কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র শিক্ষক সংকট চলছে। উপজেলার ১১৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের মোট ১২১টি পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে প্রধান শিক্ষকের ৫৫টি এবং সহকারী শিক্ষকের ৬৬টি পদ খালি। শূন্য পদে নিয়মিত নিয়োগ না থাকায় বাধ্য হয়ে অনেক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকেরা ভারপ্রাপ্ত বা চলতি দায়িত্বে প্রধান শিক্ষকের ভূমিকা পালন করছেন। এতে দাপ্তরিক কাজ এবং শ্রেণিকক্ষে পাঠদান–দুই দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে অতিরিক্ত মানসিক ও শারীরিক চাপের মুখে পড়ছেন শিক্ষকেরা।
উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, কটিয়াদী পৌরসভাসহ উপজেলার নয়টি ইউনিয়নের বিদ্যালয়গুলোর একটি বড় অংশে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষকের পদ খালি। একই সঙ্গে সহকারী শিক্ষকের পদেও রয়েছে বড় ধরনের শূন্যতা। শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের নিয়মিত দাপ্তরিক কাজ, সভা, কাগজপত্র প্রস্তুত ও প্রশাসনিক কাজে অনেকটা সময় দিতে হয়। ফলে নির্ধারিত ক্লাসে তারা অংশ নিতে পারেন না। তখন সেই ক্লাসগুলো নেওয়ার জন্য অন্য শিক্ষকদের ওপর বাড়তি দায়িত্ব চাপাতে হয়, যা সার্বিক শিক্ষা কার্যক্রমে প্রভাব ফেলছে।
চরপুখুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চলতি দায়িত্বে থাকা প্রধান শিক্ষক জামাল উদ্দিন জানান, প্রায় আট বছর ধরে তিনি এই দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। তার মতে, দীর্ঘদিন ধরে যারা ভারপ্রাপ্ত হিসেবে কাজ করছেন, তাদের পদোন্নতি দ্রুত সম্পন্ন হলে বিদ্যালয় পরিচালনায় স্বস্তি ফিরবে।
শিমুলকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তারেক হোসেন বলেন, প্রশাসনিক ব্যস্ততার কারণে অনেক সময় নিজের নির্ধারিত ক্লাস নেওয়া সম্ভব হয় না। তখন অন্য শিক্ষকদের ওপর নির্ভর করতে হয়। আবার বোয়ালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তন্ময় সাহা জানান, প্রধান শিক্ষক না থাকায় নিয়মিত ক্লাসের বাইরে অতিরিক্ত ক্লাস নিতে গিয়ে পাঠ পরিকল্পনা অনুযায়ী পড়ালেখার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।
কটিয়াদী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম তালুকদার জানান, শূন্য পদের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। অতি দ্রুতই কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রাথমিক শিক্ষার মান ধরে রাখতে এবং বিদ্যালয়গুলোর দাপ্তরিক কাজে গতি আনতে দ্রুত শূন্য পদগুলোতে নিয়োগ এবং চলতি দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের পদোন্নতির বিষয়টি নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন।

সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র শিক্ষক সংকট চলছে। উপজেলার ১১৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের মোট ১২১টি পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে প্রধান শিক্ষকের ৫৫টি এবং সহকারী শিক্ষকের ৬৬টি পদ খালি। শূন্য পদে নিয়মিত নিয়োগ না থাকায় বাধ্য হয়ে অনেক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকেরা ভারপ্রাপ্ত বা চলতি দায়িত্বে প্রধান শিক্ষকের ভূমিকা পালন করছেন। এতে দাপ্তরিক কাজ এবং শ্রেণিকক্ষে পাঠদান–দুই দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে অতিরিক্ত মানসিক ও শারীরিক চাপের মুখে পড়ছেন শিক্ষকেরা।
উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, কটিয়াদী পৌরসভাসহ উপজেলার নয়টি ইউনিয়নের বিদ্যালয়গুলোর একটি বড় অংশে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষকের পদ খালি। একই সঙ্গে সহকারী শিক্ষকের পদেও রয়েছে বড় ধরনের শূন্যতা। শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের নিয়মিত দাপ্তরিক কাজ, সভা, কাগজপত্র প্রস্তুত ও প্রশাসনিক কাজে অনেকটা সময় দিতে হয়। ফলে নির্ধারিত ক্লাসে তারা অংশ নিতে পারেন না। তখন সেই ক্লাসগুলো নেওয়ার জন্য অন্য শিক্ষকদের ওপর বাড়তি দায়িত্ব চাপাতে হয়, যা সার্বিক শিক্ষা কার্যক্রমে প্রভাব ফেলছে।
চরপুখুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চলতি দায়িত্বে থাকা প্রধান শিক্ষক জামাল উদ্দিন জানান, প্রায় আট বছর ধরে তিনি এই দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। তার মতে, দীর্ঘদিন ধরে যারা ভারপ্রাপ্ত হিসেবে কাজ করছেন, তাদের পদোন্নতি দ্রুত সম্পন্ন হলে বিদ্যালয় পরিচালনায় স্বস্তি ফিরবে।
শিমুলকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তারেক হোসেন বলেন, প্রশাসনিক ব্যস্ততার কারণে অনেক সময় নিজের নির্ধারিত ক্লাস নেওয়া সম্ভব হয় না। তখন অন্য শিক্ষকদের ওপর নির্ভর করতে হয়। আবার বোয়ালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তন্ময় সাহা জানান, প্রধান শিক্ষক না থাকায় নিয়মিত ক্লাসের বাইরে অতিরিক্ত ক্লাস নিতে গিয়ে পাঠ পরিকল্পনা অনুযায়ী পড়ালেখার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।
কটিয়াদী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম তালুকদার জানান, শূন্য পদের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। অতি দ্রুতই কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রাথমিক শিক্ষার মান ধরে রাখতে এবং বিদ্যালয়গুলোর দাপ্তরিক কাজে গতি আনতে দ্রুত শূন্য পদগুলোতে নিয়োগ এবং চলতি দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের পদোন্নতির বিষয়টি নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন।

আপনার মতামত লিখুন