সংবাদ

মহেশখালীতে বেড়েছে এলএনজি সরবরাহ, গ্যাসে স্বস্তির বার্তা


মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, চট্টগ্রাম
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, চট্টগ্রাম
প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩২ পিএম

মহেশখালীতে বেড়েছে এলএনজি সরবরাহ, গ্যাসে স্বস্তির বার্তা
মহেশখালি থেকে এলএনজি সরবরাহ বেড়েছে, গ্যাস সংকটে স্বস্তির আশা

মহেশখালীর দুই ভাসমান টার্মিনাল থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ বাড়ায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের সরবরাহ বেড়ে দৈনিক ২ হাজার ৬১০ মিলিয়ন ঘনফুটে (এমএমসিএফডি) পৌঁছেছে। এতে সাম্প্রতিক গ্যাস সংকট কিছুটা কমে আসার আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রায় দুই মাস পর দেশে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে শুরু করেছে।

মহেশখালীর দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউ থেকে সরবরাহ প্রায় স্বাভাবিক হওয়ায় শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে গ্যাসের সংকট কিছুটা কমেছে। তবে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ ঘাটতি এখনো দৈনিক প্রায় ১২৫ কোটি ঘনফুট।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, দুপুর ১২টা পর্যন্ত জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা মোট ২ হাজার ৬১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের মধ্যে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে এসেছে ১ হাজার ৬২০ মিলিয়ন ঘনফুট। বাকি ৯৯০ মিলিয়ন ঘনফুট এসেছে আমদানি করা এলএনজি থেকে।

সোমবার রাত থেকেই এলএনজি সরবরাহ বাড়ায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাস পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করে। ১৪ সেপ্টেম্বর রাত ১০টায় মোট গ্যাস সরবরাহ ছিল ২ হাজার ৫৮২ মিলিয়ন ঘনফুট। এর মধ্যে দেশীয় গ্যাস ছিল ১ হাজার ৬০২ মিলিয়ন ঘনফুট এবং আমদানি করা এলএনজি ছিল ৯৮০ মিলিয়ন ঘনফুট। একই দিন রাত ৮টায় মোট সরবরাহ ছিল ২ হাজার ৩৬২ মিলিয়ন ঘনফুট, যার মধ্যে এলএনজির পরিমাণ ছিল ৭৬২ মিলিয়ন ঘনফুট।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ২১ জুলাই এক্সিলারেট এনার্জির এফএসআরইউতে দুর্ঘটনার কারণে জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সরবরাহ ব্যাপকভাবে কমে গিয়েছিল। ভাসমান এ টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ার পর এলএনজি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে। এর আগে দুটি টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন প্রায় ১০০ কোটি ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ করা হতো। তখন দেশে মোট গ্যাস সরবরাহ ছিল ২৬০ থেকে ২৬৫ কোটি ঘনফুটের মধ্যে।

টার্মিনালে ত্রুটির পর সরবরাহ কমে যাওয়ায় শিল্প-কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হয়। একই সঙ্গে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনও কমে যায়। দেশের বিভিন্ন এলাকার আবাসিক গ্রাহকদেরও গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ার ভোগান্তিতে পড়তে হয়। বর্তমানে সরবরাহের পরিমাণ ওই দুর্ঘটনার আগের পর্যায়ের কাছাকাছি পৌঁছেছে।

তবে সরবরাহ বাড়লেও দেশের মোট চাহিদার তুলনায় এখনো ঘাটতি রয়েছে। গত ৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জানিয়েছিলেন, দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ এমএমসিএফডি। সে হিসাবে মঙ্গলবার দুপুরের সরবরাহ চাহিদার চেয়ে প্রায় ১ হাজার ১৯০ এমএমসিএফডি কমছিল।

তিতুমীর জানিয়েছিলেন, দেশে প্রায় ১ হাজার ৬০০ এমএমসিএফডি দেশীয় গ্যাস এবং প্রায় ১ হাজার এমএমসিএফডি এলএনজি পাওয়া গেলে মোট সরবরাহ ২ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ এমএমসিএফডির মধ্যে থাকবে। মঙ্গলবার দুপুরের হিসাবে দেশীয় ও আমদানি করা গ্যাসের সরবরাহ সেই পর্যায়ে পৌঁছেছে।

বর্তমানে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে গ্যাস সরবরাহও কিছুটা বেড়েছে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলামের গণমাধ্যমকে দেয়া তথ্য অনুযায়ী, কয়েক সপ্তাহ ধরে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো দৈনিক প্রায় ৮৭ কোটি ঘনফুট গ্যাস পেলেও এখন তা বেড়ে ৯৫ কোটি ঘনফুট হয়েছে। বরাদ্দ বাড়ায় গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রায় ৫ হাজার ৫০০ মেগাওয়াটে পৌঁছাতে পারে।

পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের হিসাবেও গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধির প্রভাব দেখা যাচ্ছে। মঙ্গলবার গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে ৫ হাজার ৪৭৪ মেগাওয়াট। সংকটের সময়ে এই উৎপাদন প্রায়ই ৫ হাজার মেগাওয়াটের নিচে বা কাছাকাছি নেমে এসেছিল।

তবে সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হলেও দেশের দীর্ঘদিনের গ্যাসঘাটতি এখনো কাটেনি। সরকারি হিসাবে, দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮৬ কোটি ঘনফুট। বিপরীতে বর্তমান সরবরাহ ২৬১ কোটি ঘনফুট। অর্থাৎ প্রতিদিন প্রায় ১২৫ কোটি ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে, যা মোট চাহিদার প্রায় ৩২ শতাংশ।

পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশনস অ্যান্ড মাইনস) প্রকৌশলী মো. শোয়েব জানান, জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের প্রাপ্যতা বাড়াতে দেশীয় উৎসের উৎপাদন ও আমদানি করা এলএনজি সরবরাহের মধ্যে সমন্বয় করে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


মহেশখালীতে বেড়েছে এলএনজি সরবরাহ, গ্যাসে স্বস্তির বার্তা

প্রকাশের তারিখ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

মহেশখালীর দুই ভাসমান টার্মিনাল থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ বাড়ায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের সরবরাহ বেড়ে দৈনিক ২ হাজার ৬১০ মিলিয়ন ঘনফুটে (এমএমসিএফডি) পৌঁছেছে। এতে সাম্প্রতিক গ্যাস সংকট কিছুটা কমে আসার আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রায় দুই মাস পর দেশে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে শুরু করেছে।

মহেশখালীর দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউ থেকে সরবরাহ প্রায় স্বাভাবিক হওয়ায় শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে গ্যাসের সংকট কিছুটা কমেছে। তবে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ ঘাটতি এখনো দৈনিক প্রায় ১২৫ কোটি ঘনফুট।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, দুপুর ১২টা পর্যন্ত জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা মোট ২ হাজার ৬১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের মধ্যে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে এসেছে ১ হাজার ৬২০ মিলিয়ন ঘনফুট। বাকি ৯৯০ মিলিয়ন ঘনফুট এসেছে আমদানি করা এলএনজি থেকে।

সোমবার রাত থেকেই এলএনজি সরবরাহ বাড়ায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাস পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করে। ১৪ সেপ্টেম্বর রাত ১০টায় মোট গ্যাস সরবরাহ ছিল ২ হাজার ৫৮২ মিলিয়ন ঘনফুট। এর মধ্যে দেশীয় গ্যাস ছিল ১ হাজার ৬০২ মিলিয়ন ঘনফুট এবং আমদানি করা এলএনজি ছিল ৯৮০ মিলিয়ন ঘনফুট। একই দিন রাত ৮টায় মোট সরবরাহ ছিল ২ হাজার ৩৬২ মিলিয়ন ঘনফুট, যার মধ্যে এলএনজির পরিমাণ ছিল ৭৬২ মিলিয়ন ঘনফুট।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ২১ জুলাই এক্সিলারেট এনার্জির এফএসআরইউতে দুর্ঘটনার কারণে জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সরবরাহ ব্যাপকভাবে কমে গিয়েছিল। ভাসমান এ টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ার পর এলএনজি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে। এর আগে দুটি টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন প্রায় ১০০ কোটি ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ করা হতো। তখন দেশে মোট গ্যাস সরবরাহ ছিল ২৬০ থেকে ২৬৫ কোটি ঘনফুটের মধ্যে।

টার্মিনালে ত্রুটির পর সরবরাহ কমে যাওয়ায় শিল্প-কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হয়। একই সঙ্গে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনও কমে যায়। দেশের বিভিন্ন এলাকার আবাসিক গ্রাহকদেরও গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ার ভোগান্তিতে পড়তে হয়। বর্তমানে সরবরাহের পরিমাণ ওই দুর্ঘটনার আগের পর্যায়ের কাছাকাছি পৌঁছেছে।

তবে সরবরাহ বাড়লেও দেশের মোট চাহিদার তুলনায় এখনো ঘাটতি রয়েছে। গত ৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জানিয়েছিলেন, দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ এমএমসিএফডি। সে হিসাবে মঙ্গলবার দুপুরের সরবরাহ চাহিদার চেয়ে প্রায় ১ হাজার ১৯০ এমএমসিএফডি কমছিল।

তিতুমীর জানিয়েছিলেন, দেশে প্রায় ১ হাজার ৬০০ এমএমসিএফডি দেশীয় গ্যাস এবং প্রায় ১ হাজার এমএমসিএফডি এলএনজি পাওয়া গেলে মোট সরবরাহ ২ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ এমএমসিএফডির মধ্যে থাকবে। মঙ্গলবার দুপুরের হিসাবে দেশীয় ও আমদানি করা গ্যাসের সরবরাহ সেই পর্যায়ে পৌঁছেছে।

বর্তমানে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে গ্যাস সরবরাহও কিছুটা বেড়েছে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলামের গণমাধ্যমকে দেয়া তথ্য অনুযায়ী, কয়েক সপ্তাহ ধরে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো দৈনিক প্রায় ৮৭ কোটি ঘনফুট গ্যাস পেলেও এখন তা বেড়ে ৯৫ কোটি ঘনফুট হয়েছে। বরাদ্দ বাড়ায় গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রায় ৫ হাজার ৫০০ মেগাওয়াটে পৌঁছাতে পারে।

পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের হিসাবেও গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধির প্রভাব দেখা যাচ্ছে। মঙ্গলবার গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে ৫ হাজার ৪৭৪ মেগাওয়াট। সংকটের সময়ে এই উৎপাদন প্রায়ই ৫ হাজার মেগাওয়াটের নিচে বা কাছাকাছি নেমে এসেছিল।

তবে সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হলেও দেশের দীর্ঘদিনের গ্যাসঘাটতি এখনো কাটেনি। সরকারি হিসাবে, দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮৬ কোটি ঘনফুট। বিপরীতে বর্তমান সরবরাহ ২৬১ কোটি ঘনফুট। অর্থাৎ প্রতিদিন প্রায় ১২৫ কোটি ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে, যা মোট চাহিদার প্রায় ৩২ শতাংশ।

পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশনস অ্যান্ড মাইনস) প্রকৌশলী মো. শোয়েব জানান, জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের প্রাপ্যতা বাড়াতে দেশীয় উৎসের উৎপাদন ও আমদানি করা এলএনজি সরবরাহের মধ্যে সমন্বয় করে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত