সংবাদ

পিত্তথলির অপারেশনের সময় বিএনপি নেতার মৃত্যু, ক্লিনিক ভাঙচুর


প্রতিনিধি, চুয়াডাঙ্গা
প্রতিনিধি, চুয়াডাঙ্গা
প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:২৯ এএম

পিত্তথলির অপারেশনের সময় বিএনপি নেতার মৃত্যু, ক্লিনিক ভাঙচুর

চুয়াডাঙ্গা শহরের উপশম নার্সিং হোম ক্লিনিকে পিত্তথলিতে পাথর অস্ত্রোপচারের সময় রবগুল মোল্লা (৪৮) নামে এক বিএনপি নেতার মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। তিনি সদর উপজেলার পদ্মাবিলা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড (সুবদিয়া) বিএনপির সভাপতি ও সুবদিয়া গ্রামের খেজমত মোল্লার ছেলে।

চিকিৎসকের অবহেলায় মৃত্যুর অভিযোগ তুলে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত ক্লিনিক এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এ সময় ক্ষুব্ধ স্বজন ও স্থানীয়রা দু'দফায় ক্লিনিকে ভাঙচুর চালান।

ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার রবগুল মোল্লাকে উপশম নার্সিং হোমে ভর্তি করা হয়। শনিবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে তাকে অস্ত্রোপচার কক্ষে নেওয়া হয়। সেখানে ক্লিনিকের মালিক ও সদর হাসপাতালের সার্জারি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এহসানুল হক তন্ময় অস্ত্রোপচার শুরু করেন। পরে বিকেল পৌনে সাতটার দিকে অপারেশন টেবিলেই তার মৃত্যু হয়।

নিহতের বোন সখিনা খাতুন অভিযোগ করে বলেন, ‘অস্ত্রোপচারের সময় চিকিৎসক ও অ্যানেসথেসিয়া চিকিৎসককে ছোটাছুটি করে থিয়েটার থেকে বের হয়ে চলে যেতে দেখা যায়। আমার ভাই হাসতে হাসতে অপারেশন থিয়েটারে ঢুকল, কিন্তু আর ফিরল না। আমরা এ মৃত্যুর বিচার চাই।’*-এদিকে ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং একপর্যায়ে তারা ক্লিনিকটিতে ভাঙচুর চালায়। ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে সাংবাদিকদের পেশাগত কাজে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ বাধা দিয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগের বিষয়ে চিকিৎসাক এহসানুল হক তন্ময় দাবি করেন, ‘যথাযথ চিকিৎসা প্রক্রিয়া মেনেই অপারেশন করা হয়েছে। তবে রোগীর মৃত্যুর পর স্বজনরা হামলা চালিয়ে আমাকে মারধরের চেষ্টা করলে স্টাফদের সহায়তায় আমি নিরাপদ স্থানে সরে যাই।’

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ রহমান জানান, এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে পৌঁছে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, "অ্যানেস্থেসিয়া দেওয়ার পর আর রোগীর জ্ঞান ফেরেনি। সিভিল সার্জনের সঙ্গে কথা হয়েছে, তদন্ত ও সুষ্ঠু সমাধান না হওয়া পর্যন্ত এই নার্সিং হোমের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি গঠন এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬


পিত্তথলির অপারেশনের সময় বিএনপি নেতার মৃত্যু, ক্লিনিক ভাঙচুর

প্রকাশের তারিখ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

চুয়াডাঙ্গা শহরের উপশম নার্সিং হোম ক্লিনিকে পিত্তথলিতে পাথর অস্ত্রোপচারের সময় রবগুল মোল্লা (৪৮) নামে এক বিএনপি নেতার মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। তিনি সদর উপজেলার পদ্মাবিলা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড (সুবদিয়া) বিএনপির সভাপতি ও সুবদিয়া গ্রামের খেজমত মোল্লার ছেলে।

চিকিৎসকের অবহেলায় মৃত্যুর অভিযোগ তুলে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত ক্লিনিক এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এ সময় ক্ষুব্ধ স্বজন ও স্থানীয়রা দু'দফায় ক্লিনিকে ভাঙচুর চালান।

ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার রবগুল মোল্লাকে উপশম নার্সিং হোমে ভর্তি করা হয়। শনিবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে তাকে অস্ত্রোপচার কক্ষে নেওয়া হয়। সেখানে ক্লিনিকের মালিক ও সদর হাসপাতালের সার্জারি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এহসানুল হক তন্ময় অস্ত্রোপচার শুরু করেন। পরে বিকেল পৌনে সাতটার দিকে অপারেশন টেবিলেই তার মৃত্যু হয়।

নিহতের বোন সখিনা খাতুন অভিযোগ করে বলেন, ‘অস্ত্রোপচারের সময় চিকিৎসক ও অ্যানেসথেসিয়া চিকিৎসককে ছোটাছুটি করে থিয়েটার থেকে বের হয়ে চলে যেতে দেখা যায়। আমার ভাই হাসতে হাসতে অপারেশন থিয়েটারে ঢুকল, কিন্তু আর ফিরল না। আমরা এ মৃত্যুর বিচার চাই।’*-এদিকে ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং একপর্যায়ে তারা ক্লিনিকটিতে ভাঙচুর চালায়। ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে সাংবাদিকদের পেশাগত কাজে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ বাধা দিয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগের বিষয়ে চিকিৎসাক এহসানুল হক তন্ময় দাবি করেন, ‘যথাযথ চিকিৎসা প্রক্রিয়া মেনেই অপারেশন করা হয়েছে। তবে রোগীর মৃত্যুর পর স্বজনরা হামলা চালিয়ে আমাকে মারধরের চেষ্টা করলে স্টাফদের সহায়তায় আমি নিরাপদ স্থানে সরে যাই।’

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ রহমান জানান, এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে পৌঁছে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, "অ্যানেস্থেসিয়া দেওয়ার পর আর রোগীর জ্ঞান ফেরেনি। সিভিল সার্জনের সঙ্গে কথা হয়েছে, তদন্ত ও সুষ্ঠু সমাধান না হওয়া পর্যন্ত এই নার্সিং হোমের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি গঠন এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত