বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার সীমানা ঘেঁষে বয়ে গেছে চিত্রা নদী। এই নদীর দুই পাড়ে জেগে ওঠা বিস্তীর্ণ চর ও আশপাশের গ্রামজুড়ে প্রাকৃতিকভাবেই গড়ে উঠেছে সুন্দরবনের নানা গাছপালা। স্থানীয়দের কাছে জায়গাটি এখন পরিচিত ‘মিনি সুন্দরবন’ নামে। চিত্রার দুই পাড়ে এখন যত দূর চোখ যায়, শুধুই সবুজের সমারোহ। সুন্দরী, গেওয়া, কেওড়া ও গরানের পাশাপাশি এখানে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে অসংখ্য গোলগাছ।
বর্তমানে এসব গাছে ঝুলছে থোকায় থোকায় গোলফল, যা নদীর পাড়ের মানুষের আয়ের নতুন পথ খুলে দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, চিত্রাপাড়ের এই প্রাকৃতিক বনাঞ্চলে গোলগাছের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। তালের মতো শাঁসযুক্ত ও সুস্বাদু হওয়ায় এই গোলফলের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। গ্রামের সীমানা ছাড়িয়ে শহরের মানুষের কাছেও ফলটির কদর এখন তুঙ্গে। এর পাশাপাশি গোলগাছের খাঁটি রস থেকে তৈরি উন্নতমানের গুড় ও গোলপাতার বহুমুখী ব্যবহার এলাকায় বিকল্প আয়ের স্থায়ী উৎস হতে পারে বলে মনে করছেন সবাই।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. সিফাত-আল-মারুফ জানান, গোলফল অনেকের কাছেই অত্যন্ত প্রিয় একটি খাবার। এর রস থেকে সম্পূর্ণ ভেজালমুক্ত ও স্বাস্থ্যসম্মত গুড় তৈরি করা সম্ভব। চিত্রাপাড়ের কৃষকেরা যদি বাণিজ্যিকভাবে গোল থেকে গুড় তৈরিতে আগ্রহী হন, তবে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে তাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও সব ধরনের সহায়তা প্রদান করা হবে।
বাগেরহাট সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. শাহীন কবির জানান, চিত্রাপাড়ের এই মিনি সুন্দরবন এলাকাটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা সুন্দরবনের এসব গাছপালা স্থানীয় ইকো-সিস্টেম বা বাস্তুতন্ত্র রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। গোলগাছ থেকে গুড় তৈরিসহ বিভিন্ন উপায়ে স্থানীয়দের জীবিকা সংস্থানের সুযোগ রয়েছে। তবে এর বাণিজ্যিক ব্যবহারের পাশাপাশি এই জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক বনাঞ্চল রক্ষায় সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার সীমানা ঘেঁষে বয়ে গেছে চিত্রা নদী। এই নদীর দুই পাড়ে জেগে ওঠা বিস্তীর্ণ চর ও আশপাশের গ্রামজুড়ে প্রাকৃতিকভাবেই গড়ে উঠেছে সুন্দরবনের নানা গাছপালা। স্থানীয়দের কাছে জায়গাটি এখন পরিচিত ‘মিনি সুন্দরবন’ নামে। চিত্রার দুই পাড়ে এখন যত দূর চোখ যায়, শুধুই সবুজের সমারোহ। সুন্দরী, গেওয়া, কেওড়া ও গরানের পাশাপাশি এখানে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে অসংখ্য গোলগাছ।
বর্তমানে এসব গাছে ঝুলছে থোকায় থোকায় গোলফল, যা নদীর পাড়ের মানুষের আয়ের নতুন পথ খুলে দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, চিত্রাপাড়ের এই প্রাকৃতিক বনাঞ্চলে গোলগাছের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। তালের মতো শাঁসযুক্ত ও সুস্বাদু হওয়ায় এই গোলফলের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। গ্রামের সীমানা ছাড়িয়ে শহরের মানুষের কাছেও ফলটির কদর এখন তুঙ্গে। এর পাশাপাশি গোলগাছের খাঁটি রস থেকে তৈরি উন্নতমানের গুড় ও গোলপাতার বহুমুখী ব্যবহার এলাকায় বিকল্প আয়ের স্থায়ী উৎস হতে পারে বলে মনে করছেন সবাই।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. সিফাত-আল-মারুফ জানান, গোলফল অনেকের কাছেই অত্যন্ত প্রিয় একটি খাবার। এর রস থেকে সম্পূর্ণ ভেজালমুক্ত ও স্বাস্থ্যসম্মত গুড় তৈরি করা সম্ভব। চিত্রাপাড়ের কৃষকেরা যদি বাণিজ্যিকভাবে গোল থেকে গুড় তৈরিতে আগ্রহী হন, তবে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে তাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও সব ধরনের সহায়তা প্রদান করা হবে।
বাগেরহাট সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. শাহীন কবির জানান, চিত্রাপাড়ের এই মিনি সুন্দরবন এলাকাটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা সুন্দরবনের এসব গাছপালা স্থানীয় ইকো-সিস্টেম বা বাস্তুতন্ত্র রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। গোলগাছ থেকে গুড় তৈরিসহ বিভিন্ন উপায়ে স্থানীয়দের জীবিকা সংস্থানের সুযোগ রয়েছে। তবে এর বাণিজ্যিক ব্যবহারের পাশাপাশি এই জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক বনাঞ্চল রক্ষায় সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

আপনার মতামত লিখুন