সংবাদ

পরকীয়া সন্দেহে কিশোর ওমরকে হত্যা: ৫ বছর পর আসামি গ্রেপ্তার


প্রতিনিধি, ফরিদপুর
প্রতিনিধি, ফরিদপুর
প্রকাশ: ৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪৫ পিএম

পরকীয়া সন্দেহে কিশোর ওমরকে হত্যা: ৫ বছর পর আসামি গ্রেপ্তার
ছবি : সংবাদ

কিশোর ওমর আলী হত্যার দীর্ঘ পাঁচ বছর পর ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পরকীয়া সন্দেহে ক্ষুব্ধ হয়ে ৫০ হাজার টাকার চুক্তিতে হাত-পা বেঁধে, কুপিয়ে ও শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করা হয়েছিল। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে নজরুল ইসলাম নামের এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে পিবিআই ফরিদপুর কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জেলা পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

গ্রেপ্তার হওয়া নজরুল ইসলাম রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি থানার জঙ্গল ইউনিয়নের ঢোলজানী গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে।

সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই পুলিশ সুপার জানান, ২০২১ সালের ৪ জানুয়ারি রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দির ঢোলজানী এলাকার একটি ঘাসখেত থেকে নিখোঁজের তিন দিন পর কিশোর ওমর আলীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনায় নিহতের বাবা আহেদ শেখ বাদী হয়ে বালিয়াকান্দি থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন। 

ঘটনার এক মাস পর মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদনে থাকা বিশেষ আলামতের সূত্র ধরে দীর্ঘ সময় তথ্য বিশ্লেষণ ও প্রযুক্তির সহায়তায় আসামি নজরুলকে শনাক্ত করা হয়। গত ৫ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে ঢাকার আশুলিয়ার কাঠগড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পর থেকে নজরুল দেশের বিভিন্ন জেলায় ছদ্মবেশে আত্মগোপনে ছিলেন।

গ্রেপ্তার আসামির দেওয়া তথ্যের বরাতে পিবিআই জানায়, দুই সহযোগীর স্ত্রীর সঙ্গে ওমরের পরকীয়া রয়েছে - এমন ক্ষোভ থেকেই তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। ৫০ হাজার টাকার চুক্তিতে এবং হত্যাকাণ্ডের আগে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা একসঙ্গে মাদক সেবন করেন। ঘটনার দিন রাতে ওমরকে তুলে নিয়ে হাত-পা বেঁধে এক ঘরে আটকে রেখে নির্যাতন ও ধারালো চাকু দিয়ে জখম করা হয়। পরদিন রাতে তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে পাশের ঘাসখেতে ফেলে রেখে যাওয়া হয়।

আসামি নজরুল ইসলাম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে এই হত্যাকাণ্ডে মোট পাঁচজন জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারসহ পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই। 

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬


পরকীয়া সন্দেহে কিশোর ওমরকে হত্যা: ৫ বছর পর আসামি গ্রেপ্তার

প্রকাশের তারিখ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

কিশোর ওমর আলী হত্যার দীর্ঘ পাঁচ বছর পর ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পরকীয়া সন্দেহে ক্ষুব্ধ হয়ে ৫০ হাজার টাকার চুক্তিতে হাত-পা বেঁধে, কুপিয়ে ও শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করা হয়েছিল। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে নজরুল ইসলাম নামের এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে পিবিআই ফরিদপুর কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জেলা পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

গ্রেপ্তার হওয়া নজরুল ইসলাম রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি থানার জঙ্গল ইউনিয়নের ঢোলজানী গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে।

সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই পুলিশ সুপার জানান, ২০২১ সালের ৪ জানুয়ারি রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দির ঢোলজানী এলাকার একটি ঘাসখেত থেকে নিখোঁজের তিন দিন পর কিশোর ওমর আলীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনায় নিহতের বাবা আহেদ শেখ বাদী হয়ে বালিয়াকান্দি থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন। 

ঘটনার এক মাস পর মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদনে থাকা বিশেষ আলামতের সূত্র ধরে দীর্ঘ সময় তথ্য বিশ্লেষণ ও প্রযুক্তির সহায়তায় আসামি নজরুলকে শনাক্ত করা হয়। গত ৫ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে ঢাকার আশুলিয়ার কাঠগড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পর থেকে নজরুল দেশের বিভিন্ন জেলায় ছদ্মবেশে আত্মগোপনে ছিলেন।

গ্রেপ্তার আসামির দেওয়া তথ্যের বরাতে পিবিআই জানায়, দুই সহযোগীর স্ত্রীর সঙ্গে ওমরের পরকীয়া রয়েছে - এমন ক্ষোভ থেকেই তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। ৫০ হাজার টাকার চুক্তিতে এবং হত্যাকাণ্ডের আগে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা একসঙ্গে মাদক সেবন করেন। ঘটনার দিন রাতে ওমরকে তুলে নিয়ে হাত-পা বেঁধে এক ঘরে আটকে রেখে নির্যাতন ও ধারালো চাকু দিয়ে জখম করা হয়। পরদিন রাতে তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে পাশের ঘাসখেতে ফেলে রেখে যাওয়া হয়।

আসামি নজরুল ইসলাম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে এই হত্যাকাণ্ডে মোট পাঁচজন জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারসহ পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই। 


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত