সংবাদ

রসিককে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ নিয়ে তোলপাড়


নিজস্ব বার্তা প্রতিবেদক, রংপুর
নিজস্ব বার্তা প্রতিবেদক, রংপুর
প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৪ পিএম

রসিককে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ নিয়ে তোলপাড়
রংপুর সিটি করপোরেশনে মাসে ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা বেতনের আইটি কনসালটেন্ট সোহেল—যার কাজ কেউ জানেন না। পাশে বসা ফরিদ করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী না হয়েও প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় সর্বক্ষণ অবস্থান করে সবাইকে তটস্থ রাখেন।

রংপুর সিটি করপোরেশনে আইটি কনসালটেন্ট হিসেবে গোপনে নিয়োগ পাওয়া আফরাফ হোসেন সোহেলকে মাসিক ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা বেতন দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তার কাজ কী, তা কেউ জানেন না। অন্যদিকে ফরিদ নামে এক সাবেক কর্মকর্তা নিজেকে সফটওয়্যার বিশেষজ্ঞ পরিচয় দিয়ে সিটি করপোরেশনে বড় কর্মকর্তার নাম ভাঙিয়ে চেয়ার দখল করে পুরো কার্যালয় অচল করে রেখেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

দুই কর্মকর্তার সিটি করপোরেশনে অবৈধ কর্মকাণ্ডের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ায় নগরীজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

রংপুর সিটি করপোরেশনের দপ্তর ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সাবেক প্রশাসক আশরাফুল ইসলাম রংপুর সিটি করপোরেশনে আইটি কনসালটেন্ট হিসেবে নিয়োগ দেন মো. আফরাফ হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে। এ জন্য কোনো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি আহ্বান করা হয়নি। গোপনে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়। তার মাসিক বেতন নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা। 

তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয় করপোরেশনের নগরবাসীর বাসা-প্রতিষ্ঠানের কর নির্ধারণসংক্রান্ত সফটওয়্যার আপডেট করার। কিন্তু ছয় মাসেও সেই কাজটি সম্পন্ন করতে পারেননি ওই ব্যক্তি। আইটি সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতার অভাবসহ নানান কারণে কর নির্ধারণসংক্রান্ত সফটওয়্যার এখনো সচল করা যায়নি। ফলে সিটি করপোরেশন শত শত কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে ছয় মাস অতিবাহিত হলেও তাঁর বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, রংপুর সিটি করপোরেশনে লাখ লাখ করদাতার চলতি অর্থবছরের প্রথম কোয়ার্টারের বিল এখনো প্রিন্ট করা যায়নি আইটি কনসালটেন্ট সোহেলের দায়িত্বহীনতার কারণে। অথচ প্রতি মাসে তার জন্য ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা বেতন গুনতে হচ্ছে করপোরেশনকে।

তাকে নিয়োগ দেওয়ার ব্যাপারে সাবেক প্রশাসক কোনো নিয়ম-নীতি মানেননি বলে অভিযোগ উঠেছে। এখন কর নির্ধারণ ও প্রিন্ট করে করদাতাদের কাছে পাঠিয়ে কর আদায়ের বিষয়টি কবে নাগাদ সচল করা যাবে, তাও কোনো কর্মকর্তা বলতে পারছেন না।

অন্যদিকে রংপুর সিটি করপোরেশনের সাবেক কর্মকর্তা একেএম আহসান ফরিদ রুম্মন আওয়ামী লীগ নেতা সাবেক মেয়র শরফ উদ্দিন আহাম্মেদ ঝন্টুর সময় প্রোগ্রামার হিসেবে কর্মরত থাকাকালীন তার বিভিন্ন অপকর্ম, নিয়োগ বাণিজ্য, টেন্ডার বাণিজ্য, সফটওয়্যার বাণিজ্যসহ নানান বিতর্কিত কাজের জন্য তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। কিন্তু বর্তমানে একটি লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের আইসিটি বিভাগে চাকরিরত রুম্মন করপোরেশনের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সহায়তায় সিটি করপোরেশনে ঘাঁটি বানিয়ে অবস্থান করছেন।

তিনি করপোরেশনের কোনো কর্মচারী না হয়েও প্রতিদিন করপোরেশনের বিভিন্ন শাখার ট্যাক্সসহ বিভিন্ন সফটওয়্যার ব্যবহারের নামে করপোরেশনের কর্মকাণ্ডে অবৈধভাবে হস্তক্ষেপ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তার হাবভাবে আচার-আচরণে নিজেকে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলে জাহির করছেন। সেই সঙ্গে বিভিন্ন শাখার অস্থায়ী-স্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হুমকি দিচ্ছেন। ফলে করপোরেশনে চরম অরাজক অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

কর্মচারীদের অভিযোগ, রুম্মন তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর ৬০ ভাগ কমিয়ে দেবেন ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে। করপোরেশনের আইটি শাখার বিভিন্ন মালামাল নিজের স্বজনের দোকান থেকে ক্রয় করে ইচ্ছেমতো দর বসিয়ে টাকা উত্তোলন করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, নিজে নিজে সভা আহ্বান করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তার কথা মতো চলার সবক দিচ্ছেন।

অতিসম্প্রতি অবৈধভাবে নিয়োগ পাওয়া আফরাফ হোসেন সোহেল ও চাকরিচ্যুত কর্মচারী ফরিদের করপোরেশনের দপ্তরে নিজেদের কর্মকাণ্ডের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

এ ব্যাপারে দুই কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা কোনো কথা বলতে রাজি হননি।

সার্বিকভাবে রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুন্নবী ডনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে আইটি কনসালটেন্ট সোহেলের নিয়োগ আগের প্রশাসকের সময় দেওয়া এবং ফরিদ নামে সাবেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগসহ সার্বিক বিষয় খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


রসিককে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ নিয়ে তোলপাড়

প্রকাশের তারিখ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

রংপুর সিটি করপোরেশনে আইটি কনসালটেন্ট হিসেবে গোপনে নিয়োগ পাওয়া আফরাফ হোসেন সোহেলকে মাসিক ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা বেতন দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তার কাজ কী, তা কেউ জানেন না। অন্যদিকে ফরিদ নামে এক সাবেক কর্মকর্তা নিজেকে সফটওয়্যার বিশেষজ্ঞ পরিচয় দিয়ে সিটি করপোরেশনে বড় কর্মকর্তার নাম ভাঙিয়ে চেয়ার দখল করে পুরো কার্যালয় অচল করে রেখেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

দুই কর্মকর্তার সিটি করপোরেশনে অবৈধ কর্মকাণ্ডের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ায় নগরীজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

রংপুর সিটি করপোরেশনের দপ্তর ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সাবেক প্রশাসক আশরাফুল ইসলাম রংপুর সিটি করপোরেশনে আইটি কনসালটেন্ট হিসেবে নিয়োগ দেন মো. আফরাফ হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে। এ জন্য কোনো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি আহ্বান করা হয়নি। গোপনে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়। তার মাসিক বেতন নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা। 

তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয় করপোরেশনের নগরবাসীর বাসা-প্রতিষ্ঠানের কর নির্ধারণসংক্রান্ত সফটওয়্যার আপডেট করার। কিন্তু ছয় মাসেও সেই কাজটি সম্পন্ন করতে পারেননি ওই ব্যক্তি। আইটি সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতার অভাবসহ নানান কারণে কর নির্ধারণসংক্রান্ত সফটওয়্যার এখনো সচল করা যায়নি। ফলে সিটি করপোরেশন শত শত কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে ছয় মাস অতিবাহিত হলেও তাঁর বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, রংপুর সিটি করপোরেশনে লাখ লাখ করদাতার চলতি অর্থবছরের প্রথম কোয়ার্টারের বিল এখনো প্রিন্ট করা যায়নি আইটি কনসালটেন্ট সোহেলের দায়িত্বহীনতার কারণে। অথচ প্রতি মাসে তার জন্য ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা বেতন গুনতে হচ্ছে করপোরেশনকে।

তাকে নিয়োগ দেওয়ার ব্যাপারে সাবেক প্রশাসক কোনো নিয়ম-নীতি মানেননি বলে অভিযোগ উঠেছে। এখন কর নির্ধারণ ও প্রিন্ট করে করদাতাদের কাছে পাঠিয়ে কর আদায়ের বিষয়টি কবে নাগাদ সচল করা যাবে, তাও কোনো কর্মকর্তা বলতে পারছেন না।

অন্যদিকে রংপুর সিটি করপোরেশনের সাবেক কর্মকর্তা একেএম আহসান ফরিদ রুম্মন আওয়ামী লীগ নেতা সাবেক মেয়র শরফ উদ্দিন আহাম্মেদ ঝন্টুর সময় প্রোগ্রামার হিসেবে কর্মরত থাকাকালীন তার বিভিন্ন অপকর্ম, নিয়োগ বাণিজ্য, টেন্ডার বাণিজ্য, সফটওয়্যার বাণিজ্যসহ নানান বিতর্কিত কাজের জন্য তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। কিন্তু বর্তমানে একটি লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের আইসিটি বিভাগে চাকরিরত রুম্মন করপোরেশনের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সহায়তায় সিটি করপোরেশনে ঘাঁটি বানিয়ে অবস্থান করছেন।

তিনি করপোরেশনের কোনো কর্মচারী না হয়েও প্রতিদিন করপোরেশনের বিভিন্ন শাখার ট্যাক্সসহ বিভিন্ন সফটওয়্যার ব্যবহারের নামে করপোরেশনের কর্মকাণ্ডে অবৈধভাবে হস্তক্ষেপ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তার হাবভাবে আচার-আচরণে নিজেকে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলে জাহির করছেন। সেই সঙ্গে বিভিন্ন শাখার অস্থায়ী-স্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হুমকি দিচ্ছেন। ফলে করপোরেশনে চরম অরাজক অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

কর্মচারীদের অভিযোগ, রুম্মন তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর ৬০ ভাগ কমিয়ে দেবেন ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে। করপোরেশনের আইটি শাখার বিভিন্ন মালামাল নিজের স্বজনের দোকান থেকে ক্রয় করে ইচ্ছেমতো দর বসিয়ে টাকা উত্তোলন করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, নিজে নিজে সভা আহ্বান করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তার কথা মতো চলার সবক দিচ্ছেন।

অতিসম্প্রতি অবৈধভাবে নিয়োগ পাওয়া আফরাফ হোসেন সোহেল ও চাকরিচ্যুত কর্মচারী ফরিদের করপোরেশনের দপ্তরে নিজেদের কর্মকাণ্ডের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

এ ব্যাপারে দুই কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা কোনো কথা বলতে রাজি হননি।

সার্বিকভাবে রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুন্নবী ডনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে আইটি কনসালটেন্ট সোহেলের নিয়োগ আগের প্রশাসকের সময় দেওয়া এবং ফরিদ নামে সাবেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগসহ সার্বিক বিষয় খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত