সংবাদ

ছাদ ও ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ: ওয়ালটনের প্রকল্পে অর্থায়ন করছে ইডকল


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫৭ পিএম

ছাদ ও ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ: ওয়ালটনের প্রকল্পে অর্থায়ন করছে ইডকল

দেশের বেসরকারি উৎপাদন খাতে অন্যতম বৃহৎ ছাদভিত্তিক ও ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজকে ১৪৪ কোটি টাকা অর্থায়ন করছে ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল)। ৫০ মেগাওয়াট (মেগাওয়াট) সক্ষমতার এই মেগা প্রকল্পের জন্য ইতিমধ্যে ৪৪ কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইডকলের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম মনিরুল ইসলাম।

গাজীপুরের চন্দ্রায় ওয়ালটন ইন্ডাস্ট্রিয়াল কমপ্লেক্স পরিদর্শনকালে এক ব্রিফিংয়ে তিনি সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান। ফোরাম ফর এনার্জি রিপোর্টার্স বাংলাদেশ (এফইআরবি) এবং ইডকলের যৌথ উদ্যোগে জ্বালানি খাতের সাংবাদিকদের জন্য এই পরিদর্শনের আয়োজন করা হয়।

ইডকলের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম মনিরুল ইসলাম বলেন, “বর্তমানে এক ইউনিট বিদ্যুতে সরকারকে ৫ টাকার মতো ভর্তুকি দিতে হয়। আমরা চেষ্টা করছি সাশ্রয়ী ব্যবহার নিশ্চিত করতে। এ জন্য এনার্জি সাশ্রয়ী ভবন ব্যবহারের উদ্বুদ্ধ ও অর্থায়ন করছি। আমরা ২০০২ সালে যখন সৌরবিদ্যুতের কথা বলতাম, তখন অনেকেই কাছেই বিষয়টি ছিল বিষ্ময়ের। হাটে-বাজারে গিয়ে জনগণকে হাতে কলমে প্রমাণ দেখাতে হয়েছে। আমার মনে হয় এখন সৌর বিদ্যুৎ সম্পর্কে জানেন না এমন লোক খুঁজে পাওয়া কঠিন হবে। ২০০২ সালে ছিল বেসিক লাইটিং প্রোগ্রাম, এখন সৌর বিদ্যুৎ দিয়ে সবকিছু হচ্ছে।”

এস এম মনিরুল ইসলাম বলেন, পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২২ সালের তথ্য অনুযায়ী দেশে ১ কোটি ৬৩ লাখ বসতি রয়েছে। নানান শ্রেণির মধ্যে অর্ধেক বাদ দিলেও প্রায় ৮০ লাখ আবাসন রয়েছে। প্রত্যেক বাড়িতে ৪ কিলোওয়াট সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারলেও বিশাল আকার ধারণ করবে। আমরা একটি একটি স্ফুলিঙ্গ একত্র করে দাবানল তৈরি করতে চাই। আগামী গরমের মৌসুমে স্বস্তি পেতে এটি হতে পারে মোক্ষম হাতিয়ার। আমরা তারই পদক্ষেপ হিসেবে ডিআরএস কর্মসূচি গ্রহণ করেছি। ইতোমধ্যেই বেশকিছু প্রকল্প চূড়ান্তের পথে রয়েছে। দেশবাসীর সহায়তা পেলে বড় কিছু করা সম্ভব।

ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ইউসুফ আলী জানান, সৌর থেকে তাদের ইন্ডাস্ট্রিতে ৩২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। এর পরিধি বাড়ানোর কাজ অব্যাহত রয়েছে, খুব শিগগিরই ৫০ মেগাওয়াটে উন্নীত হবে। তিনি বলেন, “মাসে যে বিদ্যুৎ পাচ্ছি, ডিজেল ব্যবহার করলে ৬৯ লাখ, ৭৯ হাজার ব্যারেল তেলের প্রয়োজন পড়তো। কার্বন ইমিশন কমেছে ৯ লাখ ৪৩ হাজার ১৬০ টন, যা ১১ লাখ ৭৮টি বৃক্ষ রোপনের সমান। মাসে প্রায় ৩২ লাখ ৬৪ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ সরবরাহ পাচ্ছি। এতে আমাদের বিশাল সাশ্রয় হচ্ছে, বাড়তি পাওনা হচ্ছে কার্বন ক্রেডিট।”

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, আড়াই কিলোমিটার ফুটপাতের শেড হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে সৌরপ্যানেল। পথচারীকে রোদ-বৃষ্টি থেকে নিরাপত্তা দিচ্ছে, অন্যদিকে ১.১ মেগাওয়াট বিদ্যুতের যোগান দিয়ে যাচ্ছে শেডটি।

সোলার প্যানেলের ফুটপাত ধরে এগিয়ে গেলে বিশাল জলাশয়, সেখানে ভাসছে ফ্লোটিং সোলার প্যানেল। মাছ চাষের পাশাপাশি ২.২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে তাতে। এছাড়া, বড় বড় ভবনগুলোর ছাদে রয়েছে সোলার প্যানেল। সব মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন সক্ষমতা ৩২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।

ইডকলের অর্থায়নে লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি, ইএসএস ব্যাটারি এবং সোলার ইনভার্টার উৎপাদনের পথে রয়েছে ওয়ালটন। আগামী মাসেই লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি উৎপাদনের যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। 

সংশ্লিষ্টরা জানান, শিল্প খাতে ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের দাম এবং কার্বন নিঃসরণ কমানোর বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ওয়ালটন কর্তৃপক্ষ জানায়, সৌরবিদ্যুতের এই রূপান্তর জাতীয় গ্রিডের ওপর নির্ভরতা এবং তাদের বিদ্যুৎ বিল উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনবে। পাশাপাশি রপ্তানির বাজারে ‘গ্রিন ফ্যাক্টরি’ বা পরিবেশবান্ধব কারখানার শর্ত পূরণে এটি ওয়ালটনকে এগিয়ে রাখবে।

উল্লেখ্য, ২০০২ সাল থেকে ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের প্রসারে কাজ করছে। সরকার সম্প্রতি সৌরবিদ্যুতের যন্ত্রাংশ আমদানিতে শুল্ক ছাড় ও প্রণোদনা দেওয়ায় শিল্প কারখানার ছাদে এবং ভাসমান সোলার প্রকল্প বাস্তবায়নে বিশেষ জোর দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬


ছাদ ও ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ: ওয়ালটনের প্রকল্পে অর্থায়ন করছে ইডকল

প্রকাশের তারিখ : ১৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

দেশের বেসরকারি উৎপাদন খাতে অন্যতম বৃহৎ ছাদভিত্তিক ও ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজকে ১৪৪ কোটি টাকা অর্থায়ন করছে ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল)। ৫০ মেগাওয়াট (মেগাওয়াট) সক্ষমতার এই মেগা প্রকল্পের জন্য ইতিমধ্যে ৪৪ কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইডকলের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম মনিরুল ইসলাম।

গাজীপুরের চন্দ্রায় ওয়ালটন ইন্ডাস্ট্রিয়াল কমপ্লেক্স পরিদর্শনকালে এক ব্রিফিংয়ে তিনি সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান। ফোরাম ফর এনার্জি রিপোর্টার্স বাংলাদেশ (এফইআরবি) এবং ইডকলের যৌথ উদ্যোগে জ্বালানি খাতের সাংবাদিকদের জন্য এই পরিদর্শনের আয়োজন করা হয়।

ইডকলের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম মনিরুল ইসলাম বলেন, “বর্তমানে এক ইউনিট বিদ্যুতে সরকারকে ৫ টাকার মতো ভর্তুকি দিতে হয়। আমরা চেষ্টা করছি সাশ্রয়ী ব্যবহার নিশ্চিত করতে। এ জন্য এনার্জি সাশ্রয়ী ভবন ব্যবহারের উদ্বুদ্ধ ও অর্থায়ন করছি। আমরা ২০০২ সালে যখন সৌরবিদ্যুতের কথা বলতাম, তখন অনেকেই কাছেই বিষয়টি ছিল বিষ্ময়ের। হাটে-বাজারে গিয়ে জনগণকে হাতে কলমে প্রমাণ দেখাতে হয়েছে। আমার মনে হয় এখন সৌর বিদ্যুৎ সম্পর্কে জানেন না এমন লোক খুঁজে পাওয়া কঠিন হবে। ২০০২ সালে ছিল বেসিক লাইটিং প্রোগ্রাম, এখন সৌর বিদ্যুৎ দিয়ে সবকিছু হচ্ছে।”

এস এম মনিরুল ইসলাম বলেন, পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২২ সালের তথ্য অনুযায়ী দেশে ১ কোটি ৬৩ লাখ বসতি রয়েছে। নানান শ্রেণির মধ্যে অর্ধেক বাদ দিলেও প্রায় ৮০ লাখ আবাসন রয়েছে। প্রত্যেক বাড়িতে ৪ কিলোওয়াট সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারলেও বিশাল আকার ধারণ করবে। আমরা একটি একটি স্ফুলিঙ্গ একত্র করে দাবানল তৈরি করতে চাই। আগামী গরমের মৌসুমে স্বস্তি পেতে এটি হতে পারে মোক্ষম হাতিয়ার। আমরা তারই পদক্ষেপ হিসেবে ডিআরএস কর্মসূচি গ্রহণ করেছি। ইতোমধ্যেই বেশকিছু প্রকল্প চূড়ান্তের পথে রয়েছে। দেশবাসীর সহায়তা পেলে বড় কিছু করা সম্ভব।

ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ইউসুফ আলী জানান, সৌর থেকে তাদের ইন্ডাস্ট্রিতে ৩২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। এর পরিধি বাড়ানোর কাজ অব্যাহত রয়েছে, খুব শিগগিরই ৫০ মেগাওয়াটে উন্নীত হবে। তিনি বলেন, “মাসে যে বিদ্যুৎ পাচ্ছি, ডিজেল ব্যবহার করলে ৬৯ লাখ, ৭৯ হাজার ব্যারেল তেলের প্রয়োজন পড়তো। কার্বন ইমিশন কমেছে ৯ লাখ ৪৩ হাজার ১৬০ টন, যা ১১ লাখ ৭৮টি বৃক্ষ রোপনের সমান। মাসে প্রায় ৩২ লাখ ৬৪ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ সরবরাহ পাচ্ছি। এতে আমাদের বিশাল সাশ্রয় হচ্ছে, বাড়তি পাওনা হচ্ছে কার্বন ক্রেডিট।”

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, আড়াই কিলোমিটার ফুটপাতের শেড হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে সৌরপ্যানেল। পথচারীকে রোদ-বৃষ্টি থেকে নিরাপত্তা দিচ্ছে, অন্যদিকে ১.১ মেগাওয়াট বিদ্যুতের যোগান দিয়ে যাচ্ছে শেডটি।

সোলার প্যানেলের ফুটপাত ধরে এগিয়ে গেলে বিশাল জলাশয়, সেখানে ভাসছে ফ্লোটিং সোলার প্যানেল। মাছ চাষের পাশাপাশি ২.২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে তাতে। এছাড়া, বড় বড় ভবনগুলোর ছাদে রয়েছে সোলার প্যানেল। সব মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন সক্ষমতা ৩২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।

ইডকলের অর্থায়নে লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি, ইএসএস ব্যাটারি এবং সোলার ইনভার্টার উৎপাদনের পথে রয়েছে ওয়ালটন। আগামী মাসেই লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি উৎপাদনের যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। 

সংশ্লিষ্টরা জানান, শিল্প খাতে ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের দাম এবং কার্বন নিঃসরণ কমানোর বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ওয়ালটন কর্তৃপক্ষ জানায়, সৌরবিদ্যুতের এই রূপান্তর জাতীয় গ্রিডের ওপর নির্ভরতা এবং তাদের বিদ্যুৎ বিল উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনবে। পাশাপাশি রপ্তানির বাজারে ‘গ্রিন ফ্যাক্টরি’ বা পরিবেশবান্ধব কারখানার শর্ত পূরণে এটি ওয়ালটনকে এগিয়ে রাখবে।

উল্লেখ্য, ২০০২ সাল থেকে ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের প্রসারে কাজ করছে। সরকার সম্প্রতি সৌরবিদ্যুতের যন্ত্রাংশ আমদানিতে শুল্ক ছাড় ও প্রণোদনা দেওয়ায় শিল্প কারখানার ছাদে এবং ভাসমান সোলার প্রকল্প বাস্তবায়নে বিশেষ জোর দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত