সংবাদ

ব্যবসার টাকা চাওয়া যৌতুক নয়, হাইকোর্টে খালাস পেলেন স্বামী


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২৯ পিএম

ব্যবসার টাকা চাওয়া যৌতুক নয়, হাইকোর্টে খালাস পেলেন স্বামী

ব্যবসার প্রয়োজনে স্ত্রীর কাছে এক লাখ টাকা চাওয়ার ঘটনাকে যৌতুক হিসেবে প্রমাণ করা যায়নি বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে নির্যাতনের অভিযোগে গুরুত্বপূর্ণ অসঙ্গতি পাওয়ায় নিম্ন আদালতের দেওয়া দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের রায় বাতিল করে মো. রাসেল উদ্দিন নামের ওই ব্যক্তিকে সম্পূর্ণ খালাস দেওয়া হয়েছে।

রবিবার (১১ অক্টোবর) হাইকোর্টের বিচারপতি মো. সেলিমের একক বেঞ্চ এই মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেন। আদালত স্পষ্ট ভাষায় মামলাটিকে একটি সাজানো ও ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেছেন।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০১৬ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি মুসলিম আইন অনুযায়ী মো. রাসেল উদ্দিন ও ইসমত আরা বেগমের বিয়ে হয়। তবে বিয়ের প্রায় সাড়ে তিন বছর পর ২০১৯ সালের ৪ আগস্ট সন্ধ্যায় কক্সবাজার শহরের বাইতুশ শরফ মসজিদ রোড এলাকার একটি ভাড়া বাসায় স্ত্রী ইসমত আরা বেগমকে কাঠের লাঠি দিয়ে মারধর করার অভিযোগে মামলা করেন তিনি।

বাদীপক্ষের মূল অভিযোগ ছিল, ওই দিন রাসেল উদ্দিন ব্যবসার কাজে ব্যবহারের জন্য স্ত্রীর কাছে এক লাখ টাকা চেয়েছিলেন এবং টাকা দিতে অপারগতা জানালে তাকে মারধর করা হয়। দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া শেষে ২০২৩ সালের ১৫ নভেম্বর কক্সবাজারের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ রাসেল উদ্দিনকে দোষী সাব্যস্ত করে দুই বছরের কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছিলেন। ওই রায়ের বিরুদ্ধে দ্রুত হাইকোর্টে আপিল করেন দণ্ডিত রাসেল উদ্দিন।

আপিলের শুনানিতে মামলার সাক্ষ্য, নথিপত্র ও চিকিৎসা-সংক্রান্ত প্রতিবেদন নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করেন হাইকোর্ট। আদালতের সুনির্দিষ্ট পর্যবেক্ষণে উঠে আসে যে, টাকা চাওয়ার কারণ হিসেবে বাদী ও সাক্ষীরা মূলত ব্যবসার কথা বলেছেন। অর্থাৎ বিয়ের শর্ত হিসেবে কিংবা বৈবাহিক সম্পর্ক বজায় রাখার কোনো বিনিময়ে ওই অর্থ দাবি করা হয়েছিল, এমন কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মামলার নথিতে পাওয়া যায়নি।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ২(ঞ) ধারায় যৌতুকের যে নির্দিষ্ট সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, তা বিবেচনায় নিয়ে আদালত জানান যে, শুধু টাকা চাওয়ার ঘটনা থাকলেই সেটিকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যৌতুকের দাবি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা যায় না। অভিযোগের ক্ষেত্রে অর্থ দাবির আসল উদ্দেশ্য ও প্রাসঙ্গিক পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

শুধু যৌতুক দাবির অভিযোগই নয়, স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগের ক্ষেত্রেও সাক্ষ্য-প্রমাণে মারাত্মক অসঙ্গতি খুঁজে পান আদালত। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, বাদী তার জবানবন্দিতে লাঠির আঘাতে ডান কাঁধ ও পিঠে আঘাত পাওয়ার কথা উল্লেখ করলেও চিকিৎসকের সাক্ষ্য ও হাসপাতালের মেডিকেল সনদে সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে বাম কাঁধে আঘাতের কথা বলা হয়েছিল।

আঘাতের স্থান নিয়ে বাদীর মৌখিক বক্তব্য ও চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথির এই স্পষ্ট পার্থক্যকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অসঙ্গতি হিসেবে বিবেচনা করে আদালত জানান, মৌখিক সাক্ষ্য ও চিকিৎসা-প্রমাণের মধ্যে এমন বৈপরীত্য থাকলে নির্যাতনের অভিযোগ কখনোই সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হতে পারে না। সামগ্রিক সাক্ষ্য-প্রমাণ ও নথিপত্র পর্যালোচনা করে আদালত অবশেষে স্বামীর দণ্ডাদেশ বাতিল করার এই রায় প্রদান করেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬


ব্যবসার টাকা চাওয়া যৌতুক নয়, হাইকোর্টে খালাস পেলেন স্বামী

প্রকাশের তারিখ : ১২ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ব্যবসার প্রয়োজনে স্ত্রীর কাছে এক লাখ টাকা চাওয়ার ঘটনাকে যৌতুক হিসেবে প্রমাণ করা যায়নি বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে নির্যাতনের অভিযোগে গুরুত্বপূর্ণ অসঙ্গতি পাওয়ায় নিম্ন আদালতের দেওয়া দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের রায় বাতিল করে মো. রাসেল উদ্দিন নামের ওই ব্যক্তিকে সম্পূর্ণ খালাস দেওয়া হয়েছে।

রবিবার (১১ অক্টোবর) হাইকোর্টের বিচারপতি মো. সেলিমের একক বেঞ্চ এই মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেন। আদালত স্পষ্ট ভাষায় মামলাটিকে একটি সাজানো ও ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেছেন।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০১৬ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি মুসলিম আইন অনুযায়ী মো. রাসেল উদ্দিন ও ইসমত আরা বেগমের বিয়ে হয়। তবে বিয়ের প্রায় সাড়ে তিন বছর পর ২০১৯ সালের ৪ আগস্ট সন্ধ্যায় কক্সবাজার শহরের বাইতুশ শরফ মসজিদ রোড এলাকার একটি ভাড়া বাসায় স্ত্রী ইসমত আরা বেগমকে কাঠের লাঠি দিয়ে মারধর করার অভিযোগে মামলা করেন তিনি।

বাদীপক্ষের মূল অভিযোগ ছিল, ওই দিন রাসেল উদ্দিন ব্যবসার কাজে ব্যবহারের জন্য স্ত্রীর কাছে এক লাখ টাকা চেয়েছিলেন এবং টাকা দিতে অপারগতা জানালে তাকে মারধর করা হয়। দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া শেষে ২০২৩ সালের ১৫ নভেম্বর কক্সবাজারের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ রাসেল উদ্দিনকে দোষী সাব্যস্ত করে দুই বছরের কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছিলেন। ওই রায়ের বিরুদ্ধে দ্রুত হাইকোর্টে আপিল করেন দণ্ডিত রাসেল উদ্দিন।

আপিলের শুনানিতে মামলার সাক্ষ্য, নথিপত্র ও চিকিৎসা-সংক্রান্ত প্রতিবেদন নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করেন হাইকোর্ট। আদালতের সুনির্দিষ্ট পর্যবেক্ষণে উঠে আসে যে, টাকা চাওয়ার কারণ হিসেবে বাদী ও সাক্ষীরা মূলত ব্যবসার কথা বলেছেন। অর্থাৎ বিয়ের শর্ত হিসেবে কিংবা বৈবাহিক সম্পর্ক বজায় রাখার কোনো বিনিময়ে ওই অর্থ দাবি করা হয়েছিল, এমন কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মামলার নথিতে পাওয়া যায়নি।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ২(ঞ) ধারায় যৌতুকের যে নির্দিষ্ট সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, তা বিবেচনায় নিয়ে আদালত জানান যে, শুধু টাকা চাওয়ার ঘটনা থাকলেই সেটিকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যৌতুকের দাবি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা যায় না। অভিযোগের ক্ষেত্রে অর্থ দাবির আসল উদ্দেশ্য ও প্রাসঙ্গিক পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

শুধু যৌতুক দাবির অভিযোগই নয়, স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগের ক্ষেত্রেও সাক্ষ্য-প্রমাণে মারাত্মক অসঙ্গতি খুঁজে পান আদালত। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, বাদী তার জবানবন্দিতে লাঠির আঘাতে ডান কাঁধ ও পিঠে আঘাত পাওয়ার কথা উল্লেখ করলেও চিকিৎসকের সাক্ষ্য ও হাসপাতালের মেডিকেল সনদে সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে বাম কাঁধে আঘাতের কথা বলা হয়েছিল।

আঘাতের স্থান নিয়ে বাদীর মৌখিক বক্তব্য ও চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথির এই স্পষ্ট পার্থক্যকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অসঙ্গতি হিসেবে বিবেচনা করে আদালত জানান, মৌখিক সাক্ষ্য ও চিকিৎসা-প্রমাণের মধ্যে এমন বৈপরীত্য থাকলে নির্যাতনের অভিযোগ কখনোই সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হতে পারে না। সামগ্রিক সাক্ষ্য-প্রমাণ ও নথিপত্র পর্যালোচনা করে আদালত অবশেষে স্বামীর দণ্ডাদেশ বাতিল করার এই রায় প্রদান করেন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত