সংবাদ

শাহজালাল ও শাহ আমানতে সোয়া তিন কোটির পণ্য জব্দ


প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম
প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২২ পিএম

শাহজালাল ও শাহ আমানতে সোয়া তিন কোটির পণ্য জব্দ
ছবি : সংবাদ

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং ঢাকা ফরেন পোস্ট অফিসে চার পৃথক অভিযান চালিয়ে সোয়া তিন কোটি টাকার চোরাচালান পণ্য জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। এসব অভিযানে সোনার বার ও বিদেশি মদের পাশাপাশি বড় চালানের আমদানি নিষিদ্ধ ত্বকের ক্রিম, স্কিন বুস্টার ইনজেকশন এবং ব্যবহৃত ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। জব্দ করা এসব পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ৩ কোটি ২২ লাখ ৮৭ হাজার টাকা।

সিআইআইডি সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে আটটায় দুবাই থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের (বিজি-১৪৮) ফ্লাইটের আব্দুল্লাহ আল নোমান নামের এক যাত্রীকে শাহ আমানত বিমানবন্দরে গ্রিন চ্যানেলে থামানো হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজের কাছে ১০০ গ্রাম স্বর্ণালঙ্কার থাকার কথা স্বীকার করেন। তবে পরে তল্লাশি চালিয়ে তার কাছ থেকে ১১৭ গ্রাম ওজনের একটি সোনার বার উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক মূল্য ২১ লাখ ৬ হাজার টাকা।

একই দিনে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৩০ লিটার মদ জব্দ করেন কাস্টমস কর্মকর্তারা। এর মধ্যে মুম্বাই থেকে আসা এয়ার ইন্ডিয়ার (এআই-২১৮৩) এক যাত্রীর লাগেজ তল্লাশি করে ১৬ লিটার এবং অন্য দুই যাত্রীর কাছ থেকে সাড়ে ছয় লিটার মদ জব্দ করা হয়। এ ছাড়া বিমানবন্দরের একটি শৌচাগার থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় আরও সাড়ে সাত লিটার মদ। জব্দ করা এই মদের আনুমানিক মূল্য প্রায় ছয় লাখ টাকা।

এদিকে শুক্রবার শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইন্সের (ইউএল-১৮৯) একটি ফ্লাইটে কলম্বো থেকে আসা মো. রাকিব হোসেন নামের এক যাত্রীর ব্যাগে তল্লাশি চালিয়ে ১৫৫টি ডার্মাল ফিলার ও স্কিন বুস্টার ইনজেকশন জব্দ করা হয়। এসব রূপচর্চা সামগ্রীর বাজারমূল্য প্রায় ৫৭ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। চিকিৎসকদের মতে, মুখের বলিরেখা দূর করা ও ত্বকের গঠন পরিবর্তনের জন্য প্রসাধনী হিসেবে এসব ইনজেকশন ব্যবহার করা হয়।

এ ছাড়া একই দিনে ঢাকার ফরেন পোস্ট অফিসে পৃথক অভিযান চালিয়ে ৩৭টি কার্টনে থাকা মোট ১ হাজার ১০৪ কেজি সৌন্দর্যবর্ধক ‘গৌরি ক্রিম’ ও ২৩টি আমদানি নিষিদ্ধ ব্যবহৃত ল্যাপটপ জব্দ করা হয়। কাস্টমস গোয়েন্দারা জানান, চর্মরোগের ঝুঁকি থাকায় এ ক্রিম আমদানি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পোস্ট অফিস থেকে উদ্ধার হওয়া প্রসাধনী ও ল্যাপটপের মোট আনুমানিক মূল্য ২ কোটি ৩৮ লাখ ৫ হাজার টাকা।

উদ্ধার করা এসব পণ্যের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

/ 

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬


শাহজালাল ও শাহ আমানতে সোয়া তিন কোটির পণ্য জব্দ

প্রকাশের তারিখ : ১৭ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং ঢাকা ফরেন পোস্ট অফিসে চার পৃথক অভিযান চালিয়ে সোয়া তিন কোটি টাকার চোরাচালান পণ্য জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। এসব অভিযানে সোনার বার ও বিদেশি মদের পাশাপাশি বড় চালানের আমদানি নিষিদ্ধ ত্বকের ক্রিম, স্কিন বুস্টার ইনজেকশন এবং ব্যবহৃত ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। জব্দ করা এসব পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ৩ কোটি ২২ লাখ ৮৭ হাজার টাকা।

সিআইআইডি সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে আটটায় দুবাই থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের (বিজি-১৪৮) ফ্লাইটের আব্দুল্লাহ আল নোমান নামের এক যাত্রীকে শাহ আমানত বিমানবন্দরে গ্রিন চ্যানেলে থামানো হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজের কাছে ১০০ গ্রাম স্বর্ণালঙ্কার থাকার কথা স্বীকার করেন। তবে পরে তল্লাশি চালিয়ে তার কাছ থেকে ১১৭ গ্রাম ওজনের একটি সোনার বার উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক মূল্য ২১ লাখ ৬ হাজার টাকা।

একই দিনে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৩০ লিটার মদ জব্দ করেন কাস্টমস কর্মকর্তারা। এর মধ্যে মুম্বাই থেকে আসা এয়ার ইন্ডিয়ার (এআই-২১৮৩) এক যাত্রীর লাগেজ তল্লাশি করে ১৬ লিটার এবং অন্য দুই যাত্রীর কাছ থেকে সাড়ে ছয় লিটার মদ জব্দ করা হয়। এ ছাড়া বিমানবন্দরের একটি শৌচাগার থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় আরও সাড়ে সাত লিটার মদ। জব্দ করা এই মদের আনুমানিক মূল্য প্রায় ছয় লাখ টাকা।

এদিকে শুক্রবার শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইন্সের (ইউএল-১৮৯) একটি ফ্লাইটে কলম্বো থেকে আসা মো. রাকিব হোসেন নামের এক যাত্রীর ব্যাগে তল্লাশি চালিয়ে ১৫৫টি ডার্মাল ফিলার ও স্কিন বুস্টার ইনজেকশন জব্দ করা হয়। এসব রূপচর্চা সামগ্রীর বাজারমূল্য প্রায় ৫৭ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। চিকিৎসকদের মতে, মুখের বলিরেখা দূর করা ও ত্বকের গঠন পরিবর্তনের জন্য প্রসাধনী হিসেবে এসব ইনজেকশন ব্যবহার করা হয়।

এ ছাড়া একই দিনে ঢাকার ফরেন পোস্ট অফিসে পৃথক অভিযান চালিয়ে ৩৭টি কার্টনে থাকা মোট ১ হাজার ১০৪ কেজি সৌন্দর্যবর্ধক ‘গৌরি ক্রিম’ ও ২৩টি আমদানি নিষিদ্ধ ব্যবহৃত ল্যাপটপ জব্দ করা হয়। কাস্টমস গোয়েন্দারা জানান, চর্মরোগের ঝুঁকি থাকায় এ ক্রিম আমদানি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পোস্ট অফিস থেকে উদ্ধার হওয়া প্রসাধনী ও ল্যাপটপের মোট আনুমানিক মূল্য ২ কোটি ৩৮ লাখ ৫ হাজার টাকা।

উদ্ধার করা এসব পণ্যের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

/ 


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত