সংবাদ

জিপিএফের প্রায় ১০ কোটি টাকা লোপাট, বরখাস্ত ৬


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৫০ পিএম

জিপিএফের প্রায় ১০ কোটি টাকা লোপাট, বরখাস্ত ৬

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলা হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ে সাধারণ ভবিষ্য তহবিলের (জিপিএফ) প্রায় ১০ কোটি টাকা জালিয়াতির চাঞ্চল্যকর ঘটনা ধরা পড়েছে। বিভিন্ন সময়ে ওই কার্যালয়ে কর্মরত চার সাবেক উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা ও দুই অডিটরের বিরুদ্ধে জিপিএফ অগ্রিম বিলের নামে এই অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। সরকারি তহবিলের অর্থ জালিয়াতির প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় অভিযুক্ত ছয় কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

গত বুধবার বাংলাদেশের কন্ট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (সিএজি) কার্যালয় এবং হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের (সিজিএ) কার্যালয় থেকে পৃথক প্রজ্ঞাপন ও অফিস আদেশের মাধ্যমে শাস্তিমূলক এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৩৯ ধারার উপধারা (১) অনুযায়ী তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সর্বমোট ৯ কোটি ৭৭ লাখ ১২ হাজার ২০০ টাকা জিপিএফের অর্থ জালিয়াতির প্রমাণ মিলেছে।

অভিযুক্ত চার সাবেক হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার মধ্যে মীর এনামুল হকের বিরুদ্ধে ৪ কোটি ৩২ লাখ ৩৬ হাজার ৪০০ টাকা, সৌমেন সরকারের বিরুদ্ধে ১৭ লাখ ৯২ হাজার টাকা, মদন কুমার দাসের বিরুদ্ধে ১২ লাখ ৮৬ হাজার টাকা এবং হাসানুজ্জামানের বিরুদ্ধে ৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া দুই অডিটরের মধ্যে শ্যামল কুমার দাস ৬৫টি ভুয়া বিলের মাধ্যমে ৪ কোটি ৮১ লাখ ৯৬ হাজার ৬০০ টাকা এবং রুবেল মোল্লা ১২টি ভুয়া বিলের মাধ্যমে ২৩ লাখ ২১ হাজার ২০০ টাকা জালিয়াতি করেছেন বলে তদন্তে উঠে আসে।

মোরেলগঞ্জের কয়েকজন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক জিপিএফ থেকে ঋণ নিতে গিয়ে তাদের হিসাবের গরমিল দেখতে পান। বিষয়টি নজরে এলে বর্তমান উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা তন্ময় গোস্বামী হিসাব যাচাইয়ের জন্য খুলনা বিভাগীয় কন্ট্রোলার অব অ্যাকাউন্টস (ডিসিএ) কার্যালয়ে চিঠি পাঠান। এর পরিপ্রেক্ষিতে গঠিত বিশেষ তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে এই বিশাল অংকের জালিয়াতির তথ্য বেরিয়ে আসে।

ভুক্তভোগী শিক্ষকরা জানান, জিপিএফের অর্থের এ ধরনের লেনদেন সম্পর্কে তারা আগে কিছুই জানতেন না। কোনো কোনো শিক্ষকের হিসাবে একই দিনে বড় অঙ্কের টাকা জমা ও উত্তোলনের তথ্য পাওয়া গেছে।

এদিকে, সাময়িক বরখাস্ত থাকাকালে অভিযুক্তরা প্রচলিত বিধি অনুযায়ী খোরাকি ভাতা পাবেন। তবে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া তারা স্টেশন ত্যাগ করতে পারবেন না এবং তদন্তের প্রয়োজনে উপস্থিত থাকতে বাধ্য থাকবেন। জনস্বার্থে জারী এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


জিপিএফের প্রায় ১০ কোটি টাকা লোপাট, বরখাস্ত ৬

প্রকাশের তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলা হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ে সাধারণ ভবিষ্য তহবিলের (জিপিএফ) প্রায় ১০ কোটি টাকা জালিয়াতির চাঞ্চল্যকর ঘটনা ধরা পড়েছে। বিভিন্ন সময়ে ওই কার্যালয়ে কর্মরত চার সাবেক উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা ও দুই অডিটরের বিরুদ্ধে জিপিএফ অগ্রিম বিলের নামে এই অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। সরকারি তহবিলের অর্থ জালিয়াতির প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় অভিযুক্ত ছয় কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

গত বুধবার বাংলাদেশের কন্ট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (সিএজি) কার্যালয় এবং হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের (সিজিএ) কার্যালয় থেকে পৃথক প্রজ্ঞাপন ও অফিস আদেশের মাধ্যমে শাস্তিমূলক এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৩৯ ধারার উপধারা (১) অনুযায়ী তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সর্বমোট ৯ কোটি ৭৭ লাখ ১২ হাজার ২০০ টাকা জিপিএফের অর্থ জালিয়াতির প্রমাণ মিলেছে।

অভিযুক্ত চার সাবেক হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার মধ্যে মীর এনামুল হকের বিরুদ্ধে ৪ কোটি ৩২ লাখ ৩৬ হাজার ৪০০ টাকা, সৌমেন সরকারের বিরুদ্ধে ১৭ লাখ ৯২ হাজার টাকা, মদন কুমার দাসের বিরুদ্ধে ১২ লাখ ৮৬ হাজার টাকা এবং হাসানুজ্জামানের বিরুদ্ধে ৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া দুই অডিটরের মধ্যে শ্যামল কুমার দাস ৬৫টি ভুয়া বিলের মাধ্যমে ৪ কোটি ৮১ লাখ ৯৬ হাজার ৬০০ টাকা এবং রুবেল মোল্লা ১২টি ভুয়া বিলের মাধ্যমে ২৩ লাখ ২১ হাজার ২০০ টাকা জালিয়াতি করেছেন বলে তদন্তে উঠে আসে।

মোরেলগঞ্জের কয়েকজন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক জিপিএফ থেকে ঋণ নিতে গিয়ে তাদের হিসাবের গরমিল দেখতে পান। বিষয়টি নজরে এলে বর্তমান উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা তন্ময় গোস্বামী হিসাব যাচাইয়ের জন্য খুলনা বিভাগীয় কন্ট্রোলার অব অ্যাকাউন্টস (ডিসিএ) কার্যালয়ে চিঠি পাঠান। এর পরিপ্রেক্ষিতে গঠিত বিশেষ তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে এই বিশাল অংকের জালিয়াতির তথ্য বেরিয়ে আসে।

ভুক্তভোগী শিক্ষকরা জানান, জিপিএফের অর্থের এ ধরনের লেনদেন সম্পর্কে তারা আগে কিছুই জানতেন না। কোনো কোনো শিক্ষকের হিসাবে একই দিনে বড় অঙ্কের টাকা জমা ও উত্তোলনের তথ্য পাওয়া গেছে।

এদিকে, সাময়িক বরখাস্ত থাকাকালে অভিযুক্তরা প্রচলিত বিধি অনুযায়ী খোরাকি ভাতা পাবেন। তবে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া তারা স্টেশন ত্যাগ করতে পারবেন না এবং তদন্তের প্রয়োজনে উপস্থিত থাকতে বাধ্য থাকবেন। জনস্বার্থে জারী এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করা হয়েছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত