জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ফেরদৌসী বেগম বলেছেন, গৃহায়নের যেকোনো ধরনের দুর্নীতির লাগাম টানতে হার্ডলাইনে কাজ করছে প্রশাসন। দুর্নীতিবাজদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। চট্টগ্রামের কিসমত-জাফরাবাদ প্রকল্পের মাটি ভরাট কেলেংকারির ঘটনাটি তার চেয়ারম্যান হিসেবে যোগদানের আগেই ঘটেছে। তবে বিষয়টি জানার পর তিনি ঘটনা তদন্তে উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করেছেন। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
সেগুনবাগিচাস্থ প্রধান কার্যালয়সহ অন্যান্য শাখা অফিসের দুর্নীতির লাগাম টানতে হার্ডলাইনে কাজ করছে প্রশাসন। অনেক দাপুটে কর্মকর্তা আগে ঠিকমতো অফিস করতেন না। এখন সেখানে অফিসে আসা-যাওয়ার সময় নিশ্চিত করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে নানা অভিযোগে ২০ জনের বেশি কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আরও অনিয়ম উদঘাটনে তদন্ত চলছে। গৃহায়নের অনিয়মের লাগাম টেনে ধরতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে চেয়ারম্যান নিশ্চিত করেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কিসমত-জাফরাবাদ প্রকল্পে মাটি ভরাট কেলেংকারির ঘটনা নিয়ে রাজধানীর সেগুনবাগিচাস্থ প্রধান কার্যালয়ে অস্থিরতা বিরাজ করছে। প্রকৌশলীসহ সৎ ও নিষ্ঠাবান সাধারণ কর্মকর্তারা দুর্নীতিবাজদের শাস্তি দাবি করছেন। তাদের শাস্তি না হলে প্রশাসনে অস্থিরতা থেকেই যাবে বলে অনেকেই মন্তব্য করছেন। অন্যথায় দুর্নীতিবাজরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
অপরাধবিষয়ক বিশিষ্ট আইনজীবী সৈয়দ আহম্মেদ গাজী বলেন, কারও বিরুদ্ধে দুর্নীতির নিয়মিত মামলা থাকলে অভিযুক্তদের কর্মস্থলে পদোন্নতি দেওয়ার সুযোগ নেই। কর্তৃপক্ষ আইন অনুযায়ী অভিযুক্তদের সাময়িক বরখাস্ত করতে পারেন। এমনকি তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থাও নেওয়া যেতে পারে। কৌশলে পদোন্নতি নিলেও তা অবৈধ বলে মন্তব্য করেন এই আইনজীবী।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে কিসমত-জাফরাবাদ আবাসিক প্লট উন্নয়ন প্রকল্পের দীর্ঘ ১১ বছর পর সম্প্রতি প্রকল্পের মাটি ভরাট করার মতামত দিয়েছেন দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা।
দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা আবুল হাসান ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো প্রতিবেদনের সংক্ষিপ্ত বিবরণ থেকে জানা গেছে, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ২০১৫ সালের ৯ জুলাই চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার কিসমত-জাফরাবাদ মৌজায় সাইট অ্যান্ড সার্ভিসেস আবাসিক প্লট উন্নয়ন শীর্ষক ৪২ কোটি ৩৭ লাখ ২১ হাজার টাকার প্রকল্প অনুমোদন করে। প্রকল্পের মাটি ভরাট, আরসিসি রোড, ড্রেন ও কালভার্ট নির্মাণ কাজে প্রাক্কলিত ব্যয় ৭ কোটি ৫৬ লাখ ৩২ হাজার ৭৯৮ টাকা অনুমোদিত হয়। প্রকল্পের মাটি ভরাটের জন্য ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিও সম্পন্ন হয়।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ৮৭ হাজার ৯৩ দশমিক ১৬ ঘনমিটার মাটি ২২৯ টাকা ২৫ পয়সা ঘনমিটার রেটে মোট ১ কোটি ৯৯ লাখ ৬৬ হাজার ১৬ টাকার বিল দাখিল করে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে প্রকল্পের মাটি ভরাট বাবদ সর্বমোট ১ কোটি ৩৭ লাখ ৭৬ হাজার ৬১৪ টাকা পরিশোধ করা হয়।
মামলার আসামিরা মাটি ভরাট না করে পরস্পর যোগসাজশে সরকারি ৪৮ লাখ ৭৭ হাজার ৮৯৪ টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলার তদন্ত কার্যক্রম এখনো চলমান। তাই প্রকল্পের কাজ জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক পুনরায় শুরু করার ক্ষেত্রে আইনগত কোনো বাধা নেই বলে তদন্ত কর্মকর্তা গত ২৫ আগস্ট দুদকের উপপরিচালক (সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-২) বরাবর মতামত দিয়েছেন।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালের জুলাই মাসে কিসমত-জাফরাবাদ আবাসন প্লট প্রকল্পের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। অভিযোগ উঠেছে, প্রভাবশালী একটি চক্র গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের প্রকৌশলী ও ঠিকাদারের যোগসাজশে শুরুতে মাটি ভরাট না করেই ভুয়া বিল-ভাউচার দিয়ে ২ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। একের পর এক দুর্নীতির কারণে প্রকল্পটি ১১ বছর ধরে ঝুলে আছে।
অন্যদিকে, দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত তিন প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা থাকার পরও উপবিভাগীয় প্রকৌশলী অলিউর ইসলামকে নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে অফিসজুড়ে অস্থিরতা বিরাজ করছে।
সম্প্রতি সেগুনবাগিচায় জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের প্রধান কার্যালয় থেকে ঘটনা তদন্তে চার সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অন্যদিকে দুদকে মামলাও দায়ের করা হয়েছে। এরপরও অভিযুক্তরা ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছেন। তাদের ‘খুঁটির জোর’ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। মামলার আসামিরা রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে বেঁচে যাওয়ার তৎপরতা চালাচ্ছেন। এ নিয়ে প্রধান কার্যালয়ে বিরোধ চলছে। এতে কাজের গতিও কমছে বলে অনেকেই জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬
জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ফেরদৌসী বেগম বলেছেন, গৃহায়নের যেকোনো ধরনের দুর্নীতির লাগাম টানতে হার্ডলাইনে কাজ করছে প্রশাসন। দুর্নীতিবাজদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। চট্টগ্রামের কিসমত-জাফরাবাদ প্রকল্পের মাটি ভরাট কেলেংকারির ঘটনাটি তার চেয়ারম্যান হিসেবে যোগদানের আগেই ঘটেছে। তবে বিষয়টি জানার পর তিনি ঘটনা তদন্তে উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করেছেন। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
সেগুনবাগিচাস্থ প্রধান কার্যালয়সহ অন্যান্য শাখা অফিসের দুর্নীতির লাগাম টানতে হার্ডলাইনে কাজ করছে প্রশাসন। অনেক দাপুটে কর্মকর্তা আগে ঠিকমতো অফিস করতেন না। এখন সেখানে অফিসে আসা-যাওয়ার সময় নিশ্চিত করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে নানা অভিযোগে ২০ জনের বেশি কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আরও অনিয়ম উদঘাটনে তদন্ত চলছে। গৃহায়নের অনিয়মের লাগাম টেনে ধরতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে চেয়ারম্যান নিশ্চিত করেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কিসমত-জাফরাবাদ প্রকল্পে মাটি ভরাট কেলেংকারির ঘটনা নিয়ে রাজধানীর সেগুনবাগিচাস্থ প্রধান কার্যালয়ে অস্থিরতা বিরাজ করছে। প্রকৌশলীসহ সৎ ও নিষ্ঠাবান সাধারণ কর্মকর্তারা দুর্নীতিবাজদের শাস্তি দাবি করছেন। তাদের শাস্তি না হলে প্রশাসনে অস্থিরতা থেকেই যাবে বলে অনেকেই মন্তব্য করছেন। অন্যথায় দুর্নীতিবাজরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
অপরাধবিষয়ক বিশিষ্ট আইনজীবী সৈয়দ আহম্মেদ গাজী বলেন, কারও বিরুদ্ধে দুর্নীতির নিয়মিত মামলা থাকলে অভিযুক্তদের কর্মস্থলে পদোন্নতি দেওয়ার সুযোগ নেই। কর্তৃপক্ষ আইন অনুযায়ী অভিযুক্তদের সাময়িক বরখাস্ত করতে পারেন। এমনকি তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থাও নেওয়া যেতে পারে। কৌশলে পদোন্নতি নিলেও তা অবৈধ বলে মন্তব্য করেন এই আইনজীবী।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে কিসমত-জাফরাবাদ আবাসিক প্লট উন্নয়ন প্রকল্পের দীর্ঘ ১১ বছর পর সম্প্রতি প্রকল্পের মাটি ভরাট করার মতামত দিয়েছেন দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা।
দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা আবুল হাসান ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো প্রতিবেদনের সংক্ষিপ্ত বিবরণ থেকে জানা গেছে, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ২০১৫ সালের ৯ জুলাই চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার কিসমত-জাফরাবাদ মৌজায় সাইট অ্যান্ড সার্ভিসেস আবাসিক প্লট উন্নয়ন শীর্ষক ৪২ কোটি ৩৭ লাখ ২১ হাজার টাকার প্রকল্প অনুমোদন করে। প্রকল্পের মাটি ভরাট, আরসিসি রোড, ড্রেন ও কালভার্ট নির্মাণ কাজে প্রাক্কলিত ব্যয় ৭ কোটি ৫৬ লাখ ৩২ হাজার ৭৯৮ টাকা অনুমোদিত হয়। প্রকল্পের মাটি ভরাটের জন্য ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিও সম্পন্ন হয়।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ৮৭ হাজার ৯৩ দশমিক ১৬ ঘনমিটার মাটি ২২৯ টাকা ২৫ পয়সা ঘনমিটার রেটে মোট ১ কোটি ৯৯ লাখ ৬৬ হাজার ১৬ টাকার বিল দাখিল করে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে প্রকল্পের মাটি ভরাট বাবদ সর্বমোট ১ কোটি ৩৭ লাখ ৭৬ হাজার ৬১৪ টাকা পরিশোধ করা হয়।
মামলার আসামিরা মাটি ভরাট না করে পরস্পর যোগসাজশে সরকারি ৪৮ লাখ ৭৭ হাজার ৮৯৪ টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলার তদন্ত কার্যক্রম এখনো চলমান। তাই প্রকল্পের কাজ জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক পুনরায় শুরু করার ক্ষেত্রে আইনগত কোনো বাধা নেই বলে তদন্ত কর্মকর্তা গত ২৫ আগস্ট দুদকের উপপরিচালক (সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-২) বরাবর মতামত দিয়েছেন।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালের জুলাই মাসে কিসমত-জাফরাবাদ আবাসন প্লট প্রকল্পের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। অভিযোগ উঠেছে, প্রভাবশালী একটি চক্র গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের প্রকৌশলী ও ঠিকাদারের যোগসাজশে শুরুতে মাটি ভরাট না করেই ভুয়া বিল-ভাউচার দিয়ে ২ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। একের পর এক দুর্নীতির কারণে প্রকল্পটি ১১ বছর ধরে ঝুলে আছে।
অন্যদিকে, দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত তিন প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা থাকার পরও উপবিভাগীয় প্রকৌশলী অলিউর ইসলামকে নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে অফিসজুড়ে অস্থিরতা বিরাজ করছে।
সম্প্রতি সেগুনবাগিচায় জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের প্রধান কার্যালয় থেকে ঘটনা তদন্তে চার সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অন্যদিকে দুদকে মামলাও দায়ের করা হয়েছে। এরপরও অভিযুক্তরা ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছেন। তাদের ‘খুঁটির জোর’ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। মামলার আসামিরা রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে বেঁচে যাওয়ার তৎপরতা চালাচ্ছেন। এ নিয়ে প্রধান কার্যালয়ে বিরোধ চলছে। এতে কাজের গতিও কমছে বলে অনেকেই জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন