সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ফিরতে ইরানের একগুচ্ছ কঠোর শর্ত


সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:০২ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ফিরতে ইরানের একগুচ্ছ কঠোর শর্ত
ছবি : সংগৃহীত

দীর্ঘদিনের বৈরিতা কাটিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনায় ফিরতে কড়া কিছু শর্ত বেঁধে দিয়েছে ইরান। মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতারের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে এসব শর্তের বার্তা পাঠানো হয়েছে। সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক গণমাধ্যম আল-জাজিরাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি মহসিন রেজাই।

মহসিন রেজাই জানান, কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তাদের এই দাবিগুলো ওয়াশিংটনের কাছে পৌঁছানো হয়েছে। যুদ্ধবিরতি ও আলোচনার টেবিলে বসার জন্য ইরান তিনটি মূল শর্ত দিয়েছে:

১. সব কটি যুদ্ধক্ষেত্রে স্থায়ীভাবে হামলা বন্ধ করা,

২. যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আটকে থাকা ইরানের সমস্ত বাজেয়াপ্ত সম্পদ দ্রুত মুক্ত করা, এবং

৩. ইরানের ওপর চাপানো নৌ-অবরোধ অবিলম্বে প্রত্যাহার করা।

রেজাই স্পষ্ট ভাষায় জানান, ওয়াশিংটন এসব শর্ত মেনে নিলেই কেবল তারা পরবর্তী ধাপের সংলাপে অংশ নেবে। তিনি বলেন, চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাত থেকে সম্মানজনকভাবে বেরিয়ে আসার জন্য এই প্রস্তাব মেনে নেওয়াই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বুদ্ধিমানের কাজ হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকি উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ভয় দেখিয়ে ইরানকে নতিস্বীকার করানো যাবে না। এমনকি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের জন্য তেহরান পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

কূটনৈতিক পর্যালোচনায় রেজাই দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সমঝোতা স্মারক থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত ছিল এক চরম ভুল। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর উসকানিতে পড়েই ট্রাম্প প্রশাসন এই যুদ্ধে জড়িয়েছে। তবে মার্কিন সামরিক বাহিনীর দুর্বলতা ইরান ভালোভাবেই জানে। যেকোনো ধরনের বিমান হামলা প্রতিহত করতে তেহরান এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, সম্প্রতি মার্কিন বিমানবাহী রণতরীর কাছাকাছি দূরত্বের সমুদ্রে জাহাজবিধ্বংসী অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে ইরানি বাহিনী।

তিনি হুঁশিয়ারি দেন, ইরানে কোনো ধরনের আগ্রাসন চালানো হলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত সব মার্কিন ঘাঁটি এবং ওয়াশিংটনের স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে দ্বিগুণ শক্তিতে পাল্টা আঘাত হানা হবে।

অন্যদিকে সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের চলমান দ্বন্দ্ব নিয়ে রেজাই বলেন, ইরান এই সংঘাতের স্থায়ী অবসান চায়। কূটনৈতিক চুক্তির মাধ্যমেই হুতিরা এই লড়াইয়ের ইতি টানতে আগ্রহী বলে মনে করে তেহরান।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬


যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ফিরতে ইরানের একগুচ্ছ কঠোর শর্ত

প্রকাশের তারিখ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

দীর্ঘদিনের বৈরিতা কাটিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনায় ফিরতে কড়া কিছু শর্ত বেঁধে দিয়েছে ইরান। মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতারের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে এসব শর্তের বার্তা পাঠানো হয়েছে। সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক গণমাধ্যম আল-জাজিরাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি মহসিন রেজাই।

মহসিন রেজাই জানান, কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তাদের এই দাবিগুলো ওয়াশিংটনের কাছে পৌঁছানো হয়েছে। যুদ্ধবিরতি ও আলোচনার টেবিলে বসার জন্য ইরান তিনটি মূল শর্ত দিয়েছে:

১. সব কটি যুদ্ধক্ষেত্রে স্থায়ীভাবে হামলা বন্ধ করা,

২. যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আটকে থাকা ইরানের সমস্ত বাজেয়াপ্ত সম্পদ দ্রুত মুক্ত করা, এবং

৩. ইরানের ওপর চাপানো নৌ-অবরোধ অবিলম্বে প্রত্যাহার করা।

রেজাই স্পষ্ট ভাষায় জানান, ওয়াশিংটন এসব শর্ত মেনে নিলেই কেবল তারা পরবর্তী ধাপের সংলাপে অংশ নেবে। তিনি বলেন, চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাত থেকে সম্মানজনকভাবে বেরিয়ে আসার জন্য এই প্রস্তাব মেনে নেওয়াই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বুদ্ধিমানের কাজ হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকি উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ভয় দেখিয়ে ইরানকে নতিস্বীকার করানো যাবে না। এমনকি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের জন্য তেহরান পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

কূটনৈতিক পর্যালোচনায় রেজাই দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সমঝোতা স্মারক থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত ছিল এক চরম ভুল। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর উসকানিতে পড়েই ট্রাম্প প্রশাসন এই যুদ্ধে জড়িয়েছে। তবে মার্কিন সামরিক বাহিনীর দুর্বলতা ইরান ভালোভাবেই জানে। যেকোনো ধরনের বিমান হামলা প্রতিহত করতে তেহরান এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, সম্প্রতি মার্কিন বিমানবাহী রণতরীর কাছাকাছি দূরত্বের সমুদ্রে জাহাজবিধ্বংসী অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে ইরানি বাহিনী।

তিনি হুঁশিয়ারি দেন, ইরানে কোনো ধরনের আগ্রাসন চালানো হলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত সব মার্কিন ঘাঁটি এবং ওয়াশিংটনের স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে দ্বিগুণ শক্তিতে পাল্টা আঘাত হানা হবে।

অন্যদিকে সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের চলমান দ্বন্দ্ব নিয়ে রেজাই বলেন, ইরান এই সংঘাতের স্থায়ী অবসান চায়। কূটনৈতিক চুক্তির মাধ্যমেই হুতিরা এই লড়াইয়ের ইতি টানতে আগ্রহী বলে মনে করে তেহরান।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত