সংবাদ

ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র রক্ষায় কঠোর অবস্থানে ‘ইন্ডিয়া’ জোট


দীপক মুখার্জী, কলকাতা
দীপক মুখার্জী, কলকাতা
প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩৪ পিএম

ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র রক্ষায় কঠোর অবস্থানে ‘ইন্ডিয়া’ জোট

  • মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে নভেম্বর পর্যন্ত লাগাতার আন্দোলনের ডাক

​দেশের নির্বাচন ব্যবস্থা ও ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া ঘিরে চলমান বিতর্ক এবার তীব্র রাজনৈতিক সংঘাতের রূপ নিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ পদ্ধতি, 'বিশেষ নিবিড় সংশোধন' বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা নিয়ে বিরোধীদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ অবশেষে এক অভিন্ন আন্দোলনের রূপরেখা পেয়েছে।
বুধবার নয়াদিল্লিতে বিরোধীদের 'ইন্ডিয়া' (INDIA) জোটের সাড়ে তিন ঘণ্টাব্যাপী এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সবকটি শরিক দলের নেতারা নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেন এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে একজোট হয়ে মাঠপর্যায়ে লড়াইয়ে নামার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন।
​বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ২ অক্টোবর থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের প্রতিটি জেলায় 'সেভ ডেমোক্রেসি মার্চ' বা 'গণতন্ত্র বাঁচাও পদযাত্রা' কর্মসূচি পালন করবে জোটটি। জেলা স্তরে মিছিল, বিক্ষোভ প্রদর্শনের পাশাপাশি সব জেলাশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে।
বিরোধীদের মূল লক্ষ্য হলো, ভোটার তালিকার অনিয়ম ও নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রশ্নগুলোকে দিল্লির রাজনৈতিক চত্বরে সীমাবদ্ধ না রেখে সরাসরি সাধারণ মানুষের দোড়গোড়ায় নিয়ে যাওয়া। এর পরপরই আগামী ৬ অক্টোবর জোটের সকল বিরোধী সংসদ সদস্য একত্রিত হয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনের অভিমুখে পদযাত্রা করবেন এবং কমিশনের কাছে সরাসরি স্মারকলিপি প্রদান করবেন। বিরোধী নেতাদের বক্তব্যে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অবিলম্বে পদত্যাগের বিষয়টি জোরালোভাবে উঠে এসেছে।
​রাস্তার আন্দোলনের পাশাপাশি বিষয়টি সাংবিধানিক ও আইনি কাঠামোর মধ্যে নিয়ে যাওয়ার সুনির্দিষ্ট কৌশলও নির্ধারণ করেছে ইন্ডিয়া জোট। অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে বিরোধী দলের শীর্ষ নেতারা রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য সময় চাইবেন। রাষ্ট্রপতির সাথে বৈঠকে দেশের নির্বাচন প্রক্রিয়া, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা এবং ভোটার তালিকা নিয়ে বিরোধীদের গভীর উদ্বেগের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে। এছাড়া, এসআইআর ও ভোটার তালিকা সংক্রান্ত যেসব মামলা বর্তমানে আদালতে ঝুলে রয়েছে, সেগুলোর দ্রুত শুনানির আবেদন নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
​আগামী নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিজেদের আন্দোলনকে ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে নেওয়ার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছেন বিরোধী নেতারা। আগামী ১ নভেম্বর রাজধানী দিল্লিতে একটি মহাসমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে।
আগে যেখানে ভোটার তালিকা সংশোধন কিংবা কমিশনের ভূমিকা নিয়ে দলগুলো আলাদাভাবে প্রতিবাদ করছিল, বুধবারের এই বৈঠকের মাধ্যমে সেই বিচ্ছিন্ন ক্ষোভগুলোকে একটি একক ও সমন্বিত জাতীয় আন্দোলনের রূপ দেওয়া হলো। জেলাপর্যায়ের পদযাত্রা থেকে শুরু করে কমিশন ঘেরাও, রাষ্ট্রপতির কাছে প্রতিনিধি দল পাঠানো এবং দিল্লির বিশাল সমাবেশ, সব মিলিয়ে একটি পরিকল্পিত আন্দোলনের ছক এঁকেছে তারা।
​বিরোধী শিবিরের স্পষ্ট বক্তব্য, দেশের প্রতিটি নাগরিকের ভোটাধিকার এবং পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব। তাই যেকোনো অনিয়মের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনকে জবাবদিহি করতে হবে।
অন্যদিকে, সরকার ও ক্ষমতাসীন বিজেপি বিরোধীদের এসব অভিযোগকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিয়েছে এবং পাল্টা প্রশ্ন তুলেছে। এর ফলে পুরো বিষয়টি এখন আর কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা কমিশনের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং এটি দেশের সামগ্রিক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষার লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে।
আগামী দিনে আদালতের আইনি পদক্ষেপ এবং কমিশন ও কেন্দ্রীয় সরকারের অবস্থানের ওপর ভিত্তি করেই রাজনৈতিক অঙ্গনের এই উত্তাপ নতুন মোড় নেবে বলে মনে করছেন রাজনীতি বিশ্লেষকরা।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র রক্ষায় কঠোর অবস্থানে ‘ইন্ডিয়া’ জোট

প্রকাশের তারিখ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

  • মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে নভেম্বর পর্যন্ত লাগাতার আন্দোলনের ডাক

​দেশের নির্বাচন ব্যবস্থা ও ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া ঘিরে চলমান বিতর্ক এবার তীব্র রাজনৈতিক সংঘাতের রূপ নিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ পদ্ধতি, 'বিশেষ নিবিড় সংশোধন' বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা নিয়ে বিরোধীদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ অবশেষে এক অভিন্ন আন্দোলনের রূপরেখা পেয়েছে।
বুধবার নয়াদিল্লিতে বিরোধীদের 'ইন্ডিয়া' (INDIA) জোটের সাড়ে তিন ঘণ্টাব্যাপী এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সবকটি শরিক দলের নেতারা নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেন এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে একজোট হয়ে মাঠপর্যায়ে লড়াইয়ে নামার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন।
​বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ২ অক্টোবর থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের প্রতিটি জেলায় 'সেভ ডেমোক্রেসি মার্চ' বা 'গণতন্ত্র বাঁচাও পদযাত্রা' কর্মসূচি পালন করবে জোটটি। জেলা স্তরে মিছিল, বিক্ষোভ প্রদর্শনের পাশাপাশি সব জেলাশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে।
বিরোধীদের মূল লক্ষ্য হলো, ভোটার তালিকার অনিয়ম ও নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রশ্নগুলোকে দিল্লির রাজনৈতিক চত্বরে সীমাবদ্ধ না রেখে সরাসরি সাধারণ মানুষের দোড়গোড়ায় নিয়ে যাওয়া। এর পরপরই আগামী ৬ অক্টোবর জোটের সকল বিরোধী সংসদ সদস্য একত্রিত হয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনের অভিমুখে পদযাত্রা করবেন এবং কমিশনের কাছে সরাসরি স্মারকলিপি প্রদান করবেন। বিরোধী নেতাদের বক্তব্যে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অবিলম্বে পদত্যাগের বিষয়টি জোরালোভাবে উঠে এসেছে।
​রাস্তার আন্দোলনের পাশাপাশি বিষয়টি সাংবিধানিক ও আইনি কাঠামোর মধ্যে নিয়ে যাওয়ার সুনির্দিষ্ট কৌশলও নির্ধারণ করেছে ইন্ডিয়া জোট। অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে বিরোধী দলের শীর্ষ নেতারা রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য সময় চাইবেন। রাষ্ট্রপতির সাথে বৈঠকে দেশের নির্বাচন প্রক্রিয়া, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা এবং ভোটার তালিকা নিয়ে বিরোধীদের গভীর উদ্বেগের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে। এছাড়া, এসআইআর ও ভোটার তালিকা সংক্রান্ত যেসব মামলা বর্তমানে আদালতে ঝুলে রয়েছে, সেগুলোর দ্রুত শুনানির আবেদন নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
​আগামী নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিজেদের আন্দোলনকে ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে নেওয়ার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছেন বিরোধী নেতারা। আগামী ১ নভেম্বর রাজধানী দিল্লিতে একটি মহাসমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে।
আগে যেখানে ভোটার তালিকা সংশোধন কিংবা কমিশনের ভূমিকা নিয়ে দলগুলো আলাদাভাবে প্রতিবাদ করছিল, বুধবারের এই বৈঠকের মাধ্যমে সেই বিচ্ছিন্ন ক্ষোভগুলোকে একটি একক ও সমন্বিত জাতীয় আন্দোলনের রূপ দেওয়া হলো। জেলাপর্যায়ের পদযাত্রা থেকে শুরু করে কমিশন ঘেরাও, রাষ্ট্রপতির কাছে প্রতিনিধি দল পাঠানো এবং দিল্লির বিশাল সমাবেশ, সব মিলিয়ে একটি পরিকল্পিত আন্দোলনের ছক এঁকেছে তারা।
​বিরোধী শিবিরের স্পষ্ট বক্তব্য, দেশের প্রতিটি নাগরিকের ভোটাধিকার এবং পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব। তাই যেকোনো অনিয়মের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনকে জবাবদিহি করতে হবে।
অন্যদিকে, সরকার ও ক্ষমতাসীন বিজেপি বিরোধীদের এসব অভিযোগকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিয়েছে এবং পাল্টা প্রশ্ন তুলেছে। এর ফলে পুরো বিষয়টি এখন আর কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা কমিশনের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং এটি দেশের সামগ্রিক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষার লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে।
আগামী দিনে আদালতের আইনি পদক্ষেপ এবং কমিশন ও কেন্দ্রীয় সরকারের অবস্থানের ওপর ভিত্তি করেই রাজনৈতিক অঙ্গনের এই উত্তাপ নতুন মোড় নেবে বলে মনে করছেন রাজনীতি বিশ্লেষকরা।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত