সংবাদ

দুই বাংলার মানুষের ঐক্য ও সংগ্রামের আহ্বান


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩৫ পিএম

দুই বাংলার মানুষের ঐক্য ও সংগ্রামের আহ্বান
ছবি : সংবাদ

​চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার ডাক বাংলো মাঠে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ‘ইলা মিত্র মেলা’র দ্বিতীয় দিনে বর্ণাঢ্য আলোচনা সভা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

স্থানীয় সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর বৃন্দ নৃত্য এবং নওগাঁ থেকে আগত ওঁরাও শিল্পীদের ঐতিহ্যবাহী নৃত্যের মধ্য দিয়ে মেলার দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। পরে বাউল শিল্পীদের পরিবেশনায় গান মঞ্চের পরিবেশকে মুখরিত করে তোলে।
​স্থানীয় নেতা মন্টু মাহাতোর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তি ও গবেষকরা বক্তব্য দেন।
এতে সরাসরি উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট লেখক ও ইলা মিত্র গবেষক ওমর তারেক চৌধুরী, সিপিবি কন্ট্রোল কমিশনের সদস্য সুজাত আলী, প্রেসিডিয়াম সদস্য রফিকুজ্জামান লায়েক, কৃষক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক আবিদ হোসেন, আদিবাসী ইউনিয়নের সভানেত্রী রেবেকা সরেন, ক্ষেতমজুরনেতা খলিলুর রহমান বাঙালী এবং আখচাষীনেতা আলতাফ হোসেন চেয়ারম্যান।
এ ছাড়াও অনলাইনে যুক্ত হয়ে বিশেষ বক্তব্য দেন সিপিআই এমএল লিবারেশনের সম্পাদক চারু মজুমদারের পুত্র অভিজিৎ মজুমদার, সিপিআইএম কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মীনাক্ষী মুখার্জি, ইলা মিত্রের পুত্র রণেন (মোহন) মিত্র এবং সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও কমরেড মণি সিংহের পুত্র ডা. দিবালোক সিংহ।
​আলোচনা সভায় বিশিষ্ট লেখক ও ইলা মিত্র গবেষক ওমর তারেক চৌধুরী বলেন, "ইলা মিত্রকে স্মরণের সঙ্গে সঙ্গে তার অন্যান্য সহযোদ্ধাদেরকে আমাদের গুরুত্ব দিয়ে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা দরকার। বাংলাদেশের কৃষক আন্দোলনের এসব বীর সংগঠক ও কর্মীদের ত্যাগ ও বীরত্বকে স্মৃতি থেকে মুছে যেতে দেওয়া উচিত হবে না। এছাড়া নাটোরের কৃষক আন্দোলনের সময়ের অন্যান্য কৃষক আন্দোলনকে আমাদের সমভাবে মনে রাখতে হবে। কারণ বিভিন্ন স্থানের কৃষক আন্দোলনগুলো ছিল নাচোলের কৃষক বিদ্রোহেরই অংশ।"
​কমরেড ইলা মিত্রের সঙ্গে নিজের পারিবারিক ও ব্যক্তিগত স্মৃতির কথা তুলে ধরে সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ডা. দিবালোক সিংহ বলেন, "তিনি নাচোলে তেভাগা আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে এ দেশের মেহনতি কৃষকের ভাগ্য পরিবর্তন করতে চেয়েছিলেন। দেশের স্বাধীনতার পর ৫৫ বছরেও কৃষকের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি।"
এই বক্তৃতার ধারাবাহিকতায় তিনি ইলা মিত্রের আদর্শকে অনুসরণ করে মেহনতি মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের সংগ্রামে সবাইকে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
​অনলাইনে যুক্ত হয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের তরুণ নেত্রী মীনাক্ষী মুখার্জি কমরেড ইলা মিত্রের লড়াকু জীবনের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে বলেন, "ইলা মিত্র তাঁর সমগ্র জীবন মেহনতি কৃষক-মজুরের মুক্তির জন্য নিবেদন করেছিলেন। তিনি উভয় বাংলার মানুষের শ্রদ্ধার পাত্র।"
বর্তমান বিশ্ব প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি আরও যোগ করেন, "দুই বছর আগে আপনারা লড়েছিলেন গণতন্ত্রের জন্য। আজ আমরা লড়ছি গণতান্ত্রিক অধিকারের জন্য। ইউরোপে ছাত্ররা লড়ছে শিক্ষার অধিকারের জন্য।"
​অন্যদিকে, সিপিআই এমএল লিবারেশনের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির সম্পাদক অভিজিৎ মজুমদার স্ট্যালিন নন্দিনী ইলা মিত্রকে স্মরণ করে বলেন, "ইলা মিত্র কলকাতার মেয়ে হয়ে যেভাবে নাচোলের গরীব কৃষক ও আদিবাসীদের নিয়ে তেভাগার লড়াই করেছিলেন তার জন্য আজো তিনি স্মরণীয় হয়ে আছেন। ভবিষ্যৎ প্রজন্মও তাকে স্মরণ করবে।"
মেলা প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই প্রাণবন্ত আলোচনা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা দেখতে দূরদূরান্ত থেকে নানা বয়সের মানুষ অংশ নেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬


দুই বাংলার মানুষের ঐক্য ও সংগ্রামের আহ্বান

প্রকাশের তারিখ : ১২ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

​চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার ডাক বাংলো মাঠে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ‘ইলা মিত্র মেলা’র দ্বিতীয় দিনে বর্ণাঢ্য আলোচনা সভা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

স্থানীয় সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর বৃন্দ নৃত্য এবং নওগাঁ থেকে আগত ওঁরাও শিল্পীদের ঐতিহ্যবাহী নৃত্যের মধ্য দিয়ে মেলার দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। পরে বাউল শিল্পীদের পরিবেশনায় গান মঞ্চের পরিবেশকে মুখরিত করে তোলে।
​স্থানীয় নেতা মন্টু মাহাতোর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তি ও গবেষকরা বক্তব্য দেন।
এতে সরাসরি উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট লেখক ও ইলা মিত্র গবেষক ওমর তারেক চৌধুরী, সিপিবি কন্ট্রোল কমিশনের সদস্য সুজাত আলী, প্রেসিডিয়াম সদস্য রফিকুজ্জামান লায়েক, কৃষক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক আবিদ হোসেন, আদিবাসী ইউনিয়নের সভানেত্রী রেবেকা সরেন, ক্ষেতমজুরনেতা খলিলুর রহমান বাঙালী এবং আখচাষীনেতা আলতাফ হোসেন চেয়ারম্যান।
এ ছাড়াও অনলাইনে যুক্ত হয়ে বিশেষ বক্তব্য দেন সিপিআই এমএল লিবারেশনের সম্পাদক চারু মজুমদারের পুত্র অভিজিৎ মজুমদার, সিপিআইএম কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মীনাক্ষী মুখার্জি, ইলা মিত্রের পুত্র রণেন (মোহন) মিত্র এবং সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও কমরেড মণি সিংহের পুত্র ডা. দিবালোক সিংহ।
​আলোচনা সভায় বিশিষ্ট লেখক ও ইলা মিত্র গবেষক ওমর তারেক চৌধুরী বলেন, "ইলা মিত্রকে স্মরণের সঙ্গে সঙ্গে তার অন্যান্য সহযোদ্ধাদেরকে আমাদের গুরুত্ব দিয়ে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা দরকার। বাংলাদেশের কৃষক আন্দোলনের এসব বীর সংগঠক ও কর্মীদের ত্যাগ ও বীরত্বকে স্মৃতি থেকে মুছে যেতে দেওয়া উচিত হবে না। এছাড়া নাটোরের কৃষক আন্দোলনের সময়ের অন্যান্য কৃষক আন্দোলনকে আমাদের সমভাবে মনে রাখতে হবে। কারণ বিভিন্ন স্থানের কৃষক আন্দোলনগুলো ছিল নাচোলের কৃষক বিদ্রোহেরই অংশ।"
​কমরেড ইলা মিত্রের সঙ্গে নিজের পারিবারিক ও ব্যক্তিগত স্মৃতির কথা তুলে ধরে সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ডা. দিবালোক সিংহ বলেন, "তিনি নাচোলে তেভাগা আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে এ দেশের মেহনতি কৃষকের ভাগ্য পরিবর্তন করতে চেয়েছিলেন। দেশের স্বাধীনতার পর ৫৫ বছরেও কৃষকের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি।"
এই বক্তৃতার ধারাবাহিকতায় তিনি ইলা মিত্রের আদর্শকে অনুসরণ করে মেহনতি মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের সংগ্রামে সবাইকে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
​অনলাইনে যুক্ত হয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের তরুণ নেত্রী মীনাক্ষী মুখার্জি কমরেড ইলা মিত্রের লড়াকু জীবনের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে বলেন, "ইলা মিত্র তাঁর সমগ্র জীবন মেহনতি কৃষক-মজুরের মুক্তির জন্য নিবেদন করেছিলেন। তিনি উভয় বাংলার মানুষের শ্রদ্ধার পাত্র।"
বর্তমান বিশ্ব প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি আরও যোগ করেন, "দুই বছর আগে আপনারা লড়েছিলেন গণতন্ত্রের জন্য। আজ আমরা লড়ছি গণতান্ত্রিক অধিকারের জন্য। ইউরোপে ছাত্ররা লড়ছে শিক্ষার অধিকারের জন্য।"
​অন্যদিকে, সিপিআই এমএল লিবারেশনের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির সম্পাদক অভিজিৎ মজুমদার স্ট্যালিন নন্দিনী ইলা মিত্রকে স্মরণ করে বলেন, "ইলা মিত্র কলকাতার মেয়ে হয়ে যেভাবে নাচোলের গরীব কৃষক ও আদিবাসীদের নিয়ে তেভাগার লড়াই করেছিলেন তার জন্য আজো তিনি স্মরণীয় হয়ে আছেন। ভবিষ্যৎ প্রজন্মও তাকে স্মরণ করবে।"
মেলা প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই প্রাণবন্ত আলোচনা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা দেখতে দূরদূরান্ত থেকে নানা বয়সের মানুষ অংশ নেন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত