সংবাদ

ব্রিকস সম্মেলন ও বাংলাদেশের কূটনৈতিক হিসাব


জিয়াউদ্দীন আহমেদ
জিয়াউদ্দীন আহমেদ
প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৯ পিএম

ব্রিকস সম্মেলন ও বাংলাদেশের কূটনৈতিক হিসাব
ব্রিকস সম্মেলন

১২-১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে অনুষ্ঠিত হলো ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন। ২০০৬ সালে ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত ও চীনের হাতে এই ফোরামের যাত্রা শুরু। ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা যোগ দিলে নাম হয় ব্রিকস। বর্তমানে সদস্য ১১টি—ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন, দক্ষিণ আফ্রিকা, মিশর, ইথিওপিয়া, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও ইন্দোনেশিয়া। এছাড়া ১০টি অংশীদার দেশ আছে—বেলারুশ, বলিভিয়া, কিউবা, কাজাখস্তান, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া, থাইল্যান্ড, উগান্ডা, উজবেকিস্তান ও ভিয়েতনাম। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘সহনশীলতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা ও টেকসই উন্নয়নের জন্য নির্মাণ’। এই জোট এখন বৈশ্বিক জিডিপির প্রায় ৪০ শতাংশ, জনসংখ্যার ৪৯ দশমিক ৫ শতাংশ ও বাণিজ্যের ২৬ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করে। বৈশ্বিক দক্ষিণের এই বৃহৎ সমাবেশে জাতিসংঘ মহাসচিব, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার প্রধানসহ আসিয়ান, আফ্রিকান ইউনিয়ন, লাতিন আমেরিকার সেলাক, উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ ও বিমসটেকের চেয়ারদের আমন্ত্রণ জানানো হয়।

সম্মেলনের মূল অর্জন যৌথ ঘোষণা। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ, ইরান-আমিরাত বৈরিতা এবং চীন-ভারত সীমান্তের টানাপোড়েনের মধ্যেও ‘নয়াদিল্লি ঘোষণা ২০২৬’ সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়েছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে সর্বোচ্চ সংযম, বেসামরিক অবকাঠামো ও শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার নিন্দা, গাজায় যুদ্ধবিরতি, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির বিরোধিতা, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান, বাছবিচারহীন শুল্ক ও একতরফা নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ও বিশ্বব্যাংকের সংস্কারের আহ্বান আছে। ঘোষণায় জাতিসংঘের কাঠামোগত সংস্কারের কথা বলা হয়েছে, যা পরোক্ষভাবে ভারত ও ব্রাজিলের নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্যপদের দাবির পক্ষে যায় এবং ভবিষ্যতে এ নিয়ে চীনের বাধা শিথিল হওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা যেতে পারে।

অর্থনৈতিক দিক থেকে ব্রিকস এখন পশ্চিমা আধিপত্যের বিকল্প তৈরির চেষ্টা করছে। আন্তঃব্যাংক লেনদেনের সুইফট নেটওয়ার্ক থেকে রাশিয়াকে বাদ দেওয়ার পর রাশিয়া ও চীন নিজস্ব বিকল্প নেটওয়ার্ক জোরদার করেছে। নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের মাধ্যমে স্থানীয় মুদ্রায় লেনদেন বাড়ানো, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে রক্ষিত বিভিন্ন দেশের অর্থ বাজেয়াপ্ত করার মতো ঘটনার পর রিজার্ভের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন ভাবনা এবং ডলারের ওপর নির্ভরতা কমানোর আলোচনা এবার জোর পেয়েছে। বাংলাদেশের জন্য এই আলোচনা প্রাসঙ্গিক, কারণ দেশের আমদানির বড় অংশ ডলারে পরিশোধ করতে হয়।

এই প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যোগদান না করা নিয়ে দুই ধরনের যুক্তি আছে। ভারত তাকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমন্ত্রণ জানায়নি, আমন্ত্রণ ছিল বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে। ঢাকার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর প্রথম ভারত সফর বহুপাক্ষিক অনুষ্ঠানের ফাঁকে হতে পারে না। আবার সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০২৩ সালের ২২-২৪ আগস্ট জোহানেসবার্গে ১৫তম ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্টের আমন্ত্রণে। ফলে এবার না যাওয়াকে অনেকে কূটনৈতিক শিষ্টাচারের প্রশ্ন হিসেবে দেখছেন।

কিন্তু না যাওয়ার পেছনে শুধু প্রটোকল নয়, দেশের ভেতরের রাজনীতিও কাজ করেছে। সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সচিবালয়ে বলেছেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক সহজীকরণের জন্য মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদেরসহ সব পলাতক আসামিকে ফেরত দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রও ১৬ আগস্ট বলেছেন, শেখ হাসিনাকে ফেরত না পাঠানো পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী ভারত সফর করবেন না বলে ভারতীয় হাইকমিশনারকে জানানো হয়েছে। বিরোধী রাজনীতিতেও ভারতবিরোধী সুর চড়া। জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি নিয়মিতভাবে কারণে-অকারণে ভারতের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করছে। এই চাপের মধ্যে ব্রিকসের মতো মঞ্চে গেলে সরকার দেশে সমালোচনার মুখে পড়ত, এমন আশঙ্কাও ছিল।

এখন প্রশ্ন হলো, এই সিদ্ধান্তে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কে বিরূপ প্রভাব পড়বে কি না। যোগ দিলে সাইডলাইনে ইরানের প্রেসিডেন্ট ও আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্সের মতো নেতাদের সঙ্গে বৈঠক, চীন-ভারতের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে করমর্দনের সুযোগ, নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক থেকে কম সুদে অর্থায়নের আলোচনা এবং সৌদি আরব, আমিরাত, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়ার মতো প্রভাবশালী মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ত। এসব দেশ আমেরিকার ঘনিষ্ঠ হয়েও ব্রিকসে আছে, তাই যোগ দিলে যুক্তরাষ্ট্র ক্ষুব্ধ হতো না। না যাওয়ায় সেই সুযোগ হাতছাড়া হলো। আবার দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও অনিশ্চিত হয়ে গেল, কারণ প্রত্যর্পণের শর্ত জুড়ে দেওয়ায় দিল্লি সহজে ইতিবাচক সাড়া দেবে না। গঙ্গা চুক্তির মেয়াদ ডিসেম্বর ২০২৬-এ শেষ হচ্ছে। তিস্তা ও সীমান্ত ইস্যুতে ওয়ান-টু-ওয়ান আলোচনা জরুরি। কিন্তু আলোচনার টেবিলে বসার পরিবেশ যদি প্রতিদিনের বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্যে নষ্ট হয়, তবে ক্ষতি শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশেরই।

ব্রিকসে বিমসটেক চেয়ার হিসেবে যোগ দিলে গুরুত্ব কমত, একথা ঠিক। কিন্তু একেবারে অনুপস্থিত থেকে একটি বড় বৈশ্বিক মঞ্চে নিজের অনুপস্থিতি জানান দেওয়াও কৌশলগত ক্ষতি। প্রত্যর্পণের দাবি থাকতেই পারে, কিন্তু সেই দাবিকে ভারত সফরের পূর্বশর্ত বানালে সম্পর্ক এগোবে কীভাবে? ভারতবিরোধিতা দিয়ে অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হয়তো হাততালি পাওয়া যায়, কিন্তু প্রতিবেশীর সঙ্গে পানি, সীমান্ত, বাণিজ্য ও জ্বালানির মতো বাস্তব সমস্যার সমাধান হয় না। বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য চলতে থাকলে সুসম্পর্কের পথ আরও কঠিন হবে। বাংলাদেশের এখন প্রয়োজন আবেগ নয়, হিসাবি কূটনীতি—যেখানে প্রতিবাদ থাকবে, কিন্তু দরজা বন্ধ হবে না।

(লেখকের নিজস্ব মত)

লেখক: সাবেক নির্বাহী পরিচালক, বাংলাদেশ ব্যাংক

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ব্রিকস সম্মেলন ও বাংলাদেশের কূটনৈতিক হিসাব

প্রকাশের তারিখ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

১২-১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে অনুষ্ঠিত হলো ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন। ২০০৬ সালে ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত ও চীনের হাতে এই ফোরামের যাত্রা শুরু। ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা যোগ দিলে নাম হয় ব্রিকস। বর্তমানে সদস্য ১১টি—ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন, দক্ষিণ আফ্রিকা, মিশর, ইথিওপিয়া, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও ইন্দোনেশিয়া। এছাড়া ১০টি অংশীদার দেশ আছে—বেলারুশ, বলিভিয়া, কিউবা, কাজাখস্তান, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া, থাইল্যান্ড, উগান্ডা, উজবেকিস্তান ও ভিয়েতনাম। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘সহনশীলতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা ও টেকসই উন্নয়নের জন্য নির্মাণ’। এই জোট এখন বৈশ্বিক জিডিপির প্রায় ৪০ শতাংশ, জনসংখ্যার ৪৯ দশমিক ৫ শতাংশ ও বাণিজ্যের ২৬ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করে। বৈশ্বিক দক্ষিণের এই বৃহৎ সমাবেশে জাতিসংঘ মহাসচিব, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার প্রধানসহ আসিয়ান, আফ্রিকান ইউনিয়ন, লাতিন আমেরিকার সেলাক, উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ ও বিমসটেকের চেয়ারদের আমন্ত্রণ জানানো হয়।

সম্মেলনের মূল অর্জন যৌথ ঘোষণা। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ, ইরান-আমিরাত বৈরিতা এবং চীন-ভারত সীমান্তের টানাপোড়েনের মধ্যেও ‘নয়াদিল্লি ঘোষণা ২০২৬’ সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়েছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে সর্বোচ্চ সংযম, বেসামরিক অবকাঠামো ও শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার নিন্দা, গাজায় যুদ্ধবিরতি, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির বিরোধিতা, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান, বাছবিচারহীন শুল্ক ও একতরফা নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ও বিশ্বব্যাংকের সংস্কারের আহ্বান আছে। ঘোষণায় জাতিসংঘের কাঠামোগত সংস্কারের কথা বলা হয়েছে, যা পরোক্ষভাবে ভারত ও ব্রাজিলের নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্যপদের দাবির পক্ষে যায় এবং ভবিষ্যতে এ নিয়ে চীনের বাধা শিথিল হওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা যেতে পারে।

অর্থনৈতিক দিক থেকে ব্রিকস এখন পশ্চিমা আধিপত্যের বিকল্প তৈরির চেষ্টা করছে। আন্তঃব্যাংক লেনদেনের সুইফট নেটওয়ার্ক থেকে রাশিয়াকে বাদ দেওয়ার পর রাশিয়া ও চীন নিজস্ব বিকল্প নেটওয়ার্ক জোরদার করেছে। নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের মাধ্যমে স্থানীয় মুদ্রায় লেনদেন বাড়ানো, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে রক্ষিত বিভিন্ন দেশের অর্থ বাজেয়াপ্ত করার মতো ঘটনার পর রিজার্ভের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন ভাবনা এবং ডলারের ওপর নির্ভরতা কমানোর আলোচনা এবার জোর পেয়েছে। বাংলাদেশের জন্য এই আলোচনা প্রাসঙ্গিক, কারণ দেশের আমদানির বড় অংশ ডলারে পরিশোধ করতে হয়।

এই প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যোগদান না করা নিয়ে দুই ধরনের যুক্তি আছে। ভারত তাকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমন্ত্রণ জানায়নি, আমন্ত্রণ ছিল বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে। ঢাকার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর প্রথম ভারত সফর বহুপাক্ষিক অনুষ্ঠানের ফাঁকে হতে পারে না। আবার সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০২৩ সালের ২২-২৪ আগস্ট জোহানেসবার্গে ১৫তম ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্টের আমন্ত্রণে। ফলে এবার না যাওয়াকে অনেকে কূটনৈতিক শিষ্টাচারের প্রশ্ন হিসেবে দেখছেন।

কিন্তু না যাওয়ার পেছনে শুধু প্রটোকল নয়, দেশের ভেতরের রাজনীতিও কাজ করেছে। সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সচিবালয়ে বলেছেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক সহজীকরণের জন্য মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদেরসহ সব পলাতক আসামিকে ফেরত দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রও ১৬ আগস্ট বলেছেন, শেখ হাসিনাকে ফেরত না পাঠানো পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী ভারত সফর করবেন না বলে ভারতীয় হাইকমিশনারকে জানানো হয়েছে। বিরোধী রাজনীতিতেও ভারতবিরোধী সুর চড়া। জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি নিয়মিতভাবে কারণে-অকারণে ভারতের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করছে। এই চাপের মধ্যে ব্রিকসের মতো মঞ্চে গেলে সরকার দেশে সমালোচনার মুখে পড়ত, এমন আশঙ্কাও ছিল।

এখন প্রশ্ন হলো, এই সিদ্ধান্তে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কে বিরূপ প্রভাব পড়বে কি না। যোগ দিলে সাইডলাইনে ইরানের প্রেসিডেন্ট ও আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্সের মতো নেতাদের সঙ্গে বৈঠক, চীন-ভারতের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে করমর্দনের সুযোগ, নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক থেকে কম সুদে অর্থায়নের আলোচনা এবং সৌদি আরব, আমিরাত, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়ার মতো প্রভাবশালী মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ত। এসব দেশ আমেরিকার ঘনিষ্ঠ হয়েও ব্রিকসে আছে, তাই যোগ দিলে যুক্তরাষ্ট্র ক্ষুব্ধ হতো না। না যাওয়ায় সেই সুযোগ হাতছাড়া হলো। আবার দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও অনিশ্চিত হয়ে গেল, কারণ প্রত্যর্পণের শর্ত জুড়ে দেওয়ায় দিল্লি সহজে ইতিবাচক সাড়া দেবে না। গঙ্গা চুক্তির মেয়াদ ডিসেম্বর ২০২৬-এ শেষ হচ্ছে। তিস্তা ও সীমান্ত ইস্যুতে ওয়ান-টু-ওয়ান আলোচনা জরুরি। কিন্তু আলোচনার টেবিলে বসার পরিবেশ যদি প্রতিদিনের বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্যে নষ্ট হয়, তবে ক্ষতি শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশেরই।

ব্রিকসে বিমসটেক চেয়ার হিসেবে যোগ দিলে গুরুত্ব কমত, একথা ঠিক। কিন্তু একেবারে অনুপস্থিত থেকে একটি বড় বৈশ্বিক মঞ্চে নিজের অনুপস্থিতি জানান দেওয়াও কৌশলগত ক্ষতি। প্রত্যর্পণের দাবি থাকতেই পারে, কিন্তু সেই দাবিকে ভারত সফরের পূর্বশর্ত বানালে সম্পর্ক এগোবে কীভাবে? ভারতবিরোধিতা দিয়ে অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হয়তো হাততালি পাওয়া যায়, কিন্তু প্রতিবেশীর সঙ্গে পানি, সীমান্ত, বাণিজ্য ও জ্বালানির মতো বাস্তব সমস্যার সমাধান হয় না। বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য চলতে থাকলে সুসম্পর্কের পথ আরও কঠিন হবে। বাংলাদেশের এখন প্রয়োজন আবেগ নয়, হিসাবি কূটনীতি—যেখানে প্রতিবাদ থাকবে, কিন্তু দরজা বন্ধ হবে না।

(লেখকের নিজস্ব মত)

লেখক: সাবেক নির্বাহী পরিচালক, বাংলাদেশ ব্যাংক


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত