আইনে যেসব দায়িত্ব বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনকে (বিইআরসি) দেওয়া হয়েছে, নানা জটিলতায় সেগুলো পুরোপুরি পালন করতে পারছে না কমিশন।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকার রমনায় বিইআরসি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সেমিনারে এমন মন্তব্য করেছেন বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ।
তিনি বলেছেন, “আইনে যেসব দায়িত্ব বিইআরসিকে দেওয়া হয়েছে, সেগুলো পুরোপুরি পালন করা হচ্ছে না। বড় একটি বিষয় রয়েছে এনার্জি অডিটিং।”
উদাহরণ তুলে ধরে বিইআরসি চেয়ারম্যান বলেন, গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর মধ্যে অনেক তারতম্য রয়েছে। একই পরিমাণ গ্যাস দিয়ে কোনটি অনেক বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে; কোনটি তুলনামূলক কম বিদ্যুৎ উৎপাদন করে।
তিনি বলেন, “অডিটিংয়ের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা গেলে রাষ্ট্রের অনেক সাশ্রয় হতো। আমরা বিদ্যমান গ্যাস দিয়েই অনেক বেশি উৎপাদন পেতে পারতাম। শুধু বিদ্যুৎ কেন্দ্র নয়, শিল্প কারখানার ক্ষেত্রেও এই কথা প্রযোজ্য। এখানে আমাদের অর্জন নেই।”
জালাল আহমেদ বলেন, “আমরা যদি এনার্জি অডিট নিশ্চিত করতে পারতাম, তাহলে বলতে পারতাম, কোন কোম্পানি কোন মেশিন ভালো। এখানে সংকট হচ্ছে, আমাদের পরীক্ষাগার নেই, একটি জমি পাওয়া গেছে, সেখানে পরীক্ষাগার করা হবে।”
বিইআরসি চেয়ারম্যান আরো বলেন, “আইনে বলা আছে প্রকল্প অনুমোদন দেবে বিইআরসি। এই কাজটি কখনও করা হয়নি, আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর সব সংস্থাকে চিঠি দিয়েছি পূর্বানুমোদন নেওয়ার জন্য। ইতোমধ্যে একটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কারণ প্রকল্প বাস্তবায়ন শেষে তার প্রভাব মূল্যের উপর পড়ে। সে কারণে বিইআরসি যাচাই করে দেখবে তার প্রয়োজনীয়তা কতটুকু, এতে ভোক্তার কি কাজে আসবে। এসব যাচাই করে প্রকল্প অনুমোদন দেবে বিইআরসি। এখনও সব প্রকল্প আসছে না।”
আগামী এপ্রিল থেকে বিইআরসির লাইসেন্সিং পুরোপুরি অনলাইন হয়ে যাবে জানিয়ে তিনি বলেন, এতে করে রিপোর্ট জেনারেশনসহ অনেককিছু সহজ হয়ে যাবে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে বিইআরসি চেয়ারম্যান বলেন, “আপনারা আমাদের ভুলত্রুটি ধরিয়ে দিচ্ছেন। আপনাদের লেখনীর মাধ্যমে খাত সম্পর্কে জানতে পারছি। এতে এই খাত অনেক উপকৃত হচ্ছে। ইরান যুদ্ধের কারণে বর্তমান সময়টি খুবই চ্যালেঞ্জিং। আগামী মাসগুলো আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এখানে সকলের ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস দরকার।”
২০০৩ সালে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন আইন পাশের মাধ্যমে নিরপেক্ষ ও আধাবিচারিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিইআরসি গঠন করা হয়। প্রতিষ্ঠানটি আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে ২০০৯ সালে। এ পর্যন্ত ১৩টি প্রবিধানমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। এর একটি মাত্র অনুমোদিত হয়েছে, ১২টি প্রবিধানমালা এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ঝুলে আছে।
আইনে বলা হয়েছে সকল ধরণের এনার্জির মূল্য নির্ধারণ করবে বিইআরসি। ৩৪(৩) ধারায় বলা হয়েছে বিইআরসি প্রবিধানমালা প্রণয়ন করবে। তবে শর্ত থাকে যে, প্রবিধানমালা প্রণয়ন না করা পর্যন্ত সরকার প্রজ্ঞাপন দ্বারা নির্ধারণ করতে পারবে।
প্রবিধানমালা ঝুলে থাকায় শুধুমাত্র গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ করে আসছিল বিইআরসি। ২০২৩ সালে হঠাৎ করেই আইন সংশোধন করে নির্বাহী আদেশে দাম সমন্বয় (কম/বেশি) করার বিধান যুক্ত করা হয়। তারপর থেকে সরকার নির্বাহী আদেশে গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ করায় কার্যত বেকার হয়ে পড়ে রেগুলেটরি কমিশন।
মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার আইনে সংশোধনী এনে কিছু ক্ষমতা বিইআরসিকে ফিরিয়ে দিলেও জ্বালানি তেলের বিষয়টি বিগত সরকারের মতো হাতে রেখে দেয়। পেট্রোলিয়ামের বিধিমালা অনুমোদন না হওয়ায় এখনো প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণ করছে সরকার।
সেমিনারে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিইআরসির সদস্য ব্রিগে. জেনারেল মোহাম্মদ শাহিদ সারওয়ার (অব.), মো. মিজানুর রহমান, ড. সৈয়দা সুলতানা রাজিয়া, বিইআরসি সচিব মো. নজরুল ইসলাম সরকার প্রমুখ।

মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আইনে যেসব দায়িত্ব বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনকে (বিইআরসি) দেওয়া হয়েছে, নানা জটিলতায় সেগুলো পুরোপুরি পালন করতে পারছে না কমিশন।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকার রমনায় বিইআরসি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সেমিনারে এমন মন্তব্য করেছেন বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ।
তিনি বলেছেন, “আইনে যেসব দায়িত্ব বিইআরসিকে দেওয়া হয়েছে, সেগুলো পুরোপুরি পালন করা হচ্ছে না। বড় একটি বিষয় রয়েছে এনার্জি অডিটিং।”
উদাহরণ তুলে ধরে বিইআরসি চেয়ারম্যান বলেন, গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর মধ্যে অনেক তারতম্য রয়েছে। একই পরিমাণ গ্যাস দিয়ে কোনটি অনেক বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে; কোনটি তুলনামূলক কম বিদ্যুৎ উৎপাদন করে।
তিনি বলেন, “অডিটিংয়ের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা গেলে রাষ্ট্রের অনেক সাশ্রয় হতো। আমরা বিদ্যমান গ্যাস দিয়েই অনেক বেশি উৎপাদন পেতে পারতাম। শুধু বিদ্যুৎ কেন্দ্র নয়, শিল্প কারখানার ক্ষেত্রেও এই কথা প্রযোজ্য। এখানে আমাদের অর্জন নেই।”
জালাল আহমেদ বলেন, “আমরা যদি এনার্জি অডিট নিশ্চিত করতে পারতাম, তাহলে বলতে পারতাম, কোন কোম্পানি কোন মেশিন ভালো। এখানে সংকট হচ্ছে, আমাদের পরীক্ষাগার নেই, একটি জমি পাওয়া গেছে, সেখানে পরীক্ষাগার করা হবে।”
বিইআরসি চেয়ারম্যান আরো বলেন, “আইনে বলা আছে প্রকল্প অনুমোদন দেবে বিইআরসি। এই কাজটি কখনও করা হয়নি, আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর সব সংস্থাকে চিঠি দিয়েছি পূর্বানুমোদন নেওয়ার জন্য। ইতোমধ্যে একটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কারণ প্রকল্প বাস্তবায়ন শেষে তার প্রভাব মূল্যের উপর পড়ে। সে কারণে বিইআরসি যাচাই করে দেখবে তার প্রয়োজনীয়তা কতটুকু, এতে ভোক্তার কি কাজে আসবে। এসব যাচাই করে প্রকল্প অনুমোদন দেবে বিইআরসি। এখনও সব প্রকল্প আসছে না।”
আগামী এপ্রিল থেকে বিইআরসির লাইসেন্সিং পুরোপুরি অনলাইন হয়ে যাবে জানিয়ে তিনি বলেন, এতে করে রিপোর্ট জেনারেশনসহ অনেককিছু সহজ হয়ে যাবে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে বিইআরসি চেয়ারম্যান বলেন, “আপনারা আমাদের ভুলত্রুটি ধরিয়ে দিচ্ছেন। আপনাদের লেখনীর মাধ্যমে খাত সম্পর্কে জানতে পারছি। এতে এই খাত অনেক উপকৃত হচ্ছে। ইরান যুদ্ধের কারণে বর্তমান সময়টি খুবই চ্যালেঞ্জিং। আগামী মাসগুলো আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এখানে সকলের ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস দরকার।”
২০০৩ সালে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন আইন পাশের মাধ্যমে নিরপেক্ষ ও আধাবিচারিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিইআরসি গঠন করা হয়। প্রতিষ্ঠানটি আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে ২০০৯ সালে। এ পর্যন্ত ১৩টি প্রবিধানমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। এর একটি মাত্র অনুমোদিত হয়েছে, ১২টি প্রবিধানমালা এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ঝুলে আছে।
আইনে বলা হয়েছে সকল ধরণের এনার্জির মূল্য নির্ধারণ করবে বিইআরসি। ৩৪(৩) ধারায় বলা হয়েছে বিইআরসি প্রবিধানমালা প্রণয়ন করবে। তবে শর্ত থাকে যে, প্রবিধানমালা প্রণয়ন না করা পর্যন্ত সরকার প্রজ্ঞাপন দ্বারা নির্ধারণ করতে পারবে।
প্রবিধানমালা ঝুলে থাকায় শুধুমাত্র গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ করে আসছিল বিইআরসি। ২০২৩ সালে হঠাৎ করেই আইন সংশোধন করে নির্বাহী আদেশে দাম সমন্বয় (কম/বেশি) করার বিধান যুক্ত করা হয়। তারপর থেকে সরকার নির্বাহী আদেশে গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ করায় কার্যত বেকার হয়ে পড়ে রেগুলেটরি কমিশন।
মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার আইনে সংশোধনী এনে কিছু ক্ষমতা বিইআরসিকে ফিরিয়ে দিলেও জ্বালানি তেলের বিষয়টি বিগত সরকারের মতো হাতে রেখে দেয়। পেট্রোলিয়ামের বিধিমালা অনুমোদন না হওয়ায় এখনো প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণ করছে সরকার।
সেমিনারে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিইআরসির সদস্য ব্রিগে. জেনারেল মোহাম্মদ শাহিদ সারওয়ার (অব.), মো. মিজানুর রহমান, ড. সৈয়দা সুলতানা রাজিয়া, বিইআরসি সচিব মো. নজরুল ইসলাম সরকার প্রমুখ।

আপনার মতামত লিখুন