নতুন আইনের ক্ষমতাবলে অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থানে গেছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। এখন থেকে সুনির্দিষ্ট অস্ত্র, মাদক ও মানবপাচার বিরোধী বিশেষ অভিযানে নেমেছে এলিট এই বাহিনী।
তবে সশস্ত্র বাহিনী হিসেবে অবস্থান করলেও তারা দেশের সব মামলার তদন্ত করবে না। কেবল আদালত ও পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) বিশেষ নির্দেশপ্রাপ্ত ও ন্যস্ত করা মামলাগুলোই তারা তদন্ত করবে।
পাশাপাশি মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১৮ লাখ রোহিঙ্গার নিরাপদ আবাসস্থল এবং পার্বত্য অঞ্চলের জটিল অপরাধ দমনেও এপিবিএন কাজ করে যাচ্ছে।
সম্প্রতি উত্তরা এপিবিএন হেডকোয়াটার্সে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সংবাদ সম্মেলনে এপিবিএনের ডিআইজি প্রশাসন মোহাম্মদ শাহজাহান বিস্তারিত তুলে ধরে বলেন, নতুন আইনের ফলে এপিবিএনের জন্য তদন্ত পরিচালনার সুনির্দিষ্ট আইনি সুযোগ আরও স্পষ্ট হয়েছে। কক্সবাজারে লাখ লাখ রোহিঙ্গার আগমনের পর থেকে ক্যাম্প এলাকায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। সাধারণ জেলা পুলিশের পক্ষে এসব জটিল অপরাধের পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করা অনেক সময়ই কঠিন হয়ে দাঁড়াত। এ কারণেই সরকারের বিশেষ অনুমতি নিয়ে নিরস্ত্র রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় এপিবিএনকে তদন্তের কাজে যুক্ত করা হয়েছিল। বর্তমানের নতুন এই আইন সেই কার্যক্রমে পূর্ণাঙ্গ আইনি ভিত্তি প্রদান করেছে। নতুন এই আইনে সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি আলাদা সেল গঠনের সুযোগ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি দেশের প্রধান আকাশবন্দর তথা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা ও অপরাধ দমনে এপিবিএনের সুনির্দিষ্ট দায়িত্বও এই আইনে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিমানবন্দরের নিরাপত্তা রক্ষা, অপরাধ দমন, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং বেসামরিক নিরাপত্তা পুলিশের কাজ এপিবিএনের এখতিয়ারভুক্ত করা হয়েছে। ফলে বিমানবন্দরের যেকোনো অপরাধ তদন্তে এখন আর কোনো আইনি বাধা নেই।
বর্তমানে কক্সবাজারের বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মায়ানমার থেকে আসা প্রায় ১৮ লাখের বেশি রোহিঙ্গার নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছেন মাত্র ২ হাজার ২০০ জন এপিবিএন কর্মকর্তা ও সদস্য। জনবল ও পর্যাপ্ত যানবাহনের কিছুটা সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও কম অস্ত্র ও কম সদস্য নিয়ে এপিবিএনের বিভিন্ন ইউনিট অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তা বজায় রাখছে।
রোহিঙ্গা এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা আরও বহুগুণ জোরদার করতে সেখানে নতুন একটি ব্যাটালিয়ন চালুর সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পুলিশ সদর দপ্তরের মাধ্যমে সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। ক্যাম্প এলাকাগুলোতে প্রধানত অস্ত্র চোরাচালান, মাদক ব্যবসা, অপহরণ, নারী নির্যাতন এবং মানবতা বিরোধী অপরাধকে বিশেষ অগ্রাধিকার দিয়ে দমন করা হচ্ছে। বিশেষ করে মানবপাচার রোধে এপিবিএনের গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
চলমান এই বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে কেবল গত আগস্ট মাসেই দেশজুড়ে এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে আট শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে এপিবিএন। একই সাথে অভিযান চালিয়ে সাড়ে ৯ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের চোরাই স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়েছে।
শুধু অপরাধী গ্রেপ্তার বা অস্ত্র উদ্ধারেই নয়, এর পাশাপাশি নিখোঁজ শিশুদের উদ্ধার এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত বা মোবাইল কোর্ট পরিচালনায়ও এপিবিএন অনন্য ভূমিকা রাখছে।
এপিবিএনের পুলিশ সুপার তাজুল ইসলামের পাঠানো তথ্যে আরও স্পষ্ট করা হয়েছে, বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট নিয়মিত অভিযান, নিবিড় গোয়েন্দা তৎপরতা এবং আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির কার্যকরী ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। জনগণের মৌলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অপরাধের শেকড় উৎপাটন এবং নাগরিক সেবা আরও সহজ ও দ্রুত করার জন্য এপিবিএন ভবিষ্যতেও তাদের প্রযুক্তি নির্ভর ও জনবান্ধব পুলিশিং কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
এদিকে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম তুলে ধরে টেকনাফ থেকে এপিবিএন ১৬ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ কাউছার সিকদার জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে জেলা পুলিশ, ব্যাটালিয়ন আনসার, কোস্টগার্ড এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সাথে যৌথভাবে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
এই যৌথ অভিযানের অংশ হিসেবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ১০ জন অপরাধীকে সুনির্দিষ্ট মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২ জনকে ৬ মাস, ৪ জনকে ৩ মাস এবং বাকি ৪ জনকে ১ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। ক্যাম্প এলাকার অভ্যন্তরীণ অপরাধ কঠোর হাতে দমনে এপিবিএনের এই অভিযান আগামীতেও নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নতুন আইনের ক্ষমতাবলে অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থানে গেছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। এখন থেকে সুনির্দিষ্ট অস্ত্র, মাদক ও মানবপাচার বিরোধী বিশেষ অভিযানে নেমেছে এলিট এই বাহিনী।
তবে সশস্ত্র বাহিনী হিসেবে অবস্থান করলেও তারা দেশের সব মামলার তদন্ত করবে না। কেবল আদালত ও পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) বিশেষ নির্দেশপ্রাপ্ত ও ন্যস্ত করা মামলাগুলোই তারা তদন্ত করবে।
পাশাপাশি মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১৮ লাখ রোহিঙ্গার নিরাপদ আবাসস্থল এবং পার্বত্য অঞ্চলের জটিল অপরাধ দমনেও এপিবিএন কাজ করে যাচ্ছে।
সম্প্রতি উত্তরা এপিবিএন হেডকোয়াটার্সে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সংবাদ সম্মেলনে এপিবিএনের ডিআইজি প্রশাসন মোহাম্মদ শাহজাহান বিস্তারিত তুলে ধরে বলেন, নতুন আইনের ফলে এপিবিএনের জন্য তদন্ত পরিচালনার সুনির্দিষ্ট আইনি সুযোগ আরও স্পষ্ট হয়েছে। কক্সবাজারে লাখ লাখ রোহিঙ্গার আগমনের পর থেকে ক্যাম্প এলাকায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। সাধারণ জেলা পুলিশের পক্ষে এসব জটিল অপরাধের পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করা অনেক সময়ই কঠিন হয়ে দাঁড়াত। এ কারণেই সরকারের বিশেষ অনুমতি নিয়ে নিরস্ত্র রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় এপিবিএনকে তদন্তের কাজে যুক্ত করা হয়েছিল। বর্তমানের নতুন এই আইন সেই কার্যক্রমে পূর্ণাঙ্গ আইনি ভিত্তি প্রদান করেছে। নতুন এই আইনে সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি আলাদা সেল গঠনের সুযোগ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি দেশের প্রধান আকাশবন্দর তথা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা ও অপরাধ দমনে এপিবিএনের সুনির্দিষ্ট দায়িত্বও এই আইনে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিমানবন্দরের নিরাপত্তা রক্ষা, অপরাধ দমন, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং বেসামরিক নিরাপত্তা পুলিশের কাজ এপিবিএনের এখতিয়ারভুক্ত করা হয়েছে। ফলে বিমানবন্দরের যেকোনো অপরাধ তদন্তে এখন আর কোনো আইনি বাধা নেই।
বর্তমানে কক্সবাজারের বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মায়ানমার থেকে আসা প্রায় ১৮ লাখের বেশি রোহিঙ্গার নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছেন মাত্র ২ হাজার ২০০ জন এপিবিএন কর্মকর্তা ও সদস্য। জনবল ও পর্যাপ্ত যানবাহনের কিছুটা সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও কম অস্ত্র ও কম সদস্য নিয়ে এপিবিএনের বিভিন্ন ইউনিট অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তা বজায় রাখছে।
রোহিঙ্গা এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা আরও বহুগুণ জোরদার করতে সেখানে নতুন একটি ব্যাটালিয়ন চালুর সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পুলিশ সদর দপ্তরের মাধ্যমে সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। ক্যাম্প এলাকাগুলোতে প্রধানত অস্ত্র চোরাচালান, মাদক ব্যবসা, অপহরণ, নারী নির্যাতন এবং মানবতা বিরোধী অপরাধকে বিশেষ অগ্রাধিকার দিয়ে দমন করা হচ্ছে। বিশেষ করে মানবপাচার রোধে এপিবিএনের গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
চলমান এই বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে কেবল গত আগস্ট মাসেই দেশজুড়ে এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে আট শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে এপিবিএন। একই সাথে অভিযান চালিয়ে সাড়ে ৯ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের চোরাই স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়েছে।
শুধু অপরাধী গ্রেপ্তার বা অস্ত্র উদ্ধারেই নয়, এর পাশাপাশি নিখোঁজ শিশুদের উদ্ধার এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত বা মোবাইল কোর্ট পরিচালনায়ও এপিবিএন অনন্য ভূমিকা রাখছে।
এপিবিএনের পুলিশ সুপার তাজুল ইসলামের পাঠানো তথ্যে আরও স্পষ্ট করা হয়েছে, বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট নিয়মিত অভিযান, নিবিড় গোয়েন্দা তৎপরতা এবং আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির কার্যকরী ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। জনগণের মৌলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অপরাধের শেকড় উৎপাটন এবং নাগরিক সেবা আরও সহজ ও দ্রুত করার জন্য এপিবিএন ভবিষ্যতেও তাদের প্রযুক্তি নির্ভর ও জনবান্ধব পুলিশিং কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
এদিকে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম তুলে ধরে টেকনাফ থেকে এপিবিএন ১৬ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ কাউছার সিকদার জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে জেলা পুলিশ, ব্যাটালিয়ন আনসার, কোস্টগার্ড এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সাথে যৌথভাবে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
এই যৌথ অভিযানের অংশ হিসেবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ১০ জন অপরাধীকে সুনির্দিষ্ট মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২ জনকে ৬ মাস, ৪ জনকে ৩ মাস এবং বাকি ৪ জনকে ১ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। ক্যাম্প এলাকার অভ্যন্তরীণ অপরাধ কঠোর হাতে দমনে এপিবিএনের এই অভিযান আগামীতেও নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন