সংবাদ

কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ে বড় সাফল্য, ১৯ সেকেন্ডে তৈরি ১০ লাখ নমুনা


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:১৮ পিএম

কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ে বড় সাফল্য, ১৯ সেকেন্ডে তৈরি ১০ লাখ নমুনা

জটিল গণনা ও বিপুল তথ্য প্রক্রিয়াকরণে সুপারকম্পিউটারের সক্ষমতা দীর্ঘদিন ধরেই অসাধারণ বলে বিবেচিত। এবার সেই সক্ষমতার সঙ্গে কোয়ান্টাম কম্পিউটারের পার্থক্য আরও স্পষ্ট করে দিল আইবিএমের একটি পরীক্ষা। গবেষকদের দাবি, আইবিএমের একটি বাণিজ্যিক কোয়ান্টাম কম্পিউটার মাত্র ১৯ সেকেন্ডে এমন একটি হিসাব সম্পন্ন করেছে, যা করতে একটি সুপারকম্পিউটারের প্রায় ১১০ বছর প্রয়োজন হতো।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্লু কিউবিটের পদার্থবিজ্ঞানী টিগ্রান সেড্রাকিয়ানের নেতৃত্বে গবেষক দলটি এই পরীক্ষা চালায়। এতে ব্যবহার করা হয় আইবিএমের ১২০-কিউবিটের নাইটহক আর২ প্রসেসর।

বিটের বদলে কিউবিট

প্রচলিত কম্পিউটারে তথ্য প্রক্রিয়াকরণের ক্ষেত্রে বিট ব্যবহার করা হলেও কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ে এর বিকল্প হিসেবে কাজ করে কিউবিট। জটিল গণনা দ্রুত সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে কিউবিটের সক্ষমতাই এই প্রযুক্তির অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

পরীক্ষার সময় গবেষকেরা ৩৬টি সাইকেলের একটি নির্দিষ্ট পর্যায় শনাক্ত করেন। ওই পর্যায়ে সার্কিটে ছিল ৯১৮টি টু-কিউবিট গেট বা চৌম্বকীয় পথ।

এর পরই নাইটহক আর২ প্রসেসরটি মাত্র ১৯ সেকেন্ডে ১০ লাখ নমুনা তৈরি করতে সক্ষম হয়।

হিসাবের আকার ছিল বিপুল

এই পরীক্ষায় তৈরি হওয়া বিপুল তথ্য সুপারকম্পিউটারে বিশ্লেষণ করতে কত সময় লাগতে পারে, তা সরাসরি নির্ধারণ করা কঠিন ছিল। এ সময় গবেষকেরা ‘টেন্সর-নেটওয়ার্ক কন্ট্রাকশন’ নামের একটি বিশেষ কৌশল কাজে লাগান।

তাঁদের হিসাব অনুযায়ী, পুরো কাজটি সম্পন্ন করতে প্রায় ১ দশমিক ২ সংখ্যার পর ২৮টি শূন্য সমপরিমাণ গণনাসংক্রান্ত অপারেশন প্রয়োজন।

বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা এক্সাস্কেল সুপারকম্পিউটার ফ্রন্টিয়ারের দীর্ঘস্থায়ী কার্যক্ষমতাকে ভিত্তি করে গবেষকেরা হিসাবটি করেন। সেই হিসাবেই একই কাজের জন্য প্রায় ১১০ বছরের সময়ের কথা উঠে আসে।

১১০ বছর কোনো চূড়ান্ত সীমা নয়

গবেষকেরা অবশ্য পরিষ্কার করে বলেছেন, ১১০ বছরের এই হিসাবকে ক্লাসিক্যাল কম্পিউটারের গতির কোনো চূড়ান্ত বা মৌলিক সীমা হিসেবে দেখা যাবে না।

তবে পরীক্ষাটির বিশেষ দিক হলো, এটি কোনো নির্দিষ্ট গবেষণাগারের পরীক্ষামূলক যন্ত্রে সীমাবদ্ধ ছিল না। বাণিজ্যিকভাবে পরিচালিত ক্লাউড কম্পিউটিং ব্যবস্থায় এই কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।

অন্যদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে তথ্য

গবেষণা পুনরায় যাচাই ও পরীক্ষা করার সুযোগ দিতে গবেষক দল তাদের ব্যবহৃত সার্কিট, নমুনা এবং বিশ্লেষণের কোড উন্মুক্ত করে দিয়েছে। ফলে অন্য গবেষকরাও একই তথ্য ও পদ্ধতি ব্যবহার করে পরীক্ষাটি যাচাই করতে পারবেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬


কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ে বড় সাফল্য, ১৯ সেকেন্ডে তৈরি ১০ লাখ নমুনা

প্রকাশের তারিখ : ০১ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

জটিল গণনা ও বিপুল তথ্য প্রক্রিয়াকরণে সুপারকম্পিউটারের সক্ষমতা দীর্ঘদিন ধরেই অসাধারণ বলে বিবেচিত। এবার সেই সক্ষমতার সঙ্গে কোয়ান্টাম কম্পিউটারের পার্থক্য আরও স্পষ্ট করে দিল আইবিএমের একটি পরীক্ষা। গবেষকদের দাবি, আইবিএমের একটি বাণিজ্যিক কোয়ান্টাম কম্পিউটার মাত্র ১৯ সেকেন্ডে এমন একটি হিসাব সম্পন্ন করেছে, যা করতে একটি সুপারকম্পিউটারের প্রায় ১১০ বছর প্রয়োজন হতো।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্লু কিউবিটের পদার্থবিজ্ঞানী টিগ্রান সেড্রাকিয়ানের নেতৃত্বে গবেষক দলটি এই পরীক্ষা চালায়। এতে ব্যবহার করা হয় আইবিএমের ১২০-কিউবিটের নাইটহক আর২ প্রসেসর।

বিটের বদলে কিউবিট

প্রচলিত কম্পিউটারে তথ্য প্রক্রিয়াকরণের ক্ষেত্রে বিট ব্যবহার করা হলেও কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ে এর বিকল্প হিসেবে কাজ করে কিউবিট। জটিল গণনা দ্রুত সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে কিউবিটের সক্ষমতাই এই প্রযুক্তির অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

পরীক্ষার সময় গবেষকেরা ৩৬টি সাইকেলের একটি নির্দিষ্ট পর্যায় শনাক্ত করেন। ওই পর্যায়ে সার্কিটে ছিল ৯১৮টি টু-কিউবিট গেট বা চৌম্বকীয় পথ।

এর পরই নাইটহক আর২ প্রসেসরটি মাত্র ১৯ সেকেন্ডে ১০ লাখ নমুনা তৈরি করতে সক্ষম হয়।

হিসাবের আকার ছিল বিপুল

এই পরীক্ষায় তৈরি হওয়া বিপুল তথ্য সুপারকম্পিউটারে বিশ্লেষণ করতে কত সময় লাগতে পারে, তা সরাসরি নির্ধারণ করা কঠিন ছিল। এ সময় গবেষকেরা ‘টেন্সর-নেটওয়ার্ক কন্ট্রাকশন’ নামের একটি বিশেষ কৌশল কাজে লাগান।

তাঁদের হিসাব অনুযায়ী, পুরো কাজটি সম্পন্ন করতে প্রায় ১ দশমিক ২ সংখ্যার পর ২৮টি শূন্য সমপরিমাণ গণনাসংক্রান্ত অপারেশন প্রয়োজন।

বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা এক্সাস্কেল সুপারকম্পিউটার ফ্রন্টিয়ারের দীর্ঘস্থায়ী কার্যক্ষমতাকে ভিত্তি করে গবেষকেরা হিসাবটি করেন। সেই হিসাবেই একই কাজের জন্য প্রায় ১১০ বছরের সময়ের কথা উঠে আসে।

১১০ বছর কোনো চূড়ান্ত সীমা নয়

গবেষকেরা অবশ্য পরিষ্কার করে বলেছেন, ১১০ বছরের এই হিসাবকে ক্লাসিক্যাল কম্পিউটারের গতির কোনো চূড়ান্ত বা মৌলিক সীমা হিসেবে দেখা যাবে না।

তবে পরীক্ষাটির বিশেষ দিক হলো, এটি কোনো নির্দিষ্ট গবেষণাগারের পরীক্ষামূলক যন্ত্রে সীমাবদ্ধ ছিল না। বাণিজ্যিকভাবে পরিচালিত ক্লাউড কম্পিউটিং ব্যবস্থায় এই কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।

অন্যদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে তথ্য

গবেষণা পুনরায় যাচাই ও পরীক্ষা করার সুযোগ দিতে গবেষক দল তাদের ব্যবহৃত সার্কিট, নমুনা এবং বিশ্লেষণের কোড উন্মুক্ত করে দিয়েছে। ফলে অন্য গবেষকরাও একই তথ্য ও পদ্ধতি ব্যবহার করে পরীক্ষাটি যাচাই করতে পারবেন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত