প্রযুক্তিনির্ভর ও আধুনিক স্মার্ট নগর গড়ার পূর্বে রাজধানী ঢাকাকে মানুষের বসবাসের উপযোগী করে গড়ে তোলার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রিয়াজুল ইসলাম।
বুধবার (৭ অক্টোবর) রাজধানীর বনানীতে হোটেল শেরাটনে আয়োজিত ‘স্মার্ট সিটি কনক্লেভ ২০২৬’-এ সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কঠোর বাস্তবতার কথা তুলে ধরেন।
তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, স্মার্ট সিটির নামে শুধু ভৌত বা প্রযুক্তিগত অবকাঠামো তৈরি করলেই চলবে না; বরং নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবন সহজ, নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করার সক্ষমতাই হওয়া উচিত নগর উন্নয়নের প্রধান মাপকাঠি।
স্মার্ট ধারণার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে রাজউক চেয়ারম্যান জানান, স্মার্ট শব্দের চৌকস অর্থ খোঁজার চেয়ে মানুষের জীবনযাত্রার মান নিশ্চিত করা তার কাছে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, আমরা একটি বাসযোগ্য ঢাকা তৈরি করতে চাই, যেখানে অন্তত ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা নিয়ে বসবাস করা সম্ভব হয়। একটি শহরকে বাসযোগ্য করে তুলতে কেবল বহুতল ভবন নির্মাণ কিংবা সড়ক উন্নয়নই যথেষ্ট নয়। এর জন্য আবাসন, যোগাযোগ, স্বাস্থ্য, পয়োনিষ্কাশন ও উন্নত গণপরিবহনসহ নাগরিক জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত প্রতিটি সেবাকে সমন্বিতভাবে বিবেচনা করতে হবে।
ঢাকার সার্বিক পরিকল্পনা প্রণয়নে বিদেশি সংস্কৃতির অন্ধ অনুকরণ না করে দেশের নিজস্ব বাস্তবতাকে প্রাধান্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে রিয়াজুল ইসলাম উল্লেখ করেন, ইউরোপ, আমেরিকা বা অস্ট্রেলিয়ার মডেল হুবহু বাংলাদেশে প্রয়োগ করা সম্ভব নয়। কারণ সেসব দেশের পর্যাপ্ত জমির পাশাপাশি ভিন্ন জনসংখ্যা কাঠামো ও নাগরিক সুবিধা রয়েছে। বিপরীতে বাংলাদেশের সীমিত ভূমি, বিশাল জনগোষ্ঠী এবং বর্তমান অবকাঠামোকে মাথায় রেখেই সঠিক পরিকল্পনা সাজাতে হবে।
রাজধানীতে প্রতিদিনের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপ ও নতুন বস্তি গড়ে ওঠার সমস্যার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কেবল কঠোর আইন প্রয়োগ করে এসব সংকট সমাধান করা যাবে না, বরং নগর ব্যবস্থাপনায় বাস্তব পরিস্থিতি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
অনুষ্ঠানে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া কনক্লেভের বিভিন্ন সেশনে দেশের আবাসন, নির্মাণ, জ্বালানি ও নগর পরিকল্পনা খাতের শীর্ষস্থানীয় নীতিনির্ধারক, প্রকৌশলী, বুয়েট ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এবং শীর্ষ ব্যবসায়িক উদ্যোক্তারা অংশ নিয়ে টেকসই নগরায়ণের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬
প্রযুক্তিনির্ভর ও আধুনিক স্মার্ট নগর গড়ার পূর্বে রাজধানী ঢাকাকে মানুষের বসবাসের উপযোগী করে গড়ে তোলার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রিয়াজুল ইসলাম।
বুধবার (৭ অক্টোবর) রাজধানীর বনানীতে হোটেল শেরাটনে আয়োজিত ‘স্মার্ট সিটি কনক্লেভ ২০২৬’-এ সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কঠোর বাস্তবতার কথা তুলে ধরেন।
তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, স্মার্ট সিটির নামে শুধু ভৌত বা প্রযুক্তিগত অবকাঠামো তৈরি করলেই চলবে না; বরং নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবন সহজ, নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করার সক্ষমতাই হওয়া উচিত নগর উন্নয়নের প্রধান মাপকাঠি।
স্মার্ট ধারণার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে রাজউক চেয়ারম্যান জানান, স্মার্ট শব্দের চৌকস অর্থ খোঁজার চেয়ে মানুষের জীবনযাত্রার মান নিশ্চিত করা তার কাছে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, আমরা একটি বাসযোগ্য ঢাকা তৈরি করতে চাই, যেখানে অন্তত ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা নিয়ে বসবাস করা সম্ভব হয়। একটি শহরকে বাসযোগ্য করে তুলতে কেবল বহুতল ভবন নির্মাণ কিংবা সড়ক উন্নয়নই যথেষ্ট নয়। এর জন্য আবাসন, যোগাযোগ, স্বাস্থ্য, পয়োনিষ্কাশন ও উন্নত গণপরিবহনসহ নাগরিক জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত প্রতিটি সেবাকে সমন্বিতভাবে বিবেচনা করতে হবে।
ঢাকার সার্বিক পরিকল্পনা প্রণয়নে বিদেশি সংস্কৃতির অন্ধ অনুকরণ না করে দেশের নিজস্ব বাস্তবতাকে প্রাধান্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে রিয়াজুল ইসলাম উল্লেখ করেন, ইউরোপ, আমেরিকা বা অস্ট্রেলিয়ার মডেল হুবহু বাংলাদেশে প্রয়োগ করা সম্ভব নয়। কারণ সেসব দেশের পর্যাপ্ত জমির পাশাপাশি ভিন্ন জনসংখ্যা কাঠামো ও নাগরিক সুবিধা রয়েছে। বিপরীতে বাংলাদেশের সীমিত ভূমি, বিশাল জনগোষ্ঠী এবং বর্তমান অবকাঠামোকে মাথায় রেখেই সঠিক পরিকল্পনা সাজাতে হবে।
রাজধানীতে প্রতিদিনের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপ ও নতুন বস্তি গড়ে ওঠার সমস্যার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কেবল কঠোর আইন প্রয়োগ করে এসব সংকট সমাধান করা যাবে না, বরং নগর ব্যবস্থাপনায় বাস্তব পরিস্থিতি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
অনুষ্ঠানে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া কনক্লেভের বিভিন্ন সেশনে দেশের আবাসন, নির্মাণ, জ্বালানি ও নগর পরিকল্পনা খাতের শীর্ষস্থানীয় নীতিনির্ধারক, প্রকৌশলী, বুয়েট ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এবং শীর্ষ ব্যবসায়িক উদ্যোক্তারা অংশ নিয়ে টেকসই নগরায়ণের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

আপনার মতামত লিখুন