সংবাদ

মৃত্যুশয্যায় প্রিয়জনকে পানি খাওয়ানোর আগে যা জানা জরুরি


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩৬ পিএম

মৃত্যুশয্যায় প্রিয়জনকে পানি খাওয়ানোর আগে যা জানা জরুরি

প্রিয়জন মৃত্যুশয্যায়। শ্বাস-প্রশ্বাস ধীরে ধীরে বদলে যাচ্ছে, কথা বলার শক্তিও কমে আসছে। মুখ খানিকটা খোলা, ঠোঁট শুকনো হওযারএই দৃশ্য দেখে স্বাভাবিকভাবেই মনে হতে পারে, মানুষটির নিশ্চয়ই খুব পিপাসা পেয়েছে। তাই অনেকেই আবেগের বশে চামচ বা গ্লাসে করে পানি খাওয়ানোর চেষ্টা করেন।

কিন্তু জীবনের শেষ সময়টায় শরীরের স্বাভাবিক অনেক ক্ষমতাই ধীরে ধীরে কমে আসে। এর মধ্যে খাবার ও পানি নিরাপদে গিলে ফেলার ক্ষমতাও থাকতে পারে। ফলে যিনি আর ঠিকভাবে গিলতে পারছেন না, তার মুখে জোর করে পানি ঢেলে দেওয়া বরং অস্বস্তি বা শ্বাসনালিতে তরল চলে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

মুখ হাঁ করে শ্বাস নেওয়া মানেই পিপাসা পাওয়া নয়

মৃত্যুর কাছাকাছি সময়ে শ্বাস-প্রশ্বাসের ধরন বদলে যেতে পারে। কখনো শ্বাস অগভীর হয়, কখনো অনিয়মিত হয়, আবার শ্বাসের মধ্যে বিরতিও দেখা দিতে পারে। মুখ খোলা রেখে শ্বাস নেওয়ার দৃশ্যও এই পরিবর্তনের অংশ হতে পারে।

তাই মুখ শুকিয়ে যাওয়া বা মুখ হাঁ করে শ্বাস নেওয়াকে সবসময় তীব্র তৃষ্ণার লক্ষণ হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। এ সময় অনেক মানুষের খাবার ও পানি খাওয়ার ইচ্ছাও কমে যায়। এটি মৃত্যুর স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার একটি অংশ হতে পারে। ফলে পরিবারের সদস্যদের জন্য বিষয়টি যতই কষ্টের হোক, জোর করে পানি পান করানো সবসময় প্রয়োজন থাকে না।

গিলতে না পারলে পানি ঢালবেন না

এই অবস্থায় মুখে পানি ঢাললে তা পেটে না গিয়ে সোজাসুজি শ্বাসনালি দিয়ে ফুসফুসে চলে যেতে পারে।

অনেক সময় দেখা যায়, ভুল করে ফুসফুসে পানি যাওয়ার ফলে রোগীর মারাত্মক শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। এতে শেষ সময়ে মানুষটির কষ্ট আরও কয়েক গুণ বেড়ে যায়। তাই যদি প্রিয়জন সচেতন থাকেন এবং নিজে পানি চাইতে পারেন, পাশাপাশি নিরাপদে গিলতেও পারেন, তখন চিকিৎসক বা নার্সের পরামর্শ অনুযায়ী অল্প অল্প করে পানি দেওয়া যেতে পারে।

তবে ব্যক্তি যদি খুব ঘুমঘুম অবস্থায় থাকেন, গিলতে কষ্ট হয়, কাশতে থাকেন কিংবা পানি মুখে দেওয়ার পর শ্বাসকষ্ট বা অস্বস্তি বাড়ে, তখন মুখে তরল দেওয়া বন্ধ করে স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

অস্বস্তি কমাতে যা করবেন 

মুখ ও ঠোঁট শুকিয়ে গেলে পরিষ্কার পানি দিয়ে মুখের ভেতর ও ঠোঁট আর্দ্র রাখা যেতে পারে। প্রয়োজন অনুযায়ী পরিষ্কার তুলা বা নরম কাপড় পানিতে ভিজিয়ে প্রিয়জনের ঠোঁট একটু ভিজিয়ে দেওয়া যেতে পারে। এতে তার ঠোঁট শুকিয়ে যাওয়ার অস্বস্তি দূর হবে। আবার ফুসফুসে পানি যাওয়ার কোনোও বিপদও থাকবে না। গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেলেও এই সামান্য ভেজা ভাবটাই তখন তৃষ্ণা মেটানোর জন্য যথেষ্ট।

শেষ সময়ে সবচেয়ে জরুরি আরাম

মৃত্যুর সময় পরিবার স্বাভাবিকভাবেই চান, প্রিয় মানুষটি যেন ক্ষুধা বা তৃষ্ণায় কষ্ট না পান। কিন্তু জীবনের শেষ সময়ে শরীরের প্রয়োজন বদলে যেতে পারে। তখন খাবার বা পানি দেওয়ার চেয়ে রোগীর আরাম, ইচ্ছা এবং নিরাপদে গিলতে পারার ক্ষমতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। চিকিৎসক ও নার্সরা প্রয়োজন অনুযায়ী খাবার, তরল, মুখের যত্ন এবং অন্য উপসর্গের জন্য আলাদা পরিকল্পনা করেন।

তাই প্রিয়জনের ঠোঁট শুকিয়ে গেলে ভালোবাসার তাগিদে এক গ্লাস পানি মুখে ঢেলে দেওয়ার বদলে আগে দেখুন তিনি সচেতন কি না, গিলতে পারছেন কি না এবং এতে অস্বস্তি হচ্ছে কি না। গিলতে না পারলে মুখ ও ঠোঁট আর্দ্র রাখা অনেক সময় বেশি নিরাপদ ও আরামদায়ক হতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬


মৃত্যুশয্যায় প্রিয়জনকে পানি খাওয়ানোর আগে যা জানা জরুরি

প্রকাশের তারিখ : ০৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

প্রিয়জন মৃত্যুশয্যায়। শ্বাস-প্রশ্বাস ধীরে ধীরে বদলে যাচ্ছে, কথা বলার শক্তিও কমে আসছে। মুখ খানিকটা খোলা, ঠোঁট শুকনো হওযারএই দৃশ্য দেখে স্বাভাবিকভাবেই মনে হতে পারে, মানুষটির নিশ্চয়ই খুব পিপাসা পেয়েছে। তাই অনেকেই আবেগের বশে চামচ বা গ্লাসে করে পানি খাওয়ানোর চেষ্টা করেন।

কিন্তু জীবনের শেষ সময়টায় শরীরের স্বাভাবিক অনেক ক্ষমতাই ধীরে ধীরে কমে আসে। এর মধ্যে খাবার ও পানি নিরাপদে গিলে ফেলার ক্ষমতাও থাকতে পারে। ফলে যিনি আর ঠিকভাবে গিলতে পারছেন না, তার মুখে জোর করে পানি ঢেলে দেওয়া বরং অস্বস্তি বা শ্বাসনালিতে তরল চলে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

মুখ হাঁ করে শ্বাস নেওয়া মানেই পিপাসা পাওয়া নয়

মৃত্যুর কাছাকাছি সময়ে শ্বাস-প্রশ্বাসের ধরন বদলে যেতে পারে। কখনো শ্বাস অগভীর হয়, কখনো অনিয়মিত হয়, আবার শ্বাসের মধ্যে বিরতিও দেখা দিতে পারে। মুখ খোলা রেখে শ্বাস নেওয়ার দৃশ্যও এই পরিবর্তনের অংশ হতে পারে।

তাই মুখ শুকিয়ে যাওয়া বা মুখ হাঁ করে শ্বাস নেওয়াকে সবসময় তীব্র তৃষ্ণার লক্ষণ হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। এ সময় অনেক মানুষের খাবার ও পানি খাওয়ার ইচ্ছাও কমে যায়। এটি মৃত্যুর স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার একটি অংশ হতে পারে। ফলে পরিবারের সদস্যদের জন্য বিষয়টি যতই কষ্টের হোক, জোর করে পানি পান করানো সবসময় প্রয়োজন থাকে না।

গিলতে না পারলে পানি ঢালবেন না

এই অবস্থায় মুখে পানি ঢাললে তা পেটে না গিয়ে সোজাসুজি শ্বাসনালি দিয়ে ফুসফুসে চলে যেতে পারে।

অনেক সময় দেখা যায়, ভুল করে ফুসফুসে পানি যাওয়ার ফলে রোগীর মারাত্মক শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। এতে শেষ সময়ে মানুষটির কষ্ট আরও কয়েক গুণ বেড়ে যায়। তাই যদি প্রিয়জন সচেতন থাকেন এবং নিজে পানি চাইতে পারেন, পাশাপাশি নিরাপদে গিলতেও পারেন, তখন চিকিৎসক বা নার্সের পরামর্শ অনুযায়ী অল্প অল্প করে পানি দেওয়া যেতে পারে।

তবে ব্যক্তি যদি খুব ঘুমঘুম অবস্থায় থাকেন, গিলতে কষ্ট হয়, কাশতে থাকেন কিংবা পানি মুখে দেওয়ার পর শ্বাসকষ্ট বা অস্বস্তি বাড়ে, তখন মুখে তরল দেওয়া বন্ধ করে স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

অস্বস্তি কমাতে যা করবেন 

মুখ ও ঠোঁট শুকিয়ে গেলে পরিষ্কার পানি দিয়ে মুখের ভেতর ও ঠোঁট আর্দ্র রাখা যেতে পারে। প্রয়োজন অনুযায়ী পরিষ্কার তুলা বা নরম কাপড় পানিতে ভিজিয়ে প্রিয়জনের ঠোঁট একটু ভিজিয়ে দেওয়া যেতে পারে। এতে তার ঠোঁট শুকিয়ে যাওয়ার অস্বস্তি দূর হবে। আবার ফুসফুসে পানি যাওয়ার কোনোও বিপদও থাকবে না। গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেলেও এই সামান্য ভেজা ভাবটাই তখন তৃষ্ণা মেটানোর জন্য যথেষ্ট।

শেষ সময়ে সবচেয়ে জরুরি আরাম

মৃত্যুর সময় পরিবার স্বাভাবিকভাবেই চান, প্রিয় মানুষটি যেন ক্ষুধা বা তৃষ্ণায় কষ্ট না পান। কিন্তু জীবনের শেষ সময়ে শরীরের প্রয়োজন বদলে যেতে পারে। তখন খাবার বা পানি দেওয়ার চেয়ে রোগীর আরাম, ইচ্ছা এবং নিরাপদে গিলতে পারার ক্ষমতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। চিকিৎসক ও নার্সরা প্রয়োজন অনুযায়ী খাবার, তরল, মুখের যত্ন এবং অন্য উপসর্গের জন্য আলাদা পরিকল্পনা করেন।

তাই প্রিয়জনের ঠোঁট শুকিয়ে গেলে ভালোবাসার তাগিদে এক গ্লাস পানি মুখে ঢেলে দেওয়ার বদলে আগে দেখুন তিনি সচেতন কি না, গিলতে পারছেন কি না এবং এতে অস্বস্তি হচ্ছে কি না। গিলতে না পারলে মুখ ও ঠোঁট আর্দ্র রাখা অনেক সময় বেশি নিরাপদ ও আরামদায়ক হতে পারে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত