বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দুই দফায় সফরের আমন্ত্রণ জানানো হলেও এ পক্ষ থেকে এখনো সাড়া পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছে ভারত।
ব্রিকস সম্মেলনে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে আমন্ত্রণ থাকা সত্ত্বেও তারেক রহমানের অংশ না নেওয়া নিয়ে মঙ্গলবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখোমুখি হয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এসব কথা বলেন।
দিল্লিতে গত ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ১৮তম ব্রিকস সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ২৮ দেশের সরকার প্রধান বা তাদের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
বার্তা সংস্থা এএনআইয়ের এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে জয়সওয়াল বলেন, “আমরা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্য আমন্ত্রণ করেছিলাম। পরবর্তীতে বিমসটেক প্রধান হিসেবে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্যও তাকে আমন্ত্রণ করা হয়। ফলে তিনি দুটি আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন। একটি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে এবং অন্যটি ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের জন্য।”
তারেক রহমানের প্রস্তাবিত ভারত সফর সম্পর্কে প্রশ্নে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর (বাংলাদেশ) সফরের বিষয়ে আমরা এখনো নতুন কিছু শুনিনি। আমাদের কাছে যখনই এসংক্রান্ত কোনো আপডেট আসবে, আমরা নিশ্চিতভাবে সবাইকে জানাব।”
এর আগে গত ১০ সেপ্টেম্বর ঢাকার ফরেন সার্ভিস একাডেমির সামনে সাংবাদিকদের প্রশ্নে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেছিলেন, “ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিতে যে প্রক্রিয়ায় আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, তাতে সন্তুষ্ট নয় ঢাকা। তবে ভারতে সরকার প্রধানের দ্বিপক্ষীয় সফর হতে পারে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে ব্রিকসে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। অনুকূল পরিবেশ হলেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারতে দ্বিপক্ষীয় সফরে যাবেন।”
হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে ২০২৪ সালের আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক বেশ সংবেদনশীল হয়ে রয়েছে। ঢাকা একাধিকবার শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর আহ্বান জানালেও ভারত সেসব দাবিতে সাড়া দেয়নি।
গত ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জিতে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পরপরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল নরেন্দ্র মোদীর সরকার। কিন্তু গত ৫ আগস্ট দিল্লির সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা বক্তব্য দেওয়ার পর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে ঢাকা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের আলোচনার মধ্যে এ ঘটনায় দিল্লিকে ‘কূটনৈতিক অনুকূল পরিবেশ’ তৈরিসহ দুটি শর্ত দেয় ঢাকা।
সফরের ক্ষেত্রে ঢাকার সিদ্ধান্তের আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা এবং ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির হত্যার আসামিদের বাংলাদেশের হাতে তুলে দেওয়ার কথা বলেছে ঢাকা।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত হয়ে বাংলাদেশ ছাড়ার পর থেকে শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পর তাকে দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য নয়াদিল্লির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানিয়েছিল বাংলাদেশ।
তবে ভারত বলে আসছে, বাংলাদেশের অনুরোধ তারা ‘যথাযথ আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায়’ পর্যালোচনা করছে।

বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দুই দফায় সফরের আমন্ত্রণ জানানো হলেও এ পক্ষ থেকে এখনো সাড়া পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছে ভারত।
ব্রিকস সম্মেলনে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে আমন্ত্রণ থাকা সত্ত্বেও তারেক রহমানের অংশ না নেওয়া নিয়ে মঙ্গলবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখোমুখি হয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এসব কথা বলেন।
দিল্লিতে গত ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ১৮তম ব্রিকস সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ২৮ দেশের সরকার প্রধান বা তাদের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
বার্তা সংস্থা এএনআইয়ের এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে জয়সওয়াল বলেন, “আমরা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্য আমন্ত্রণ করেছিলাম। পরবর্তীতে বিমসটেক প্রধান হিসেবে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্যও তাকে আমন্ত্রণ করা হয়। ফলে তিনি দুটি আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন। একটি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে এবং অন্যটি ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের জন্য।”
তারেক রহমানের প্রস্তাবিত ভারত সফর সম্পর্কে প্রশ্নে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর (বাংলাদেশ) সফরের বিষয়ে আমরা এখনো নতুন কিছু শুনিনি। আমাদের কাছে যখনই এসংক্রান্ত কোনো আপডেট আসবে, আমরা নিশ্চিতভাবে সবাইকে জানাব।”
এর আগে গত ১০ সেপ্টেম্বর ঢাকার ফরেন সার্ভিস একাডেমির সামনে সাংবাদিকদের প্রশ্নে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেছিলেন, “ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিতে যে প্রক্রিয়ায় আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, তাতে সন্তুষ্ট নয় ঢাকা। তবে ভারতে সরকার প্রধানের দ্বিপক্ষীয় সফর হতে পারে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে ব্রিকসে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। অনুকূল পরিবেশ হলেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারতে দ্বিপক্ষীয় সফরে যাবেন।”
হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে ২০২৪ সালের আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক বেশ সংবেদনশীল হয়ে রয়েছে। ঢাকা একাধিকবার শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর আহ্বান জানালেও ভারত সেসব দাবিতে সাড়া দেয়নি।
গত ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জিতে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পরপরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল নরেন্দ্র মোদীর সরকার। কিন্তু গত ৫ আগস্ট দিল্লির সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা বক্তব্য দেওয়ার পর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে ঢাকা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের আলোচনার মধ্যে এ ঘটনায় দিল্লিকে ‘কূটনৈতিক অনুকূল পরিবেশ’ তৈরিসহ দুটি শর্ত দেয় ঢাকা।
সফরের ক্ষেত্রে ঢাকার সিদ্ধান্তের আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা এবং ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির হত্যার আসামিদের বাংলাদেশের হাতে তুলে দেওয়ার কথা বলেছে ঢাকা।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত হয়ে বাংলাদেশ ছাড়ার পর থেকে শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পর তাকে দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য নয়াদিল্লির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানিয়েছিল বাংলাদেশ।
তবে ভারত বলে আসছে, বাংলাদেশের অনুরোধ তারা ‘যথাযথ আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায়’ পর্যালোচনা করছে।

আপনার মতামত লিখুন