরমে টেকা দায় হয়ে পড়েছিল। বাধ্য হয়ে অনেক শিক্ষার্থী ক্লাস ছেড়ে চলে যায়, একপর্যায়ে স্কুলেও অঘোষিত ছুটি হয়ে যায়।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মনিরুল ইসলাম জানান, লোডশেডিংয়ের মধ্যে টানা পাঁচ-ছয় ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় বাজারে ক্রেতার দেখা মেলেনি। প্রতিদিন যেখানে গড়ে ৫০ হাজার টাকার বিক্রি হয়, সেখানে বেচাকেনা ৩০ হাজার টাকাও হয়নি।
পল্লী বিদ্যুতের খোকসা সাব-জোনাল অফিসের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (এজিএম-কম) আবদুল কাদের জিলানী বলেন, 'খুঁটিতে আগুন লাগার খবর পেয়েই আমি নিজে ঘটনাস্থলে যাই। ফায়ার সার্ভিস ডেকে আগুন নেভানো হয়। এরপর কুষ্টিয়ার বারখাদা থেকে নতুন খাম্বা ও কর্মী এনে মেরামত কাজ শেষ করে বিকেলে লাইন চালু করা হয়েছে।'
তিনি আরও জানান, উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ইনকামিং সোর্স লাইনের তার যেভাবে ঝুলে ছিল, তাতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। লাইনের ঝুঁকি এড়াতে সার্বিক সংস্কার প্রয়োজন।

শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পল্লী বিদ্যুতের ৩৩ কেভি ইনকামিং সোর্স লাইনের একটি খুঁটিতে আগুন লেগে কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, উপজেলা পরিষদ, থানাসহ একাধিক স্কুল-কলেজ এবং ৪৩ হাজার গ্রাহক প্রায় ছয় ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন ছিলেন।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল পৌনে ১১টার দিকে কুষ্টিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির খোকসা ফিডারের ৩৩ কেভি ইনকামিং সোর্স লাইনের একটি কাঠের খুঁটিতে আগুন ধরে যায়। কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কের জিলপীতলা বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে খুঁটিটি পুড়ে ভেঙে পড়ে। পরে খোকসা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনায় কোনো প্রাণহানি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
খুঁটিতে অগ্নিকাণ্ডের পরপরই খোকসা সাব-জোনাল অফিসের আওতাধীন ৪৩ হাজার আবাসিক ও অনাবাসিক গ্রাহকের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। পরে ক্ষতিগ্রস্ত ইনকামিং লাইনের খুঁটি প্রতিস্থাপন শেষে বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় স্বাভাবিক হয়।
এমনিতেই দিন-রাতে অন্তত ১৩ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি রয়েছে, তার ওপর টানা ছয় ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রোগী, উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তর, থানা এবং শতাধিক স্কুল-কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এর ফলে সরকারি-বেসরকারি অফিসে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ সেবা না পেয়ে ফিরে গেছেন। একাধিক মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজে অঘোষিত ছুটি হয়ে যায়। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রভাব পড়ে পৌর এলাকার প্রধান বাজারগুলোতেও। দুপুরের দিকে অধিকাংশ দোকানপাট ক্রেতাশূন্য হয়ে পড়ে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির খোকসা সাব-স্টেশনের এক কর্মকর্তা জানান, দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে সারাদিনে মাত্র ৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছিল। বুধবার সকালে দুর্ঘটনার সময় একই বরাদ্দের বিদ্যুৎ বিভিন্ন ফিডারে ভাগ করে চালানো হচ্ছিল। তবে বিকেলে লাইন চালুর পর থেকে পূর্ণ বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে। রাতে উপজেলার সবকটি ফিডার একযোগে সচল ছিল।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নাতির চিকিৎসা করাতে এসেছিলেন বৃদ্ধা কোহিনুর খাতুন। তিনি বলেন, 'নাতিকে কয়েকটা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকায় পরীক্ষা করানো যায়নি, না দেখিয়েই ফিরে যেতে হচ্ছে। গাড়ি ভাড়া আর টিকিটের টাকাই শুধু অপচয় হলো।'
খোকসা জানিপুর সরকারি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম জানান, একদিকে ভ্যাপসা গরম, অন্যদিকে বিদ্যুৎ না থাকায় গরমে টেকা দায় হয়ে পড়েছিল। বাধ্য হয়ে অনেক শিক্ষার্থী ক্লাস ছেড়ে চলে যায়, একপর্যায়ে স্কুলেও অঘোষিত ছুটি হয়ে যায়।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মনিরুল ইসলাম জানান, লোডশেডিংয়ের মধ্যে টানা পাঁচ-ছয় ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় বাজারে ক্রেতার দেখা মেলেনি। প্রতিদিন যেখানে গড়ে ৫০ হাজার টাকার বিক্রি হয়, সেখানে বেচাকেনা ৩০ হাজার টাকাও হয়নি।
পল্লী বিদ্যুতের খোকসা সাব-জোনাল অফিসের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (এজিএম-কম) আবদুল কাদের জিলানী বলেন, 'খুঁটিতে আগুন লাগার খবর পেয়েই আমি নিজে ঘটনাস্থলে যাই। ফায়ার সার্ভিস ডেকে আগুন নেভানো হয়। এরপর কুষ্টিয়ার বারখাদা থেকে নতুন খাম্বা ও কর্মী এনে মেরামত কাজ শেষ করে বিকেলে লাইন চালু করা হয়েছে।'
তিনি আরও জানান, উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ইনকামিং সোর্স লাইনের তার যেভাবে ঝুলে ছিল, তাতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। লাইনের ঝুঁকি এড়াতে সার্বিক সংস্কার প্রয়োজন।

আপনার মতামত লিখুন